somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে বিপ্লব হওয়ার এখনই মোক্ষম সময়

২৯ শে নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯–১৭৯৯) ফরাসি, ইউরোপ এবং পশ্চিমা সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই বিপ্লবের সময় ফ্রান্সে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে প্রজাতান্ত্রিক আদর্শের অগ্রযাত্রা শুরু হয় এবং একই সাথে দেশের রোমান ক্যাথলিক চার্চ সকল গোঁড়ামী ত্যাগ করে নিজেকে পুনর্গঠন করতে বাধ্য হয়। ফরাসি বিপ্লবকে পশ্চিমা গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি জটিল সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় যার মাধ্যমে পশ্চিমা সভ্যতা নিরঙ্কুশ রাজনীতি এবং অভিজাততন্ত্র থেকে নাগরিকত্বের যুগে পদার্পণ করে।

ফরাসি বিপ্লবের মূলনীতি ছিল "Liberté, égalité, fraternité, ou la mort!" অর্থাৎ "স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব, অথবা মৃত্যু"। এই শ্লোগানটিই বিপ্লবের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলো যার মাধ্যমে সামরিক এবং অহিংস উভয়বিধ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শ্লোগানটি তখন সকল কর্মীর প্রাণের কথায় পরিণত হয়েছিলো।

যেসব কারনে ফরাসি বিপ্লব হয়েছিলঃ
ফরাসি বিপ্লবের রাজনৈতিক এবং আর্থসামাজিক প্রকৃতিকে ইতিহাসবিদরা স্বীকার করেননা। কারণ সম্বন্ধে একটি ধারণায় বলা হয়: অ্যানসিয়েন সরকারের প্রাচীন অভিজাত নীতি ও আইনসমূহ একটি উদীয়মান বুর্জোয়াতন্ত্রের উচ্চাভিলাষের খোরাক যোগাতে শুরু করে যা আলোকসম্পাতের দ্বারা ছিলো ব্যাপকভাবে আক্রান্ত।
যে ধারণাকেই ধরা হোক না কেন, অ্যানসিয়েন সরকারের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিলো যা বিপ্লবের মূল হিসেবে পরিগণিক হতে পারে। একদিক দিয়ে সেগুলো ছিলো অর্থনৈতিক কারণ:

নিম্নমানের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বল্গাহীন জাতীয় ঋণ। এর মূল কারণ ছিল অসম করারোপণ যার বোঝা মোটেই বহনযোগ্য ছিলনা, সম্রাট লুই ১৬-এর অত্যধিক খরচ এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর বিভিন্ন যুদ্ধসমূহ।
বেকারত্বের উচ্চহার এবং খাদ্যদ্রব্যের উচ্চ মূল্য।
বিপ্লবের ঠিক আগের মাসগুলোতে বিরাজমান খাদ্য সংকট।

অপর দিকে এর পিছেন কিছু সামাজিক এবং রাজনৈতিক কারণ ছিল। আলোকিত সমাজ এই কারণগুলোকে কেন্দ্র করেই তাদের আন্দোলন শুরু করে যারা ছিল আলোকসম্পাতের যুগ দ্বারা প্রভাবিত। এই কারণগুলো হল:

নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের পুনঃস্থাপন যা রাজত্বের পক্ষে ছিল ক্ষতিকর।
সমাজের একটি বিশেষ পেশাদার শ্রেণী এবং উঁচুশ্রেণীর লোকদের ব্যাপক সুবিধা দেয়া হচ্ছিলো যা জনসাধারণের জীবনকে নিজের প্রভাবাধীনে রাখতে শুরু করেছিলো।
কৃষক, চাকুরিজীবী শ্রেণী এবং কিছু পরিমাণ বুর্জোয়া কর্তৃক জমিদারতন্ত্রের উচ্ছেদের পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়।
বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারীর মধ্যে সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য, যাজকশ্রেণীর ভোগ-বিলাস চরমে উঠে। অপরদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে একটি জোয়ার সৃষ্টি হয়।
স্বাধীনতা এবং প্রজাতান্ত্রিক আদর্শের অনুপ্রেরণা।

সবশেষে যে কারণ সম্বন্ধে বলতে হয় তা হল এই সমস্যাগুলোর যেকোনটির সমাধানে সম্রাট লুই ১৬-এর চূড়ান্ত ব্যর্থতা।

রাজকীয় অর্থ সংকটঃ

ফ্রান্সের সম্রাট লুই ১৬ (রাজত্বকাল:১৭৭৪ - ১৭৯২) যখন রাজকীয় অর্থের সংকটে পড়েন তখনই বৈপ্লবিক সংকটকাল শুরু হয়। অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে বলতে হয় ফরাসি রাজের শোধক্ষমতা (solvency) ছিল ফরাসি রাষ্ট্রের শোধক্ষমতার সমমানের। ফরাসি রাজ বিপুল পরিমাণ ঋণের ফাঁদে পড়েছিলো যা তদানীন্তন অর্থ সংকটের সৃষ্টি করে।

লুই ১৫ (রাজত্বকাল:১৭১৫ - ১৭৭৪) এবং লুই ১৬-এর শাসনকালে মূলত অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সিদ্ধান্ত রাজকীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য গৃহীত হয়েছিলো। মন্ত্রীদের মধ্যে মূল হিসেবে বলা যায় Baron de Laune Anne Robert Jacques Turgot (অর্থ বিভাগের মহানিয়ন্ত্রক:১৭৭৪ - ১৭৭৬) এবং জ্যাক নেকারের (অর্থ বিভাগের মহানিয়ন্ত্রক:১৭৭৭ - ১৭৮১) নাম। তারা বারবার অর্থ সমস্যার সমাধানের জন্য ফরাসি করারোপণ পদ্ধতিকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব করেন যা কোন সফলতার মুখ দেখেনি। আর এ ধরনের উদ্যোগ সংসদ থেকে ব্যাপক বিরোধিতার সম্মুখীন হয়। সংসদ তখন ছিলো Robe Nobility-দের করায়ত্তে যারা নিজেদেরকে জাতির অভিভাবক জ্ঞান করতেন। এর ফলশ্রুতিতে দুজন মন্ত্রীই পদচ্যুত হন। চার্লস আলেকজান্ডার দ্য ক্যালোঁ, যিনি ১৭৮৩ সালে অর্থ বিভাগের মহানিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পান, বিশিষ্ট ব্যয়সমূহের জন্য একটি নতুন নীতিমালা হাতে নেন যার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের প্রধান ঋণদাতাদের বুঝানোর চেষ্টা চালান।

যেসব কারনে এখন বাংলাদেশে বিপ্লব করা সম্ভবঃ

উপরে উল্লেখিত যেসব কারন ফরাসি বিপ্লবের কারন হয়েছিল এই সব কারন গুলো এখনকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার সাথে গভীর ভাবে মিল রয়েছে
১। ব্যাঙ্ক থেকে সরকারের ঋন গ্রহনঃ

প্রতিদিনই ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে চলেছে সরকার। সরকারের এই ঋণের চাহিদা মেটানোর মতো নগদ অর্থ নেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে। কিন্তু সরকারের ঋণের চাহিদাকে প্রত্যাখ্যাত করার আইনি অধিকারও নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের। তাই প্রতিদিন নতুন টাকা (রিজার্ভ মানি বা বীজ টাকা) বাজারে জোগান দিয়ে চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
চলতি অর্থবছরের প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ করেছে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়া হয়েছে প্রায় পৌনে ১১ হাজার কোটি টাকা।
রিজার্ভ মানি বাড়িয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের চাহিদা মেটানোয় বড় মূল্যস্ফীতিকে ডেকে আনা হয় বলে অর্থশাস্ত্রেই বলা আছে। তাত্ত্বিকভাবেই বলা হয়, এ ধরনের ১০০ টাকা বাজারে বাড়লে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পৌনে পাঁচ শ (মানি মাল্টিপ্লয়ার বর্তমানে ৪ দশমিক ৭৫) টাকার ক্রয়ক্ষমতা তৈরি হয়। ফলে বড় হারে বাড়ে মূল্যস্ফীতি বা জিনিসপত্রের দাম। এমনিতেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে বর্তমানে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রগুলো বলছে, সাধারণভাবে ভর্তুকি মেটাতে সরকার ঋণ করছে বলা হচ্ছে। কিন্তু এত অল্প সময়ে এত টাকা কেবল ভর্তুকি খাতে ব্যয় করা নিয়ে তাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।
বড় অঙ্কের ধার দিয়েই চলতি অর্থবছরটি শুরু করেছিল সরকার। দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে নতুন অর্থবছরের মাত্র ১০০ দিনে ব্যাংক খাতে সরকারের নিট ঋণ হয় প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা। আর সর্বশেষ ১৬২ দিনে হয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৭৪২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, জাতীয় বাজেটে সরকার গোটা অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ১৮ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকার ঋণ পরিকল্পনা রয়েছে।
২।বেকারত্বঃ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০০৬ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে পূর্ণ বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অর্ধ বেকারত্বের হার ছিল ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৯ সালে একই জরিপে পূর্ণ বেকারত্বের হার দাঁড়ায় ৫ দশমিক ১ শতাংশে এবং অর্ধ বেকারত্বের হার দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৭ শতাংশে। এখানে তিন বছরে পূর্ণ বেকারত্বের হার বেড়েছে ০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অর্ধ বেকারত্বের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাষ্যমতে, দেশে পূর্ণ বেকারত্বের হার ১০ শতাংশের নিচে এবং অর্ধ বেকারত্বের হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।
অন্য একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে বেকারত্বের অভিশাপ বয়ে চলেছে কর্মক্ষম মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ। অর্থাৎ দেশে ৭ কোটি মানুষ কর্মক্ষম হলে এর পৌনে ৩ কোটিই বেকার।
আইএলওর জরিপ অনুসারে সারা বিশ্বে বেকারের সংখ্যা ১০৮ কোটি ৬০ লাখ। বেকারত্বের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষে অবস্থানরত ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ১২তম। এখানে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এ দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছেন।
৩। খাদ্যদ্রব্যের উচ্চ মূল্যঃ
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ বলেছে, মূল্যস্ফীতির কারণে নতুন করে আরও অধিক সংখ্যক লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে। সংস্থাটির এ পর্যবেক্ষণ তাদের সর্বশেষ মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় (ফেব্র“য়ারি, ২০১১) স্থান পেয়েছে। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে এবং ২০১০ ডিসেম্বর থেকে ২০১২ জানুয়ারি পর্যন্ত আরও অধিক সংখ্যক জনসংখ্যা দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে। উন্নয়ন অন্বেষণের গবেষণায় পরিলক্ষিত হয়েছে, ২০০৫ সালে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ শতাংশ এবং দারিদ্র্য রেখার নিচে বসবাসকারী লোকের সংখ্যা ৫৬ মিলিয়ন। ২০১০ সালে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ লাখ জনসংখ্যা দারিদ্র্য রেখার নিচে চলে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৫ জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ লাখ ৮০ হাজার লোক নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায় এবং সেই সময়কালে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায় প্রায় ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। খাদ্যমূল্যের অব্যাহত বৃদ্ধি নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কমার কারণ প্রকৃত আয় কমে যায়। ফলে বেকারত্বের হার বেড়ে যায়। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেকারত্বের হার ২০০৬ সালের ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০০৯ সালে ৫ দশমিক ১ শতাংশ হয়। অন্যদিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ২০০৬ সালে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১০ সালে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ হয়। অর্থাৎ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, খাদ্যমূল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্বও বাড়ে।
৪।পরিবারত্বন্ত্রঃ
বর্তমান দেশে ব্যক্তি পরিবারতন্ত্র চলছে। বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন যা বলছেন দল ও সরকার তাই মেনে নিচ্ছে এবং চার দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একইভাবে পরিবারতন্ত্র পরিচালনা করছেন। তাদের দুর্নীতির কারণে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ ৫বার চেম্পিয়ান হয়েছে। দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে। জ্বালানী তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিম্ন আয়ের মানুষ অতিষ্ঠ। আইন শৃঙ্খলার চরম অবগতি হয়েছে। চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, চুরি ডাকাতি ছিনতাই নতুন কোন ঘটনা নয়। দেশের সর্বস্তরেই চলছে দলীয় করণ।

সবশেষে, সামাজিক অবস্থাঃ

স্বাধীনতার ৪০ বছর ও দীর্ঘ দশ বছর স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনের ফসল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থা। দুটি প্রধান দল-আওয়ামীলীগ ও বিএনপির ৪ বার শাসন আমল সচেতন নাগরিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে আমরা কি আসলে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আছি না দলীয় রাজতন্তের মাঝে বাস করছি?কারণ যে দলই ক্ষমতায় আসুক তাদের আচরণ সব সময় গণতান্ত্রিক ভাবাপন্ন হয়নি। বরং জাতীয় সম্পদের হরিলুট,স্থানীয়করণ,বিরোধী মতকে দলন,নাগরিক ভব্যতা কে মারিয়ে নির্লজ্জভাবে জাতীয় নেতাদের রক্তাক্ত করা সব সরকারের নিয়মিত এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। রাজনীতি আজ চলে গেছে গুন্ডা-পান্ডাদের হাতে। আশি দশকের পর যারা বুর্জোয়া রাজনীতিতে এসেছে তারা ক’জন ছাত্রজীবনে ফাস্ট বেঞ্চার তা আজ গবেষণার বিষয়। আর বাংলাদেশে সামাজিক অবস্থা কি?তাহলে সাম্প্রতিক গবেষণার দিকে তাকাই।
সম্প্রতি বাঙালির অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ড.আলি আকবর খান মন্তব্য করেছেন- বাংলাদেশে গ্রাম সমূহ নৃতাত্ত্বিক ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে তা ‘উন্মুক্ত গ্রাম (open village).। প্রতিতুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গ্রাম সমূহ ‘প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সঙ্ঘবদ্ধ(corporate)। আর প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাম একই সাথে প্রশাসনিক,অর্থনৈতিক,সামাজিক দায়িত্ব পালন করে। অন্যদিকে উন্মুক্ত গ্রাম শুধু সামাজিক সংযোগ ঘটে ,কিন্তু প্রসাশনিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব থাকে অত্যন্ত সীমিত।আর এ গ্রামীণ সংগঠনের দুর্বলতার ফলে প্রাচীন কাল থেকে বাঙালি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদে বিশ্বাসী হয়ে গড়ে ওঠে। আর তাই আবহমান কাল থেকে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জী্বনকে সমৃদ্ধ করলেও তার রাজনৈতিক জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। এখনে মানুষের সাথে মানুষের বিশ্বাসের সংকট আছে।আস্থার অভাব আছে। আর তাকে সামাজিক বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা যায়-বাংলাদেশে সামাজিক পূঁজির নিদারুণ ঘাটতি আছে। আর এ সম্পর্কে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট ডি পুটনাম বলেন-’ সামাজিক পূজিঁ হচ্ছে পারস্পরিক আস্থার প্রথাসিদ্ধ আচরণের ও সামাজিক সম্পর্কজালের মত।সামাজিক সংগঠনের বিশেষত্ব হলো যা সমন্বিত কার্যকলাপ সহজ করে সামাজিক কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনও বাংলাদেশের মানুষের পারস্পরিক আস্থা কম । ১৯৯৯-২০০১ সালের সময়কালের এক জরি্পে দেখা গেছে বাংলাদেশে মাত্র ২৩.৫ % শতাংশ মানুষ একে অন্যকে বিশ্বাস করে।আর বাকি ৭৬.৫% মানুষ একে অন্যকে বিশ্বাস করে না বা আস্থা নেই। ৮০ দেশের সমীক্ষায় ফ্রান্স শুধু আমাদের চেয়ে পিছিয়ে আছে।তাদের মাত্র ২২.২ শতাংশ মানুষ একে অপরকে বিশ্বাস করে।
তাহলে অনু সিদ্ধান্তে আসা যায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক-ও রাজনৈতিক সংকটের একমাত্র কারণ আস্থার সংকট।
৯২-৯৫ এর বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ-জামায়াতের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন তাই জন গ্রাহ্যতা পেয়েছিলো। আমাদের রাজনীতিতে এটি স্থিতি অবস্থান এনে দিয়েছিলো। যতি আন্দোলন হোক মানুষ ধরে নিতো সরকার পরিবর্তন হবে ৫ বছর পর।কিন্তু জনগনের এ আস্থার জায়গাটা নষ্ট করে দিল ক্ষমতাসীনরা। ২০০৬ সালে বিএনপি এবার ২০১১ তে আওয়ামীলীগ।
কিন্তু কেনো?বিএনপি ও আওয়ামীলীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি কে দলীয় করনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চাইলো। বিএনপি বিচারপতি হাসান কে দিয়ে , আওয়ামীলীগ বিচারপতি খাইরুল কে দিয়ে। কিন্তু বিধি বাম-বিচারপতি খাইরুল বিরোধী আন্দোলন হওয়ার আগেই ফেঁসে গেলেন।ক্ষমতাসীন দল থেকে ১০ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা ত্রাণ হিসেবে গ্রহণ করায় -নৈতিক ভাবে তিনি তার গ্রহণ গ্রহণযোগ্যতা হারালেন।
আদালত আরও ১২বছর এ পদ্ধতি থাকার পক্ষে মতামত দিলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেনো সমস্ত জনমতকে উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করলেন?শুধু কি বিচারপতি খাইরুল ইস্যু থেকে বাঁচার জন্যে? না ডালমে কুচ কালা হ্যা?

সবশেষে শেখ হাসিনা সরকারের চরম ব্যার্থতাই ডেকে নিয়ে
যাবে তরুনদের বিপ্লবের পথে , প্রিয় পাঠক এখন বুঝতে পারছেন আপনাদের কি করা উচিৎ ,আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কি করা দরকার তা আমাকে আর বলতে হবে না নিশ্চয় বুঝতে পারছেন? জয় হোক বিপ্লবের জয় হোক মুক্তি কামি জনতার ।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫২
৯টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×