somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিস ইজ ইওর কান্ট্রি । আসলেই কি তাই , কোনটা আমার দেশ ? দ্বিতীয় পর্ব ।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গত পর্বে লিখে ছিলাম আইটি জব এর এক মাসের কন্ট্রাক্ট জবের অফার । কি করব বুঝতে পারছিলাম না । অনেকেই মন্তব্য করেছেন জবটা করার জন্য । আসলে আমি লিখছি আমার অতীতের কথা বর্তমান নয় । সুতরাং যারা মন্তব্য করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ।

আসলে বাস্তবতা বড় কঠিন । সিদ্ধান্ত সব সময় অত সহজে নেয়া যায় না । বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে এরকম বিপদে পড়লে যেখানে বাবা মা ভাই বোন কেউ নেই আর হাত খালি অবস্হায় সংসার চালানোর মত কঠিন সময় পার করতে হয় ।

তো আবার শুরু করা যাক অতীতের স্মৃতি চারণ:

অনেক চিন্তা করে কিছু বুদ্ধি ঠিক করলাম । প্রথমত: আইটি জবে জয়েন করব তবে বর্তমান ক্লিনিং কাজটা অসুস্হতা বলে ঝুলিয়ে রাখব । একেবারে ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না । একমাস যে কোন ভাবে পার হয়ে যাবে । আবার আইটি জবের জয়েনিং এর দিন ক্লিনিং কাজের সিডিউল না থাকায় একটা সুবিধা পেলাম। তারপরও অনেক চিন্তা করে আমার এখানে যে নিকটাত্নীয় আছে সেই আংকেলের কাছে গেলাম পরামর্শের জন্য । উনি ভলো পরামর্শ দেয় । যদিও এ ফুফুর সাথে এদেশে এসে পরিচয় । উনি আমার বাবার অনেক দূরের বোন । আমার বাবার সাথে কোনদিন কথা হয়নি । তো আংকেল বললেন, কোন দ্বিতীয় চিন্তা না করে জয়েন করে ফেল । এ ধরনের জবে পরে কন্ট্রাক্ট এক্সটেনসেন করা হয় । আসলেই তাই হয়ে ছিল ।

যাক, সব দুশ্চিন্তা ঝেড়ে জয়েন করলাম । চমতকার অফিস । কিছু ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে হয় । সবচেয়ে ভালো লাগল ম্যানেজারের ব্যবহার ।
কোন কিছু করতে বললে প্লিজ বলে , যা আমার কাছে আজব লাগত । কোন কিছু প্রিন্ট করলে নিজেরটা নিজেই আনার নিয়ম, কোন পিয়ন নেই। দেশে এরকম নয় বা অন্যান্য অজ জবেও এমন পাইনি । তবে মূল সমস্যা দেখা দিলো ইংরেজীতে কথা বলা ও তারা যা বলছে তা বুঝে কাজ করা । ইংরেজীতে সব সময় মোটামুটি ভালো ছিলাম । এখন এ কাজে এসে দেখি ইংরেজী কথা ঠিকমত ধরতে পারিনা । প্রথম প্রথম মাথা ধরে থাকত । এ ধরনের পরিবেশে আগে কাজ করিনি যেখানে এক নাগাড়ে ইংরেজী বলতে ও শুনতে হবে । সামান্য কিছু বলতে গেলে আটকে যেতাম । খুব খারাপ লাগত । অনেক সময় কথা বুঝতে না পারার ভয়ে থাকতাম না জানি এজন্য কাজটা না আবার চলে যায় । আরেকটা বিষয় ছিল ম্যানার , কথায় কথায় প্লিজ ও ধন্যবাদ । কথার মাঝখানে কথা না বলা আর কাউকে কোন কথার জন্য দোষারোপ না করা, মানে কেউ ভূল বললেও তা সরাসরি বলা যাবেনা , বলতে হবে আমার মনে হয় বিষয়টা এরকম, না হয় সে অপমানিত বোধ করে । এরকম কথা বলে তো আমার ট্রেইনার মহিলার চোখ রাঙানি ও ঝাড়ি খেলাম । যা আমাকে একেবারে থ করে দিয়েছিলো । /:)

আমার ভাগ্য ভালো কারণ ম্যানেজার আমাকে অনেক সাহায্য করেছে । সে একজন বয়স্কা মহিলা । অনেক দেশ ঘুরেছে অনেক অভিজ্ঞতা । তাই ইমিগ্রান্টদের ভাষাগত ও ম্যানারের সমস্যা সে অনেকটা বুঝে । ওর বাবা -মা ও নেদারল্যান্ড থেকে মাইগ্রেট করে এখানে এসেছিল । এছাড়াও সেও ইউরোপে কাজ করতে গিয়ে এরকম সমস্যায় পড়ে ছিল । তাই সে আমার অবস্হা অনেকটা বুঝতে পারে । তবে কাজের ক্ষেত্রে খুব সিরিয়াস । আর সে নন টেকনিকাল লোক হওয়ায় সফটওয়্যারের যে কোন সামান্য সমস্যায় সে চিন্তিত হয়ে পড়ে । তাই খুব সতর্কভাবে কাজ করতে হয়ে যেন সামান্য ভূল এন্ট্রি না হয় ।

একসময় ক্লিনিং এর কাজে না বলতে হয়, কারণ ওখানকার সুপারভাইজার চাপাচাপি করছিল যাওয়ার জন্য , কাজের চাপ বেশী । শেষমেষ সত্যি কথা বলে দিতে হয় । তখন খুব রাগারাগি করে আগে কেন বলি নাই । শ্রীলংকান মহিলা । মনে হয় কিছুটা হিংসাও করল ।

আমার সাথে আরো কাজ করে এক ইউক্রেনিয়ান ইহুদী (পরে জেনে ছিলাম যে সে ইহুদী) প্রথম প্রথম একটু রাগ হতো, এখন আর তেমন হয়না । সে ভালোই হেল্পফুল । চাইনিজ আর ইন্ডিয়ান । ইন্ডিয়ান গুলো হলো চরম চালু । তুখোর ইংরেজী বলে । এরা বেশীর ভাগই আইটি র টেকনিক্যাল পদ গুলো দখল করে আছে । আমার বসও এদের কথা শুনে বেশী । আর আমার সমস্যা হলো আমি সফটওয়্যারের যত বাগ তার রিপোর্ট করি বেশী । নতুন সফটওয়্যার চালু করতে গেলে যা হয় । ফলে তারা আমাকে কিছুটা খারাপ চোখে দেখতে থাকে । নিজেদের দোষ চাপায় অন্যের ঘাড়ে । আমার ব্যাপারে বসের কাছে উল্টাসিধা বলে । বস ও রাগারাগি করে ওদের প্ররোচনায় । চরম মানসিক সমস্যায় পড়ি ।

চলবে ।
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×