ছবি তুলতে দেয়নি মুর্শিদা। তার সারা শরীরে চাবুক আর নরপশুদের কামড়ের দাগ। বারবার ধর্ষণের শিকার মুর্শিদা এখন রক্তবমি করছে। সৌদি আরবে পাচার হওয়া মুর্শিদা চার মাস পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু দাঁড়াবার শক্তি সে হারিয়ে ফেলেছে। যশোর শহরের বারান্দিনাথপাড়ার গরিব অসহায় দুই সন্তানের জননী মুর্শিদা এখন পাচারকারীদের শাস্তি চায়। আর যেন বাংলার কোনো নারীর তার মতো পরিণতি ভোগ করতে না হয় এ জন্য সে সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছে।
মুর্শিদা জানায়, মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের মেম্বার তোফাজ্জেল হোসেন তাকে সৌদি আরবে চাকরির নানা রকম প্রলোভন দেখায়। তোফাজ্জেল বলেছিল, সামান্য কাজ করে মাসে ১৫-১৬ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। সৌদি আরব পবিত্র দেশ। সেখানে মহিলারা আব্রুর মধ্যে থাকে।
তোফাজ্জেলের কথায় রাজি হয়ে মুর্শিদা সহায়সম্পদ বিক্রি করে তার হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেয়। গত এপ্রিলের প্রথম দিকে তোফাজ্জেল মুর্শিদাকে ঢাকা নিয়ে যায়। ঢাকায় পাশবিক নির্যাতনের পর তাকে ২৫ এপ্রিল সৌদি আরব পাঠানো হয়। রিক্রুটিং এজেন্সি বনানীর রয়েল অ্যাসোসিয়েটস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড মুর্শিদাকে চাকরি দিয়ে সৌদি আরব পাঠায়। মুর্শিদার সঙ্গে একই বিমানে একজন সৌদি নাগরিক ছিল। সে বিমানেই তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে।
সৌদি আরব নিয়ে গিয়ে দাম্মাম এয়ারপোর্টের পাশে একটি ঘরে তাকে আটকে রাখা হয়। ওই ঘরে চার সৌদি নাগরিক তাকে আটদিন আটকে রেখে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। এরপর তাকে একটি ছয়-সাততলা বিল্ডিংয়ে নিয়ে যায় পাচারকারীরা। সেখানে একটি পরিবারের বাস। ওই পরিবারের সব পুরুষ সদস্য তাকে ধর্ষণ করেছে। চাবুক দিয়ে মেরেছে। নরপশুরা তার শরীর কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। অনেক চেষ্টা করে মুর্শিদা ওই নৃশংসতার কথা মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানায়। তারা সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির ওপর চাপ সৃষ্টি করে মুর্শিদাকে ফিরিয়ে আনার জন্য। তোফাজ্জেল মেম্বার একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে মুর্শিদাকে ফিরিয়ে আনার কথা বলে। কিন্তু তাকে নির্দিষ্ট তারিখে ফিরিয়ে আনা হয়নি।
সৌদিতে মুর্শিদা নিপীড়নের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেখানকার একটি শেল্টার হোমে রাখা হয়। ১৩ জুন তাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। মুর্শিদা তার এই করুণ কাহিনী সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালকের কাছে বর্ণনা করেছে।
এ ব্যাপারে তোফাজ্জেল মেম্বারের ভাষ্য, সে তাকে ধর্ষণ করেনি। তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নয়, ৪৮ হাজার টাকা নিয়েছে। রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা অনুসন্ধান করে বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। সহসাই অ্যাকশনের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেবো।
বিস্তারিত দেখুন যায়যায় দিনেঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=78427
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০০৮ রাত ২:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



