somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গত সাত বছরে তিন প্রধান বিচারপতিসহ সর্বোচ্চ আদালতের ২৪ বিচারপতি নিজের ও পরিবারের অসুস্থতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অর্থ সাহায্য নিয়েছেন

২০ শে জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অর্থ নিয়েছেন ২৪ বিচারপতি


নিজের ও পরিবারের অসুস্থতার কারণে বিচারপতি, সচিব, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে সাহায্য নিয়েছেন। গত সাত বছরে তিন প্রধান বিচারপতিসহ সর্বোচ্চ আদালতের ২৪ বিচারপতি নিজের ও পরিবারের অসুস্থতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অর্থ সাহায্য নিয়েছেন। এছাড়া বর্তমান সরকারের সময় ২০ সরকারি কর্মকর্তা ও ১৫ সাংবাদিক চিকিৎসার জন্য ওই তহবিল থেকে অর্থ নেন।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এমএম রুহুল আমিন ২১ লাখ ১৫ হাজার ৩১৬ টাকা প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে সাহায্য নিয়েছেন। অন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলাম নিয়েছেন ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৪০৮ টাকা। সাবেক প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম নিয়েছেন ৩ লাখ ৬৯
হাজার ৪৬০ টাকা। এছাড়া আপিল বিভাগের সদ্য পদত্যাগ করা বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান অবসরগ্রহণের ঠিক আগের দিন ২ লাখ ১৭ হাজার ৮৪১ টাকা নিয়েছেন। তিনি নিয়েছেন মোট ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৭৩ টাকা।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৬, বিচারপতি মাশুক হোসেন আহমেদ ২৪ লাখ ৭৪ হাজার ২৮৩, বিচারপতি মিফতাহউদ্দিন চৌধুরী ৫ লাখ ৩০ হাজার ৭৫২, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৭, বিচারপতি মোঃ আবদুল হাই ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯ ও বিচারপতি আতাউর রহমান খান ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৪ টাকা নিয়েছেন।
বিচারপতি একে বদরুল হক (অবসরপ্রাপ্ত) ১০ লাখ ২৬ হাজার ৭১২, বিচারপতি একেএম জহিরুল হক ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮১১, বিচারপতি মোঃ ফারুক ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৮, বিচারপতি এমএ হাই ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭৬, বিচারপতি মোঃ শামসুল হুদা ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩১, বিচারপতি মোঃ আবদুল আজিজ (অবসরপ্রাপ্ত) ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৩, বিচারপতি এসকে সিনহা ২০ লাখ ৩৯ হাজার ২২, বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান ৫ লাখ ৩ হাজার ৬৭৩, বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ১৮ লাখ ১২ হাজার ৫১৪, বিচারপতি মোঃ মমতাজউদ্দিন আহমেদ ৭১ হাজার ৬৩০ ও বিচারপতি শেখ রেজোয়ান আলী ৭ লাখ টাকা নিয়েছেন। এর আগে বিচারপতি লতিফুর রহমান ৩ লাখ ও বিচারপতি এনকে চক্রবর্তী ১ লাখ টাকা নেন। একজন বিচারপতি বিদেশে চিকিৎসার নামে হোটেলে থাকা বাবদ ৮ লাখ টাকার বিল নিয়েছেন।
বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি হওয়ার আগে দুই কিস্তিতে ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ টাকা নিয়েছেন। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য এ টাকা নিয়েছেন বলে তিনি সমকালকে জানান।
খায়রুল হক বলেন, ২০০৮ সালের শেষের দিকে তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০০৯ সালের এপ্রিলে তাকে ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে দেখানো হয়। বি. চৌধুরী বলেন, তার ইন্টারেস্টেশিয়াল লাং ডিজিজ (আইএলডি) হয়েছে। এ সব রোগী সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছর বেঁচে থাকে। চিকিৎসার জন্য ব্যাংককের বামরুনগ্রাড হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
খায়রুল হক বলেন, সে সময় দেশের বাইরে চিকিৎসা করানোর মতো টাকা তার ছিল না। বামরুনগ্রাড হাসপাতালের বাংলাদেশের এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, এ চিকিৎসার জন্য আনুমানিক ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ১১ লাখ টাকা) দরকার হবে। বিষয়টি তিনি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এমএম রুহুল আমিনকে জানান। প্রধান বিচারপতির পরামর্শে প্রধানমুন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি আবেদন জমা দেন তিনি। খায়রুল হক বলেন, এরই মধ্যে স্ত্রীর অসুস্থতা আরও বেড়ে যায়। মাসখানেকের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের একজন কর্মকর্তা একদিন বাসায় একটি চেক নিয়ে আসেন। তিনি জানতে পারেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চেকটি পাঠানো হয়েছে। ব্যাংককের বামরুনগ্রাডে চিকিৎসা শেষে ওই টাকা খরচের ভাউচার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×