প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অর্থ নিয়েছেন ২৪ বিচারপতি
নিজের ও পরিবারের অসুস্থতার কারণে বিচারপতি, সচিব, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে সাহায্য নিয়েছেন। গত সাত বছরে তিন প্রধান বিচারপতিসহ সর্বোচ্চ আদালতের ২৪ বিচারপতি নিজের ও পরিবারের অসুস্থতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অর্থ সাহায্য নিয়েছেন। এছাড়া বর্তমান সরকারের সময় ২০ সরকারি কর্মকর্তা ও ১৫ সাংবাদিক চিকিৎসার জন্য ওই তহবিল থেকে অর্থ নেন।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এমএম রুহুল আমিন ২১ লাখ ১৫ হাজার ৩১৬ টাকা প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে সাহায্য নিয়েছেন। অন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলাম নিয়েছেন ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৪০৮ টাকা। সাবেক প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম নিয়েছেন ৩ লাখ ৬৯
হাজার ৪৬০ টাকা। এছাড়া আপিল বিভাগের সদ্য পদত্যাগ করা বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান অবসরগ্রহণের ঠিক আগের দিন ২ লাখ ১৭ হাজার ৮৪১ টাকা নিয়েছেন। তিনি নিয়েছেন মোট ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৭৩ টাকা।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৬, বিচারপতি মাশুক হোসেন আহমেদ ২৪ লাখ ৭৪ হাজার ২৮৩, বিচারপতি মিফতাহউদ্দিন চৌধুরী ৫ লাখ ৩০ হাজার ৭৫২, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৭, বিচারপতি মোঃ আবদুল হাই ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯ ও বিচারপতি আতাউর রহমান খান ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৪ টাকা নিয়েছেন।
বিচারপতি একে বদরুল হক (অবসরপ্রাপ্ত) ১০ লাখ ২৬ হাজার ৭১২, বিচারপতি একেএম জহিরুল হক ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮১১, বিচারপতি মোঃ ফারুক ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৮, বিচারপতি এমএ হাই ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭৬, বিচারপতি মোঃ শামসুল হুদা ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩১, বিচারপতি মোঃ আবদুল আজিজ (অবসরপ্রাপ্ত) ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৩, বিচারপতি এসকে সিনহা ২০ লাখ ৩৯ হাজার ২২, বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান ৫ লাখ ৩ হাজার ৬৭৩, বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ১৮ লাখ ১২ হাজার ৫১৪, বিচারপতি মোঃ মমতাজউদ্দিন আহমেদ ৭১ হাজার ৬৩০ ও বিচারপতি শেখ রেজোয়ান আলী ৭ লাখ টাকা নিয়েছেন। এর আগে বিচারপতি লতিফুর রহমান ৩ লাখ ও বিচারপতি এনকে চক্রবর্তী ১ লাখ টাকা নেন। একজন বিচারপতি বিদেশে চিকিৎসার নামে হোটেলে থাকা বাবদ ৮ লাখ টাকার বিল নিয়েছেন।
বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি হওয়ার আগে দুই কিস্তিতে ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ টাকা নিয়েছেন। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য এ টাকা নিয়েছেন বলে তিনি সমকালকে জানান।
খায়রুল হক বলেন, ২০০৮ সালের শেষের দিকে তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০০৯ সালের এপ্রিলে তাকে ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে দেখানো হয়। বি. চৌধুরী বলেন, তার ইন্টারেস্টেশিয়াল লাং ডিজিজ (আইএলডি) হয়েছে। এ সব রোগী সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছর বেঁচে থাকে। চিকিৎসার জন্য ব্যাংককের বামরুনগ্রাড হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
খায়রুল হক বলেন, সে সময় দেশের বাইরে চিকিৎসা করানোর মতো টাকা তার ছিল না। বামরুনগ্রাড হাসপাতালের বাংলাদেশের এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, এ চিকিৎসার জন্য আনুমানিক ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ১১ লাখ টাকা) দরকার হবে। বিষয়টি তিনি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এমএম রুহুল আমিনকে জানান। প্রধান বিচারপতির পরামর্শে প্রধানমুন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি আবেদন জমা দেন তিনি। খায়রুল হক বলেন, এরই মধ্যে স্ত্রীর অসুস্থতা আরও বেড়ে যায়। মাসখানেকের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের একজন কর্মকর্তা একদিন বাসায় একটি চেক নিয়ে আসেন। তিনি জানতে পারেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চেকটি পাঠানো হয়েছে। ব্যাংককের বামরুনগ্রাডে চিকিৎসা শেষে ওই টাকা খরচের ভাউচার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


