মেয়েটা সাগরের কাছে যেতে ভয় পায়। ভয় পায় কাদতেও। একবার কান্নার বেগ ছুটলে রক্ষা নেই। জিব দিয়ে চেটে চেটে পুরোটা অশ্রু গিলবে। তারপর থামবে। কান্নার নোনা জলের সঙ্গে সে সাগরের অতল জলের মিল খুজে পায়। বাবা তার সাগরে ডুবেই মারা গেছিল। শিক্ষক দম্পতির মেয়ে শ্রাবণী এখন ১০ বছেরের। যথন তার বাবা মারা যায়, তার বয়স ছিল ৪।
মা রুহানি একটা স্বুলের ড্রইং টিচার। মা-মেয়ের ঝামেলাহীন সংসার। হঠাৎ একদিন চোখে পড়লো মায়ের, কি যেন লিখে পাস্টিকের বৈয়মে ভরছে শ্রাবণী। মার দিকে তাকিয়ে শ্রাবণী বলল, এটা কবিতা। নদীতে ভাসাবো, কেউ একজন পড়ে নেবে। ১০ বছরেরর মেয়ের কবিতা দেখে অবাক সাহিত্যপড়ুয়া মা। শ্রাবণীর পড়ার অভ্যাসের খবর জানলেও এই প্রথম জানলেন, তার মেয়ের অদ্ভুত এক কাব্যশক্তি আছে। অদ্ভুত, ওর বাপের মতোই এই কবিতা সংরক্ষণের বোধই জন্মায়নি মেয়েটার মধ্যে। মরার পরই রায়হান সাহেব কবি খ্যাতি পান। রুহানি বেশ কিছু পান্ডুলিপি উদ্ধার করেন। বেশ কয়েকটি বই ব্যবসার মুখ দেখে।
রায়হান সাহেবের মধ্যও এমন বোতলভুত দেখেছিলেন একবার ছিল। হানিমুনে কক্সাবাজারে একবার বউকে না পড়িয়েই ভদকার বোতলে একটা কাগজ ছুড়েছিলেন রায়হান।
আরো এক যুগ পেড়োলো। কবি হিসেবে শ্রাবণী এখন বাজার ধরে ফেলেছে। টক শো, সাহিত্যপাতা, ফেইসবুকে দারুণ দাপট। টিভিতে সাগর দেখলে শৈশবে যেমন চমকে উঠতো, ভার্জুয়াল সাগর দেথে সে ভয়ও কেটে গেছে। মাকে না জানিয়েই বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজার।
সাগর সৈকতে একটা হাটছে শ্রাবণী। অসময়ের বর্ষায় ভিজছে তার দেহ। মনে মনে কবিতার সুতো গাঁথছে। এমন সময় দূর থেকে ভেসে এলা একটা বোতল। ভদকার বোতাল। ভেতরে একটা লেখা.... শিরোনাম: শ্রাবণীর জন্য কবিতা। দমফাটানো কান্না-সাগরের নোনা জলে একাকার শ্রাবণী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


