পরশুদিন সকাল মানে রোববার থেকেই থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি হচ্ছিলো
ঠান্ডা ঠান্ডা বেশ ভালোই লাগছিলো সবার । অনেক দিন প্রচন্ড গরমের পর এমন সুন্দর আবহাওয়া সবাই ই উপভোগ করছিল । সন্ধা হতেই বাতাসের গতি অনেক টা বেশি মনে হচ্ছিল। কারেন্টের যাওয়া আসা তখন ই শুরু। রাতে একটু দেরি করেই ঘুমাতে গেলাম হঠাৎ ফোন আসল এক বন্ধুর সে বলল ''৪ নং সিগনাল দিসে শুনছিস কাইলকা নাকি দুপুরের দিকে ঘুর্নিঝড় আঘাত হানবে আমরা কিন্তুক ক্যামেরা নিয়ে বাইর হইয়া পড়ুম''
ভাবলাম ভালোই তো ঘুর্নিঝড়ে তেমন কি বা আর হবে কাইলকা ক্যামেরা নিয়া কিছু ফটুক তুলব আর ঠান্ডায় ভালো ঘুম ও হবে।
সকাল বেলা উঠেই দেখি থেমে থেমে প্রচন্ড বাতাস বয়ে যাচ্ছে সাথে টিপটিপানি বৃষ্টি ফ্রি, রেডিও কানে লাগায় শুনলাম সিগনাল এখন সাত নম্বর
কারোর মনে যে ভয় নেই তা না তবে সবাই যেন কেমন নিরব খুশি ঘুর্নিঝড় দেখবে তাই। এর মধ্যে একজন বলে আইজকা খিচুরি খেলে কেমন হয় ? এইঠান্ডায় কিন্তু ফাইন লাগবে। অর্ডার দিয়া হলো একজন কে সে চলে গেল খিচুরি কিনতে। বাসার একটু নিচে নামলাম কয়েকজন বন্ধু কে সামনের দোকানে দেখে তারা দিব্বি আড্ডা দিচ্ছে আমি ও সাথে যোগ দিলাম । এর মধ্যে দেখি রাস্তায় পুলাপান ফুটবল ও খেলতেসে সাথে গায়ে কাদা লাগাচ্ছে আহা কি আনন্দ। এদিকে এলাকার মুরুব্বি রা এক যায়গায় দারায় আলাপ আলোচনা করছে। সবার কথা হইল শহরে তেমন কিছু হবার সম্ভাবনা নেই তাছারা এই ঝড় দুর্বল ।
আমি বাসায় ফিরে খিচুরি খাইয়া পেট পুরলাম । টিভি ছেরে দেখি খবরে বলতেসে বাংলাদেশের উপকুলে ঘুর্নিঝড় আইলা আঘাত হানতে শুরু করেছে। কিছুক্ষনের মধ্যে খবর পেলাম যে আব্বুর কয়রার ঘের ভাইসা গেছে পুরা কয়রাই নাকি পানি বন্দি। আমাদের গ্রাম পাইকগাছায় নাকি আমাদের বাড়ির গাছপালার খোজ নেই সাথে বাসা ও আশংকাজনক অবস্তায় । হাজার বার এই বেড়িবাধ কে সংস্করন করার কথা থাকলেও যেন তা সম্ভব হয়নি কোন সরকারের ই । সারাদিন প্রচন্ড বাতাস থাকার পর আমাদের এই দিকেও আস্তে আস্তে কিছু টা বড় ধরনের ঝড় শুরু হতে লাগল পাকা ঘর হওয়ার কারনে খুব একটা টের পাচ্ছিলাম না ঝড়ের কি মজা তবে আশে পাশের গাছ পালা গুলার নুয়ানো অবস্তা কুড়ে ঘর গুলার চাল উড়া উড়া দেখে বার বার ই মনে হচ্ছিল ঝড় কতই ভয়ংকর এবং ঐ বাসা গুলার ভিতর যারা আছেন তাদের কেমন লাগছে।
শহরে যদিও তেমন কোন জানের ক্ষতির সংবাদ পাইয়া যাইনি তবে অনেকের বাসা আর নেই গাছ পালা কুপকাত বিল বোর্ড উইরা আর এক যায়গায় গিয়ে বসবাস শুরু করছে। এছারা খুলনার রয়েলের ঐ দিকে অনেক পানি জমছে । আইলা শক্তি কম হলেও অনেক যায়গায় পানি অনেক বেশি উঠছে বটিয়াঘাটা ও খুলনার আশে পাশে আরো কিছু যায়গায়
লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি ।
হ এমন ই হয় আমরা যেখানে ঝড়কে উপভোগ করছি ঠান্ডায় আরামে ঘুমাচ্ছি কফি পান করছি। সেই সময় অনেকের খাওয়া দাওয়া তো দুরের কথা থাকার জন্য কোন যায়গা ও পাচ্ছে না পানিবন্দি হয়ে মরছে। অনেকের টিনের চাল উড়ে গেছে তাদের জন্য তো সেটাই তাদের মাথা গোজার ঠাই। হয় তো বা কারোর পরিবারের একজন সদস্য মারা গেছে কিন্তু সেই একজন ও তাদের কাছে একশত জনের সমান। আজ সকালে আসে পাশের এই সব দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে যে কিসের কি দুনিয়া । যাই হোক আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে । যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের সবাইকে জানি আল্লাহ এই শোক কাটিয়ে উঠার তওফিক দান করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





