somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টিভি নাটকের অশ্লীলতাই আমাদের আধুনিকতা!

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৩:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

* ওই মামা কি করস, চল ফুটবল খেইলা আসি।
* দূর ব্যাটা ফাইজলামি করস? এতো রাতে ফুটবল খেইলা আসি।
* আরে মামা... রাতের ফুটবল খেলা বুঝছ না? ওইটা আর কি, ডিস্পেনসারি থেকে এংলেট কিনে যাইতে হয়।
* ও! না, মামা আজ সারাদিন রিয়ার সঙ্গে ছিলাম তুই যা।

অবাক হওয়ার কিছুই নেই। আপনি এখন সেই আধুনিক যুগেই বসবাস করছেন, যে আধুনিক যুগের আধুনিকতার সিল হচ্ছে উপরের এই সংলাপগুলো। এই সংলাপগুলো দুই বন্ধুর একান্ত কোনো কথা নয়, দর্শকদের সামনেই তারা রীতিমতো টিভি নাটকে বলছে হরহামেশাই। মোটামুটি টিভি নাটক দেখার অভ্যাস আছে, এমন যে কেউই হয়তো ধরতে পারবেন এসব সংলাপ কোন ধরনের পরিচালকের নাটকে ব্যবহার হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই নাটক ও পরিচালকের নাম এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে না।
দেশে যে হারে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা বেড়েছে, তাতে গণমাধ্যমের প্রফেসনালিজম আরো অনেক বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, তা হয়নি। আর বাস্তবতা হচ্ছে, ভালো না হলে, ঠিক সেই পরিমাণ বা তারও বেশি খারাপ হবে এটাই স্বাভাবিক। সম্ভবত আমাদের খারাপের মাত্রাটা একটু বেশিই হয়েছে। আর এর বেশিরভাগই হয়েছে আধুনিকতার দোহাই দিয়ে। জানা না থাকলে গুনাহ্ মাপের মতোইÑ আধুনিকতার দোহাই দিয়ে অশ্লীলতা অনেকটা আমরা জায়েজ করে ফেলেছি। এসব দেখে শুনে যাদের মাথায় চিনচিনে ব্যথা করে, তারা চুপ করে থাকেন নানা কারণে। কারণগুলোর মধ্যে প্রধান নিজে ‘ব্যাকডেটেড’ অপবাদ পাওয়ার সম্ভাবনা। আর অন্য কারণগুলোর প্রধানটিই হচ্ছে নানারকম সামাজিক অস্থিরতা।
সমাজের চলমান পরিস্থিতিকে বোঝাতে বা চলমান পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে যে ধরনের নাটক সাধারণ দর্শকদের গেলানোর চেষ্টা চলছে তা নিঃসন্দেহে ভয়ঙ্কর বার্তা বহন করছে। গণমাধ্যমের কাজ সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা। কিন্তু এখন যেসব নাটক প্রচারিত হচ্ছে সেসবের মাধ্যমে মোটেও তা হচ্ছে না। এসব নাটকের মাধ্যমে সমাজের বিপথগামী একটি ক্ষুদ্রগোষ্ঠীর আচার-আচরণকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদেরও অপসংস্কৃতির মধ্যে নিক্ষেপের চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।
বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, এই দেশের চলচ্চিত্রের সোনালী অতীতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে একটি অপশক্তি। আর সেই অপশক্তিই এখন বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে টিভি নাটকের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার নেশায়। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এসব জেনে এবং বুঝতে পেরেও আমাদের রাষ্ট্র চুপ করে থাকে। হয়তো চুপ করে থাকতে বাধ্য হয়। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের এই চুপ করে থাকাটা যে গোটা জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য কতোটা ভয়াবহ তা সচেতন মানুষমাত্রই অনুমেয়। তাই এ ক্ষেত্রে সচেতনদের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক যুদ্ধের কোনো বিকল্প নেই, থাকতে পারে না।
সমাজের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরার দোহাই দিয়ে যারা নাটকগুলো নির্মাণ করছেন তাদের নাটকের সংলাপ এবং চিত্রায়ন এতোটাই নিচে নেমেছে যে, শুধু একটি নাটকের দৃশ্যের উদাহরণ দিলে বুঝতে সুবিধা হবে। ওই একই গ্র“পের একজন পরিচালক একটি নাটক বানিয়েছেন, পকেটমারের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক নিয়ে। সেই নাটকের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, পুলিশ অফিসারের শরীর ম্যাসেজ করছে পকেটমার। একটু পরে শরীর ম্যাসেজ শেষ হলে থানা থেকে বের হয়ে যায় পকেটমার। আবার কয়েক সেকেন্ড পর থানায় ঢুকে সেই পুলিশ অফিসারের সামনে কাচুমাচু করতে থাকে। আর এই দেখে পুলিশ অফিসারের প্রশ্ন, ‘কি হইলো আবার আসছোস কেন?’ জবাবে পকেটমার স্যার বলে অফিসারের দিকে মানিব্যাগটা বাড়িয়ে ধরলেন। অফিসার, ‘আমার পকেট মাইরা দিছস? দেহি সব ঠিক আছেনি!’ মানিব্যাগ চেক করে দেখলেন টাকা-পয়সা ঠিকই আছে সব। কিন্তু কিছু একটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ‘কিরে অইটা কই?’ অফিসারের প্রশ্ন। আবার কাচুমাচু পকেটমারের। অবশেষে হাত বাড়িয়ে ওই জিনিসটা দিয়ে দিল। জিনিসটা পুরোটাই দর্শককে দেখালেন। আর এটা ছিল জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধক বস্তুর প্যাকেট।
আসলেই কি এটা সমাজের বাস্তব অবস্থা? সমাজের কয়েকজন বিপথগামী মানুষ কিভাবে গোটা সমাজের চিত্র হতে পারে এটা ওই মহান পরিচালকের কাছে প্রশ্ন। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তার কোমলমতি শিশুর প্রশ্নের কবলে পড়েন। এই শিশুরা প্রশ্ন করে ‘কোথা থেকে বাবু আসে, কিভাবে জন্ম নেয়।’ পরিচালকদের বলবো, আমাদের বসে থাকার সময় নেই, এগিয়ে যেতে হবে। আধুনিক হতে হবে। তাই আপনারা আর সময় নষ্ট না করে, শিশুদের এই প্রশ্নের জবাব নিয়ে নাটক বানিয়ে ফেলেন। খাবে বেশ।
১৯টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×