somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত কেদার ভাদুড়ীর সাক্ষাৎকার

১১ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গেওর্গে আব্বাস

মানুষ মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে, এ-এক বিস্ময়কর ঘটনা। পশু সম্প্রদায়ের ভেতর কেউ কারো সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে বলে আমার জানা নেই। মৃত মানুষের সঙ্গে সওয়াল-জওয়াব করতেন চর-কাশিমপুর গ্রামের ছোটমিয়া। আমি ছোটমিয়াকে নিয়ে দু’চার লাইন গল্প লিখতে পারি কিন্তু ছোটমিয়া হতে পারি না; বিধায় শরণাপন্ন হয়েছি কবি মলয় রায় চৌধুরীর। যে প্রযত্নেই হোক, আপনার সঙ্গে কথা যে বলতেই হবে কেদার ভাদুড়ী।

আমার শহরে রোদ উঠেছে, দাউ-দাউ সূর্যের পাশে আধখানা চাঁদও উঠেছে। আমি হাঁটছি স্মলহীথে, কভেন্ট্রি রোড ধরে। আজ রাস্তায় নেমে এসেছে অজস্র নারী ও কমলালেবু। চোখের সামনে এতো এতো স্তনের প্রবাহ... এখন কী হবে কেদার ভাদুড়ী?

- নারীর রক্তে রোদ লাগবে। ধীরে তা দুধ হয়ে যাবে।

আমার ডানদিকে অসংখ্য সিলভারবার্জ, বাঁদিকে বুলেবার; মাথার উপরে উদগ্র জানালাগুলো রাস্তার দুইধারে ঝাঁপিয়ে পড়ছে যেন! জানালায় দেখি শিশুদের মুখ। ঐ মুখগুলোর মধ্যে কেদার ভাদুড়ীকে চিনে নিতে কষ্ট হচ্ছে না আমার। ঠোঁট নেই, দাঁত নেই, মাড়ি নেই অথচ শূন্যস্থানে উজ্জ্বল হাসি ঝুলে আছে। আমি কি মাথার ভেতরে এরকম ক'টি লাইন লিখে রাখব-

ঝাঁপিয়ে-পড়া
উদগ্র জানালায় ছিল শিশুদের মুখ
তারা কুসুম শিকারী...

গলিত কাঁচের বাঁশি গলিত ভোরের বাগানে
বাঁকানো সূঁতোয় কারা যেন বেঁধে রাখে দিবসের ঘুড়ি

মহামাতৃগর্ভে
উড়ন্ত শালিকের লাশ স্থির হয়ে আছে

পথে
পাথর কুড়াতে যাই
শ্রীমঙ্গলে মানুষ মাতৃভাষায় কথা বলে...
পথে পড়ে আছে হরিণের নাভী

সে এক উড়ন্ত চোখের স্মৃতি
স্থিরতম আয়নাখণ্ডে...

বড় একা লাগছে কবি। উড়ন্ত শালিকের লাশের সঙ্গে আমিও যে স্থির হয়ে আছি নীলবর্ণ ঘুঘু।

‘‘পাঁঠাকে ধরে আড়াই পোঁচে যখন বধ করে কসাই তার ছটফটানি লক্ষ্য করেছ কখনো? শালা শুয়োরের জগতে আমি এক পাঁঠা। কলজে থেকে বেরিয়ে আসে এক নিখাঁদ যকৃত। রঙ তার সেই নারীটির মতো, আমি ছটফট করি, কাতরাই, কেউ কিছু খবর রাখে না। কেননা ঘরে থেকে আমি একা এবং একাই।’’

কেন যে এই একাকিত্বর কথা বারংবার লিখে যেতে চাই। কেন লিখে যাব তবে? মৃত্যুর পরে ছেলে ছোকরাদের গালি খেতে?

‘‘ কবি মণীন্দ্র গুপ্ত বললেন, বছর বছর কবিতার বই ছাপিয়ে যান। লাইব্রেরীতে লাইব্রেরীতে দিয়ে যান। তাছাড়া আমাদের আর করণীয় কিছুই নেই। কও, তাও তো পারলুম না। ভাবি কী হবে ছবি হয়ে থেকে; মৃত্যুর পর শুধু গালাগালি খেতে? আরো?’’

মৃত্যুর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে জগৎসংসারে দু’পঙক্তিও রচিত হয়নি, হবেও না। এ-অভিজ্ঞতা থাকলে কী রকম হতো আমাদের কাব্যভাষা? নতুন অর্জনের জন্য মনন স্তরকে তবে কি ''ইদমে'' নিয়ে যেতে হবে? শতবর্ষ আগে আমি এই ব্রহ্মাণ্ডে ছিলাম না, আমি কি তবে কবিতা লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম? শতবর্ষ পরেও আমি থাকবো না। এজন্যই বোধহয় আমি আমার কোন এক রচনায় বলেছি-- আমি যেন কবিতা লিখি মৃত্যুর পরে। আজকাল অনেকেই জিজ্ঞেস করে আপনার কবিতায় টুথপেস্ট, ফুটবল, টেনিস, কম্পিউটার, মোবাইল এগুলো নেই কেন? উত্তর আমার জানা নেই। আজকাল বোধহয় কবিতা লেখা অনেক অনেক সহজ হয়ে গেছে, মিস্ত্রিবিদ্যার বিষয় হয়ে উঠেছে। এমন ভেজালের বাজারে আমি কি তবে প্রস্রাবকেও বীর্য বলে চালিয়ে দেব?

‘‘খোঁজারা কি তবে ভাল কবিতা লেখে? কখনো? কবিতা লিখতে হলে বীর্যবান হতে হয় মলয়! বীর্যবান। জীবন মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করতে হয়। তেরোবার, ঠিক তেরোবার মৃত্যু নামক মাগীটা বুকে হিস্‌-স্‌ তুলে বেরিয়ে গেছে। অভাবনীয়ভাবে বেঁচে আছি। এখনো। আমার তো মনে হয় এর পেছনে অলৌকিক কিছু আছে। 'মনে হয়' কেন। আমি নিশ্চিত। রবার্ট ক্লাইভ দু’বার এভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন। তৃতীয়বার নয়। তুমি জানো?''

কাল, মাহকাল আহার করে নদী, পশুপাখি, নারী-নাভীবতীসহ কবি কেদার ভাদুড়ীকেও। and many miles to go before i sleep - রবার্ট ফ্রস্টের মতো তিনিও বহুপন্থ হেঁটেছেন। নির্মাণ করেছেন ধ্যান। এক্ষেত্রে তিনি নিরঙ্কুশ সচেতন এবং অন্যমনস্ক পাঠকের ব্যাপারেও হুশিয়ার।


‘‘ সব মানুষ মানুষ নয়, সব কবিতা কবিতা নয়। আমার কবিতা পড়তে হলে একা একঘরে নির্জনে, ধূপের ধূঁয়ায় একটু, হ্যাঁ একটু মদ্যটেনে আঁধার আঁধারিতে পড়াই ভাল। আমার সব কবিতা ঐ রকমভাবেই জন্ম কিনা, তাই। ’’

‘‘ আমি মনে করি কোন কবিতাই শিরোনাম যথাযথ হতে পারে না। নাম্বার দেয়া উচিত। সেক্সপীয়র যেমন দিয়েছেন-১.২.৩...। নামও দেয়া উচিত নয়। গাড়িতে যেমন নাম্বার দেয়া থাকে অনেকটা তেমনি। কে শক্তি, কে সুনীল, কে জয়, কে মলয় আর কেইবা উত্তম কেউ জানলো না। বোঝা যেত তখন ব্যাপারটা। আর পঠন ভঙ্গির কথা? এমন সব কবিতা আছে আমার, আমি ছাড়া আর কেউ ঠিকমতো পড়তে পারবে না। পারে না। দেখেছি। একবার ঋষিণ মিত্র আমার এক কবিতায় সুরারোপ করেছিল। তখন বুঝেছি কবিতারও মার্ডার হতে পারে। বলিনি কিছুই। কেননা এমন কোনো আদালত নেই যেখানে এই খুনের মামলার বিচার হতে পারে। একটা কবিতা যখন একবার পড়েই লোকে বুঝে যায় তখন বাঁদরামির নীল ইতিহাস আমার জানা হয়ে যায়।''

''আমি যা করি তা হলো এই। ধ্যান। নির্জনতার ধ্যান। ধ্যান মানে খুব সহজ আবার কঠিনও। এক জায়গায় বসে মননকে মনন শূন্যতায় নিয়ে যাওয়া চাই। কিংবা কোন একটি দৃশ্যে বা বস্তুতে অপলক অনেকক্ষণ দৃষ্টি রাখা চাই। এরকম বেশ কয়েক মাস অভ্যাস করলেই কে যে শেয়াল আর কে যে সিংহ মুখ দেখলেই চেনা যায়। অদ্ভুত এক শক্তির স্ফূরণ হয় তাতে। ফলে কবিতা বা যে কোন শিল্পের অবস্থান সর্বকালীন এবং সর্বগ্রাসী হয়ে পড়ে। আমি যে একা থাকি বা থাকতে হয় আমার পক্ষে ও দুটোই নির্জনতা এবং ধ্যান বেশ সহজলভ্য। ’’



প্রকাশক ও পশু ব্যাপারি
বইমেলা ও ভিখারীর মেলা
এক মানব জন্মে আমি বাংলা একাডেমীর বইমেলায় গিয়েছি একবার- ২০০৮ এ। ঐ বছরই নিজের পয়সায় আমার একখানা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছিলাম। সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা। বইমেলা তো নয় যেন মানুষের মেলা! একসঙ্গে এতো মানুষের উত্তাপ ভাল লাগারই কথা, এতো এতো ভিড় আর উড়নচণ্ডী আলাপ মন্দ লাগারও কথা। আমার মন্দ লাগেনি। কারণ আমার সঙ্গে নারী নিতম্বনন্দিনী সর্বদা বিরাজিত ছিল। সে শুধু কথা বলে। আমার শুধু ভাললাগে। সে শুধু লাফ দেয়। আমার শুধু ভাল লাগে। সে টেলিভিশনে ইন্টারভিউ দেয়। আমার শুধু ভাললাগে। ঐ রাজবদনের জন্যই বোধহয় দেখতে পেলাম, বইমেলায় ভেজা অক্ষরগুলো উড়ছে তো উড়ছে... অক্ষরের গায়ে মাতৃজরায়নের শ্লেষাও লেগে আছে। এই অক্ষরগুলো পৃথিবীর নিরক্ষরেরা সৃষ্টি করেছিলেন।

বইমেলায় কার বই কী রকম হিট হলো, কয় কপি বিক্রি হলো, কে কার মোড়ক উন্মোচন করলো, কে কয়টা অটোগ্রাফ দিল ইত্যাদি বিষয়ে প্রচুর শুনেছি। অন্তরে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করেনি। যদি করত তাহলে কবি কেদার ভাদুরীর সংজ্ঞামতে নিজকে ভিখারীদের দলভূক্ত মনে হতো, গ্লানি তৈরি হতো। তবে রঙের গ্লানিও কি খুব ছোট করে দেখা যায়!
প্রিয় রাজবদন একগুচ্ছ গাঁদাফুল উপহার দিয়েছিল, ঐদিন সংবাদপত্রে দেখলাম ঢাকা মহানগরীর মিরপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত লাগেজ পাওয়া গেছে। লাগেজের ভেতর তিনখণ্ডে বিভক্ত নারীটির পরণে ছিল পেটিকোট। পেটিকোটের রঙ হলুদ। রাজবদনের দেয়া গাঁদাফুলের রঙও হলুদ। আমি বইমেলায় বসে কবি মিহির মুসাকি, সরকার আমিনের সঙ্গে ফুচকা খেয়েছি নাকি রঙের বিদ্রুপ দেখেছি বুঝতে পারছিনা। বইমেলায় শুধু কবিদের সঙ্গে দেখা হয়নি। দেখা হয়েছিল প্রকাশকদের সঙ্গেও। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে আমি যেন ১৩ নদী পাড়ি দিয়ে হাটে গেছি পশু বিক্রি করতে। তারা আমায় প্রতিবছর একটা করে উপন্যাস লেখার পরামর্শ দিয়েছে। উপন্যাসের বাজার ভাল, কাটতি ভাল। সায়েন্স ফিকশনের অবস্থাও খারাপ নয়; কবিতার অবস্থা কোরোসিন। তাদের সঙ্গে কবি কেদার ভাদুরীর দেখা হলে নিশ্চয়ই তিনি বলতেন এরা প্রকাশক নয় পশু বেপারি। সবাই সবকিছু বলতে পারে না, কবি কেদার ভাদুড়ী পারেন।

‘‘জ্ঞান আমার সীমিত স্বীকার করছি। কিন্তু এই বোধ আমার এটুকু হয়েছে যে শব্দই হচ্ছে ব্রহ্ম। আকবর বাদশা তানসেনের গান শুনতেন যেমনটি। তা আবার শোনা যাবে দূর ভবিষ্যতে। সুতরাং ইতিহাসের দীপক-রাগ বেজে উঠবে। এরকম আরো এরকম অনেক কিছু, আছো কোথায়?''

''ব্রহ্মবিদ আমি নই, হওয়ার ইচ্ছেও নেই। লেখক যখন লিখে, বই ছাপিয়ে বাজারে ছাড়লে তার বেওসাদারী বুদ্ধিও একটা আছে। কিন্তু মনে মনে যখন ভাবলেন, এপ্রিসিয়েটেড হোক, পাঠকে নিক, কাটতি হোক ভাল তখন তা ভিক্ষাবৃত্তি। শুধুমাত্র উচ্চমার্গীয় সাধু সন্ন্যাসীরা নিজেদের বানানো গল্প (যেমন parab'e) বা উপদেশাবলী বা নিজেদের দর্শন কখনই লিখে রাখতেন না। পাছে তারা ভিক্ষুক হয়ে যান এই ভয়ে। পাঠকের অনেকগুলো চোখ আছে। যেমন শরীরি চোখ, এপ্রিসিয়েট করার মতো চোখ এমনি আরো অনেক গুলো। আমি যখন বড় বড় লেখকদের বই পড়ি সাংকেতিক চিহ্নগুলো দেখতে দেখতে তখন আমি আমার মানসিক শব্দের মাধ্যমেই অনেকসময় তারিফ করে বসি- এ একধরণের ভিক্ষা দেয়াই বোঝায়। এজন্য কবিদের অনেকসময় নতুন নতুন শব্দ প্রয়োজনে তৈরি করে নিতে হয়। যেমন আমি করেছি বহুবার- তার মধ্যে একটা শব্দচক্ষু।''

‘‘ এক মহিলার সঙ্গে আলাপ শিশুকাল থেকেই। মহিলার নাম জানতুমনা। পরে জানলুম ভাগ্যদেবী। এখন যাই বলো আর তাই বলো ভাগ্যদেবীর ওপরে আমি পুরোপুরি নির্ভরশীল। সুতরাং আমার কবিতা চলল কি চলল না, রইল কি রইল না জীবন্ত তা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই একটুকুও। আমি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবো, আমি তা দিয়ে কবিতা বানাবো, আমি তা আমারই সৎপথে অর্জিত পয়সা খরচ করে ছাপবো, বই বাঁধাবো, লোকের কাছে গিয়ে ফেরি করবো, বিক্রি করবো, তাও আবার বাকিতে, প্রচার করবো- আহা পড়ে দেখ আমার কবিতা, কী সুন্দর এবং মৌলিক। আমার দ্বারা তা হবে না। হয়ও না। একটু আধটু যে করিনি তাও নয়। সেটুকুতেই যা পরিচিতি। হঠাৎ ভাগ্যদেবীর সৌজন্যে উত্তম দাশের আতিথ্যে ‘মহাদিগন্তে’ প্রকাশিত হয় আমার কবিতা। মহাদিগন্তের তো একটা পাঠক সমাজ আছে। তারা কী বলে জানিনে। তারা যাই বলুক তারা তো আর মিডিয়া নয়। মূল্য আর তার কতটুকুই। এখন মিডিয়াগুলিই আমাদের ভাগ্য বিধাতা। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নামে যদি আমার কবিতা ‘আ উইন্ডফল’ দেশ পত্রিকায় বেরুতো তাহলে অন্তত পশ্চিমবঙ্গের ইধার থেকে উধার আনন্দে এবং উৎসবে লাফিয়ে উঠত। ব্যাতিরেকে একসময় বাংলা কবিতার পাশাপাশি অনুদিত ইংরেজি কবিতাও অনেক ছাপিয়েছি তাতেও‘ স্পিকটি নট’ হয়ে আছে বাংলা। আসলে শিক্ষিত জনগণের কাছেও পৌঁছুল না। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার যদি অনেক টাকা থাকত কোলগেট টুথপেস্টের মতো আমার হৃদয়পেস্ট কবিতার বিজ্ঞাপন দিতাম।’’

জানতে তো অনেক কিছুই ইচ্ছা করে কেদার ভাদুড়ী। জীবনে কতোবার গঙ্গার জলে শিশ্ন ধুয়েছেন, আত্মহননেচ্ছা জাগ্রত হয়েছে কতোবার। কতোবার মাস্টারবেশন করেছেন? আপনিই বলতে পারেন ''ডানহাত কাঁপে, বাঁহাত একটু- কবিতা তো লিখি, ঐ বাঁ হাত দিয়েই কাজ সেরে ফেলি। কতজনের তো দুটো হাতই নেই তারা আবার পা দিয়ে লিখে পরীক্ষাও দেয় দেখেছি।''

কবিতা, যৌনতা ও মৃত্যু এই ত্রিমাত্রিক ছায়াকে কোনও কি কোন পৃথক করে দেখার অবকাশ রয়েছে? আমি তো প্রায়শঃ মৃত্যুর ও মেরুদণ্ডে সর্বগ্রাসী কাম জেগে উঠতে দেখি; আবার পঞ্চশিরায় কবিতা। আবার এমনও ভাবা যায় মৃত্যু ও যৌনতা ভাল করে ব্যাখ্যার জন্য তৃতীয় অবজেক্টধর্মী শিল্পের নাম কবিতা। সমাজ সংস্কার শিক্ষা, বিদ্যা, বুদ্ধি ইতিহাস ইত্যাদি মাথায় রেখে যা বলতে চেয়েছি তা বলা হয়নি কোনদিন; বলেছি অন্যকিছু। দিন দিন চালাক হয়েছি, শুধু ভাণ ধরেছি। আপনি যদি বলতেন ডানহাত কাঁপে, বাঁ-হাত দিয়েই কবিতা লিখি ও মাস্টারবেশন করি; গ্রহণ করতে অসুবিধা হতো না আমার। আপনার পক্ষেই তা বলা সম্ভব যেহেতু আপনি মেরুদণ্ড সম্পন্ন। মানুষের দেহ হতে হাড় খুলে নিলে জেলি হয়ে যায়- এক প্লেট জেলি। আমাদের সমাজে কেদার ভাদুড়ীর অভাব, প্লেটভর্তি জেলির অভাব নেই। নারী, মদ, মাংস, সশব্দ চেতনা, জাগ্রত চেতনাসহ সর্ববিষয়ে কেদার ভাদুড়ীর কথায় হাড়ের সন্ধান পাওয়া যায়।
--------------------------------------------------------------------------------
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:৫৭
৪৯টি মন্তব্য ৪৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×