শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, রাজধানীর অন্যতম সেরা দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুই থেকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করানো। স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এ দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি। আর সে সুযোগে ভিকারুননিসা ও আইডিয়াল স্কুলে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এই কর্মকাণ্ডে তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গীসাথী, স্ত্রী ও ছেলেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগম এ অবৈধ ভর্তির কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগে সভাপতি ১৫টি এবং শিক্ষক প্রতিনিধিসহ সব সদস্য প্রত্যেকে সাতটি করে মোট ৭১টি ফরম স্কুল থেকে স্বাক্ষর করে নিয়ে গেছেন, যে ঘটনা অতীতে কখনো ঘটেনি। সেই ৭১ ফরমে আবেদন করা সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর সভাপতি রাশেদ খান মেনন কোনো স্বাক্ষর ছাড়া আরো ১৫০ ছাত্রীর তালিকা তৈরি করে পাঠান। তাদেরও ভর্তি করা হয়। এর বাইরে টেলিফোনে সুপারিশের ভিত্তিতেও অনেক ছাত্রী ভর্তি করতে বাধ্য হন তিনি। এসব ভর্তি বাবদ জনপ্রতি দুই থেকে তিন লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে এমন কথা অধ্যক্ষ শুনেছেন। (দেখুন ঃ আমার দেশ ১ মে ২০১০) স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকাকে এ পদ থেকে সরিয়ে দেয়ারও চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ আছে। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ঐক্য ফোরামের অভিযোগ অনুযায়ী স্কুলের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি গত ৭ ফেব্রুয়ারি বনশ্রী শাখায় ৪০০ ও মতিঝিল শাখায় ৬০০ জনসহ মোট এক হাজার শিক্ষার্থী অবৈধভাবে ভর্তি করেছে। আর শিক্ষার্থী প্রতি দুই থেকে তিন লাখ টাকা করে নেয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) প্রতিনিধির পদে নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের পিএস নাইমুল আজম খানকে নিয়োগ দিয়েছেন মেনন। একইভাবে তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি পদেও নিয়মবহিভূêতভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগমও এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। ভিকারুননিসার আজিমপুর শাখায় টি এস নাইমুল আজম খানের স্ত্রীকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া স্কুল দু’টিতে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে নিয়মবহির্ভূতভাবে। রাশেদ খান মেননের এসব নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কারণে ইতোমধ্যে রাজধানীর সেরা এই দু’টি স্কুলের শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি এতই ওপেন সিক্রেট যে, লন্ডন প্রবাসী প্রভাবশালী আওয়ামী সাংবাদিকও তার কলামে ভর্তিবাণিজ্যর দুর্নীতির কাহিনী তুলে ধরেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০১০ রাত ৩:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



