somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা - মেজর জলিল | পঞ্চম অধ্যায় : ভারতে মুক্তিযু্দ্ধের ট্রেনিং শিবির

১৫ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ডাউনলোড লিঙ্ক ►

পঞ্চম অধ্যায় : ভারতে মুক্তিযু্দ্ধের ট্রেনিং শিবির


২৫শে মার্চের পাকিস্তান হামলার পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্বতঃষ্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠা মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং শিবিরগুলো পাকিস্তানী বাহিনীর অব্যাহত হামলার মুখে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধারাও পাল্টা হামলার ধারা পরিচালনা কাতে করতে এক পর্যায়ে বর্ডার অতিক্রম করে ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিতে থাকে। অপরদিকে হাজার হাজার তরুণ ছাত্র যুবক দলে দলে ছুটে যেতে থাকে ভারতে। এভাবেই গড়ে ওঠে ভরতে মুক্তিযুদ্ধোর ট্রেনিং শিবির।
মে মসের শেষের দিকে তরুণ-যুবকের দল ভারত অভিমুখী হয়ে ওঠে এর পূর্বে তেমন কোন প্রাণ চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়নি। এই মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমি প্রথম ক্যাম্প প্রতিষ্টা করি ইছামতি নদীর ভারতীয় পার ঘেঁষে হাছনাবাদ বন্দরে, হিংগলগঞ্জে এবং ধীরে ধীরে ট্রেনিং শিবির সম্প্রসারিত হতে হতে জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত সর্বমোট ১১টি শিবিরে পরিণত হয়। পশ্চিমবংগের বশীর হাট মহকুমার সর্বত্রই ট্রেনিং শিবিরগুলো ছড়িয়ে ছিল। জুন-জুলাইয়ের মধ্যে হাজার হাজার তরুণ যুবকের প্রচন্ড ভীড় জমতে থাকে। সমগ্র পশ্চিম বংগের বর্ডার এলাকা মুক্তিযুদ্ধাদের তীর্থস্থানে রূপান্তরিত হয়ে ওঠে। যে কোন তীর্থযাত্রীদের তুলনায় তারা ছিল ত্যাগী এবং নিবেদিত। একেবারেই সহায়-সম্বলহীন। কারো সংগে অতি সামান্য পুঁটলি, কারো সংগে শুধু কেবল লুংগি-গামছা, কারো তাও নেই। অধিকাংশ যুবকই কেবল প্রাণটা নিয়ে পালিয়ে এসেছে। পথিমধ্যে পাকিস্তানী বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হয়ে রক্তভেজা কাপড়ে আহত দেহ নিয়ে কেনমতে হুমড়ি খেয়ে এসে পড়েছে পশ্চিম বাংলার বর্ডার এলাকায়। শত্রুর অব্যাহত তাড়া, অর্ধাহার-অনাহারে একটানা পথ চলার মধ্য দিয়ে এ সকল তরুণ জন্মভূমির ভিটে-মাটি ছেড়ে ক্লান্ত-শ্রান্ত অবস্থায় এসে গড়িয়ে পড়েছে মুক্তিযুদ্ধের তীর্থস্থান পশ্চিম বাংলায়। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মায়াজালে আত্মসমর্পন করেছে তারা অত্যন্ত নিশ্চিত ভাবেই। অপূর্ব সে দৃশ্য, অতুলনীয় সে আত্মসমর্পন। যুগভেরীর অদৃশ্য আহ্বনে সাড়া দিয়েছে একটি জাতির যুব চেতনা। জাগ্রত চেতনার এই লেলিহান শিখা বিশ্বের যে কোন স্বৈরশক্তির ভিত্‌ পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে যে সমর্থ, সে তথ্য আমি ইতিহাসের পাতায় বহুবার পড়েছি। তাই তরুণ যুবকদের ভীড় যতই বৃদ্ধি পেতে লাগল ততই আমি আশাবাদী হয়ে উঠলাম মুক্তিযুদ্ধের বিজকয় সম্পর্কে। মনেপ্রাণে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেতে শুরু করলাম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে। তারা যদি অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা না বাড়িয়ে দিত, তাহলে পূর্ব বাংলার তরুণ সমাজ মুক্তিযুদ্ধে ততটা সাড়া দিত কিনা সে সন্দেহ অনেকের মাঝেই আছে।
একটি ঘুমন্ত জাতিকে বেয়নেটের খোঁচায় জাগিয়ে তোলার জন্য হানাদার বাহিনীর কৃতিত্ব একেবারে কম নয়। ভেতো বলে ঘৃণিত একটি জাতি রাতারাতি যে কোন ‘মার্শাল রেস’ বা যোদ্ধা জাতির ন্যায় সগর্বে দাঁড়িয়ে যাওয়অর দৃশ্যে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ কেবল আহমকই বনে যায়নি, দারুণভাবে ভীত-সন্ত্রস্তও হয়ে পড়েছিল। বাঙালী জাতির ইতিহাসই যে হচ্ছে যু্দ্ধের ইতহাস সে কথা জানা থাকলে হানাদার বাহিনী বেয়নেট নিয়ে খোঁচাতে যেত কিনা সন্দেহ। কারণ একটি জাতি কেবল বেয়নেটের আচমকা খোঁচাতেই রাতারাতি যোদ্ধা জাতিতে পরিণত হয়ে যায় না, যুদ্ধের চেতনার সক্রিয় উপস্থিতিই একটি জাতিকে যোদ্ধা জাতি হিসেবে আত্মবিকাশ লাভে সহায়তা করে। পাকিস্তানী বাহিনীর আচমকা আক্রমণ বাঙালী জতির আত্মবিকাশের ধারাকে কেবল ত্বরান্বিত করেছে। আর তাই তো তীর্থযাথীদের ন্যায় ছুটেছে তরুণ-যুবক অস্ত্রের সন্ধানে। বর্ডার অতিক্রম করতে সক্ষম হলেই ট্রেনিং ক্যাম্পের সন্ধানলাভ, সুতরাং ‘চলো চলো বর্ডার চলো’ শ্লোগানের মধ্য দিয়ে দিন-রাত ছুটে চলেছে মুক্তিপিপাসু কিশোর, তরুণ যুবক। মায়ের স্নেহের বাঁধনের চেয়েও নিরাপদ মনে হয়েছে অস্ত্র শিক্ষা। তাই সকল স্নেহের বাঁধন ছেড়ে যেতে দেরী হয়নি, তেমনি দেরী হয়নি অস্ত্র শিক্ষা গ্রহন করতে।
মুক্তিযুদ্ধে ট্রেনিং শিবিরগুলো পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ করা বাঙালী তরুণ ক্যাপ্টেন, মেজর পদের অফিসার দিয়েই শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে নন কমিশনড্‌ অফিসার নায়েক এবং হাবিলদাররাও প্রশংসাজনক উদ্যোগ নিয়ে ট্রেনিং শিবিরগুলো অতি কষ্টে দাঁড় করিয়েছে। কোন ঊর্ধতন মহলের নির্দেশ ব্যতিরেকেই এই দুরূহ কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধদের ট্রেনিং শিবির স্থাপনের ব্যাপারে কোন ধরনেরই অবদান রাখতে সক্ষম হয়নি। এই ট্রেনিং শিবিরগুলোই মূলত মুক্তিযুদ্ধের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়ার ক্ষেত্রে ‘নিউক্লিয়াস’ বা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। এই কৃতিত্বের দাবীদার ঐ সকল দেশপ্রেমি বাঙালী আর্মি অফিসার এবং ব্যক্তিবর্গ, যারা সর্বরকম ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ‘নিউক্লিয়াস’ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ছাত্র লীগের খানিকটা ভূমিকা থাকলেও তা আশানুরূপ ছিল না। তবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এমনকি পশ্চিম বাংলার নিরাপদ এলাকায় ট্রেনিং শিবির গড়ে ওঠার পরেও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে ট্রেনিং শিবিরের আশে-পাশেও দেখা যায়নি। তবে এর ব্যতিক্রম যারা ছিলেন তাদের সংখ্যা সীমিত।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে অনেকে বলে থাকেন যে, ‘বেচারারা’ বিচ্ছিন্ন ভাবে যে ভবে যে পেরেছে বর্ডার অতিক্রম করার ফলে পশ্চিম বাংলায় গিয়ে এক রকম কক্ষচ্যূত নক্ষত্রের ন্যায়ই এখানে-ওখানে ছুটোছুটি করেছেন দীর্ঘদিন। তাদের নাকি নিজেদেরই কোনরূপ অবস্থান ছিল না, কি করেই বা যুদ্ধের খবর নিবে? কথাগুলোতে বেশ যু্ক্তি আছে, হবে অতটা জোড়ালো নয়। ‘বেনিফিট অফ ডাউট’ বা ‘সন্দেহের সুযোগ’ নিতে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মোটেও যে কার্পন্য করেননি তার ভুরি ভুরি প্রমাণ পেয়েছি যখন তাদেরকে দেখেছি কোলকতার অভিজাত এলাকার হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে জমজমাট আড্ডায় ব্যস্ত। একাত্তরের সেই গভীর বর্ষায়ত দিনরাতে কোলকতার অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলোতে বসে গরম কফির কাপে চুকুক দিতে গিয়ে হাটু তক কাদা জলে ডোবান্ত মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং শিবিরগুলোতে অবস্থানরত হাজার হাজার তরুনের বেদনাহত চেহারাগুলো তারা একবারও দেখেছে কিনা তা আজও আমার জানতে ইচ্ছা করে। আমার জানতে ইচ্ছে করে কোলকতার পার্ক স্ট্রীটের অভিজাত নাইট ক্লাবগুলোতে ‘বীয়ার’ হুইসকি পানরত আওয়ামী লীড় নেতৃত্বের মনোমুকুরে একবারও ভেসে উঠেছে কিনা সেই গুলিবিদ্ধ কিশোর কাজলের কথা যে মৃত্যুর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত চীৎকার করে ঘোষণা করেছে ‘জয় বাংলা’। আমার জানতে ইচ্ছে করে আরো আরো অনেক কিছু। কিন্তু জানতে ইচ্ছে করলেই তো আর জানা যায় না।
ভারত অবস্থানকালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের অনেক কিছুই জানতে চেয়েছিলেন স্বনামধন্য সাহিত্যিক এবং চিত্র নির্মাতা কাজী জহির রায়হান। তিনি জেনেছিলেন অনেক কিছু, চিত্রায়িতও করেছিলেন অনেক দুর্লভ দৃশ্যের। কিন্তু অতসব জানতে বুঝতে গিয়ে তিনি বেজায় অপরাধ করে ফেলেছিলেন। স্বাধীনতার ঊষালগ্নেই তাকে সেই অনেক কিছু জানার অপরাধেই প্রাণ দিতে হয়েছে বলে সকলের ধারনা। ভারতের মাটিতে অবস্থান কালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের চুরি, দুর্নীতি, অবৈধ, ব্যবসা, যৌন কেলেংকারী, বিভিন্ন রূপ ভোগ-বিলাস সহ তাদের বিভিন্নমূখী অপকর্মের প্রমাণ্য দলীল ছিল-ছিল সিচিত্র দৃশ্য। আওয়ামী লীগের অতি সাধের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কাজী জহির রায়হানের এতবড় অপরাধকে স্বার্থান্বেষী মহল কোন যুক্তিতে ক্ষমা করতে পারে? তাই বেঁচে থেকে স্বাধীনতার পরবর্তী রূপ দেখে যাওয়ার সুযোগ আর হয়নি জহির রায়হানের। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৩নম্বর আসামী স্টুয়ার্ড মুজীবেরও ঘটেছিল এই পরিণতি:। এই দায়িত্বশীল নিষ্ঠাবান তেজোদীপ্ত যুবক স্টুয়ার্ড মুজীব আমার ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে এবং পরে ৮ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছে। তার মত নির্ভেজাল ত্বরিতকর্মা একজন দেশপ্রেমিক যুদ্ধা সত্যিই বিরল। প্রচন্ড সহস ও বীরত্বের অধিকারী স্টুয়ার্ড মুজীব ছিল শেখ মুজীবের অত্যন্ত প্রিয় অন্ধভক্ত। মাদারীপুর থানার অন্তর্গত পালং অধিবাসী মুজীবকে দেখেছি বিদ্যুতের মতই এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ছুটোছুটি করতে। কি করে মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করা যায়, ভারতের কোন নেতার সাথে যোগাযোগ করলে মুক্তিযুদ্ধের রসদ লাভ করা যায় কেবল সেই চিন্তা এবং কর্মেই অস্থির দেখেছি স্টুয়ার্ড মুজীবকে। মুজীব ভারতে অবস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেক কুকীর্তি সম্পর্কেই ছিল ওয়াকিফহাল। এতবড় স্পর্ধা কি করে সহবে স্বার্থান্বেষকী মহল। তাই স্বাধনতার মাত্র সপ্তাহ খানিকের মধ্যেই ঢাকা নগরীর গুলিস্তান চত্বর থেকে হ্যাইজ্যাক হয়ে যায় স্টুয়ার্ড মুজীব। এভাবে হারিয়ে যায় বাংলার আর একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

ভারতে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং শিবিরগুলোও ছিল নানান কুকর্মে লিপ্ত আওয়ামী নেতৃত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই সচেতনভাবেই তারা ট্রেনিং শিবিরগুলো এড়িয়ে চলত। এ সকল ট্রেনিং শিবিরে অবস্থান করত সাধারণ জনগণের সন্তান, যাদের ভারতের অন্যত্র কোন ধরনের আশ্রয় ছিল না। যারা হোটেল, কিম্বা আত্মীয়-স্বজনদের কাছে আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে তারা আর মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং শিবিরের ধারে-কাছেও ভিড়েনি, অংশগ্রহ করাতো দুরেই থাক। এ ধরনের সুবিধাভোগীগের নিয়ে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ভাগে ভরতীয় স্পাই সংস্থা ‘র’ (RAW) মেজর জেনারেল ওভানের মাধ্যমে ‘মুজীব বাহিনী’ নামে একটি বিশেষ বাহিনী গঠনে হাত দেয়। এই বাহিনীতে বাংলাদেশ ছাত্র লীগের অবস্থাসম্পন্ন সদস্যরাই কেবল অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদের ট্রেনিং পরিচালনা করা হয় ভারতের ‘দেরাধন’ শহর। তাদের জন্য বিশেষ সুবিধে এবং অন্যান্য আরাম-আয়েসের সুব্যবস্থা ছিল। ‘মুজিব বাহিনী’ গঠন ছিল বাংলার সাধারণ জনগণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মুক্তিযুদ্ধাদের বিকল্প ব্যবস্থা। ‘মুজীব বাহিনীর’ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণের পুর্বেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। তাদের দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্যই বলা চলে যে, সাধারণ মানুষের মুক্তিযুদ্ধে তাদের রক্ত ঝরাতে হয়নি। তাদের অভিজাত রক্ত সংরক্ষিত করা হয়েছিল স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সাধারণ মুক্তিযুদ্ধাদের রক্ত ঝরানোর লক্ষ্যে।
অপরদিকে, সাধারণ মুক্তিযুদ্ধাদের ট্রেনিং শিবিরগুলোর ছিল বর্ণনাতীত দুরবস্থা। সাধারণত এক হাটু কাদাজলে ডোবানো ট্রেনিং শিবিরগুলোতে না ছিল পর্যাপ্ত খাবার, না ছিল বাসউপযোগী কোন ব্যবস্থা। দিনরাত খেটেও তারা পেট পুরে খেতে পায়নি। আধপেটা অবস্থায়ই তাদেরকে দুঃসহ জীবন যাপন করতে হয়েছে। সারা দিনে-রাতে দু’বেলা খিচুড়ি জুটে গেলেই সেদিন সৌভাগ্য মনে করা হতো। পরিধানে লুংগি-গামছাও ছিল এক ধরনের বিলাস। অনেক মুক্তিযুদ্ধাকে কেবল একটা হাফপ্যান্ট, কিম্বা লুংগি পরিধান করেই ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। ‘মওসুরেম’ নির্বিচার বৃষ্টির ধারা তাদেরকে সামান্যতম বিশ্রাম পর্যন্ত নিতে দিত না। হাটু কাদা মাটিতে মশার অত্যাচার নির্বিচারে সহ্য করে সারারাত দাঁড়িয়ে কাটাতে হতো তাদেরকে তবু ট্রেনিং গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহে কখনো ভাঁটা দেখিনি আমি। একটা শিবিরে ৩ থেকে ৪ হাজার মুক্তিযুদ্ধা এক সংগে ট্রেনিং গ্রহন করত। প্রত্যেকটি শিবিরই ছিল পরিপূর্ণ। কোন বাধা-বিপত্তি কিম্বা অসুবিধেই তাদেরকে অস্ত্র শিক্ষা গ্রহণ করা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। অসংখ্য মাসুম কিশোরকেও দেখেছি সোল্লাসে ট্রেনিং গ্রহণ করতে। কোন দুঃখকষ্টই যেন তাদের কাছে লজ্জা বা দ্বিধার ব্যাপার ছিল না। দুঃখবোধ তারা কেবল তখনই করত যখন তাদের কম বয়স বিবেচনা করে অস্ত্র ট্রেনিং থেকে বিরত রেখে অন্যান্য কাজে নিয়োগ করার চেষ্টা চালান হতো। অস্ত্র শিক্ষা তাদের কাছে ছিল যেন প্রাণের ধন অত্যন্ত গর্বের বস্তু। পশ্চিম বাংলার বর্ডার এলাকায় আমার অধীনে পরিচালিত ১১টি ট্রেনিং শিবিরই ছিল অত্যন্ত জমজমাট। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৪ নম্বর আসামী জনাব সুলতান উদ্দিন আহমদ একজন দক্ষ ন্যাভাল কমান্ডো শিক্ষক হিসেবে এই সকল ট্রেনিং শিবিরগুলো সরাসরিভাবে অত্যন্ত দক্ষতার সথেই পরিচালনা করেছেন। তার হাড়ভাংগা খাঁটুনির দৃশ্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্টসাধ্য । ইছামতি নদীর তীরে টাকী শহরের বাকুন্দিয়ায় অবস্থিত ছিল বৃহত্তম ট্রেনিং শিবির। কোন কোন সময় ৫ থেকে ৭ হাজার যুবক এক সংগে ট্রেনিং গ্রহন করত।
এই সকল শিবির প্রথমে আমার পরিপূর্ণ তত্ত্বাবধানেই গড়ে ওঠে। প্রথমভাগে ভারতীয় বর্ডার ফোর্স বি.এস.এফ-এর মাধ্যমে কিছু কিছু রসদ এবং খাদ্য সরবরাহ করার ব্যবস্থা ছিল। পরবর্তীকালে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘ব্যাটেল পজিশন’ নেয়ার পরে সেনা ইউনিট থেকে রেশন নিয়মিতভাবে দেয়া হতো। কিন্তু সে রেশন ছিল নিতান্তই অপ্রতুল, কারণ দিন রাত চব্বিশ ঘন্টাই শত শত নতুন যুবক ট্রেনিংয়ের জন্য হাযির হতো। সুতরাং প্রাপ্ত রেশন সব সময়েই ‘শেয়ার করে চলতে হতো নবাগতগের সংগে। বেসরকারী এবং স্বেচ্ছাসেবীমূলক সংস্থাগুলো প্রভূতভাবে সাহায্য করেছে বলে হাজার হাজর যুবক অনাহারজনিত করণে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেয়েছে। মানবতাবাদী এ সকল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর অবদান অতুলনীয় এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরনীয়। স্বাধীনতার ১৭ বছর পরে আমার এখনো অতি স্পষ্টভাবে মনে আছে পশ্চিম বাংলার হামড়া অঞ্চল প্রধান শ্রী পি,কে রায়ের কথা, যিনি অকাতরে প্রচুর খাদ্য, তার এবং নগদ অর্থসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন মুক্তিযুদ্ধে। এক সময়ে এই বাংলার ফরিদপুরবাসী পি,কে রায়ের চোখে দেখেছি মমতাপূর্ণ অনুভুতির স্পষ্ট ছাপ। ছিলেন হাবড়ার স্যামুয়েল সরকার। প্রাণভরা উচ্ছ্বাসে-আবেগ নিয়ে এক এক সময়ের মুক্তিযুদ্ধাদের দুরবস্থা কেঁদেই দিতেন। ট্রাক বোঝাই করে খাদ্যদ্রব্য, তাঁবু, টারপলিন নিয়ে হাযির হতেন মুক্তিযুদ্ধের শিবিরে। ছিলেন দক্ষিণ ভারতের মিঃ মনু ভাই বিমানী। চার্চিলের মত একখানা দেহ টেনেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের শিবিরে শিবিরে ছায়ার মতনই ঘুরে বেড়াতেন সাহায্য-সহযোগিতা সহকারে। আরো দেখেছি ডঃ ত্রিগুণা সেনকে, অরুণা আসফ আলীকে, ব্যারিস্টার জে, পি, মিটারকে এবং শিশির বোস সহ আরো অনেক খ্যাতনামা ভারতীয় সন্তানদেরকে, যারা উন্মাদের মতই ছুটে ফিরতেন মুক্তিযুদ্ধের এক শিবির থেকে অন্য শিবিরে। তাদের চোখে-মুখে আমি যে অব্যক্ত বেদনা এবং উদ্বেগ প্রত্যক্ষ করেছি, তার শতকারা এক ভাগ পরিমানও বেদনা উদ্বেগ আমি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের চেহারায় দেখতে পাইনি। পশ্চিম বাংলার সি,পি এম নেতা শ্রী জ্যোতি বসুর সাথে সাক্ষাতকালেও আমি তার মধ্যে লক্ষ করেছি গভীর উদ্বেক। কিন্তু সে ধরনের উদ্বেগ সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত ছিল ভারতের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের ভোগরত চেহারায়। নেতৃত্বের এই সীমাহীন দায়িত্বহীনতা এবং সচেতন প্রতারনামূলক আচরণ মুক্তিযুদ্ধাদের ভোগান্তি অনেকগুনে বৃ্দ্ধি করেছে। তারা সচেতনভাবেই যেমন এড়িয়ে চলেছেন মু্ক্তিযুদ্ধের শিবিরগুলো, তেমনিভাবেই এড়িয়ে চলেছেন শরণার্থী শিবিরগুলো। তবে মুক্তিযুদ্ধা এবং শরণার্থীদের নামে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ভারতের বিভিন্ন সম্পদশালী ব্যক্তি, গোষ্ঠ এবং সংস্থাসমূহ থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থসম্পদ মালামাল সংগ্রহ করেছেন একথা সকলেরই জানা। কিন্তু সংগ্রহকৃত সাহায্যের যৎকিঞ্চিত ব্যতীত আর কিছুই পৌঁছেনি মুক্তিযুদ্ধা মুক্তিযুদ্ধা কিম্বা শরনার্থী শিবিরে। সে সংগ্রহীত অর্থে ভারতের বিভিন্ন ব্যাংকে আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে বেনামে মোটা অংক যে জমা হয়েছিল তার ইতহাস ভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের মোটও অজানা নয়। যুদ্ধরত অবস্থায় দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের মুখোমুখি হতে দেখেও যারা ভাররে মাটিতে ভাগ্য উন্নয়নে মত্ত ছিলেন, তারাই যখন আবার মু্ক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দাবী করেন, তখন ইতিহাস হয়ত বা মুচকি হেসে প্রচন্ড কৌতুক বোধ করে বলে আমার বিশ্বাস। শরণার্থী শিবির থেকে অসহায় যুবতী হিন্দু মেয়েদের কোলকতা শহরে চাকরী দেয়ার নাম করে সেই সকল আশ্রয়হীন যুবতীকে যারা কোলকতার বিভিন্ন হোটেলে এনে যৌন তৃষ্ণা মিটাতে বিবেক-দংশনবোধ করেনি তারা বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধের নেতা হবেন না তো হবে আর কে বা কারা! হানাদার পাক বাহিনীর সুযোগ্য উত্তরসূরী তো একমাত্র তারাই আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ!
ভারত সত্যি সত্যিই বিশ্বস্ত বন্ধু! তা না হলে আওয়ামী লীগ নেতাদের এত কুকর্মের খতিয়ান, দোষ-ত্রুটি, আয়েবের খবর জেনেও আজ পর্যন্ত সামান্যতম প্রকাশ করেনি বরং সাধ্যমত গোপন রেখেই যাচ্ছে-এটা একেবারে কম কথা নয়! হাদীস মতে, অপরের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ্যে নাকি বলতেও নেই, বন্ধু ভারত হাদীসটি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলছে দেখা যায়।
ভারতে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং শিবির চলাকালীন অবস্থায় এ ধরনের আরো বহুত হাদীস ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত আনুগত্যের সাঙ্গেই মেনে চলেছে বলেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের এতো সব পাপের বোঝা মাথায় নিয়েও মু্ক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দাবী করতে মোটেও লজ্জাবোধ করছেনা। লজ্জার বালাই তাদের নেই, তাদের বুকভরা রয়েছে ঈর্ষা।
ভারতের মাটিতে অবস্থিত ট্রেনিং শিবিরগুলোর কতৃত্ব সেক্টর কমান্ডারদের হস্তেই ন্যস্ত ছিল বলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মধ্যে বিরাজ করছে প্রচন্ড জ্বালা এবং ঈর্ষা। অবশ্য কিছু কিছু এম,পি এবং এম, এন. এ দেরকে মুক্তিযুদ্ধা ট্রেনিং শিবিরে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের দায়িত্ব পালনে অনেকেই উৎসাহ প্রদর্শন করেননি। আমার নবম সেক্টরে বাগেরহাটের এম.এন.এ জনাব শেখ আজিজকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হলেও তিনি কলকাতার আরম-আয়েশ পরিত্যাগ করে বর্ডার এলাকায় কখনো পদধুলি দেয়ার প্রয়োজনও মনে করেননি। ঠাঁট-বাঁটের পুরুষ শেখ আজিজ সাহেব মনেপ্রাণে হয়ত মন্ত্রীত্বই কামনা করেছিলেন, সেক্ষেত্রে বিনে পয়সায় উপদেষ্টাগিরি তার মর্জি মাফিক হয়নি। পরবর্তীতে খুলনার জনবা সালাউদ্দিন ইউসুফকে ঐ একই পদে নিয়োগ করা হলে তিনি অবশ্য সীমান্ত এলাকায় এসে সপরিবারে বসবাস করেন এবং সাধ্যমত অবদান রাখারও চেষ্টা করেছেন। সাতক্ষীরার এম,এন,এ, আবদুল গফুর সাহেব যথেষ্ট শ্রম দিয়েশেন এবং নিবেদিতচিত্তে মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য কামনা করেছেন। সাতক্ষীরার তরুণ এম,পি, এ, স, ম, আলাউদ্দিন বেশ তৎপর ছিলেন। সর্বাধিক যারা অবদান তিনি ছিলেন বরিশালের জনব নুরুল ইসলাম মনজু, মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং শিবিরগুলো গড়ে তুলতে তিনি দিনরাত সক্রিয়ভাবে খেটেছেন আমার সাথে। সাতক্ষীরার সীমান্তঞ্চল দেবহাটার জনাব শাহজাহান মাস্টার এবং জনব আতিয়ার রহমানের অবদানও বিশেষভাবেই উল্লেখযোগ্য।
সকলের সাহায্য সহযোগীতার মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠা ট্রেনিং শিবিরগুলোতে ট্রেনিং শেষেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গেরিলা ঘাঁটি গঠন করার জন্য ১০ জন থেকে ৩০ জনেরও দল পাঠিয়ে দেয়া হতো। প্রথমে জেলা, মহকুমা, থানা এবং পরে গ্রামে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল গেরিলা ঘাঁটি। জুলাই থেকে নবেম্বর প্রকৃতপক্ষে এই পাঁচ মাসের মধ্যেই আমার সেক্টর থেকে সর্বমোট ৩০ হাজার মুক্তিযুদ্ধা ট্রেনিং সহকারে দেশে সশস্ত্রভবে অনুপ্রবেশ করেছে এবং দেশের অভ্যন্তরে ট্রেনিং শিবির চালু করে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার মুক্তিযুদ্ধাকে ট্রেনিং দিয়েছে। মহিলা মুক্তিযুদ্ধাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম ছিল না। তাদেরকে বিশেষ দায়িত্বে অভ্যন্তের পাঠানো হতো। তথ্য সংগ্রহ করা ছাড়াও সরাসরি যুদ্ধেও তারা অংশগ্রহন করেছে। বাগরেহাটের এম.পি.এ. সাহেবের বোন ছাত্রনেত্রী সালেহা বেগম, বরিশালের জয়া, বিথী সহ অনেকেই উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
নবেম্বরে ভারতীয় সেনাবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং শিবিরগুলোর দায়িত্ব সরাসরি নিতে চেষ্টা করে। আমার সেক্টরে ততটা সুবিধে করতে না পারলেও কর্তৃপক্ষ ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার নিয়োগ করেছিল। ট্রেনিং শিবিরের অস্ত্রগুলোও প্রত্যাহার করে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করে। তখনই শুরু হয় বাকবিতান্ড এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটতে আরম্ভ করে। আমি ভরতীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করেই অধিকাংশ অস্ত্র বারুদ ক্যাপ্টেন জিয়াউদ্দিন নৌ-কমান্ডো নূর মোহাম্মদ বাবুল, ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর, নৌ কমান্ডার বেগের হাতে তুলে দেই এবং তাদেরকে ভরতীয় ষড়যন্ত্র সম্পর্কেও সজাগ করে দেই। ভারত মুক্তিযুদ্ধে সকল অস্ত্র দিয়েছে এ কথা সত্য নয়। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অর্থেও প্রচুর অস্ত্র ক্রয় করা হয়েছিল। সে অস্ত্র সম্পদ মুক্তিযুদ্ধেরই সম্পদ ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সম্পদ ভরতীয় সেনাবাহিনীর হস্তে সমর্পন করার কোনই যুক্তি ছিল না।
আসলে ভারত বাংলাদেশে অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহনের সাথে সাথেই মুক্তিযুদ্ধাদেরকে নিরস্ত্র করতে চেয়েছেল যাতে তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে আমরা সেন কোনরুপ সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম না হই। কিন্তু যুদ্ধ বিজয়ের চূড়ান্ত মুহুর্তে কোন যুদ্ধাই সহজে নিরস্ত্র হতে চায় না। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র তুলে দেব না এই বিদ্রোহের বানীই ছিল সেদিন আমার মুখে। ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়েই তা করেছিলাম। ভারতীয় কর্মকর্তাগণ আমার দুঃসাহসকে হয়ত মনেপ্রাণে সেদিন ঘৃণা করেছেন এবং আমাকে উচিত শিক্ষা দেয়ারও হয়ত পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন।
প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমদ এবং সর্বাধিনায়ক কর্নেল ওসমানী সাহেবও আমার সাহসের তারিফ না করে দুর্বল চিত্তে নসীহত করতে ছাড়েননি। কিন্তু দেশ-মাতৃকার মুক্তিযুদ্ধের লড়াকু হিসেবে আমি করো করুনায় ভর করে বেঁচে থাকার চেয়ে বীরের ন্যায় মৃত্যু বরণ করাকে শ্রেয় মনে করেছিলাম।
আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থেকে রাতারাতিই অধিকাংশ অস্ত্রগোলাবারুদ আমি মোটর লঞ্চ ভরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দিতে সমর্থ হই। সেদিন এই দেশপ্রেমজনক অপরাধের জন্য ভারতের মাটিতেই আমার মৃত্যু হতে পারত।
কিন্তু একজন ঈমানদার মুক্তিযুদ্ধার প্রাণ হরণ করার ক্ষমতা কোন জবরদখলকারীর নেই-আল্লাহই ঈমানদারের নিশ্চিত রক্ষক।


ডাউনলোড লিঙ্ক ►
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×