somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয়ের আনন্দে খুশী হইছি কিন্তু কিছু উল্টা কথা বলতে বাধ্য হইলাম

১২ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এর আগে ৫৮ রানে অল আউট হয়ার পর সমর্থন দিছিলাম।পাগল সমর্থকদের থামার জন্য বলছিলাম। আর এবার জয়ের পর সুখী সমর্থক ও মিডিয়াকে বলি খুশীর মাত্রা যেন না ছড়ায়!

আজকে ব্যাটসম্যান সব কয়টা টেনশনে আউট হইয়া গেছিল।

ব্যাটসম্যানের একলা উইকেটে দাড়াইয়া খেলতে হয় যার জন্য সাহস একটা বিরাট ফ্যাক্ট।২২-২৪ বছরের পোলাপানগুলার পার্সোনাল লাইফে মিডিয়া যেই চাপটা দেয় তা স্বাভাবিক না।তামিম আর সাকিব ছাড়া বাকি প্রতিটা প্লেয়ার দলে কেন খেলে তা নিয়া অনেক লেখালিখি হয়।ওরা খেলোয়াড় তাই সারাক্ষন ওদের পাছায় লাইগা থাকলে খারাপ গন্ধ পাইবেন আর ওরাও গন্ধ সৃষ্টি কইরা দেশের নুন্যতম ৪ কোটি হার্ডকোর সমর্থকের সামনে বিব্রত হইবো।

মাশরাফি,সাকিব,তামিম এই তিনডা প্লেয়ারই ছিল দলে নিশ্চিত।মাশরাফি তো নাইই সাকিবরে ধমকের উপর রাখা হইছে।আর তামিমের দায়িত্ব পড়ছে সুপার ম্যান হবার। কিন্তু বাস্তবে সুপার ম্যান হওয়া তো প্রতিদিন সম্ভব না।
বর্তমান তামিম আর ইমরুল রিল্যাক্সে আছে আর বাকী সবগুলা আছে প্রেশারে।

পেসারগুলার শারিরিক দুর্বলতা প্রকাশ্য তাই ৫ম ওভারে স্পিনার আনতে হয় প্রতিটা দলের সাথে ।বাম হাতি স্পিনারগুলা একটু জেন্টেল টাইপে প্লেয়ার হয়।এর জন্য টিমের বাকি সবার এই ক্যাচাল দেইখা নিজের কাম খালি বলিংটা ঠিক মত করে দেইখা এখনো ওদের সন্মান যায় নাই আর ওরাই টিকায়া রাখছে আমাদের সন্মান।

এই টিমের বাকীগুলা কেমুন যেন ছন্নজাড়া ভাব বুঝাই যায় বিপদে আছে যখন ব্যাটিং করতে নামে। মুশফিকরে কইছিলাম মাথাডা উচা কইরা খেল।ভয় পায় খুব দ্রুত। সাহস ও কনফিডেন্স পাইতাছে না ওরা।নাইম,রিয়াদ,শফিক,রুবেল জানে যে এত মানুষের নজর কাড়নের টিমে ওদের থাকার কথা না!

তামিম কিন্তু যতক্ষন খেলে ততক্ষন সবাই কয় জিতুম ও নিজেও বলে জিতুম।অন্যদের মনে ভয়টা না থাকলে আর সাকিব যুদি মানসিক চাপমুক্ত থাকতো তাইলে এই ২২৫ রান পিডায়া জিতা যাওয়ার কথা না????

এই রান করতে না পারলে কোন ব্যাখ্যা থাকতো না।এইটা করতে গিয়া যেই কষ্ট হইছে তা একটা রোগ যার নাম হইতাছে আইপিএলে যাওয়ার "আগের টিম সিন্ড্রোম"।ওরা ডরাইতো প্রচুর।তখন শুধু রফিক,সুমন আর আশরাফুলে টিমে নিয়মিত থাকার সাহস ছিল আর বাকিগুলারে পাবলিক দৌড়ের উপরে রাখছিল।পরে আশরাফুল আর সুমনরে ক্যাপ্টেন বানাইয়া বোর্ড আর মিডিয়া পচাইয়া থুইয়া দিছিল।গোল্লা-মোল্লা যা আছিল সব আছিল টেনশনে কারন পাবলিক যেই টিম চাইতো ওরা জানতো যে ঐটিমে খেলার প্লেয়ার ওরা না।

আমরা ১৮/১৯ কোটি বাংলাদেশীর নুন্যতম ২ কোটি মানুষ দেশের ভাবমুর্তি তুলে ধরার দায়িত্ব ওদের উপর দিছি। ৭১ এর চেতনা,ভারতের খারাপ কাজ বিরোধী প্রতিবাদি চেতনা,ইংরাজী ভাষায় কথা বলা সাহেব বিরোধি চেতনা,আবার বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবিদের গনসংযোগের কেন্দ্রস্থল হয়েছে এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট! তারা আবার সবার কথা-বার্তা নিয়ে কিভিষন" ভাবে সচেতন!

খেলোয়াড়দেরকে বানিয়ে দেয়া হয় রাষ্ট্রদুত।এবং চলে তার কর্মসাফল্য পরিক্ষা,ব্যাবচ্ছেদ,সুপারিশ ও নিয়ন্ত্রন।

কোটি কোটি টাকার খেলা খেলতে থাকা একটি সিন্ডিকেট বাংলাদেশ টিমের খেলোয়াড়দের নিয়ে খেলছে আরেক খেলা!

পত্র পত্রিকার প্রথম পাতা গরম করার জন্য ,আবেগ স্বর্বস্ব-সাবেক প্লেয়ারদের নিয়ে এবং প্রচারমুখী বিভিন্ন বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলো ক্রিকেট দল পুজি করে ব্যাবসা করছে। যার জন্য আশরাফুল,জুনায়েদদের মডেলিং এ আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে।

ব্রিটিশগুলা ছোটখাট সাইজের ব্যাটসম্যানগুলারে উইকেটে পাইয়া শুধুমাত্র ভয় দেখাইয়া নিয়ন্ত্রন নিয়া নিছিল খেলার। তামিম,ইমরুল যাওনের পর থিকাই বাকীগুলা দাড়াইতে পারে নাই। ওদের যুদি ইকটু শান্তিতে থাকার ব্যাবস্থা কইরা দেয়া যায় তাইলে কিন্তু ওরা খেলার দিনের বাইরের দিনগুলা ভাল থাকতো আর ২২৫ এর মত স্কোর কোন আতংক ছাড়াই টপকাইতো।

এর আগেও আয়ারল্যান্ডের সাথে চাপে পইরাও সাহস কইরা খেলার ফলে জিতছিলাম এবারও রিয়াদ আর শফিউলের সাহসেই জিতলাম।

মিডিয়া ও দর্শক আসেন আমরা খেলাকে খেলা হিসেবেই দেখি।ভারতের মত জাতীয় ইস্যু না বানাই। কারন খেলাধুলা'র উৎপত্তি হইলো বিনোদনের জন্য! কুটি কুটি টাকার ব্যাবসা আর জাতি'র সকল চেতনা সমুন্নত করার দায় একমাত্র ওদের না!

টাকার জন্য লোভি মিডিয়া আর কর্পোরেটগুলার অতি ফুলানো বেলুন ফাইটা গত খেলার হারের পর দেশে কি হইছে তা ভুলি নাই এখনো।সুতরাং, সেদিন যেমন দুঃখের দিনে দলের পাশে দাড়িয়ে সমর্থন দিছিলাম তেমনই এবার জয়ের পর মনে করাইয়া দিতে চাই যে, বাংলাদেশ দল তোমরা তরুন,মনের আনন্দে খেলো তোমরা।জিতলে এইরকম বাঁধনহারা খুশী হমু আবার হারলেও তোমাদের উপর রাগ করুম না।













খেলায় হার জিত আছেই,আজকে জিতছো পরে হারতেও পারো।কিন্তু আমরা আছি সবসময় তোমাদের সাথে সুতরাং "জয় বাংলা"!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৩:৫৫
১৮টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×