পূর্বের পোষ্ট: আল্লাহর অস্তিত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ -১ (The Intellectual Proof of Allah
(পূর্ব প্রকাশের পর)
মহান আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় এই সৃষ্টিকূলের প্রতিটি ক্ষেত্রে। পশু-পাখীর মধ্যেও তার নিদর্শন দেখা যায়। পবিত্র কুরআনে মৌমাছি সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে:
وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ. ثُمَّ كُلِي مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لايَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ.
অর্থ: “আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মৌমাছিকে নির্দেশ দিলেন তোমরা পাহাড়ে গিয়ে, গাছের উপরে এবং বিল্ডিংয়ের কার্ণিশে তোমরা ঘর তৈরী করো। অত:পর তোমরা সব ফল এবং ফুল থেকে রস সংগ্রহ করো। তোমার রবের দেখানো পথে চলতে থাকো। এরপর তার পেট থেকে বিভিন্ন রংয়ের সুমিষ্ট পানীয় বের হয় যার মধ্যে মানুষের জন্য শেফা বা রোগমুক্তি। নিশ্চয়ই এই সকল বিষয়ের মধ্যে নিদর্শন আছে বুদ্ধিমান স¤প্রদায়ের জন্য।” (সূরা নাহল, আয়াত ৬৮-৬৯)
ঘর তৈরী করার জন্য ইট-সিমেন্ট ও কেমিকেল দরকার। মহান আল্লাহ তাদের মধ্যে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তৈরী করে দিলেন। আপনারা দেখবেন মৌমাছি যখন ঘর বানায় তখন তারা আগে গাছের মধ্যে এক ধরণের কেমিক্যাল দিয়ে তার সাথে ঝুলিয়ে ঘর বানায়। এমন ঘর যাতে অনেক সময় ১০ মন পর্যন্ত মধু সুন্দরবনে ঝুলে থাকে। কিন্তু তা ছিড়ে পড়ে না। এতো মজবুত কেমিকেল দিয়ে তারা ঘর বানায়। আজ পর্যন্ত আপনারা কেউ শুনেছেন যে, মধুর ওজন বহন করতে না পেরে কোন মৌচাক ছিড়ে গেছে? শুনেন নি।
এবার ঘর তৈরী করার জন্য প্লানিং ইঞ্জিনিয়ার দরকার। তাদের তো আর বুয়েট নেই, কুয়েট নেই। মহান আল্লাহ তাদের মধ্যেই প্লানিং ইঞ্জিনিয়ার সৃষ্টি করে দিলেন। আপনার যান গিয়ে মৌমাছির ঘর গুলো মেপে দেখে আসুন। তাদের প্রতিটি ঘর ষষ্ঠকোন বিশিষ্ট্য। নিজেদের মাষ্টার বেডরুম আলাদা। বাচ্চাদের ঘর আলাদা। মধু রাখার ঘরও আলাদা। সুবহানাল্লাহ।
ঘর তৈরীর পর কিভাবে মধু সংগ্রহ করতে হবে তাও মহান আল্লাহ তাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। মধুর সন্ধান করা এবং দূর দূরান্ত থেকে মধু আনতে গিয়ে কোন মৌমাছি যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য তাদের মধ্যে কম্পাস তথা দিক নির্ণয়কারী যন্ত্রও স্থাপন করে দিয়েছেন। বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, মৌমাছিরা ১০ মাইল পর্যন্ত দূর থেকে নিজেরা নিজদের একটি বিশেষ শিংয়ের নাড়া-চাড়া করার দ্বারা নিজেদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারে এবং ঠিক ঠিক স্থানে গিয়ে মধু নিয়ে আবার নিজেদের ঘরে ফিরে আসতে পারে। এই ব্যবস্থা যিনি করেছেন, তিনিই আমাদের রব।
কুরআনের আরেক স্থানে বলা হয়েছে,
أَفَلا يَنْظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ. وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ. وَإِلَى الْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ. وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ.
অর্থ: “মানুষেরা কি লক্ষ্য করে না উটের দিকে, কিভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আসমানের দিকে লক্ষ্য করে না, কিভাবে তাকে সুউচ্চ করে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে কি পাহাড় গুলোর দিকে লক্ষ্য করে না, কিভাবে তা সৃষ্টি করেছেন। যমীনের দিকে লক্ষ্য করছে না, যমীনকে কিভাবে বিছিয়ে দেয়া হয়েছে।” (সূরা গাশিয়া, আয়াত ১৭-২৪)
একজন রাখাল বা গ্রাম্য ব্যক্তি সহজে কিভাবে আল্লাহকে চিনবে তার বর্ণনা দিয়েছেন মহান আল্লাহ তাআলা এই আয়াতের মাধ্যমে। এরপর উটের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। এব্যাপারে একটি হাদীস:
প্রিয়নবী সা. কে সাহাবায়ে কিরাম রা. একবার জিজ্ঞাসা করলেন, যদি আমরা বনে কোন ছাগল পাই, তাহলে তা কি নিতে পারবো?
(তখন বকরী আরবের লোকদের কাছে তুচ্ছ বা অল্প দামের বলে গণ্য হতো তাই) মহানবী সা. তখন বললেন, (যদি তোমার মন বলে যে, তুমি তাকে তার মালিকের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবে তবে) তুমি তা নিতে পারো। কারণ তুমি তা না হয়তো অন্য কোউ নিবে না হয় বনের নেকড়ে এসে তা খেয়ে ফেলবে। (অর্থ এটি তুমি নিতো পারো।) এরপর একজন জিজ্ঞাসা করলেন, যদি উট পাওয়া যায়? রাসূল সা. রাগ করলেন। বললেন, উটের কি হয়েছে, তার পায়ে মরুভূমিতে চলার উপযোগী জুতা পড়ানো আছে। তার ভেতরে পানির মশক আছে। আছে অকল্পনীয় প্রাণশক্তি সরবরাহকারী কূঁজ। সে যখন পানি পান করে তখন সে পর্যাপ্ত পানি খেয়ে নেয়। তারপর সে একটানা ১৫ দিন পর্যন্ত পানি না খেয়েও পথ চলতে পারে। তার কূঁজের ভেতরকার চর্বি গলে গিয়ে - খাদ্যের বিনিময় অর্জিত হওয়া- শক্তির মতো কাজ করে। ভেতরে পানিও আছে, প্রয়োজনের সময় ধাক্কা মারে গলা ভিজে যায়, সে আবার চলতে থাকে।
উটের পিঠে বসার জন্য নরম কুজ থাকে সে একটি বসার জন্য একটি ধরার জন্য এবং একটি হেলান দেয়ার জন্য এমন ৩ টি ভাজ থাকে। আরবের কোন কোন উটের পিঠে এমন ৭টি ভাজও দেখা গেছে। আমাদের দেশে যেমন ঝর-বৃষ্টি হয়, আরবেও মাঝে মধ্যে প্রায়ই তেমন ধুলি বৃষ্টি হয়। মরুভূমির মধ্যে যখন ধুলিঝড় হয় তখন উট গুলো বালির মধ্যে মাথা গুজে বসে থাকে। উটের নাকের সামনে দু’টি পর্দা আছে। সে তার পর্দা দু’টিকে দিয়ে নাক বন্ধ করে বসে থাকে। এরপর ঝর থামলে সে মাথা বের করে আবার পথ চলতে থাকে। নাকে পর্দা থাকার কারণে তার নাকের ভেতর কোন বালু প্রবেশ করতে পারে না। তার কোন সমস্যা হয় না।
উটের এতো গুলো গুণ থাকার কারণেই মহান আল্লাহ এই ব্যাপারে কুরআনের এই আয়াতে তার থেকে শিক্ষণীয় নিদর্শন গ্রহণ করার কথা ঘোষণা করেছেন। এরকমভাবে অন্যান্য পশু যেমন ঘোড়া-হাতি ইত্যাদিও মানুষের অনেক উপকারে আসে। একইভাবে আরেক স্থানে বলা হয়েছে,
وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا وَزِينَةً وَيَخْلُقُ مَا لا تَعْلَمُونَ. وَعَلَى اللَّهِ قَصْدُ السَّبِيلِ وَمِنْهَا جَائِرٌ وَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ.
অর্থ: “ঘোড়া-গাধা-খচ্চর এগুলো মহান আল্লাহ তোমাদের আরোহন করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে সৌন্দর্য্যও আছে এবং তিনি আরো এমন কিছু সৃষ্টি করবেন, যা তোমরা আজকে জানো না।” (সূরা নাহল : ৮)
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



