ঘরে মেহমানের ঘনঘটা। বাজারের হুকুম এলো। ব্যাগ হাতে ছুটলাম বাজারে। দাম চড়া তাতে কি, কিনতেই হবে। মাছবাজারে চক্কর দিয়ে কিভাবে কি - কিনে ফেললাম এক বড় সড় আইড় মাছ, মোচ আর কাটাওয়ালা। আগে কখোনো কিনেছি কিনা মনে পড়েনা।
ফেরার পথেই ঘটলো বিপত্তি। ভিড় ঠেলে সামনে এগুতেই ব্যাগ ফুড়ে কাটা বেড়িয়ে ঢুকে পড়লো বিপরীতে আসা ছোট্ট ছেলেটির পায়ে। এগার কি বারো বছরের ছোট্ট ছেলেটির পায়ের নরম গোশতে ইঞ্চিখানেক তো ঢুকলোই। সাজি মাথায় ছেলেটি উহ বলে থেমে গেল। থমকে দাড়িয়ে আতঙ্কে মুহূর্তেই বসে পড়লাম। কাটা বের করলাম। লোক জমে গেল। গরিব 'মিনতি', কেউ কেউ পরামর্শ দিল কিছূ টাকা দিয়ে দিন, ওষুধ কিনে নিবে। ওকে ধরে রাস্তায় নিয়ে এলাম। কি ভেবে রিক্সায় করে বাসায় নিয়ে এলাম। রিক্সায় বসে কথা হলো টুক টাক। মা পরের বাড়ি কাজ করেন। বাবা রিক্সা চালান। স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। গেলে হয়তো এখন চতুর্থ কি পঞ্চম শ্রেণীতে থাকতো। বাসায় এনে ওষুধ লাগিয়ে দিলাম। এবং . . .
এ তিনদিনে কয়েকবারই প্লেটে পড়েছে আইড় মাছের টুকরো। ভাতের সাথে মিশিয়ে লোকমা মুখে দিতেই প্রতিবারই পেটের ভিতর মোচড় দিয়ে ওঠে। ছেলেটার কি হলো, অল্পতেই ঠিক হয়ে গেলতো, নাকি...। বাসায় শুয়ে কষ্ট পাচ্ছেনাতো। 'আইড় মাছের কাটা' , নাম ডাক শুনেছিলাম। খারাপ কিছু হয়নিতো . . .। নাহ, অলুক্ষুণে ভাবনা কেন বারবার মাথায় আসে।
আমার কি আর কিছূ করণীয় ছিল? হয়তো ছিলনা। হয়তো ছিল। হয়তো রাজধানীর এলিট শ্রেণীর তকমা অনুভব করে বিরত ছিলাম। হয়তো . . .। আর কিছু ভাবতে পারিনা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



