somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরীৰা-নিরীৰা ছাড়াই চালকদের হাতে লাইসেন্স মানুষকে হত্যার জন্য আর্মস তুলে দেয়া, বুয়েটের হিসেবে দেশে ৬১ ভাগ অবৈধ চালক ,১৮ বছরে শ্রমিক ইউনিয়নের চাপে লাইসেন্স দিয়েছে ২ লাখ, ৯০ ভাগ চালক অশিক্ষিত

২২ শে আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবৈধ চালক ৪ লাখ ॥ এটা সরকারী হিসেব
০ বুয়েটের হিসেবে দেশে ৬১ ভাগ অবৈধ চালক
০ শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী দেশে চালকের প্রয়োজন ২২ লাখ, আছে ১০ লাখ
০ ১৮ বছরে শ্রমিক ইউনিয়নের চাপে লাইসেন্স দিয়েছে ২ লাখ
০ ৯০ ভাগ চালক অশিক্ষিত

বাংলাদেশ রোড ট্রাসপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মোটরযান আইন অনুযায়ী হাল্কা লাইসেন্সধারী একজন চালক তিন বছর গাড়ি চালানোর পর পাবে 'মধ্যম' ক্যাটাগরির লাইসেন্স। পরবর্তী ৬ বছর গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করলে বিআরটিএ'র পরীৰায় পাস করার পর একজন চালক পাবেন 'ভারি' যানবাহন চালানোর লাইসেন্স। এ লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পর একজন চালক যে কোন গাড়ি চালানোর জন্য বৈধ হয়। কিন্তু বাসত্মবতা হচ্ছে, বিগত ১৮ বছরে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের চাপে কোনরকম যোগ্যতা পরীৰা ছাড়াই প্রায় দুই লাখ অবৈধ লাইসেন্স দিয়েছে বিআরটিএ। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রীর ২৮ হাজার লাইসেন্স সুপারিশসহ প্রায় ৩০ হাজার লাইসেন্স এখন প্রক্রিয়াধীন।
বর্তমানে সারাদেশে অবৈধ লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। এর মধ্যে ৯০ ভাগ চালক অশিৰিত। লাইসেন্সের প্রকারভেদে দুই হাজার থেকে আট হাজার টাকা পর্যনত্ম ঘুষ নেয়া হচ্ছে। ঘুষের বিনিময়ে দেয়া হচ্ছে বেশিরভাগ লাইসেন্স। পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, ১৫ লাখ গাড়ির বিপরীতে ২০ থেকে ২২ লাখ চালক প্রয়োজন। কিন্তু চালক আছে মাত্র ১০ লাখ। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, ৬১ ভাগ চালক অবৈধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইসেন্স প্রদানের ৰেত্রে যথাযথ নিয়ম না মানায় অদৰ চালকদের কারণে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। দীর্ঘ হচ্ছে মৃতু্যর মিছিল। তাই যথাযথ প্রশিৰণের মাধ্যমে শিৰিত চালকদের লাইসেন্স দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি মোটরযান আইন সংশোধনসহ দুর্ঘটনার ৰেত্রে চালক দোষী প্রমাণিত হলে অজামিনযোগ্য অপরাধ ও সর্বোচ্চ শাসত্মি যাবজ্জীবন কারাদ- করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ২০৯টি বস্ন্যাক স্পট দ্রম্নত সময়ের মধ্যে সংস্কার করার তাগিদ দিয়েছেন সংশিস্নষ্ট সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা।
সারাদেশে বৈধ পরিবহন ও চালকের সংখ্যা ॥ বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ রেজিস্ট্রেশনকৃত পরিবহনের বিপরীতে বৈধ চালকের সংখ্যা নয় লাখের কিছু বেশি। অর্থাৎ সরকারী হিসাবে দেশে অবৈধ চালকের সংখ্যা চার লাখ। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় দাবড়ে বেড়াচ্ছে প্রায় এক লাখ অবৈধ চালক।
সারাদেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ৮০ হাজার ৬১৫। এর মধ্যে ২৫ বছরের বেশি পুরনো ট্রাকের সংখ্যা আট হাজার ১২৫, এক হাজার ৮৪২টি ভ্যান। ২০ বছরের বেশি পুরনো রয়েছে এক হাজার ৪৪৬টি বড় বাস, দুই হাজার ৩৬৫টি মিনিবাস। এছাড়া দেশে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত পরিবহনের সংখ্যা ১৩ লাখ ৪৮ হাজার। এর মধ্যে মোটর কার এক লাখ ৮৬ হাজার ৮১৩; জীপ, ওয়াগন ও মাইক্রোবাস ৮২ হাজার ৫৯৫, ট্যাঙ্ ি১২ হাজার ২৯৮, বাস ৩৭ হাজার ১৭১, মিনিবাস ৩৫ হাজার ৫৯৭, ট্রাক ৭১ হাজার ৫০৫, অট্রোরিঙ্া ও অটোটেম্পো এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৩১, মোটরসাইকেল সাত লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ ও অন্যান্য ৪৯ হাজার ৫৭৫।

লাইসেন্স প্রক্রিয়া ॥ আইন অনুযায়ী মোটরযান লাইসেন্স পেতে আগ্রহীদের প্রথমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিৰানবিস লাইসেন্স (লার্নার) নিতে হয়। তিন মাস পর লিখিত ও মৌখিকসহ মাঠ চালিয়ে দেখানো (জিগজাগ টেস্ট) পরীৰায় উত্তীর্ণ হলে হাল্কা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স পাওয়া যায়। নিয়ম অনুযায়ী এ লাইসেন্সধারী চালক কার, অটোরিঙ্াসহ জীপ চালাতে পারবেন। এর অনত্মত তিন বছর পর মাঝারি যানবাহন চালানোর লাইসেন্স নিতে হয়। এ লাইন্সেধারী চালক মিনিবাস, পিকআপ ভ্যান, মিনি ট্রাকসহ ছোট যানবাহন চালাতে অনুমতি পাবে। মাঝারি যানবাহন ৬ বছর চালানোর পর ভারি যানবাহন চালানোর লাইসেন্স দেয়ার নিয়ম। ভারি লাইসেন্সধারী চালকের বাস, ট্রাকলরিসহ যাবতীয় যানবাহন চালানোর বৈধতা রয়েছে। কিন্তু বাসত্মবতা হচ্ছে, লাইসেন্স প্রদানের ৰেত্রে কোন নিয়মনীতির বালাই নেই বিআরটিএতে। বিআরটিএ নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সী একজন চালককে অপেশাদার এবং ২০ বছর বয়সীকে পেশাদার হাল্কা যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া হয়। কিন্তু ঘুষ কিংবা পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পৰ থেকে আবেদন করা হলেও কোন প্রকার নিয়মনীতি ছাড়াই লাইসেন্স মিলছে। অথচ দৰ চালকরা ঘুষ না দেয়ায় দিনের পর দিন ঘুরেও লাইসেন্স পাচ্ছে না।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সারাদেশে বিআরটিএ ৬৫ অফিসের মধ্যে প্রায় তিন ভাগ অফিসেও চালকদের পরীৰার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। জিগজাগ পরীৰায় অংশ না নিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন ৯০ ভাগের বেশি চালক। বিআরটিএ সংশিস্নষ্টদের বক্তব্য, জায়গার অভাবে অনেক স্থানে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরম্নত্বপূর্ণ অংশ জিগজাগ টেস্ট। তাছাড়া মজার বিষয় হলো, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে লিখিত পরীৰায় সর্বোচ্চ নম্বর থাকলেও বিআরটিএ লাইসেন্সের আবেদনপত্রে শিৰাগত যোগ্যতার বিষয়টিই উলেস্নখ নেই! রাজনৈতিক তদ্বির ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বেশিরভাগ লাইসেন্স ইসু্য হচ্ছে। বুয়েটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের ৬১ ভাগ চালক অবৈধ। ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে অবৈধ চালকের সংখ্যা ৪০ ভাগ।
অশিৰিত চালক দেশে ৯০ ভাগের বেশি চালক অশিৰিত, যারা নাম-দসত্মখতও জানেন না। ১০ ভাগ চালকের মধ্যে বেশিরভাগের যোগ্যতা নাম-দসত্মখত করামাত্র। অন্যদের বেশিরভাগই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ-ি পার হতে পারেনি। এসএসসি পাস চালক লাখে একজন পাওয়া কষ্টকর। সংশিস্নষ্টরা বলছেন, অশিৰা আর অৰতার কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে। তাছাড়া তাদের দৰতার জন্য কোন প্রশিৰণের ব্যবস্থা নেই।
চালক সঙ্কট ॥ দেশে চালক সঙ্কটের কথা বলা হচ্ছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে শুরম্ন করে পরিবহনসংশিস্নষ্ট সকল বিভাগের পৰ থেকে। তারা বলছেন, শিৰিত লোকজন এ পেশায় আসতে খুব একটা উৎসাহী নন। তাছাড়া সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ পেশাকে অবমূল্যায়ন করা হয়। আমাদের দেশে এ পেশায় আয় কম হওয়ার কারণে অনেকেই আগ্রহী হতে চান না। দৰ চালকরা পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে। বিআরটিসিসংশিস্নষ্টরা বলছেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৩শ' নতুন গাড়ি আমদানি করা হলেও দৰ চালক নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। বিআরটিএসংশিস্নষ্টরা বলছেন, শিৰিত চালকের হার খুবই কম। পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, ১৫ লাখ গাড়ির বিপরীতে ২০ থেকে ২২ লাখ চালক প্রয়োজন। কিন্তু চালক আছে মাত্র ১০ লাখ। এ প্রেৰাপটে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পৰ থেকে নতুন করে ২৮ হাজার চালকের লাইসেন্স দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ মন্ত্রী নিজেই ১৯৯৪ সাল থেকে এ সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি। জানা গেছে, ইতোমধ্যে মন্ত্রীর চাপে ১০ হাজার লাইসেন্স দেয়ার কাজ শেষ করেছে বিআরটিএ। বাকি লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন। শিৰিত চালকদের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেছেন, চালকদের শিৰার প্রয়োজন নেই। গরম্ন-ছাগল চিনতে পারলেই সে লাইসেন্সের যোগ্য।

চালকের পরীৰা পদ্ধতি ॥ বিআরটিএ সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে পরীৰার নম্বর নির্ধারণের পুরো বিষয়টি নির্ভর করে জেলা পরীৰা কমিটির ওপর। বেশিরভাগ ৰেত্রেই ৫০ নম্বরের পরীৰা হয়ে থাকে। এর মধ্যে লিখিত পরীৰায় নম্বর সবচেয়ে বেশি। ৫০ নম্বরের পরীৰা হলে লিখিত পরীৰার জন্য নির্ধারিত থাকে ৩০ নম্বর। যেখানে প্রায় ৯০ ভাগ চালক অশিৰিত সেৰেত্রে লিখিত পরীৰার বিষয়টি কতটুকু স্বচ্ছ হয় তা এখানেই প্রমাণিত। এছাড়া আছে জিগজাগ টেস্ট (মানে- অাঁকাবাঁকা পথ দিয়ে গাড়ি চালানো)। নিয়ম অনুযায়ী কোন চালক এ পরীৰায় দৰতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে তাকে কোনভাবেই লাইসেন্স দেয়া বৈধ নয়। এ পরীৰার জন্য বেশিরভাগ ৰেত্রে ১০ নম্বর বরাদ্দ থাকলেও মূল্যায়নের দিক থেকে তা কার্যত লোক দেখানো। তাছাড়া দেশের বেশিরভাগ বিআরটিএ প্রশিৰণ সেন্টারে এ পরীৰা মূল্যায়নের কোন ব্যবস্থা নেই। সর্বশেষ ১০ নম্বর রয়েছে মৌখিক পরীৰায়। এ অংশে বেশিরভাগ প্রশ্নই থাকে যানবাহনসংক্রানত্ম। তাছাড়া চালকদের পরীৰা পদ্ধতির নম্বর নির্ধারণে বিআরটিএ কতর্ৃপৰের কোন গাইডলাইন নেই; নেই কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিংয়ের ৰেত্রে তেমন কোন ব্যবস্থা। জেলা কমিটির ওপর ভরসা করেই চলছে সবকিছু। কারা লাইসেন্স পাচ্ছেন? লাইসেন্স প্রদানে স্বচ্ছতার বিষয়টি বাসত্মবে দেখার কেউ নেই। সব মিলিয়ে বাসত্মবতা হলো পরীৰার তিন ধাপে অংশ নিয়ে লাইসেন্স পাওয়া চালকের সংখ্যা ১০ ভাগ পাওয়া যাবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কতর্ৃপৰ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন নম্বর নির্ধারণসহ পরীৰার সার্বিক দায়িত্বে। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতি জেলায় গঠন করা হয়েছে মোটর ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট বোর্ড। এর সঙ্গে যুক্ত আছেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, প্রশিৰকসহ সংশিস্নষ্ট সেক্টরের প্রতিনিধিরা। নিয়ম অনুযায়ী মোটর ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি পরীৰায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থেকে গাড়ি চালনায় দৰতা নির্বাচন করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য চূড়ানত্ম সুপারিশ করবেন। বেশিরভাগ ৰেত্রে দেখা যায় বিচারিক দায়িত্বসহ নানা কারণে প্রশিৰণে ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। বোর্ডের অন্য সদস্যদের দায়িত্বে পুরো কাজ পরিচালিত হয়। যে কারণে দুর্নীতির সুযোগ বেশি।
চালকের আবেদন পত্রে যা আছে ॥

পরিবহন সেক্টরে আট রকমের লাইসেন্স দিচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কতর্ৃপৰ। বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্সের মধ্যে রয়েছে শিৰানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স, পেশাদার চালকের লাইসেন্স, নন-পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স, হাই সিকিউরিটি পস্নাস্টিক কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স (ইংরেজী), হাই সিকিউরিটি পস্নাস্টিক কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স (বাংলা), প্রতিলিপি ড্রাইভিং লাইসেন্স, এনডোর্সমেন্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স, কন্ট্রাক্টর লাইসেন্সসহ পরিচালক লাইসেন্স।

কোন আবেদনপত্রেই শিৰাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেই। শিৰানবিস চালকের জন্য আবেদনপত্রের প্রথমেই রয়েছে কোন ধরনের পরিবহন, নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, স্থায়ী/অস্থায়ী ঠিকানা, জন্মতারিখ, রক্তের গ্রম্নপ, পূর্বের লাইসেন্স বিবরণ (যদি থাকে), প্রশিৰকের নাম ও ঠিকানা, প্রশিৰকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর ও তারিখ এবং প্রার্থীর স্বাৰর। সংযুক্ত করতে হবে ফিস জমার প্রমাণপত্র, বয়সের প্রমাণপত্র। কারণ অপেশাদার চালকের ৰেত্রে নূ্যনতম বয়স ১৮ ও পেশাদার চালকের ৰেত্রে ২০ বছর বয়স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র। মেডিক্যাল সার্টিফিকেট আবেদনপত্রেও আছে নানান অসঙ্গতি। এ আবেদনে যেসব বিষয় উলেস্নখ আছে তা যাচাইবাছাইয়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, দৰতা ও জনবল কোনটিই নেই সড়ক পরিবহন কতর্ৃপৰের হাতে। এ কারণে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট আনার ৰেত্রেও রয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ। তাছাড়া পেশাদার চালকের আবেদনে শিৰানবিস আবেদনের চেয়ে আরও কিছু বিষয় যুক্ত থাকলেও শিৰাগত যোগ্যতা যাচাই করার কোন ব্যবস্থা নেই। লাইসেন্সের জন্য মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ফরমে দৃষ্টিশক্তির ত্রম্নটি, রাতকানা, বধিরতা, অঙ্গহানি, দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক কিনা প্রভৃতি বিষয় উলেস্নখ থাকলেও তা যথাযথ পরীৰা-নিরীৰা হচ্ছে না। বধির, এক চোখ অন্ধ, বিভিন্ন অঙ্গহানি, দৃষ্টিশক্তির অভাব এমন চালকের সংখ্যা কম নয়। এর মধ্যে কিছু চালক বৈধ সনদ নিয়েই গাড়ি চালাচ্ছেন দিনের পর দিন। লাইসেন্স ছাড়া এসব সমস্যা নিয়ে যাঁরা গাড়ি চালাচ্ছেন তাঁদের বিরম্নদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কেউ নেই।
সংসদ সদস্য ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আন্দোলনের নেত্রী তারানা হালিম জনকণ্ঠকে বলেন, চালকরাই বলছেন টাকা দিয়ে লাইসেন্স নেয়ার কথা। অবৈধভাবে যারা অদৰ চালকদের হাতে ভারি লাইসেন্স তুলে দিচ্ছে এ চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের চাকরিচু্যতসহ শাসত্মি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। বলেন, এর ফলে অবৈধ লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া কমবে। পাশাপাশি পরীৰা-নিরীৰা ছাড়াই লাইসেন্স প্রদান কমে আসবে। পরিবহন ফেডারেশনের তালিকা অনুযায়ী কোন রকম পরীৰা-নিরীৰা ছাড়াই চালকদের হাতে লাইসেন্স তুলে দেয়া মানেই মানুষকে হত্যার জন্য আর্মস তুলে দেয়ার শামিল। তিনি অবৈধ চালকদের ধরতে পুলিশের তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকল গাড়ির সামনে চালকের বৈধ লাইসেন্সের ফটোকপি টানানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী চালকদের পোশাক পরতে হবে। তাহলে দুর্ঘটনার পর চালককে চিহ্নিত করা সহজ হবে। এসব কাজ করতে চালক কিংবা বাস মালিক শ্রমিকরা সহজেই মেনে নেবেন না।

সাধারণ মানুষের প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, ভাল কাজের জন্য আমাদের কষ্ট স্বীকার করতে হবে। কেউ বাসে লাইসেন্স না ঝুলালে গাড়ি থেকে যাত্রীদের নেমে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মোটরযান আইন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেন, এ অপরাধীকে অজামিনযোগ্য করতে হবে। সর্বোচ্চ শাসত্মি যাবজ্জীবন করার পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, অন্যায়ভাবে বিভিন্ন সংগঠনের নামে লাইসেন্স দেয়া হলে আমি বসে থাকতে পারি না। নৌপরিবহন মন্ত্রীর সুপারিশে ১০ হাজার লাইসেন্স কোন পরীৰা-নিরীৰা ছাড়াই দেয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে কিংবা বাকি ২৪ হাজার লাইসেন্স দেয়া হলে আমি আমরণ অনশনে যাব।

Click This Link
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×