somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দাদা পরিবার ও গাঁধা পরিবার! ২ প্রতিবেশী'র কাহিনী!!!

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২টি পরিবার, প্রতিবেশী!

একটা পরিবারের কর্তা গাঁধা, আরেকটার কর্তা দাদা।

গাঁধা পরিবারের কর্তাটা খাসী মানে আবাল টাইপের, মানে ইনকাম নাই, মেধা নাই, আত্মমর্যাদাবোধ নাই, হ্যাংলা টাইপের কথা বলে, পরিবারে কোন শৃঙ্খলা কায়েম করতে পারে না, স্বামী-স্ত্রী পথের ধারে দাড়িয়ে ঝগড়া করে, আর কিছু একটা হলেই দাদার ঘরে এসে ২দিন পর পর সাহায্য চায়।


আর দাদা'র পরিবার হচ্ছে বড়! মানে সন্তান অনেক, বড় বাড়ি, এলাকার প্রতিষ্ঠিত লোকজনদের নিয়মিত সালাম-টালাম দেয়, গাধাদে'র চেয়ে কিছুটা আর্থিকভাবে সচ্ছল, কতাবার্তায় শালীনতা বজায় চলে, অর্থকড়ি'র সমস্যা মোকাবেলায় মেধা খাটাচ্ছে, মোটামুটি উন্নতি'র পথে চলছে। দাদা'র সংসারের ভেতরের অবস্থা সদরঘাটের মত হলেও, এলাকায় একটু ভাব ধরার জন্য বাসার চারপাশে দাড়োয়ান-টারোয়ান কুকুর-টুকুর পাহারায় বসিয়ে, একদম পাচিল-টাচিল বানিয়ে বাইরে থেকে দেখার মত একটা ঠাট-বাট সৃষ্টি করেছে।


দাদা জানে যে, প্রতিবেশি গাঁধা বাড়ি'র ২ ছেলে দাদা'র পরিবারের বখে যাওয়া ২ ছেলে'র কাছ থেকে নিয়মিত মাদক ক্রয় করে। দাদা যেহেতু সুশীল ভেক ধরে সমাজে টিকে আছে তাই সন্তানের মাদক বিক্রি'র টাকায় তার সংসার চলে এটা জেনেও লোকের চোখে পরিষ্কার থাকার উদ্দেশ্যে এবং জন্মগত শত্রুতাভাবের কারনে দাড়োয়ানকে বললো ঐ প্রতিবেশী'র ছেলেগুলো'কে শাস্তি দিতে!


কিন্তু শাস্তি কিভাবে দিবে? দাদা'র সংসারই যে চলে মাদকবিক্রি করে!!! তার নিজের ছেলে হলো চুড়ান্ত বখাটে মাদকব্যবসায়ী, যারা প্রতিবেশী'র ছেলেদের প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে এনে মাদক বিক্রি করে, এই দেখে দাদা নিয়ম করলো যে, মাদক কিনতে হলে দেয়াল টপকাতে আসতে হবে!!!
আর দাড়োয়ান কুকুরদের বলে দিল, কেউ দেয়াল টপকালে তাকে ধরে প্যাদানোর জন্য! ( কি বুদ্ধি দাদা'র!)


আর দাড়োয়ান কুকুর যেসব আছে তারা তো গরীব দেখলেই ঘেউ ঘেউ করে। তার উপর রয়েছে দাদা'র পারমিশন, তাই প্রতিবেশী'র ছেলেরা যখন দাদা'র বাসায় এসে তার ছেলের কাছ থেকে টাকা দিয়ে মাদক কিনে ফিরে যাবার পথে থাকে তখন দাদা'র দাড়োয়ান কুকুরগুলো পেছন থেকে আক্রমন করে।

এই প্রহসন চলছে তো চলছেই, বহুদিন!!
দাদা'র ছেলে মাদক বেঁচে, গাধা'র ছেলে মাদক কিনে ফিরে যাবার পথে কুকুরের আক্রমনে পড়ে!

গাঁধা পরিবারের কর্তাটা নামের মর্যাদা রেখে চললেও সেই পরিবারের সবাই তো আর তা না!!! ওরা আর কতদিন এমন অন্যায় সহ্য করবে?

ওরা এলাকায় বিচার বসাতে চায়, সবাইকে বলতে চায় যে, দাদা নিজের ছেলেদের দিয়ে মাদক ব্যবসা করে, আবার তার ঘরে টাকা দিয়ে পণ্য নিয়ে ফিরে যাবার সময় কুকুর লেলিয়ে দেয়!!!

দাদা হুমকিতে ভয় পাওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করে, এই বিচার কি হবে?
উত্তর পেয়ে যায়- নাহ! কিচ্ছু হবে না!

দাদা ইচ্ছামত তার রামরাজত্ব চালিয়ে যেতে পারেন।

ইচ্ছা হলে গাঁধা'র মেয়েটাকে দাদা'র বাসা থেকে ফিরে যাবার পথে গুলি করে বেড়ায় ঝুলিয়ে মারতে পারেন।

প্রতিবেশী'র ছেলেটাকে ন্যাংটা করে লাঠি দিয়ে পিটাতে পারেন।

প্রতিবেশী'র বাসায় পানি সরবরাহের আগে নিজ বাড়ি'র সামনের পানি'র পাইপে ইচ্ছামত কাটাছেড়া করতে পারেন।

এককথায় দাদা সব ধরনের অবিচারই চালিয়ে যেতে পারেন।

কারন দাদা'র অত্যাচার বন্ধে'র জন্য প্রথমে তো ঐ গাঁধা পরিবারের কর্তাটার জনসম্মুখে অভিযোগ তুলতে হবে!!! দাদা যতক্ষন নিশ্চিত যে ঐ গাঁধা কর্তাটা তার অনুমুতি ছাড়া কিছুই করে না, ততক্ষন দাদা'র কি টেনশন ???

মাঝে মাঝে এলসেশিয়ান কুত্তা বদলে শেফার্ড এনে আবার শেফার্ড বদলে সড়াইল এনে রাখলেই হবে, ব্যাস!!! মুখে কিছু বলতে হবে না, যা যা বলে উত্তেজিত পরিবারকে ঠান্ডা করা যাবে তা ঐ প্রতিবেশী গাঁধা পরিবারের কর্তাই ভাল জানে।

সো, দাদা নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়!





তবে, একটা বিষয়ে এলাকাবাসী চিন্তিত, কারন, একটা পরিবার তো আর একজনের না, সবাই তো আর জনাব গাঁধা না! কয়েকজন জনাব মানুষ টাইপের চরিত্রও আছে সেখানে। দিনের পর দিন অত্যাচার করার ফলে, ঐ গাঁধা পরিবারের শিশুগুলো শৈশবের রাক্ষস-খোক্ষস হয়ে গেছে এই দাদা!
কোন একদিন ওরা যদি দা-বটি-পাথর-কুড়াল নিয়ে দাদা'র বাসা আক্রমন করে বসে তাহলে অন্তত প্রথম ধাক্কা সামাল দিতে দিতেই অনেক কিছু হয়ে যাবে!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১:১৫
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×