আজ থেকে ১৫ বছর আগেও গ্রামের মেয়েদের বিয়ে হতো কিভাবে জানেন?
বিয়ের পূর্বে পাত্রপক্ষের লোক যখন কন্যা দেখতে আসতো তখন মেহমান হিসেবে নিয়ে আসতো বাদামী বিস্কুট, নোনতা বিস্কুট আর খুব ধনী হলে ১ প্যাকেট মিষ্টি আনত সাথে পান-সুপারি থাকতো। আর কন্যা পক্ষের লোক বিভিন্ন রকমের পিঠা বানাইয়ে পাত্র পক্ষ কে খুশী করতে চাইত যেন তারা খুব সহজেই তাদের মেয়েকে বউ হিসেবে ঘরে তুলে নেয়। কারণ তখন কার সময়ে মেয়েদের একটাই ভয় ছিল তার বিয়ে হবে তো? ভালো ঘরে যাবে কিংবা খারাপ ঘরে যাবে সেটা তেমন একটা ভাবতো না। আর পাত্র যদি বিদেশে থাকে তাহলে তো কথাই নাই যেন সোনার হরিণ।
তারপর শুরু হয় পাত্রপক্ষের দ্বারা পাত্রীর কঠিন ইন্টারভিউ।
--দেখি মা একটু হাঁটো তো !
--দেখি মা তোমার চুলগুলো !
--দেখি মা কুরআন তিলাওয়াত করো তো !
--দেখি মা তোমার নাম টা লিখো তো !
--দেখি মা এদিকে একটু তাকাও তো !
এভাবেই ইন্টারভিউ চলতে থাকে পাত্রীকে অপদস্থ করার আগ পর্যন্ত। গ্রামের মুরুব্বীরা মনে করতেন এ ধরনের প্রশ্ন করলে মেয়ের প্রতিভা ফুটে আসবে। কারণ তারা তখন মেয়েদের প্রতিভা বলতে সুন্দর করে হাঁটতে পারা, সুন্দর করে সূরা মুখস্ত করা, সুন্দর হাতের লেখা কে বুঝাতেন।
তখনকার সময়ে মুরুব্বীরা হাতে তালু দেখে মেয়েদের কপাল নির্ণয় করে দিতেন ভবিষ্যতে সুখী হবে কি হবে না। পদ্মিনী, চিত্রিণী, শঙ্খিনী, হস্তিনী এই ৪ টার উপরে নির্ভর করতো মেয়েদের স্বপ্ন।
উঁহু, আমি রুপকথার গল্প বলছি না, সত্যিই বলছি।
খুব গর্ব করে বলতে ইচ্ছে করছে আজ আর সে সময় নেই। এখন আর নারীরা পিছিয়ে নেই। এখন আর কেউ পদ্মিনী, চিত্রিণী, শঙ্খিনী, হস্তিনী এই ৪ এর মধ্য দিয়ে নারীকে বিচার করে না। এখন আর কেউ তাদের হাঁটতে, লিখতে, তাকাতে বলে না।
কারণ এখন সবাই জানে নারীরা নারীর আপন গতিতে এগিয়ে চলছে। তারা নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে যাচ্ছে। এখন আর বিদেশী ছেলে দেখলে সোনার হরিণ ভাবে না। কারণ তাদের মেয়েরা আজ হরিণী। তারা আজ অনেক উঁচু জায়গায় যেতে চায়।
এখন আর কেউ ভাবে না যে তাদের মেয়ের বিয়ে হবে কিনা? বরং তারা ভাবে যে ছেলে তাদের মেয়েকে বিয়ে করতে আসবে সে তাদের মেয়ের যোগ্য হতে পারবে কি না?
বর-কণে দুজন দুজনের সাথে কাধ মিলাতে পারবে কিনা?
সাবাশ নারী সাবাশ, এগিয়ে যাও আপন গতিতে ঠিক নিজের মত করে !!!
---গোলাম রাব্বানী

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


