নির্মলেন্দু গুণ পরীর প্রিয় কবি।
রমনা পার্কের লেকে এই বিকেলবেলাতেও গোসল করছে কয়েকটি নারী-পুরুষ। পরী বসে আছে একটু দূরে। ইউনিভার্সিটিতে এখনো ক্লাশ শুরু হয়নি, কবে থেকে শুরু হবে তা দেখতে এসেছিলো। ভেবেছিলো, পাপনের সাথে দেখা করে বাসায় চলে যাবে। অফিসের কাজে আটকা পড়ে পাপন আসতে পারেনি। তবে ভালো একটি সাজেশন দিয়েছে- রমনা পার্কে চলে যাও। ভালো লাগবে। যে বেঞ্চের ওপর রোদ পড়বে, সেই বেঞ্চটিতে বসো। অন্যরকম লাগবে।
তাই হুট করে এখানে চলে আসা। পরী অবশ্য রোদপড়া বেঞ্চে বসেনি। ছায়াঢাকা বেঞ্চে বসে দেখার চেষ্টা করছে রোদপড়া বেঞ্চটিকে কেমন দেখায়। সরু একটা রোদ বেঞ্চে কোনাকুনিভাবে শুয়ে আছে। পরী চিন্তা করলো, ওখানে পা দুটো মেলে দিয়ে বসলে কেমন হয়! রোদটা তার কোলের ওপর দিয়ে যাবে, যেভাবে পাপন শুয়ে থাকে তার কোলে।
আগেই বলেছি, নির্মলেন্দু গুণ পরীর প্রিয় কবি। পরী যতোবার তাঁর অগ্নিসঙ্গম কবিতাটি পড়েছে, ততোবার শিহরিত হয়েছে। মনে মনে চেয়েছে, পাপন হোক অগ্নিসঙ্গমের সেই অবাধ্য পুরুষ, পরীর সাথে মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষিত অপরাধে যাকে পরী একটি আনন্দদায়ক শাস্তি দিবে। কিন্তু লজ্জ্বায় সে কিছু বলতে পারে না কখনো। একদিন পাপনকে কবিতাটি পড়তেও দিয়েছিলো। কিন্তু হাঁদারামটা কিছু বুঝতে পারেনি। পরীর লজ্জ্বা যে পাপনের আমন্ত্রণ- সেটা ও কবে বুঝবে!
নির্মলেন্দু গুণের কামের কবিতাগুলো পাপনও পছন্দ করে। কিন্তু তার চাইতে বেশি পছন্দ তার রাজনৈতিক কবিতাগুলো। দু’জন মিলে যখন কবিতা পড়ে, তখন কাম-রাজনীতি মিশে একাকার হয়ে যায়। পরী-পাপন ভার্চুয়াল কামে মত্ত থেকে রাজনীতি চালিয়ে যায় দুটি শরীরে- একবার উপরে তো পরেরবার নিচে, একবার ডানে তো পরেরবার বামে। রাজনীতি তো উপরে উঠার, নিচে নামার, ডানের আদর্শ, বামের আদর্শ ইত্যাদিরই তো ব্যাপার!
লজ্জ্বায় পরী এবারো রোদে পা মেলে বসতে পারলো না। কিন্তু পাপনরোদে পিঠ পেতে দিলো। যেন পিছন থেকে পাপন জড়িয়ে আছে তার পিঠজুড়ে। পরী চাইলেই এখন সারাজীবন নিশ্চিন্তে হেলান দিয়ে থাকতে পারবে। এই নির্ভরতা পরী পেয়েছে পাপনের চোখ দেখে, পাপনের আকুলতা দেখে। পরী শিহরিত হয়েছে অগ্নিসঙ্গমের মতোই। নিজের পুরো ভার পাপনের ওপর ছেড়ে দিয়েছে পরী, পাপন তাই তাকে নিচ থেকে ওপরে তুলে নেয় প্রায়ই। আবার এই ভারমুক্ত হওয়ার কারণেই অধিকাংশ সময় পরী পাপনকে ওপরেই রাখতে চায়। ভারমুক্ত হতে পারলেই অনেক ভার বহন করা সম্ভব।
পরীর জীবনের এই ছোট ছোট ক্ষণগুলো আসে প্রায়ই, প্রতিনিয়ত। একটা ছোট সুখক্ষণ সারাদিনের খাবার। পুরো জীবনটাই তাই পরীর কাছে রঙীন বিকেল। মাঝে মাঝে অবশ্য গোধূলির দেখা মিলে, তখন অবশ্য ভালো লাগে না। কিন্তু নাগরিক জীবনে গোধূলিই বা কতোক্ষণ থাকে! তাই জীবন নিয়ে পরী এখন অনেক নির্ভর- গোধূলির দেখা মিললেই পাপন যে রাতের অগ্নি জ্বালিয়ে নিয়ে আসবে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



