পত্রিকায় পড়ার মত চমৎকার বিষয়।একজন কবি'র আদর্শে একটি দেশ! ভাবতেই মনের মাঝে দিঘীর টলটলে পানির মত কোমল শীতল পরশ অনুভব করি।আনন্দে মাথার চুল এবং গালের দাড়ি বোধহয় নিমিশেই দীর্ঘ হয়ে যায়।আত্মা গেয়ে উঠে আনন্দধারা বহিছে ভুবনে।
কিন্তু তখনই কে যেন ঢিল মারে আমার টিনের চালে।
বলে- ওরে নবীন ওরে কাঁচা কে কি বলে তা বিশ্বাস করে যায় কি বাঁচা?
আমি বলি-যে সে নয় আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছে! একথাই তো বলেছে, চাচা।
-আরে রাখ গাধা।ওর কথা কথা তো নয় যেন ধাঁধা।ট্রেনের নাম রেখেছে "সোনার তরী"!
-বলেন কি দাদা,বুদ্ধির কি জুড়ি!
-হুমম, নারী।
-আস্তে মশাই,কেউ শুনে ফেললে কেলেংকারী।
-চুপ থাক ভীতুর ডিম!
ঘরে এসে ঢুকতেই চিনে ফেললাম। স্বয়ং রবি দা।মানে রবি ঠাকুর। আমি রবি চৌধুরীর "প্যাট পুড়ে যে তোয়ার লাই" গানটা শুনতেছিলাম তো তাই হয়তো সুরে আকৃষ্ট হয়ে এসেছে। পিড়ি ও তামাক দিয়ে রাগান্বিত ঠাকুর কে বসাতেই বলে ,
-একটার পর একটা আসতেই থাকবে।এসব ধাঁধা সমাধান করলেও আসবে আবার সমাধান না করলেও নতুন কথা আসবেই।দেখিস না, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একটার পর একটা নাটক লিখেই যাচ্ছে কিন্তু কোনটারই সমাপ্তি হয় না।তারই মাঝে আবার নতুন চরিত্র ঢুকিয়ে দিয়ে এপিসোড বাড়ায়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে এক নাটক,ভারত নিয়ে ধারাবাহিক নাটক, পুতুলের মত সুন্দরী খালেদা কে নিয়ে নাটক,এয়ারপোর্ট নিয়ে নাটক,শেয়ার বাজার নিয়ে নাটক, বাজার নিয়ে নাটক,নারী নীতি আর আমিনী নাটক আর এখন তো বিসমিল্লাহ নাটক।
-বাদ দিন ঠাকুর, আপনার দেশের সিরিয়ালগুলোর মত অবস্থা আর কি।দোলনা থেকে কবর, চলবেই। আর আপনার মত র্যান্ডম লেখা ওরা কখনই লিখতে পারবে না।সময় তো মাত্র ৫ বছর।
-তুই বলছিস?
-হ্যা, আমি বলছি।
-তোদের বাঙ্গালদের মুখে,সম্মতিমুলক আজ্ঞে-ফাজ্ঞের বদলে "হ্যা" শুনতে ভাল লাগে।একদম দেহে জোশ এসে যায়।
-আবার জিগায়।
-মানে?
কথা না বাড়িয়ে আমি বললাম, ঠাকুর একখান গান শুনাই?
-শুনা।
"ভালবাসি কি না বাসি সখী
টেরাই করো আমারে
কত্তো ভালবাসি তোমারে।
চোখবান্ধা বলদের মত ঘুড়াইয়ো না আমারে
চোখের বাঁধন খুইলা দাওনা
দেখি বন্ধু তোমারে।
বড় ভালবাসি তোমারে প্রাণ সখীরে
বড় ভালবাসি তোমারে।"
-এই তোর রুচি? তুই আমার মত নোবেলজয়ীর সামনে এমন গান কিভাবে গাইতে পারলি?
আমি চুপ।
ঠাকুর কিছুক্ষন চুপ করে থেকে স্মিত হাসি দিয়ে বলে,
-তবে বলদের আর্তনাদটা ভাল হয়েছে, রে। দ্যাখ, বলদটা আসলেই কত বলদ, বলছে যে চোখ খুলে দাও দেখি তোমায়।
-ঠাকুর,বলদ তো তাই।
-হ্যা রে বলদ তো তাই।
ততক্ষনে আমার তামাক শেষ করে ফেলেছে ঠাকুর তাই আমি দোকানে যাব।আর ঠাকুরেরও কবিতা লেখার ভাব আসায় বাড়ি যাবার বাসনা হয়েছে।
আমরা আজকে আর আলোচনা বাড়ালাম না।ঘরের ভেতর কোলাকুলি করে বিদায় নিয়ে বাইরে এসে আমি পুব দিকে দোকান মুখী হলাম আর ঠাকুর পালকি করে চললেন পশ্চিমে।
হঠাৎ ঠাকুর, পালকিটা থেকে মাথা বের করে আমার ডাক দিয়ে বললো,
খোকা শোন।তোদের বুবুকে বলিস যে, রবি ঠাকুরের বই পড়ে কল্যাণরাষ্ট্রের কোন ধারনা খুজে না পেলে যেন নতুন নাটক না করে। ওয়েলফেয়ার স্টেট সিস্টেম নামের স্ক্যান্ডেনিভিয়ান দেশগুলোকে দেখে দেখে যেন কিছু একটা করে ফেলে। আমাকে যেন দোষ না দেয় বাপু।
-আমি মনে মনে বলি, আবার দেখা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১১ ভোর ৬:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


