শুক্রবার বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলি ঘটনায় একজন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ভারতীয় এই নাগরিক অবৈধ পাচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন নাগরিক অন্যদেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর হাতে প্রাণ হারাবে এমন ঘটনা মেনে নিতে পারেননি ভারতীয় জাতিয়তাবাদী নাগরিকরা। প্রতিবাদ দেখিয়েছেন। তারা ঘটনার পরপরই একজন বিজিবি সদস্যকে সীমান্ত থেকে তুলে নিয়ে গেছেন।
এ ঘটনা নিয়ে দিনভর বাংলাদেশের গণমাধ্যম সব ছিলো সরব। সচেতন সাধারণ নাগরিকও প্রতিবাদ দেখিয়েছে নিজ নিজ অবস্থান থেকে। কিন্ত এও সত্য কোনো নাগরিক সাহস করেনি, ভারতের সীমান্ত থেকে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর কোনো সদস্যকে তুলে নিয়ে আসার, বা অপহরণ করার।
ভারতীয় জাতীয়তাবাদী সেসব নাগরিককে সম্মান দেখানো যেতেই পারে। তাদের তাৎক্ষনিক প্রতিবাদকেও সমর্থন করা যায়। বিএসএফের নির্যাতন নিপীড়ন আর হত্যার বদৌলতে ভারতীয়রা জানে বাংলাদেশ সীমান্ত হত্যার বিষয়ে যথারীতি মেরুদণ্ডহীন আচরণ প্রকাশ করে আসছে।
অতএব এও অজানা নয়, বিজিবির একজন সদস্যকে তুলে নিয়ে আসলে বাংলাদেশ কিছুই করতে পারবেনা। বরঞ্চ ঘটনা যা ঘটবে তাতে সেই সব ভারতীয় নাগরিকদের চিন্তিত হবার কিছুই নেই। কারণ তারা জানে, বাংলাদেশে বৃহৎ দুই রাজনৈতিক জোট দুই মেরুতে অবস্থান করছে। পার্শবর্তী শক্তিশালী একটি দেশের সঙ্গে নানা ইস্যুতে কথা বলার জন্য বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিবাদ দেখানোর জন্য যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন তা এই দেশের (বাংলাদেশের) রাজনীতিকদের নেই। এতে করে ভারতের যে সুবিধাটি হচ্ছে, তা অনেকটা ‘ঈদের উপর শুক্রবার টাইপ’।
মাত্র একদিন আগে ভারতীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমেই বিএসএফ কতৃক বাংলাদেশী নির্যাতনে দৃশ্য দেখেছে বিশ্ব। তা নিয়ে কোনো সুরহা না হওয়ার আগেই এমন একটি ন্যাক্কারজনক সীমান্ত ঘটেছে যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মেরুদণ্ড কতটা দুর্বল তাও দেখার বা বোঝার সুজোগ হলো বিশ্ব বাসীর।
আর একই ঘটনার মধ্য দিয়ে আরো বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবন। যেখানে সীমান্ত বাংলাদেশীকে প্রতিনিয়ত পাখির মতো গুলি করে, পাথর নিক্ষেপ করে, এমনকি আরো বিচিত্র সব উপায়ে হত্যা করছে বিএসএফ এবং কখনো কখনো সীমান্ত এলাকার ভারতীয় নাগরিকেরা, সে সময় যদি বাংলাদেশের সীমান্ত দেখবাল করার দায়ীতে থাকা সশস্ত্র সদস্য সদস্য ভারতীয় নাগরিকদের হাতে অপহৃত হয় সাধারণ মানুষতো সেখানে তুচ্ছ।
২০১০ সালের ২২ জুন জাতীয় সংসদে একজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যার ঘটনা বন্ধ করতে ভারত তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিবকে উদ্ধৃত করে বলেন, বিএসএফ এরই মধ্যে প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র ব্যবহার করছে। তার আগে প্রধানমন্ত্রী সংসদে অন্য এক আলোচনায় বলেছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা বাংলাদেশীদের প্রাণহানি এড়াতে ইতিমধ্যেই ভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বিবিসি রেডিও দিল্লিতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্যে এ কথা নিশ্চিত করেছেন যে তারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তে বাহিনীর সদস্যদের কাছে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র পাঠাতে শুরু করেছেন।
বিবিসিকে বিএসএফের ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা সে সময় জানান, সীমান্তরক্ষীদের হাতে এই নতুন ধরনের অস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অস্ত্রের নাম হল পাম্প অ্যাকশন গান বা চলতি ভাষায় ছররা বন্দুক। যা সাধারণত ছোটখাটো পাখি মারার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বিবিসি তাদের সংবাদেই বলেছে, প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরও কিন্তু বাংলাদেশ সীমান্তে গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
সব সংবাদ বাদ দিয়ে কথা বললেও অন্তত নিশ্চিত হয়ে এই বলা যায়, সীমান্তে ভালো নেই বাংলাদেশীরা। এর কারণ বাংলাদেশ সরকারের তোষনমুলক আচরণ এবং মেরুদণ্ডহীনতা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



