আমার প্রিয় পোস্ট
- 'অশ্রুপাত শেষ হলে নষ্ট করো আঁখি' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ওই ছোটোলোকের পোলাটা কিন্তু বীরপ্রতীক ছিল - অমি রহমান পিয়াল
- পাকমন পেয়ার: আস্তমেয়ের শেঁকড় সন্ধানের অনাদায়ী দেনা সঞ্চিতি! - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- কিছু প্রয়োজনীয় Google Seacrh টিপস n' টার্মস
- নাফিস ইফতেখার
- শিক্ষাব্যবস্থা, ক্ষয়িষ্ণু সংস্কৃতি, যুদ্ধাপরাধী ইস্যু, জাফর ইকবাল ও আমাদের বুদ্ধিজীবি সমাজ- আপাত বিক্ষিপ্ত প্রাসঙ্গিক ভাবনা - সীমান্ত আহমেদ
- যে বইগুলো পড়া দরকার ......সংশোধিত ও পরিবর্ধিত - সপ্নীল
- খুনী আল-বদরের উত্তরসূরী ছাত্র শিবির : উত্থানের ভয়াবহ দলিলপত্র - অমি রহমান পিয়াল
- জামায়াতে ইসলামী এর ইতিহাস ফিরে দেখি - ইরতেজা
- প্যালেস্টাইনের রাজনৈতিক ধর্ষন আর বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার - রাগ ইমন
- সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-১৯৮১) একটি প্রামাণ্য দলিল - শওকত হোসেন মাসুম
- ইজরায়েলের জবানবন্দী:: তেলআবিবে বিপন্ন মানবতা আর আত্মরক্ষার অধিকার !! - মেহরাব শাহরিয়ার
- নেটজগত থেকে জামায়াতমনস্কতা বিতাড়ন কতটা জরুরি? - মনসুর হিল্লাজ
- ~~*~*~দৈনিক সংগ্রাম ১৯৭১ ও ২০০৮:জামাতের রঙ বদলের জ্বলন্ত প্রমান~~*~*~ - এ. এস. এম. রাহাত খান
রাজাকার কে জুতা নিক্ষেপ করুন
- এ. এস. এম. রাহাত খান
- আমার শিবির অভিজ্ঞতা - ব্লুজ
- বিজয় দিবসে ৭১ এর রাজাকারদের তালিকা। বাড়ি ঘর আর পিতার নাম সহ। - ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান
- তাহলে জিয়ার মুখেই শুনুন - অমি রহমান পিয়াল
- গল্পঃ বাথরুমে গণতন্ত্রের পতনে শ্যাওড়াপাড়ার মানুষেরা যা করে - মোস্তাফিজ রিপন
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গনহত্যার একটি ভিডিও - আতিকুল হক
- ব্লগের নাস্তিকেরা কি কেবল ইসলাম বিদ্বেষী??? - নাস্তিকের ধর্মকথা
- রাশেদ খালীফা, ম্যাথমেটিকল মিরাকল অব কোরআন এবং কোরআন টেম্পারিং - নাস্তিকের ধর্মকথা
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধি আন্দোলনে মুসলমান - নাস্তিকের ধর্মকথা
- কোরবানীর গরু ও তার মালিক হাশিম - পাভেল করচাগিন
- আর্মেনিয় গনহত্যা: তুরস্কের অটোমান শাসনের কলঙ্কিত অধ্যায়। - ইমন জুবায়ের
- সামহোয়্যারের ব্লগার ও পোস্ট - কত প্রকার ও কি কি (সবিস্তারে বর্ননা - অবশ্যই দেখুন)
- নাফিস ইফতেখার
- মার্কসবাদের ইতিহাস পড়তে পড়তে অনিবার্যভাবেই আমার লালনের কথা মনে পড়ে গেল - ইমন জুবায়ের
- ধর্মে বিজ্ঞানঃ নিম গাছে আমের সন্ধান - নাস্তিকের ধর্মকথা
- পাগলের রাজণৈতিক প্রলাপ : ( বিশেষ পর্ব) [স্বঘোষিত রাজাকারদের অপপ্রচারের প্রতিবাদ] - এ. এস. এম. রাহাত খান
- ১৯৭১-এ দৈনিক সংগ্রাম (পর্ব-১) - সবাক
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- এবং বাংলা সীমান্তে: বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ (শেষ পর্ব, পর্ব ৫০) - ফাহমিদুল হক
- আরিফুল হোসেন তুহিনের অসামান্য উদ্যোগে সামান্য ভূমিকা রাখতে চাচ্ছি - রিয়াজ শাহেদ
- দৃষ্টি আকর্ষন:৭১ এর সকল অনলাইন দলিল একত্রীকরনের প্রচেষ্টা - আরিফুল হোসেন তুহিন
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- পরীক্ষাগারে বিগ ব্যাং: উত্তর মিলবে অনেক প্রশ্নের - অনিশ্চিত
- একটা কবিতা লিখতে চাই - ফারহান দাউদ
- বিশ্বাস করো , আজ তোমাকেই চাইতাম - রাগ ইমন
ইদানিং খুব ঘাস খাই আর নির্বোধ গরু হয়ে উঠার স্বপ্ন দেখি,বঙদেশে গরুদের জন্য সব লক্ষীই হাত পেতে আছে ।রাষ্ট্র ও সমাজযন্ত্র যখন সংকরিত গরুর গোয়াল ।

মেটাল গানের ব্যবচ্ছেদের চেষ্টা - ১
০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:২৭
(প্রথমেই বলে রাখি "মেটাল" একটি বিশাল বিষয়। এটি কেবল এক ধরনের গান নয়, এটি একটি না না দর্শনের প্রতিষ্ঠানও বলা যায়। তাই ক্ষুদ্র পরিসরে মেটাল নিয়ে আলোচনা বেশ কঠিন। আরেকটি কথা, এই পোস্ট টি মেটালকে আমি কিভাবে বুঝি সেটাই উপস্থাপনের চেষ্টা করবো। তাই জানরা ডেফিনেশনে ঝামেলা হয়ে যেতে পারে, কারন অনেক জানরার সঠিক ডেফিনেশন নেই। আবার ঐক্যমত্যও নেই। তাই আমি যেভাবে বুঝি সেটাই উল্লেখ করবো। আর ইচ্ছাকৃত ভাবে পার্টিকুলার গান বা ব্যান্ড কে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা করেছি কারন যারা মেটাল শ্রোতা নন, তারা হোচট খাবেন। আর আমি চাই আরো বেশী সংখ্যক মানুষ মেটালকে বুঝুক)
মেটালের সাথে আমার পরিচয় অষ্টম শ্রেনীতে । মেটালিকার এন্টার স্যান্ডম্যান। গানটি শুনেই আমি অবাক হয়েছিলাম। কারন গান বলতে যা বুঝতাম তার কিছুই এখানে ছিল না। কিন্তু এমন কিছু ছিল যা আমি আগে কখোনো কোন গানে পাইনি। পরবর্তীতে অসংখ্য মেটাল গান শুনেছি এবং এই মিউজিকটাকে বোঝার চেষ্টা করেছি। যতই বুঝেছি ততই এই মিউজিক সম্পর্কে আমার অনুভুতি শ্রদ্ধাবনত হয়েছে। বুঝেছি এই কর্কশ সুরের পেছনের অনন্ত হতাশার বিভ্রান্ত তরুন মনের কথা।
মেটালের জন্ম এমন একটি সময়ে যখন পৃথিবী যাচ্ছিল এক ভয়াবহ সংকট কালের মধ্য দিয়ে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ, কোল্ড ওয়ার, কালোদের উপর নির্যাতন, সবমিলিয়ে বছরের পর বছর নতুন প্রজন্মকে বাবা মারা যে মিথ্যা রুপকথা শুনিয়ে এসেছে তার লজ্জাজনক বস্রহরন। পতিত সময় সবসময়ই মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে নতুন কিছু গড়তে। তবে এ গড়া সৃষ্টির গড়া নয়, এ গড়া সর্বাধিক সৃষ্টিছাড়া গড়া।
যখন নতুন প্রজন্মের সামনে একের পর এক আসতে থাকল প্রতিশ্রুত তথাকথিত সত্যের মিথ্যা রুপ , তখন জন্ম নিলো মেটালের গভীরতম মোটিভেশন। "অস্বীকার"। হ্যা ডিনায়েল ছিল মেটালের প্রাথমিক উৎসাহ। চিরকালের সুন্দরস্তব , অসংখ্য সুন্দরতম উপমা, আর সুলেল সুর হঠাৎই পরিণত হল এক নিদারুন ভন্ডামিতে। এই পৃথিবীতে সুন্দর কিছু নেই, সবই কুৎসিত আর ভন্ডামিতে পরিপূর্ন। যদিও টেকনিক্যালী মেটালের জন্ম বলতে বিখ্যাত ডেথ নোটের(আমার স্মৃতি যদি আমার সাথে প্রতারনা না করে থাকে, যদি এই তথ্য ভুল হয় পাঠক আমাকে ঠিক করে দেবেন)জন্ম বোঝায়। কিন্তু মেটালের জন্ম কেবল একটি নতুন উপায়ে গীটার বাজানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সুর, এর কথা সবকিছুই জন্ম দিতে সক্ষম একটি নতুন দর্শনের।
মেটালের জন্ম থেকেই জীবনের অন্ধকার দিক গুলো প্রকট হয়ে উঠে। ডিয়ো কিংবা ডিপপার্পেলকে এ হিসেবে স্যাম্পল হিসেবে দেখা যায়। যে পৃথিবী শুদ্ধ এবং সুন্দর কিছু জন্মদানে ব্যার্থ তাকে পরিত্যাগ করে মেটাল। গানের বিষয় হিসেবে উঠে আসে মানুষের ক্রোধের কথা, হিংসার কথা, লোভের কথা, যৌনতার কথা। মানুষকে যে ভুল যুগযুগ ধরে বোঝানো হয়েছে সেই ভুলেরই প্রায়শ্চিত্ত করে যেন প্রাথমিক মেটাল গান গুলো। গানে অন্ধকার জীবনের কথা উঠে আসে, আসে পতিত শহরতলীর কথা। এর সাথে তুলনা করা যায় কবিতা যখন রোমান্টিক শুদ্ধতা ছেড়ে আধুনিকতার রাস্তায় নেমেছিল, কবিতার বিষয়ে ফুলের চেয়ে আস্তাকূড় প্রাধান্য পেয়েছিল। ফুল শুকিয়ে যায় দুদিনেই। কিন্তু পরম প্রত্যাদেশের মত রাস্তার কোনের আস্তাকূড়টা টিকে থাকে। এই জীবনের পথে তাই আস্তাকূড়ের বাস্তবতাই বেশী "মূলগত"। মেটালের মাঝেও তাই ঢুকে পরে এই বিষয়গুলো।
মেটালের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত অস্বীকার করার প্রবনতা। মেটাল অস্বীকার করে সব প্রচলিত প্রথার আর সমাজযন্ত্রের পাতানো কাঠামোকে। পতিত সময়ে এই অস্বীকার করার প্রবনতাই সবচেয়ে বেশীবার দেখা গেছে মেটালের মাঝে। আমি বারবার এর উদাহরন দেখতে পাই, "আই ওন্ট ডু হোয়াট ইউ টেল মি টু ডু"(আর্টিস্টের নাম ভুলে গেছি) সম্ভবত মেটালের এই প্রবনতার সাড়বস্তু। এই অস্বীকার প্রবনতা এসেছে পূর্ববর্তী জেনারেশনের প্রতি তীব্র অবিশ্বাস থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্টেটে ১৮ বছরে তখন ভোট দেয়া যেত না, কিন্তু ভিয়েতনামে বাধ্যতামূলক যেতে হত। জমে থাকা এই অবিশ্বাস ই মূলত তৈরী করেছে সমাজকাঠামোর সকল উপাদান কে অস্বীকার করানোতে।
যেকোন যুগসন্ধির শিল্প আঘাত করে প্রচলিত বিশ্বাস আর প্রবনতা গুলোকে। এমনটা করেছে আধুনিক কবিতাও। করেছে আধুনিক উপন্যাসও। এমিল জোলার পতিতাপল্লীর সেই নির্মম ইতিহাস কিংবা জেমস জয়েসের ইউলিসিস অথবা ডি এইচ লরেন্সের উপন্যাস গুলি। সুধীনদত্তের নির্বান দেখি আমরা "উটপাখী" তে। বালুতে মুখ গুজে রাখা উটপাখী কে চিত্রিত হয় অন্ধ সমাজ। ঈশ্বর তার কবিতায় পরিনত হন "আরন্যিক নির্বোধের ভ্রান্ত দু:স্বপ্নে"। এই আঘাত কে অন্য একটি পর্যায়ে নিয়ে গেছে মেটাল। যে ঈশ্বরের সৃষ্ট মহাবিশ্বে এত দু:খ, কষ্ট , আর অমানবিকতা, সেই মহাবিশ্বে ঈশ্বর হয়ে পড়েন তীব্র এখরোখা এক স্বৈরাচারী। তাই স্বর্গ থেকে বিতাড়িত স্যাটান হয়ে পরেন যুগের ট্র্যাজিক হিরো। যার স্বাধীনচেতা মনোভাবের জন্যেই স্বর্গ থেকে নির্বাসিত হয়। তাই মেটাল গানেও একটি ইমেজ শয়তানের আদলে তৈরী হয়। তবে সেটিকে সরাসরি স্যাটান হিসেবে যেমন ব্যাবহার করা হয়েছে তেমনি এন্টিগড হিসেবেও উপস্থাপিত হয়েছে। আসলে এই উপস্থাপন ছিল এক ধরনের প্রতীকি প্রতিবাদ। কিছু মানসিক বিকার গ্রস্ত শিল্পী ছাড়া স্যাটানকে আসলেই ক্ষমতার অধিকারী ভাবেন নাই মেটাল শিল্পীরা। ডিয়ো, আয়রন মেইডেন, জুডাস প্রীস্ট, এলিস কুপার সহ অনেকেই গ্রহন করেন এই তীব্রতম প্রতিবাদের ভাষা। ডিয়ো তার সাক্ষাৎকারে এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারটিও ভুলভাবে ইন্টারপ্রেট হয় স্থুলবুদ্ধির সমাজের রক্ষাকর্তাদের কাছে। তারা মেটাল কে দেখা শুরু করেন শয়তানের উপাসনার উপায় হিসেবে। অজি অসবোর্ন এর এলবাম পুড়াতে থাকেন ক্যাথলিক রা। সানডে স্কুলে বাচ্চাদের শিক্ষা দেয়া হয় যে মেটাল শয়তানের কারসাজি। আয়রন মেইডেনের "নাম্বার অফ দ্যা বিস্ট" সম্ভবত অন্যতম বিতর্কিত গান। এই গানের অসংখ্য কপি পোড়ানো হয় বিভিন্ন যায়গায়। তবে মেটালে আসল শয়তানের উপাসনা যে পরবর্তীতে হয়নি তা ঠিক নয়। নরওয়ের কুখ্যাত ব্ল্যাকমেটাল ব্যান্ড গুলির কথা এখানে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু মুলধারার মেটালে এরকম আবালীয় ধারনা তেমন দেখা যায় না।
মেটালের আরেকটি বৈশিষ্ট্য যা প্রায় সকল মেটাল ব্যান্ড গ্রহন করেছে সেটি হচ্ছে পরাবাস্তবতা। অসংখ্য মেটাল গানে অন্ধকার আলোর মিশেলে তৈরী হয়েছে নানা অবাস্তব দৃশ্যকল্প। এর উৎপত্তিও এই নষ্ট পৃথিবী থেকে সরে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেই আমি দেখতে চাই। কাফকার লেখা বা সমসাময়িক ফরাসী কিছু লেখকের লেখায় আমরা সাহিত্যে পরাবস্তবতার সফল প্রয়োগ দেখি। মেটালও তার নিজস্ব উপায়ে পরাবাস্তবতা কে ব্যাবহার করেছে। নানা পরাবাস্তব দৃশ্যকল্পে রুপকের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে অনেক গভীর সত্য। মেটালের এই বৈশিষ্ট্যটি সবচেয়ে সহজে চোখে পরে। আয়রন মেইডেনের অসংখ্য গানে আমরা এর সফল প্রয়োগ দেখতে পাই।
মেটালের অন্যতম প্রিয় বিষয় মৃত্যু। মেটালের মৃত্যু নিয়ে প্রায় বাড়াবাড়ি রকম উৎসাহ পশ্চাৎপটে জীবনের ব্যার্থতাকেই প্রকাশ করে। তাই মেটাল ঘেটেছে মৃত্যুকে অন্য যেকোন শিল্পমাধ্যম থেকে বেশী। মৃত্যুকে রোমান্টিসিজমেও পরিণত করেছে কোন কোন শিল্পী। মৃত্যু হয়ে উঠেছে আকাঙ্ক্ষেয়। পার্থিবতার প্রতি অপরিসীম ঘৃণাই মৃত্যু, এবং আত্নহত্যার বিষয়গুলোকে প্রকট করে তুলেছে মেটাল গানে।
ব্যার্থ জীর্ন পৃথিবীতে যখন নতুন প্রজন্মের বিশ্বাস ভঙ্গের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, তখন প্রতিবাদ, অস্বীকার, ভেঙ্গে ফেলার ইচ্ছা সর্বপরি এই পৃথিবী থেকে দুরে যাওয়ার আকুল ইচ্ছাই প্রাথমিক মেটাল যুগের প্রধান উপজীব্য ছিল। পার্থিব জীবনকে সোজাসুজি বাতিল করে দিয়ে মেটাল খুজেছিল এক নতুন জগৎ। কিন্তু ধীরে ধীরে পৃথিবীতে সাময়িক হলেও শান্তি এসেছে। মানুষের মনের অস্থিরতাও কমে এসেছে। যদিও বিশ্বের প্রতিকূলতা এখনও নতুন প্রজন্মকে করে বিভ্রান্ত, কিন্তু তা প্রকট ছিল না মেটালের জন্মলগ্নের মত। মেটালের মাঝেও আসে বিবর্তন। মেটাল আরো এক্সট্রিম হয় মিউজিকের দিকদিয়ে, কিন্তু বিষয় নির্বাচন, সুরে মৌলিক পরিবর্তন আসে। যুদ্ধের ভয়াবহতা, রাজনীতি, শান্তির আকুতি ইত্যাদি বিষয় হয়ে উঠে অনেক মেটাল ব্যান্ডের। উল্লেখ করব মেগাডেথের "পীস সেলস হু ইজ বায়িং" কিংবা "সিম্ফোনী অফ ডেসট্রাকশন"। অথবা "স্করপিয়ন্সের" "উইন্ড অফ চেন্জ"। মেটালের এই বাস্তবতার দিকে ফিরে আসা সকল মেটাল ব্যান্ড গ্রহন করেনি। আসলে হাজার জানরায় বিভক্ত মেটালকে নির্দিষ্ট কিছু ভ্যরিয়েবল দ্বারা মাপাও কঠিন।
মেটালের বিষয়, ভাবে, ইন্সট্রুমেন্টস এ ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে গত চার দশকে। আমরা এখন ইভালুয়েট কিংবা ইকুইলিব্রিয়ামের গানে দেখি স্ক্যান্ডেনেভিয়ান লোকসঙ্গীতের সুর। সেপালচুরাও ব্রাজিলের হেরিটেজ একাধিক বার ইউজ করেছে। আমরা দেখতে অধিকতর ধীর লয়ের ব্যাক মেটালের উথান। দেখতে পাই পাওয়ার মেটালের পতন(যা একসময় সর্বাধিক জনপ্রিয় জানরা ছিল)। কিন্তু সৃষ্টির শুরু থেকে মেটাল যেই প্রতিবাদের সুর, পৃথিবীতে মানিয়ে নিতে না পারার ক্ষোভ, আর সামাজিক "আউটসাইডার" দের শিখিয়েছে স্বাধীনতার শিক্ষা, তা আসলেই অতুলনীয়। মেটালের অসংখ্য নিন্দার পরও মেটাল সবসময়ই স্বাধীনতা আর সামাজিক পশ্চাৎপদ বৃদ্ধতন্ত্রের বিরোধীতা করে এসেছে।
পাপারোচের চিৎকার(যদিও পাপারোচ ঠিক মেটাল জানরায় পরে না তবুও লিরিকটি খুব এপ্রোপিয়েট মনে হল) ভালোভাবে বিষয়টিকে প্রকাশ করে
ফাক ইয়োর মানি
ফাক ইয়োর পজেশন
ফাক ইয়োর অবসেশন
আই ডোন্ট নিড দ্যাট শীট(বিটুইন এন্জেলস এন্ড ইনসেক্টস)
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: সবকিছুরই সমস্যা আছে।
উদাহরন দেই।
যেমন আজকাল মানুষজন মনে করে ছন্দ ছাড়া আলুপটল লিখলেই কবিতা হয়ে যাবে। তেমনি গীটারের ডিস্টোর্শন মেরে ষাড়ের মত চেচালেই ভালো মেটাল গান হয়ে যায়। তাই অসংখ্য ব্যার্থ কবিতার মতই অসংখ্য ব্যার্থ মেটাল গান আছে, বিকৃত মোটিভেশনও আছে(ড্রাগ এবিউজ, সেক্সুয়াল এক্সপ্লোয়েট, স্যাটানিক ওরশীপ )। কিন্তু আমি মেটালের মুল সুরটি ধরতে চেয়েছি।
আর টাকার ব্যাপারটা। হ্যা এটা ফ্যাক্টর আমিও মনে করতাম। কিন্তু বন্ধু তাওসীফের প্ররোচনায় পরে বেশ কিছুদিন আন্ডারগ্রাউন্ড মেটাল ব্যান্ড শুনে আমি টাশকিত। মুলধারার চেয়ে অনেক মেধাবী শিল্পী সেখানে কেবল মনের আনন্দে গান গাচ্ছে। বাকেটহেড, রিভারসাইড তেমন পরিচিত কোন ব্যান্ড নয়। কিন্তু তাদের কাজ অসাধারন।
তাই এখনও আমার বিশ্বাস আছে শিল্পের প্রতি ভালোবাসায় শিল্প তৈরী হবে। বাজারী অর্থনীতির চাপে পরেও শিল্পের প্রতি ভালোবাসা বজায় থাকবে।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
I am an antichristI am an anarchist
Dont know what I want but
I know how to get it
I wanna destroy the passer by
সবকিছু দুমড়ে মুচড়ে দেয়ার এই প্রবণতাটাই ভালো লাগে। এই গানটা অবশ্য মেটাল না, পাঙ্ক রক। তয় ভালো ভালো মেটাল ব্যান্ডরাও এইটার কভার কর্সে।
লেখক বলেছেন: আসলেই, মাঝে মাঝে ধ্বংসের সুখটা বড় দরকার হয়ে পরে।
মনির হাসান বলেছেন:
চমৎকার পোস্ট ... মেটাল দুনিয়ায় লেড জেপলিনের ভুমিকা'টা বাদ গেছে ।আমি অবশ্য রক ভক্ত ... গত দশকে মেটাল ব্যাপার'টা এক্কেবারে পচে যাওয়ার দশা করেছে অতি-গিমিক'প্রিয় ভন্ড ভক্তরা ।
লেখক বলেছেন: আসলে পার্টিকুলার কোন আর্টিস্টের কথা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই গান/আর্টিষ্ট উভয়েই খুব কম উল্লেখিত। শুধু জেপলিন কেন, আমি ব্যাক্তিগতভাবে ডীপ পার্পেল রেও অনেক ক্রেডিট দেই, (অনেকে বেশী একটা দিতে চায় না।)মেটালের ইতিহাস নিয়ে আরেকটা পোস্ট লিখব ভাবতেছি।
"গত দশকে মেটাল ব্যাপার'টা এক্কেবারে পচে যাওয়ার দশা করেছে অতি-গিমিক'প্রিয় ভন্ড ভক্তরা ।"
ঠিক কইছেন। তয় এখনও ভালো মেটাল গান হয়(পুরোনোরা ছাড়া)। তবে আমার মনে হয় মেইনস্ট্রীমে যারা মেটলের চর্চা করছে অনেকই নট আপ টু দ্যা মার্ক। বরং আন্ডারগ্রাউন্ডের ব্যান্ড গুলা অসাধারন।
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
আহা মেটাল !!
লেখক বলেছেন: আহা মেটাল![]()
প্রিয়তমেষু বলেছেন:
মেটাল জগতের কিছু নতুন ধারনা পেলাম,কিছু নতুন সংজ্ঞা শিখলাম।চমতকার লিখেছেন,প্লাসড এবং প্রিয় তে।আসলে মেটালের জেনার নিয়ে লেখা একটা ঝামেলা,তবে ইতিহাস নিয়ে লেখাও কম ঝামেলার নয়।আমি বেশ কছু দিন ধরে ইন্টারনেটে হার্ড রক এর উপর কিছু পড়ছি,ইচ্ছা আছে নেক্সট এ এর উপর একটা পোস্ট দিব।
আপনার লেখা টা ভালো হয়েছে,ইন্ডিভিজুয়াল ব্যান্ড পাশ কাটিয়ে আপনি যেভাবে উপস্থাপনা কে তুলে ধরেছেন,তা ভাল লেগেছে।
আকাশ ভাইয়ার কাছ থেকে সেরাম একটা কমেন্ট আশা করেছিলাম।
@লেখক,নরওয়েজিয়ান্ ব্লাক মেটাল কেন কুখ্যাত এটা সম্বন্ধে একদিন বিস্তারিত লিখেন।আমি কিছু কিছু জানি,তারপর ও মনে করি সবার জানা দর্কার!!!!
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
চমৎকার পোষ্ট প্রিয়তে++++
কোন কোন কথা কর্কশ সুরেই বলতে হয়, নয়তো গণ্ডারের চামড়ায় ফোটে না।
মানুষ বলেছেন:
মেটাল সম্পর্কে আমি একেবারেই অজ্ঞ। গানের মুল বিষয় 'সুর' মেটালে পাওয়া যায় না জন্য শোনার উৎসাহ বোধ করিনি কখনো, তবে পোষ্টটা পরে ভাল লাগল।
মানুষ বলেছেন:
পড়ে*
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
ভাইজান একখান কথা বলি স্করপিয়ন্সের দু একটা গান ছাড়া সবই তো হার্ড রক আর ভাই পাপা রচকে মেটাল কেনো বললেন বুঝলাম না, ওটাকে মডার্ন রকের ঘরেই বেশী পড়ে, দুয়েকটা গান যদিও নু মেটাল, তবে মেটাল বলে একে আখ্যায়িত করার কারন বুঝলাম না!তবে মেটালের যেসব গান বেসিক গুলান বলছেন সেগুলো একসময়ের জন্য ঠিক ছিলো এখন যেটা নু মেটালের শিল্পিরা ধরে রেখেছে কিন্তু অন্যান্য মেটাল ব্যান্ড এখনও ব্লাক অথবা ডেভিলস অথা সুইসাইডাল টেনডেন্সির অথবা সমাজের অন্যায়কে উগ্র ভাবে উপড়ে তুলে ফেলার প্রবনতাই ধরে নেয়া হয়!
দন্ডিত বলেছেন:
আমি আপনের অনেক জুনিয়র তাই আপনি কইরা কইলেন তাই সম্মানিত বোধ করলাম।এইটা ঠিক স্করপিয়ন্সের অধিকাংশ গানই হার্ড রক/রক ঘরনার।
আর পাপারোচের নামের পাশের ব্র্যাকেটবন্দী ডিসক্লেইমারটা মনে হয় আপনার চোখে পরে নাই
"যদিও পাপারোচ ঠিক মেটাল জানরায় পরে না তবুও লিরিকটি খুব এপ্রোপিয়েট মনে হল "
আর এনালাইসিস মাত্র শুরু করছিলাম। তারপরেই ব্যান খাইয়া গেলাম।
আরো অনেক কিছু বলার আছে।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
"যদিও পাপারোচ ঠিক মেটাল জানরায় পরে না তবুও লিরিকটি খুব এপ্রোপিয়েট মনে হল "আর এনালাইসিস মাত্র শুরু করছিলাম। তারপরেই ব্যান খাইয়া গেলাম।
আরো অনেক কিছু বলার আছে।
ইদানিং এতো পড়নের ধৈর্য্য হয় না। তয় প্রথমে একটু মনোযোগ দিয়া পড়তে গিয়া যখন দেখি স্করপিয়ন্সের নাম তখন আর পড়বার মন চাইলো না! আর যেহেতু ব্যান খাইছেন সেইজন্য আপনের লিগা একটা গায়েবী জানাযা পড়ুম না গত পরশুর আগামীকাল!
মুক্ত বয়ান বলেছেন:
সেইফ করল অবশেষে এইটারে?
আমি উঠে এসেছি সৎকারবিহীন বলেছেন:
"উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: ভাইজান একখান কথা বলি স্করপিয়ন্সের দু একটা গান ছাড়া সবই তো হার্ড রক আর ভাই পাপা রচকে মেটাল কেনো বললেন বুঝলাম না, ওটাকে মডার্ন রকের ঘরেই বেশী পড়ে, দুয়েকটা গান যদিও নু মেটাল, তবে মেটাল বলে একে আখ্যায়িত করার কারন বুঝলাম না!"আমারও একই প্রশ্ন। তবে খুবই ভাল লাগল আরেক মেটাল হেডের খোঁজ পেয়ে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















তবে ড্রাগ বিষয়ে একটু লিখলে ভালো হতো ।
সাথে যদি ভন্ডামী খুজতে গিয়ে নিজের ই ভন্ডে পরিনত হওয়া টা ।
সাথে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজের হাস্যস্পদে পরিনত করাটাও তুলে আনা দরকার ছিলো
~~~
মেটাল হৌক -- যাই হোক -- টাকা ছাড়া তো আর কেউ গায় না --
এনিওয়ে খুব ভালো লেগেছে বিশ্লেষন।
++++++
~~
আপনার জন্য একটা গান
http://www.youtube.com/watch?v=OY0536g_6Wc