somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে কথা বলিনি কাউকে - ১০ (বন্ধু, পড়াশুনা ও অন্যান্য)

২৭ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল আমি ডাক্তার হব। এইচএসসি তে রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় ঐ স্বপ্ন আর দেখা হয়নি। এরপর কি করব ভেবে পাচ্ছি না। একবার মনে হল পলিটেকনিকে পড়াশুনা করি গিয়ে। কে যেন একজন বলল, আবার এইচএসসি লেভেলে পড়ে কি লাভ? প্রাইভেট ভার্সিটিতে অনার্সে গিয়ে ভর্তি হও। ভর্তি হলাম। মাঝারি সাইজের একটা বিল্ডিংয়ে একটা ইউনিভার্সিটি। মন টিকত না। ঢাকা ভার্সিটির বা বুয়েটের কোন বন্ধুর সাথে গিয়ে আড্ডা পেটাতাম। একবার স্কুলের এক বন্ধুর সাথে দেখা। এসএসসি তে থাকতেই আমরা একসাথে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন দেখতাম। ও ফিনেন্সে চান্স পেয়েছিল। আমি লজ্জায় আর বলিনি যে আমি প্রাইভেটে পড়ছি।

অনেকটা ছন্নছাড়ার মতো এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াই। কি করব বা কি করা উচিৎ আমার কিছু বুঝে পাইনা আমি। বন্ধুদের মেসে গিয়ে তাস পেটাই। সিগারেট ফুকি। ব্যাস দিন চলে যায়।

ক্লাশ যে করিনা তা না। কয়েকজন প্রফেসরের ক্লাশ খুব এনজয় করি। প্রফেসররা ১৫ মিনিট পড়ান আর বাকি ৩০ মিনিট মজার মজার গল্প বলেন। আর সদ্য পাশ করা লেকচারেরা পড়িয়ে কুলকিনারা পাননা। প্রফেসররা কেন গল্প করেন তা নিয়ে ক্লাশের কয়েকজন গিয়ে ভিসি কে নালিশ জানিয়ে ছিল। আমি খুব অবাক হয়েছিলাম যে প্রফেসরটিকে বাদও দেয়া হয়েছিল। আসলে কয়েকটা টাকা আয়ের জন্য আমি কতটা নিচে নামতে পারি তাও আমাদের শিক্ষার একটা অংশ ছিল।

ভার্সিটিতে কত কিসিমের ছেলেপেলে যে পড়তে আসে, স্কুল কলেজে মনে হয় আমরা ছেলেপেলেদের অতটা খেয়াল করিনা। আমার ক্লাসেই পলিটিক্যাল শেল্টার পাওয়া খুনের আসামি থেকে শুরু করে নিজের বাসা থেকে ভার্সিটি পর্যন্ত আসার রাস্তা ছাড়া আর কোন রাস্তা চেনে না - এরকম ছেলেও দেখেছি। একবার কোন এক মেসে মাগী লাগানোর টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ঝামেলা ক্লাশ পর্যন্ত চলে এল। বিশেষ এক কারনে দলের হোতার নাম দিয়ে দিলাম চো*ন মামুন।

ভালো কিছু বন্ধু যেমন জুটিয়েছি তেমনি নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কিছু বোঝে না এমন বন্ধুও জুটেছে কপালে। অবশ্য নিয়তিটা বুঝি আমার নিজেরই লিখা উচিৎ ছিল। সাপ সুযোগ পেলেই তার লালনপালন কারীকেও ছোবল দেয়। এটা কার মুর্খামি? সাপের না লালনকারীর? তাই স্বার্থান্বেষী বন্ধুর চাইতে একেবারে একা জীবনেও অভ্যস্ত হওয়া ভাল। এখন অবশ্য এসব কথা কেন বলছি আমি নিজেও জানি না।




যে কথা বলিনি কাউকে - সিরিজ লিন্ক।



সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০১৩ বিকাল ৩:০০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩১)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:২৮



সূরাঃ ৩১ লোকমান, ১২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২। আমরা লোকমানকে হিকমাত দান করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তো তা’ করে নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ বাল্যবন্ধু

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



আজকাল অফিস শেষে বাসায় ফিরে মুভি দেখা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে তৌহিদের।গতমাসে ক্লাবের নিয়মিত আড্ডায় একটা অযাচিত ঝামেলার পর থেকে তৌহিদ অফিস থেকে সোজা বাসায় ফিরে আসে।যদিও ছবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য তরঙ্গের জাল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতকে যা দিয়েছি, তা সারাজীবন মনে রাখবে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০৯


১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছিল অনস্বীকার্য। এটা এমন এক ঐতিহাসিক সত্য যাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ আওয়ামী লীগকে বিপুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমান্ত নিরাপত্তায় জনসম্পৃক্ততাঃ একটি প্রশিক্ষিত সীমান্ত রিজার্ভ বাহিনী....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

সীমান্ত নিরাপত্তায় জনসম্পৃক্ততাঃ সময়ের দাবি- একটি প্রশিক্ষিত সীমান্ত রিজার্ভ বাহিনী....

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষ অতীতেও এবং বর্তমানেও দেশের সীমান্তরক্ষীদের নীরব সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। চোরাচালান প্রতিরোধ, অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×