
গত পর্বে লিখে ছিলাম আইটি জব এর এক মাসের কন্ট্রাক্ট জবের অফার । কি করব বুঝতে পারছিলাম না । অনেকেই মন্তব্য করেছেন জবটা করার জন্য । আসলে আমি লিখছি আমার অতীতের কথা বর্তমান নয় । সুতরাং যারা মন্তব্য করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ।
আসলে বাস্তবতা বড় কঠিন । সিদ্ধান্ত সব সময় অত সহজে নেয়া যায় না । বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে এরকম বিপদে পড়লে যেখানে বাবা মা ভাই বোন কেউ নেই আর হাত খালি অবস্হায় সংসার চালানোর মত কঠিন সময় পার করতে হয় ।
তো আবার শুরু করা যাক অতীতের স্মৃতি চারণ:
অনেক চিন্তা করে কিছু বুদ্ধি ঠিক করলাম । প্রথমত: আইটি জবে জয়েন করব তবে বর্তমান ক্লিনিং কাজটা অসুস্হতা বলে ঝুলিয়ে রাখব । একেবারে ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না । একমাস যে কোন ভাবে পার হয়ে যাবে । আবার আইটি জবের জয়েনিং এর দিন ক্লিনিং কাজের সিডিউল না থাকায় একটা সুবিধা পেলাম। তারপরও অনেক চিন্তা করে আমার এখানে যে নিকটাত্নীয় আছে সেই আংকেলের কাছে গেলাম পরামর্শের জন্য । উনি ভলো পরামর্শ দেয় । যদিও এ ফুফুর সাথে এদেশে এসে পরিচয় । উনি আমার বাবার অনেক দূরের বোন । আমার বাবার সাথে কোনদিন কথা হয়নি । তো আংকেল বললেন, কোন দ্বিতীয় চিন্তা না করে জয়েন করে ফেল । এ ধরনের জবে পরে কন্ট্রাক্ট এক্সটেনসেন করা হয় । আসলেই তাই হয়ে ছিল ।
যাক, সব দুশ্চিন্তা ঝেড়ে জয়েন করলাম । চমতকার অফিস । কিছু ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে হয় । সবচেয়ে ভালো লাগল ম্যানেজারের ব্যবহার ।
কোন কিছু করতে বললে প্লিজ বলে , যা আমার কাছে আজব লাগত । কোন কিছু প্রিন্ট করলে নিজেরটা নিজেই আনার নিয়ম, কোন পিয়ন নেই। দেশে এরকম নয় বা অন্যান্য অজ জবেও এমন পাইনি । তবে মূল সমস্যা দেখা দিলো ইংরেজীতে কথা বলা ও তারা যা বলছে তা বুঝে কাজ করা । ইংরেজীতে সব সময় মোটামুটি ভালো ছিলাম । এখন এ কাজে এসে দেখি ইংরেজী কথা ঠিকমত ধরতে পারিনা । প্রথম প্রথম মাথা ধরে থাকত । এ ধরনের পরিবেশে আগে কাজ করিনি যেখানে এক নাগাড়ে ইংরেজী বলতে ও শুনতে হবে । সামান্য কিছু বলতে গেলে আটকে যেতাম । খুব খারাপ লাগত । অনেক সময় কথা বুঝতে না পারার ভয়ে থাকতাম না জানি এজন্য কাজটা না আবার চলে যায় । আরেকটা বিষয় ছিল ম্যানার , কথায় কথায় প্লিজ ও ধন্যবাদ । কথার মাঝখানে কথা না বলা আর কাউকে কোন কথার জন্য দোষারোপ না করা, মানে কেউ ভূল বললেও তা সরাসরি বলা যাবেনা , বলতে হবে আমার মনে হয় বিষয়টা এরকম, না হয় সে অপমানিত বোধ করে । এরকম কথা বলে তো আমার ট্রেইনার মহিলার চোখ রাঙানি ও ঝাড়ি খেলাম । যা আমাকে একেবারে থ করে দিয়েছিলো ।
আমার ভাগ্য ভালো কারণ ম্যানেজার আমাকে অনেক সাহায্য করেছে । সে একজন বয়স্কা মহিলা । অনেক দেশ ঘুরেছে অনেক অভিজ্ঞতা । তাই ইমিগ্রান্টদের ভাষাগত ও ম্যানারের সমস্যা সে অনেকটা বুঝে । ওর বাবা -মা ও নেদারল্যান্ড থেকে মাইগ্রেট করে এখানে এসেছিল । এছাড়াও সেও ইউরোপে কাজ করতে গিয়ে এরকম সমস্যায় পড়ে ছিল । তাই সে আমার অবস্হা অনেকটা বুঝতে পারে । তবে কাজের ক্ষেত্রে খুব সিরিয়াস । আর সে নন টেকনিকাল লোক হওয়ায় সফটওয়্যারের যে কোন সামান্য সমস্যায় সে চিন্তিত হয়ে পড়ে । তাই খুব সতর্কভাবে কাজ করতে হয়ে যেন সামান্য ভূল এন্ট্রি না হয় ।
একসময় ক্লিনিং এর কাজে না বলতে হয়, কারণ ওখানকার সুপারভাইজার চাপাচাপি করছিল যাওয়ার জন্য , কাজের চাপ বেশী । শেষমেষ সত্যি কথা বলে দিতে হয় । তখন খুব রাগারাগি করে আগে কেন বলি নাই । শ্রীলংকান মহিলা । মনে হয় কিছুটা হিংসাও করল ।
আমার সাথে আরো কাজ করে এক ইউক্রেনিয়ান ইহুদী (পরে জেনে ছিলাম যে সে ইহুদী) প্রথম প্রথম একটু রাগ হতো, এখন আর তেমন হয়না । সে ভালোই হেল্পফুল । চাইনিজ আর ইন্ডিয়ান । ইন্ডিয়ান গুলো হলো চরম চালু । তুখোর ইংরেজী বলে । এরা বেশীর ভাগই আইটি র টেকনিক্যাল পদ গুলো দখল করে আছে । আমার বসও এদের কথা শুনে বেশী । আর আমার সমস্যা হলো আমি সফটওয়্যারের যত বাগ তার রিপোর্ট করি বেশী । নতুন সফটওয়্যার চালু করতে গেলে যা হয় । ফলে তারা আমাকে কিছুটা খারাপ চোখে দেখতে থাকে । নিজেদের দোষ চাপায় অন্যের ঘাড়ে । আমার ব্যাপারে বসের কাছে উল্টাসিধা বলে । বস ও রাগারাগি করে ওদের প্ররোচনায় । চরম মানসিক সমস্যায় পড়ি ।
চলবে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



