
বৃটেনের রাজপরিবারের বিয়ের ধুম সারা শহরজুরে, এ যেন কোনো রূপকথা। রাজপুত্রের সাথে কোনো অপরূপ সুন্দরীর প্রেম আর তারপর তাদের সফল পরিণতি । রাজপুত্রের বিয়ে হবে আর শহরে কোনো ধুমধাম হবে না তা কি হতে পারে। শহরজুরে সাজ সাজ রব। দুরদূরান্ত থেকে প্রজারা আসছে বিয়ে দেখতে। কিন্তু এতো রাজবাড়ির বিয়ে। আমন্ত্রিত অতিথিরাই শুধু ভিতরে যেতে পারবেন। বাকিরা দরজার বাইরে দাড়িয়ে বরযাত্রী হওয়ার দুধের সাধ ঘোলে মিটাবে। ঠিক এমনটাই ঘটছে ব্রিটেনের রাজপরিবারের সামপ্রতিক বিয়েতে।
প্রিন্স চার্লস আর প্রিন্সেস ডায়ানার ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম দীর্ঘ ১০ বছরের প্রেমের পর আগামী ২৯ এপ্রিল সকাল ১০টায় তার প্রিয়তমা কেথরিন মিডলটনের গলায় মালা পরাতে যাচ্ছেন। ওয়েস্টমিনিস্টার এবে তে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হবে। বিশ্ববাসীর নজর এখন বিয়ের দিকেই। আর তাদেরকে হতাশ করবে না মিডিয়া। পুরো সপ্তাহ ধরে রাজবাড়ির সামনে তাদের খুঠি গেড়ে বসে থাকাই তার প্রমান দিচ্ছে। এদিকে সারা ব্রিটেনবাসী বরযাত্রী হওয়ার জন্যে নিজেরা সাজছে, সাথে শহরটাকেও সাজাচ্ছে। লন্ডনের অলিতে গলিতে এখন বর্ণিল আলোক আর দোকানে দোকানে উইলিয়াম আর কেট এর ছবি দিয়ে স্মৃতিস্মারক। কারো টি-শার্টে তো কারো ক্যাপে, কারো চায়ের মগে বা কারো হাতের পতাকায়- সব জায়গায় ছেয়ে গেছে এই নতুন প্রেমিকযুগল। তাদের ছবি দিয়ে রীতিমত মিলিয়ন পাউন্ডের ব্যবসা চলছে ব্রিটেনে। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক দুরদুরান্ত থেকে আসছেন বাকিংহাম পেলেসকে একনজর দেখতে। তাদের সবার একটাই সখ বিয়ে দেখার। এমনটা শুধু রাজবাড়ির বিয়ে বলেই সম্ভব যে শহরের সকল বাসিন্দা এক বিয়ের বরযাত্রী, তাতে তারা বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারুক আর না পারুক।
দুনিয়ার তাবৎ বড় বড় নেতা, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমস্ত্রী, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্যরা দাওয়াত পেয়েছেন এ বিয়েতে সামিল হবার। বিশ্বের এমন কয়েকজন ব্যক্তি আমন্ত্রণ পেয়েছেন যা সকলের মনে রীতিমত প্রশ্ন জাগিয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো আফ্রিকার রাজনৈতিক দল ও ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা। গত ৪০ বছরে তাদেরকে রাজপরিবারের সকল আমন্ত্রণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এদিকে ব্যাপক সমালোচিত প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার আর গর্ডন ব্রাউনের নাম রয়েছে বাদ পড়া তালিকায় সবার উপরে।
রাজবাড়ির বিয়েতে রসদের কমতি নাই। হবু বউ এর জন্য জারি হয়েছে ১০ টি বিধি। ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অবস্থান, পুজি বাজারে অংশগ্রহণ, সামুদ্রিক মাছ খাওয়া, দ্রুত ডিনার শেষ, চাকরি, অফিসিয়ালী কোনো কিছুতে স্বাক্ষরসহ আরো কয়েকটি বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তার জন্যে। আর যাই হোক এ বিধান সে ভাঙতে পারবে না।
ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় ১৯৮৬ সালে রাজপরিবারে সর্বশেষ বিয়ে হয় প্রিন্স এন্ডু এর। যদিও অনেকে বলে প্রিন্স চার্লস আর ডায়নার বিয়ে ছিল সর্বশেষ রাজবিয়ে। মতপার্থক্য তো থাকবেই। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর পর সুযোগ্য এই ভবিষ্যৎ রাজার বিয়ে একদিকে যেমন ব্রিটেনে আনন্দ আর খুশির জোয়ার এনেছে তেমনি নবপ্রথারও সূচনা করে ইতিহাসে যোগ করেছে অনেক নতুন ঘটনা। এখন অপেক্ষা শুধু ২৯ এপ্রিলে চমকের পর্দা ওঠার। এই তথ্যগুলো লন্ডন থেকে জানিয়েছেন এক নাগরিক সাংবাদিক, কেনো যেনো মনে হয় নাগরিক সাংবাদিকতা প্রস্ফুটিত হচ্ছে ধীরে ধীরে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



