Click This Link
জামায়াতে ইসলামী মনে করে, বর্তমান সরকারের পক্ষে বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না। কেন হবে না, জানতে চাইলে দলের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ বলেন, সরকার বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের জন্য যে কথাগুলো বলছে, তা বিশ্বাস করার মতো যুক্তি দিচ্ছে না।
আজ রোববার বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিনা দরপত্রে বিদ্যুৎেকন্দ্র করতে গিয়ে সরকার অবাধ দুর্নীতির পথ খুলে দিচ্ছে। আর বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে দেশকে বিদেশ-নির্ভরশীল করছে।
চারদলীয় জোট সরকার নিজেরা কয়টা বিদ্যুৎেকন্দ্র করেছে, জানতে চাইলে মুজাহিদ কোনো তথ্য দিতে পারেননি। মাস-দুয়েক আগে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন এক প্রশ্নের জবাবে পরে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন। আজ মুজাহিদকে বিষয়টি মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, জোট সরকারের আমলে এক হাজার ১৫০ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উত্পন্ন হয়েছে
কিন্তু ওই বিদ্যুতের একটি বড় অংশই এসেছিল এর আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থাপিত বিদ্যুৎেকন্দ্র থেকে। জোট সরকার নিজেরা কয়টা কেন্দ্র করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদ বলেন, ‘কয়েক দিন আগে খুলনায় জনসভায় বিরোধীদলীয় নেত্রী বিস্তারিত বলেছেন, আপনি তা জেনে নিতে পারেন, অথবা আমরাও জেনে আপনাদের জানাতে পারি।’
সংবাদ সম্মেলনে কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উত্পাদনের পরামর্শও দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। জামায়াত উন্মুক্ত, না ভূগর্ভস্থ কয়লাখনির পক্ষে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত পাওয়ার পর তাঁরা তাঁদের বক্তব্য দেবেন।
জোট সরকারের ক্ষমতায় থাকাকালে উন্মুক্ত খনির পক্ষে ছিলেন—তথ্যটি মনে করিয়ে দিলে জোট সরকারের অন্যতম শরিক জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, উন্মুক্ত খনির খরচ কম। এতে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার যুক্তি বেশি। এটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার এতে মানুষ বসতবাড়ি হারাবে, এটাও গুরুত্বপূর্ণ। এই দুইয়ের মাঝামাঝি কী করা যায়, তা ভাবতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে মুজাহিদ অভিযোগ করেন, সরকার অগণতান্ত্রিকভাবে জামায়াতের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। জামায়াতের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ, এমনকি ঘরোয়া কর্মসূচিতেও বাধা দিচ্ছে সরকার। অন্যদিকে দেশে ধর্মপ্রচারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নতুন কর্মসূচি: সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেন মুজাহিদ। এগুলো হলো জামায়াত-শিবিরের গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তির দাবিতে ২০ মে সারা দেশে বন্দীমুক্তি দিবস। বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা, বিনা দরপত্রে বিদ্যুৎেকন্দ্র স্থাপনের চুক্তির প্রতিবাদে আগামী ২৪ মে প্রতিবাদ দিবস, জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ২৭ মে প্রতিবাদ দিবস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে আগামী ৩১ মে দাবি দিবস, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ৩ জুন প্রতিবাদ দিবস ও ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও প্রচারের দায়িত্ব পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আগামী ৯ জুন দাবি দিবস।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০১০ রাত ৮:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



