somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাফলং-এ পযর্টকরা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাফলং-এ পযর্টকরা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে। গত ২৮ডিসেম্বর কয়েক সহকর্মী মিলে সিলেটের জাফলং ভ্রমণে গিয়েছিলাম। জাফলং বল্লাঘাট থেকে একটি ইণ্জিন নৌকা ৪০০ টাকা দিয়ে ভাড়া করি। নৌকাটি আমাদেরকে বল্লাঘাট থেকে পিয়াইন নদী দিয়ে ভারত সীমান্তে নিয়ে যায়। আবার সেখান থেকে ফেরত নিয়ে আসে। ঘাটে আসার পর আমরা যখন চালককে ভাড়া দিতে গেলাম তখনই দেখাদিল বিপত্তি। সওকত নামে অপর এক ব্যাক্তি এসে বলল, আমাকে ১৮০টাকা দেন। আর ২২০ টাকা দেন চালককে।
আমরা জানতে চাইলাম তুমি কে? সে জানালো যে ঘাটের ইজারাদার। আমরা বললাম তাহলে তোমার রশিদ কোথায়? প্রথম দিকে শওকত জানায়, রশিদ আছে অফিসে।
অফিস থেকে রশিদ এনে দিতে পারলেই আমরা তার প্রাপ্য তাকে দিব জানালে সে নানা তালবাহানা শুরু করে। রশিদ ছাড়া টাকা না দিতে চাওয়ায় শুরু হয়ে যায় তর্কবিতর্ক। শওকত আমাদের নানা রকম হুমকি দিয়ে দুর্বল করার চেষ্টা করে। তাতেও কাজ না হলে ঘটনা চরম পর্যায়ে পৌঁছে। এক পর্যায়ে স্থানীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির পরিচয় দিয়ে সমঝোতা করতে আসে সোহেল নামের একজন। এর পর আসে বল্লাঘাট শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সহ আরো কয়েকজন । অবশেষে তারা ক্ষমা চেয়ে আমাদের বিদায় করে।
ঘটনা চলাকালে আমরা জানতে পারি, এই ঘাট সরকারীভাবে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। স্থানীয় গোয়াইনঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান-এর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজেরাই ইজারার নামে এই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। ঘাটে ২৩টি ইণ্জিন নৌকা আছে। মূলত তাদের সিন্ডিকেটের কারণেই এখানে নতুন কোন নৌকা আসতে পারে না এবং ৪০০টাকার কমে পর্যটকরাও নৌকা নিতে পারে না। অথচ নৌকাগুলো পর্যটকদের এক কিলোমিটারের বেশি ভ্রমণ করায় না। প্রতিটি নৌকা প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ট্রিপ পর্যটকদের আনা-নেয়া করে । ছুটিরদিন হয় ৮ থেকে ৯ ট্রিপ। আর প্রতি ট্রিপ থেকে চাঁদাবাজরা নেয় ১৮০ টাকা করে।

এভাবে প্রতিদিন ২৩টি নৌকা থেকে চাঁদাবাজরা তুলছে-

২৩*৫*১৮০ টাকা=২০৭০০টাকা

ছুটির দিনে তুলছে

২৩*৮*১৮০ টাকা=৩৩১২০ টাকা

৩০ দিনে চাঁদা তুলছে =২০৭০০*৩০টাকা=৬২১০০০টাকা

এই হারে ১ বছরে চাঁদা তুলছে= ৬২১০০০*১২টাকা=৭৪৫২০০০টাকা।
আমাদের পর্যটন কর্পোরেশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিগণ বিষয়টি কিভাবে দেখছেন কে জানে। নাকি তারা নিজেরাও এই চাঁদার অংশ নিয়ে থাকেন?
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×