০১.
হিন্দুরা মূর্তিপূজারী; মুসলমানেরা ভাবমূর্তিপূজারী। মূর্তিপূজা নির্বুদ্ধিতা; আর ভাবমূর্তিপূজা ভয়াবহ।
০২.
এক-বইয়ের-পাঠক সম্পর্কে সাবধান!
০৩.
যারা ধর্মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়, তারা ধার্মিকও নয়, বিজ্ঞানীও নয়। শুরুতেই স্বর্গ থেকে যাকে বিতাড়িত করা হয়েছিলো, তারা তার বংশধর।
০৪.
পুরুষ তার পুরুষ-বিধাতার হাতে লিখিয়ে নিয়েছে নিজের রচনা; বিধাতা হয়ে উঠেছে পুরুষের প্রস্তুত বিধানের প্রধান শ্রুতলিপিকর।
০৫.
মসজিদ ভাঙে ধার্মিকেরা, মন্দিরও ভাঙে ধার্মিকেরা, তারপরও তারা দাবি করে তারা ধার্মিক, আর যারা ভাঙাভাঙিতে নেই তারা অধার্মিক বা নাস্তিক।
০৬.
মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে দু’টি তত্ত্ব রয়েছে: অবৈজ্ঞানিক অধঃপতনতত্ত্ব, বৈজ্ঞানিক বিবর্তনতত্ত্ব। অধঃপতনতত্ত্বের সারকথা মানুষ স্বর্গ থেকে অধঃপতিত। বিবর্তনতত্ত্বের সারকথা মানুষ বিবর্তনের উৎকর্ষের ফল। অধঃপতনবাদীরা অধঃপতনতত্ত্বে বিশ্বাস করে; আমি যেহেতু মানুষের উৎকর্ষে বিশ্বাস করি, তাই বিশ্বাস করি বিবর্তনতত্ত্বে। অধঃপতনের থেকে উৎকর্ষ সব সময়ই উৎকৃষ্ট।
০৭.
ধর্মের কাজ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা; তাই এক ধার্মিকের রক্তে সব সময়ই গোপনে শানানো হ’তে থাকে অন্য ধার্মিককে জবাই করার ছুরিকা।
০৮.
হিন্দুবিধানে পুরুষ দ্বারা দূষিত না হওয়া পর্যন্ত নারী পরিশুদ্ধ হয় না।
০৯.
সতীচ্ছদ আরব পুরুষদের জাতীয় পতাকা।
১০.
মুসলমানের মুক্তি ঘটেনি, কারণ তারা অতীত ও তাদের মহাপুরুষদের সম্পর্কে কোনো সত্যনিষ্ঠ আলোচনা করতে দেয় না।
১১.
পুরোনো কালের মানুষ যদি দৈবাৎ একটি টেলিভিশনের সামনে এসে পড়তো, তাহলে তাকে দেবতা মনে করে পুজো করতো। আজো সেই পুজো চলতো।
১২.
মসজিদ ভাঙলে আল্লাহর কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায় আসে না; যায় আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।
১৩.
ধার্মিক কখনোই সম্পূর্ণ মানুষ নয়, অনেক সময় মানুষই নয়।
১৪.
একটি ধর্মান্ধের মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় আল্লা অমন লোককে পছন্দ করতে পারে না।
১৫.
পৃথিবীর প্রধান বিশ্বাসবিশ্বাসগুলো অপবিশ্বাস মাত্র। বিশ্বাসীরা অপবিশ্বাসী।
১৬.
মসজিদ ও মন্দির ভাঙার সময় একটি সত্য দীপ্ত হয়ে ওঠে যে আল্লা ও ভগবান কতো নিষ্ক্রয়, কতো অনুপস্থিত!
১৭.
পাপ কোনো অন্যায় নয়, অপরাধ অন্যায়। পাপ ব্যক্তিগত, তাতে সমাজের বা অন্যের, এমনকি নিজেরও কোনো ক্ষতি হয় না; কিন্তু অপরাধ সামাজিক, তাতে উপকার হয় অপরাধীর, আর ক্ষতি হয় অন্যের বা সমাজের।
১৮.
ভাবাদর্শগত জীবন হচ্ছে বন্দী জীবন। মানুষ জীবন যাপনের জন্য জন্মেছে, ভাবাদর্শ যাপনের জন্য জন্মেনি।
১৯.
ক্ষমতায় যাওয়ার একটিই উপায়: সমস্যা সৃষ্টি করা। সমস্যা সমাধান করে কেউ ক্ষমতায় যায়না, যায় সৃষ্টি করে।
২০.
ইতিহাস হচ্ছে বিজয়ীর হাতে লেখা বিজিতের নামে একরাশ কুৎসা"
২১.
বিপ্লবীদের বেশিদিন বাঁচা ঠিক নয়। বেশি দিন বাঁচলেই তারা প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে।
২২.
সৎ মানুষ মাত্রই নিঃসঙ্গ, আর সকলের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু।
২৩.
ফুলের জীবন বড়ই করুণ। অধিকাংশ ফুল অগোচরেই ঝরে যায়, আর বাকিগুলো ঝোলে শয়তানদের গলায়"
২৪.
বাঙালীর জাতিগত আলস্য ধরা পড়ে ভাষায়। বাঙালী 'দেরি করে', 'চুরি করে', 'আশা করে' এমনি 'বিশ্রাম করে'। বিশ্রামও বাঙালীর কাছে কাজ!
২৫.
বাঙালী জীবিত প্রতিভাকে লাশে পরিণত করে, আর মৃত প্রতিভার কবরে আগরবাতি জ্বালে।
২৬.
বিশ্বের নারী নেত্রীরা নারীদের প্রতিনিধি নয়; তারা সবাই রুগ্ন পিতৃতন্ত্রের প্রিয় সেবাদাসী।
২৭.
বাঞ্ছিতদের সাথে সময় কাটাতে চাইলে বই খুলুন, আর অবাঞ্ছিতদের সাথে সময় কাটাতে চাইলে টেলিভিশন খুলুন।
২৮.
ক্ষুধা ও সৌন্দর্য্যবোধের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যে সব দেশে অধিকাংশ মানুষ অনাহারী, সেখানে মাংসল হওয়া রূপসীর লক্ষণ। এজন্যেই বাংলা ফিল্মের নায়িকাদের দেহ থেকে মাংস ও চর্বি উপচে পড়ে। ক্ষুধার্ত দর্শকেরা সিনেমা দেখে না, মাংস ও চর্বি খেয়ে ক্ষুধা নিবৃত্ত করে।
২৯.
অধিকাংশ রূপসীর হাসির শোভা মাংসপেশির কৃতিত্ব, হৃদয়ের কৃতিত্ব নয়।
৩০.
বাঙালী আন্দোলন করে, সাধারণত: ব্যর্থ হয়। কখনো কখনো সফল হয়; সফল হওয়ার পর বাঙালীর মনে থাকেনা কেন তারা আন্দোলন করেছিলো।
৩১.
বাঙলাদেশের প্রধাণ মূর্খদের চেনার সহজ উপায় টেলিভিশনে কোন আলোচনা অনুষ্ঠান দেখা। ওই মূর্খগুলির মধ্যে উপস্থাপকটি হচ্ছেন মূর্খশিরোমণি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


