somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন্তব্য করুন

০৫ ই মে, ২০০৮ রাত ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একাত্তর প্রশ্নে বাংলাদেশের কাছে লিখিত ক্ষমা চেয়েছে পাকিস্তান:
সাক্ষাৎকারে হাইকমিশনার আলমগীর বাবর


আনিস আলমগীর: ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার আলমগীর বাবর বলেছেন, এটা ঠিক নয় যে পাকিস্তান একাত্তর প্রশ্নে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চায়নি, বরং লিখিতভাবেই তা চেয়েছে। ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এসবের স্পষ্ট উল্লেখ আছে। তৎকালীন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং-এর সঙ্গে ওই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী আজিজ আহমেদ পাকিস্তান সরকারের পক্ষে সংঘটিত অপধের নিন্দা এবং এর জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ওই চুক্তিতে তিন মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন এবং বাংলাদেশের জনগণের কাছে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সহায়তা করতে অতীতের ভুলগুলো ক্ষমা করার ও ভুলে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও ’৭১ সালে বাংলাদেশে যে হত্যাযজ্ঞ, লুণ্ঠন হয়েছে তা ভুলে জনগণকে নতুন করে যাত্রা শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেখাতে হবে বাংলাদেশের জনগণ ক্ষমা করে দিতে জানে।’
আমাদের সময়-এর সঙ্গে একান্ত আলাপে আলমগীর বাবর আরও বলেন, পাকিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফও এ ইস্যুত দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বাবর বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক খুবই গভীর। বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ পাকিস্তানকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে দেখে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অংশ তাদের নিজেদের ‘রুটির স্বার্থে’ দু’দেশের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টির চেষ্টা করে। বাবর দাবি করেন, তার প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকালে তিনি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠির প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মাত্রা দিতে চেয়েছেন। পাকিস্তান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কখনো নাক গলায়নি, ভবিষ্যতেও গলাবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক সব সময়ই বিশেষ মাত্রার, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামাবাদে পিপিপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও পাকিস্তানের বাংলাদেশ-নীতি আগের মতোই আছে।
বাবর বলেন, তার দায়িত্বকালে দু’দেশের মধ্যকার যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, যৌথ ওয়ার্কিং গ্র“প কাজ করছে। বেসরকারি ক্ষেত্রে দু’দেশের ফেডারেশনই জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল গঠন করেছে। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে, বিনিয়োগ হয়েছে ১শ’ মিলিয়ন ডলার এবং পাইপ লাইনে আরো আছে। বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে ঢাকায় প্রতি বছর দু’দেশের উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রদর্শনী হচ্ছে। আগামী জুনে ‘আমার করাচি’ ট্রেড শোতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ১২ জন ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা।
সার্কের বাইরেও পাকিস্তান বাংলাদেশের ছাত্রদের জন্য মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটিসহ ১০০টি বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে, যার ৬৫টি বাস্তবায়িত হয়েছে। পাকিস্তান বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে দিচ্ছে। গত ২ বছরে ২০টি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আবেদনপত্র বিবেচনা করে আরও ৬টি করা হবে। প্রতিবন্ধীদের জন্যও পাকিস্তান হাইকমিশন কাজ করছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে ৭টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ডেন্টাল হাসপাতাল, ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালসহ অনেক প্রতিষ্ঠানকে চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়-সিডর আক্রান্তদের জন্য পাকিস্তান ৩ হাজার টন চাল পাঠিয়েছে। আরও ২ হাজার ৬শ’ টন আসছে।
পাকিস্তানের বর্তমান সামরিক কর্তৃপক্ষ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না বলে ঘোষণা করেছে। আলমগীর বাবর আশাবাদী যে, গণতন্ত্রের নবযাত্রায় পাকিস্তান এগিয়ে যাবে। ধর্মীয় উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সঙ্গে বিরোধ নিরসন প্রশ্নে আলোচনা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ, শিক্ষা বিস্তার, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের যে নীতি পাক সরকার নিয়েছে তাও সফল হবে বলে আশা করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার।
সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০০৮ রাত ১২:০৯
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×