বিশ্ব আদিবাসী দিবসে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের পাল্টা জবাব দেয়ার প্রস্তুতি চলছে
‘আদিবাসী’ ইস্যুতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত হচ্ছে উপজাতীয় সংগঠনগুলো। এ লক্ষ্যে তারা বেছে নিয়েছে আগামী ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবসকে। এ দিন সারাদেশে ব্যাপক কর্মসূচীর মাধ্যমে তারা সরকারী নীতির পাল্টা জবাব দিতে ভেতরে ভেতরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। কর্মসূচী পালনে সকল বাঁধা দুর করতে ইতোমধ্যে পার্বত্য অঞ্চলে বিবদমান দুটি বৃহৎ সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস সমঝোতায় পৌঁছেছে। ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম’ আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতি নিশ্চিত করে তা গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে এসব খবর।
উল্লেখ্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘আদিবাসীদের’ দাবীর স্বীকৃতিদানের কথা থাকলেও ক্ষমতায় এসে বাস্তবতা উপলব্ধি করে সরকার বিপরীত অবস্থান নেয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পরিস্কার ভাষায় জানিয়ে দেয় বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই। সরকারের এ অবস্থান দেশের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। স¤প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মণি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে একাধিক বৈঠকে মন্ত্রীসভার সদস্য, কূটনীতিকবৃন্দ ও গণমাধ্যমের সম্পাদকদের বলেন, বাংলাদেশে বাঙালীরাই আদিবাসী। আদিবাসী বলে যাদের কথা বলা হচ্ছে তারা সকলেই বহিরাগত। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য এতটাই দৃঢ় ছিল যে, কয়েকজন কূটনীতিক এ বিষয়ে আরো আলোচনার প্রস্তাব করলে তিনি তা নাকচ করে দেন। এদিকে বাংলাদেশের এই দৃঢ় অবস্থানের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জড়িত কূটনীতিক মহল, দাতা সংস্থাগুলো বিস্মিত হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইকোসকের বৈঠকে যে সকল দেশ বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে তাদেরকে প্রভাবিত করার জন্য ইতোমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী কর্মতৎপরতা শুরু করেছে। তারা ঐসব দেশের কাছে তাদের তথ্য প্রেরণ করেছে। এদিকে বাংলাদেশের এমন দৃঢ় অবস্থানের কারণ ও বাংলাদেশের যুক্তিগুলো জানতে চেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জড়িত বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থাগুলো তাদের স্থানীয় প্রতিনিধির কাছে কৈফিয়ত তলব করায় স্থানীয় কূটনীতিক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। ফলে তারা তাদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্ধারণ করতে ইতোমধ্যে নানা কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালনের মূল আয়োজন হিসাবে ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম’ জাতীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও র্যালীর আয়োজন করেছে। র্যালী উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের কো চেয়ারম্যান সুলতানা কামালের। আর সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবার কথা রয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমানের। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, সমাবেশের আয়োজকরা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্যে পার্বত্য অঞ্চলের মানবাধিকার লংঘন এবং ‘আদিবাসীদের’ উপর অত্যাচার ও নির্যাতন চলছে এ মর্মে বক্তব্য প্রদান করানোর চেষ্টা করছে। যদি তার মুখ দিয়ে এ ধরণের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয় তাহলে তা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বক্তব্য হিসাবে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রৃচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এদিকে আদিবাসী বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের পাল্টা জবাব দিতে ‘আদিবাসী’ বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থাগুলোও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের বাইরেও ‘ন্যাশনাল কোয়ালিশন ফর ইনডিজিনাস পিপল’ নামে একটি নতুন ফেডারেশন গঠন করা হয়েছে। এই ফেরাডেশনের সাথে সাবেক বিচারপতি, তত্তাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সাহিত্যিকসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের সংযুক্ত করা হয়েছে। তথাকথিত আদিবাসীদের প্রতি সহানুভুতি সম্পন্ন দেশের ৮৯টি সংগঠনকে এই কোয়ালিশনের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই কোয়ালিশনের মাধ্যমে দেশের উপজাতি অধ্যুষিত জেলাগুলোতে ব্যাপকভাবে বিশ্বআদিবাসী দিবস পালনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সূত্র মতে, আদিবাসী বিষয়ে পাহাড়ী জনগণের মধ্যে বিভেদ থাকলে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে উপজাতীয়দের বাঙালী জাতীয়তার পরিচয় সকলকে ুদ্ধ করেছে। ফলে উপজাতীয়দের এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে একটি গোষ্ঠী নতুন চক্রান্তে মেতে উঠেছে। তারা বাঙালী জাতীয়তার বিরুদ্ধের ক্ষোভকে আদিবাসী স্বীকৃতি না দেয়ার ক্ষোভ হিসাবে দেখাতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে তারা ইতোমধ্যে বিবদমান দুইটি বৃহৎ পাহাড়ী সংগঠনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে গত মাসের ২০-২১ জুলাই তিন পার্বত্য জেলায় অবরোধ কর্মসূচী যৌথভাবে পালিত হয়েছে এবং আগামী কর্মসূচীগুলোও সম্মিলিতভাবে পালন করা হবে বলে সমঝোতা হয়েছে।
সূত্রটি আরো জানিয়েছে, উপজাতিদের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে দূর্বল করতে ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের’ সভাপতি ও জনসংহতি সমিতির চেয়াম্যান সন্তু লারমা কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম হয়ে কোলকাতায় যান। অসুস্থতার অজুহাতে চিকিৎসার কথা বলে কোলকাতা গেলেও সন্তু লারমা কোলকাতা থেকে মিজোরাম ও ত্রিপুরায় অবস্থান করেন এবং রহস্যজনক কারণে মিজোরাম ও ত্রিপুরার বাংলাদেশ সীমান্তে আসেন। পাহাড়ীরা বলাবলি করছে, আগামী আদিবাসী দিবস হবে বাংলাদেশর জাতীয় জীবনে আরেকটি ৭ মার্চ। সন্তু লারমা এদিন বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চ ভাষণের মতো নতুন আহ্বান করবেন। উল্লেখ্য, সংবিধানে উপজাতিদের আদিবাসী বলে স্বীকৃতি না দেয়ায় ইতোপূর্বে সন্তু লারমা পুণরায় পাহাড়ীদের অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মেহেদী হাসান পলাশ: দৈনিক ইনকিলাব, ৭ আগস্ট ২০১১ ইং।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




