somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যা আছে, যা নেই...!

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক কিছুই রয়েছে আমাদের, আবার অনেক কিছু নেইও! থাকা না থাকাটা চাওয়া-পাওয়ার ওপর নির্ভর করে না! একনজরে দেখা যাক, আমাদের কী আছে, কী নেই; কেন নেই...! হ

যা আছে : রাজনীতি। এই অদৃশ্য বস্তুর দৃশ্যমান ঠেলায় সারা বছরই নাগরিকদের তটস্থ থাকতে হয়। কারণে অকারণে ঠেলা সামলানোর জন্য শারীরিক এবং মানসিক প্রস্তুতি থাকে...!
যা নেই : রানীনীতি। রাজ্য শাসন করছেন 'রানী'রা। কিন্তু তারা করেন রাজনীতি। রানীনীতি বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই! এই অসামঞ্জস্যতার জন্যই দেশের রাজনীতি বর্তমানে এত বিতর্কিত কি-না কে জানে!
মন্তব্য : রাজনীতি বা রানীনীতি বড় কথা নয়, যে জিনিসটা আগে দরকার সেটা সুনীতি। (সুনীতি নির্বাসনে)?

যা আছে : স্বামীবাগ। ঢাকার একটি জায়গার নাম স্বামীবাগ। তাই বলে এখানে স্বামীদের বাগান বা রাজত্ব বিরাজমান ভাবলে ভুল হবে। একই রকম ভুল হবে, শামি কাবাব স্বামীদের দিয়ে তৈরি ভাবলে!
যা নেই : স্ত্রীবাগ। স্ত্রীবাগ না থাকলে কী হবে, সবখানে তাদেরই আধিপত্য। স্বামী কীভাবে স্বামী, কার স্বামী_ এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করলে সহজেই স্ত্রীরা চলে আসে! সুতরাং তারা সরাসরি কোথাও না থাকলেও অলক্ষ্যে, নিঃশব্দে ঠিকই নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম!
মন্তব্য : স্বামী-স্ত্রী, নারীবাদ-পুরুষবাদ নিয়ে নারীবাদীরা যথেষ্ট শব্দ ব্যয় করলেও পুরুষবাচক নামগুলো পাল্টে স্ত্রীবাচক করা যায় কি-না এখনও এরকম কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি!

যা আছে : ম্যানহোল। ঢাকা শহরের অনিবার্য অনুষঙ্গ ম্যানহোল। ম্যানহোল মানে যে এটা ম্যানরাই বানিয়েছে বা ম্যানদের সুবিধার জন্যই_ মোটেও নয়। ম্যানহোলের সুবিধা-অসুবিধা ম্যান এবং ওম্যানরা সমানভাবে গ্রহণ করেন!
যা নেই : ওম্যানহোল। এটাও এক ধরনের শব্দ-বৈষম্য। ওম্যানহোল থাকবে না কেন! নিরপেক্ষতার হিসাব করলে এটার নাম বিপদহোল বা বল্গ্যাকহোল রাখা যেতে পারে। নাগরিককে কী সুবিধা দেয় তা বলা না গেলেও বিপদটুকু সহজেই অনুভূত হয়। আর এটার ভেতরে যেহেতু সবসময় অন্ধকার থাকে সুতরাং বল্গ্যাকহোল নামে আখ্যায়িত করলেও খুব একটা হেরফের হবে না!
মন্তব্য : নামটা ওম্যানহোল হলো না কেন, এটা নিয়ে ওম্যানরা আফসোস করলে ভুল করবেন! তাতে এর কর্মপরিধি এবং চরিত্রের কোনো পার্থক্য দৃশ্যমান হবে না!

যা আছে : সমস্যা। বাংলাদেশে হাজারো সমস্যার উৎপাত। সারাবিশ্বও এর বাইরে নয়। সমস্যার যাঁতাকলে পড়ে, সমস্যার সঙ্গেই দেশের মানুষের নিত্য সংসার! চাইলেই যে কেউ সমস্যাকে তালাক দেবে, মোটেও সম্ভব নয়!
যা নেই : সমাধান। সমস্যা থাকলেও সমাধান সুদূর পরাহত। সমস্যার পেছনেই সমাধান থাকার কথা থাকলেও সমাধানের টিকিটিও আমরা কেউই খুঁজে পাই না। না পাওয়ার কারণ কি চক্ষুষ্মানদের অন্ধত্ব!
মন্তব্য : সব নাগরিকের হাতে মোমবাতি বা হারিকেন ধরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যেহেতু লোডশেডিং সমস্যা এখনও সগৌরবে উপস্থিত! এই আলোয় মানুষ সমস্যা খুঁজে বের করবে, পাশাপাশি সমাধানের অন্বেষণও!

যা আছে : উন্নয়নের জোয়ার। যখন যে দলই ক্ষমতায় থাকুক তারা উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসিয়ে দেওয়ার কথা বলে মাঠ সরগরম করে রাখে! কিন্তু উন্নয়ন কোথায় আর উন্নয়নের জোয়ারই কী রকম_ দেখার সৌভাগ্য দেশবাসীর হয় না!
যা নেই : উন্নয়নের ভাটা। যতটা জোরে উন্নয়নের জোয়ারের গল্প শোনা যায়, কিন্তু উন্নয়নের ভাটার শব্দ মোটেও শোনা যায় না। তাহলে কি উন্নয়নের ভাটা বলে কিছু নেই!
মন্তব্য : উন্নয়নের জোয়ার শব্দদ্বয়ের পাশাপাশি উন্নয়নের ভাটাও চালু হোক। তাহলে মানুষ পার্থক্য নিরূপণ করতে পারবে (পাশাপাশি বাচ্চাদের ব্যাকরণ জ্ঞানসমৃদ্ধ হবে), কোনটা জোয়ার আর কোনটা ভাটা!

যা আছে : মেগা সিরিয়াল। ভারতের আকাশ থেকে ছুটে এসে এই জিনিস এখন বাংলাদেশে! টেলিভিশনে মেগা সিরিয়াল নামে কিম্ভূত এক জিনিস প্রদর্শিত হয়; বছরের পর বছর চলে যায় কিন্তু মেগা সিরিয়াল শেষ হয় না। এদিকে এক প্রজন্ম চলে গিয়ে নতুন প্রজন্ম চলে আসে!
যা নেই : ১ ঘণ্টার নাটক। আগেকার দিনে একমাত্র চ্যানেল বিটিভিতে সপ্তাহে একটা মাত্র নাটক প্রদর্শিত হতো। এ নাটককে ঘিরেই ছিল দর্শকদের উদ্দীপনা! কিন্তু বর্তমানে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে টিভি চ্যানেলের সংখ্যা, সেই সঙ্গে বাড়ছে নাটকের দৈর্ঘ্য!
মন্তব্য : কমেডি নাটক দেখে মানুষ হাসে। তাই বলে 'সিরিয়াস' নাটক দেখেও হাসতে হবে কেন! না হেসেই বা উপায় কী_ রাবার নিয়ে টানাটানি করে ছিঁড়ে ফেলা হয়, আবার একই রাবারই জোড়া দেওয়ার তোড়জোড়! তারপরও রাবার ছিঁড়ে, আবার জোড়া...!

যা আছে : রাস্তার মানুষ। অভাবে পড়ে, জীবনের বিপ্রতীপতায় অনেকেই এ নামে পরিচিত হয়। এ লজ্জাজনক পেশায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেদের জড়িত রাখতে হয়।
যা নেই : রাস্তার মানুষের সংখ্যা। দেশে পতিতার সংখ্যা হয়তো হিসাব করে বের করা সম্ভব। কিন্তু পতিত মানুষ? একশ্রেণী তো প্রয়োজনে নিজের দেহ বেচে কিন্তু অসংখ্য মানুষ যে বিবেকটাই বেচে দেয়! টুকরো টুকরো করে সবার অগোচরে দেশটাকে বিকিয়ে দেওয়ার মহোৎসবে মেতে থাকে!
মন্তব্য : পতিত শব্দের ব্যবহার নেই বললেই চলে। সেটা বিপরীতার্থ প্রকাশ না করে যদি নৈতিক স্খলনজনিত কারণেও ব্যবহৃত হয়, তবু এই শব্দের যথার্থ প্রয়োগ এবং চর্চা জরুরি!

যা আছে :সমাজসেবক। নাম ফাটাতে উদগ্রীব মানুষ নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করে! এমনকি খুনের আসামি যখন জেলে বন্দি থাকে, চামচারা ঠিকই পোস্টারিং করে_ 'অমুক সমাজসেবকের নিঃশর্ত মুক্তি চাই'! কিন্তু সমাজ কী, সেবকই বা কী_ এ সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো ধারণাই তাদের নেই!
যা নেই : দেশপ্রেম। সমাজসেবার সঙ্গে যে দেশপ্রেম ওতপ্রোতভাবে জড়িত তা এই শ্রেণীর 'সমাজসেবক' হয়তো জানেই না, জানলেও মানে না!
মন্তব্য : সমাজসেবক কিংবা দেশদরদির তকমা নিজেই নিজের গায়ে না এঁটে আমজনতার হাতেই দায়িত্বটা ছেড়ে দেওয়া উচিত!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×