
০১.
প্রতিবছর রমজান এলে নবীজি অতিশয় আনন্দিত হতেন, এবং তাঁর সাহাবিদের এ মাসের কিছু ফজিলত বর্ণনা করে বলতেন,
فرض الله عز وجل عليكم صيامه، تفتح فيه أبواب السماء، وتغلق فيه أبواب الجحيم، وتغل فيه مردة الشياطين، لله فيه ليلة خير من ألف شهر، من حرم خيرها فقد حرم. رواه النسائي
অর্থাৎ
"আল্লাহপাক তোমাদের জন্য সিয়াম পালন ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দ্বারসমূহ খুলে দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। অভিশপ্ত শয়তানকে বন্দী করা হয়। এ মাসে রয়েছে একটি রাত যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল।"
উক্ত হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়, এই মাসে অভিশপ্ত শয়তানকে বন্দী করা হয়।
তবে কেনো নিচের ব্যাপারগুলি এইমাসে আমরা ঘটতে দেখি?
০১.
গতকাল থেকে আমাদের বাঙলাদেশে পবিত্র রমজানের শুরু হয়েছে। দ্রব্যমূল্য, আতর এবং লোবানের ঘ্রাণ, সুর্মার যৌবন, আচকানের চমক সবকিছু ক্রমবর্ধমান রূপে বিস্তারিত।
সিয়াম সাধনার মাস মানে তাহলে কী?
০২.
মেট্রিকে ইসলাম ধর্ম পরীক্ষার সময় আমার পাশেল জন নকল করছিলো। একসময় একটা কোরানের আয়াত সে তার পকেটে খুঁজে পায় না। ফলত সে বানিয়ে লেখা শুরু করলো। আমি বললাম, নবীজি মনে হয় বলেছিলেন, "যে ব্যক্তি কোরান কিংবা আমার কথা বানিয়ে বলবে কেয়ামতের দিন তার জিহ্বা আগুনের কাচি দিয়ে কাটা হবে।" আলহামদুলিল্লাহ্।
কিন্তু আমার কথায় সে থামলো না। কেনো থামলো না।
০৩.
নবীজি বিবি খদিজার ব্যবসা দেখভাল করতেন। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে তার বিশাল ব্যবসার মালিক হয়েছিলেন। এবং তিনি একজন সৎ ব্যবসায়ী ছিলেন। ফলত তার উম্মতদের তিনি চাকরি না করে ব্যবসা করার জন্য অছিয়ত করেছিলেন।
তিনি কি জানতেন তার উম্মতরা লোভি এবং অসৎ ব্যবসায়ী হবে?
০৪.
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি যে মুসলমান পাড়ায় থাকতাম তার পাশেই হিন্দুপাড়া। মুসলমানপাড়ার সীমা ঘেঁষে হিন্দুপাড়ায় জনৈক হিন্দুবাবুর একটা চায়ের দোকান ছিলো। দুইবছর আগে এইদিনে জনৈক মুসলিম যুবক জেহাদি জোসে সওয়ার হয়ে দলবল নিয়ে গিয়ে ওই দোকান ভাঙচুর করেন এরং হিন্দুবাবুসহ তার দোকানের দুইজন কাস্টমারকে আহত করেন। এবং কাস্টমারের একজন আমার পাশের রুমের জনৈক বিধর্মী ভাই।
(ওই মুসলিম যুবকটিকে আমি প্রায় সময় মদ খেয়ে সন্ধ্যার পর বড় রাস্তায়, বাজারে মাতলামি করতে দেখেছি। তাকে নিয়ে একদা একটি কবিতাও লিখেছিলাম,
একমাতাল আমার হাতে চুমো খেলো
আমি তার মাথায় হাত রেখে আদর করলাম
সে আমাকে ঈশ্বর ভেবে প্রণাম করলো
আর আমি আর কাছ থেকে সরে গেলাম...)
রমজানে অন্য ধর্মের লোকজনকেও কি উপোস থাকতে হবে?
সামনে খাবার থাকলে যার সংযমের বাঁধ ভেঙে যায়, সে কেমন ইমানদার?
০৫.
পাক কালামে নামাজের কথা যতোবার বলা হয়েছে তার চেয়ে রোজার কথা অনেক কম বলা হয়েছে। সম্ভবত একবার। তারপরও মানুষ নামাজ না পড়ে এতো রোজা কেনো রাখে?
বিস্তারিত জানার জন্যে ব্লগের মুহতরাম এলেমদারগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
০৬.
রমজানের শুরুর দিকে মসজিদের বিস্তার রাস্তা পর্যন্ত গড়ায়। শেষের দিকে কেনো কয়েককাতারে চলে যায়?
০৭.
কেনো সুরা তারাবি এবং খতম তারাবি এই কম কষ্ট এবং বেশি কষ্টের সুবিধা অসুবিধা?
০৮.
আমাদের এলাকার (অবশ্য সব এলাকার চরিত্রই এক) মুসলিম ভাইয়েরা কেনো রোজা রেখে সারাদিন ঘুমায় আর ইফতারের পর থেকে বাজারে জুয়া আর কেরাম খেলে এবং তুচ্ছ কারণে মারপিট করে?
০৯.
নবীজি বলেছেন, "জ্ঞানীর ঘুম এবাদত অপেক্ষা শ্রেয়"। তবে কেনো রমজান ব্যাপী অনেক জ্ঞানী এবং অসুস্থ বান্দার ঘুম নষ্ট করে হাজার হাজার মাইকে কোরান তেলাওয়াত এবং ওয়ায়েজ হয়?
উচ্চ মাইকে কোরান তেলাওয়াত কি জায়েজ?
১০.
ওয়ায়েজ এবং কোরান তেলাওয়াত করে কি টাকা কামানোর বিধান আছে? আমি যতদূর জানি নাই।
আশা করি মুফাচ্ছেরগণ আওয়াজ দিবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



