দুই শাসনামলের প্রথম দু’বছর
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি’র দৈনন্দিন বাজার দরের তালিকা অনুযায়ী গত শুক্রবার ঢাকার বাজারে সবচেয়ে মোটা চালের কেজি ছিল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। অথচ ২০০১ সালে খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় তখন মোট চালের কেজি ছিল মাত্র ১১ টাকা। ২০০২ ও ২০০৩ সালে ১৩ থেকে সর্বোচ্চ ১৬ টাকার মধ্যে ছিল মোটা চাল। ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ সালে আটার কেজি ১২ টাকা ছিল। সেই আটার কেজি তিনগুণ বেড়ে এখন ৩৬ টাকা। তেল, চিনি, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজারের তুলনামূলক চিত্র প্রায় একই। অথচ দ্রব্যমূল্যই ছিল নির্বাচনের আগে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যর্থতার আওয়ামী লীগের একনম্বর অভিযোগ। সঙ্গে ছিল বাজার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে স্বয়ং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চিনি, তেল ও চালের বাজারে সিন্ডিকেটের কথা বলে বেড়াচ্ছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীও বলছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না।
খালেদা জিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বড় আরেকটি অভিযোগ ছিল দুর্নীতির। যদিও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার শেষ বছরে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতেই ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) বাংলাদেশকে বিশ্বের একনম্বর দুর্নীতিবাজ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে রিপোর্ট দিয়েছিল। পরে দু’বছরে বিএনপি বাংলাদেশের অবস্থানকে তিননম্বরে নামিয়ে এনেছিল। পর্যায়ক্রমে অবস্থান নেমে এসেছিল ১৩ নম্বরে। সর্বশেষ টিআই’র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আওয়ামী লীগ শাসনামলের দ্বিতীয় বছরেই এবার আবার বাংলাদেশ এক ধাপ বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পিছিয়েছে।
২০০২ বা ২০০৩ সালে ক্রসফায়ারের সঙ্গে এদেশের মানুষের কোনো পরিচিতি ছিল না। ২০০৫ সালের দিকে মানুষ প্রথম ক্রসফায়ারের সঙ্গে পরিচিত হয়। র্যাবের ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে তখন সবচেয়ে সোচ্চার ছিল আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় গেলে মানবাধিকারবিরোধী ক্রসফায়ারসহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের অঙ্গীকার ছিল নির্বাচনী ইশতেহারের শীর্ষে। কিন্তু গত দুই বছরে প্রতি মাসে ক্রসফায়ারে নতুন করে রেকর্ড হচ্ছে। গুম হয়ে যাচ্ছে বহু মানুষ। যার কোনো জবাব সরকারের কাছে মিলছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে দেশবাসী শংকিত। সরকারি হিসেবেই ২০০২, ২০০৩ সালে যেখানে গড়ে খুন হতো ৭ থেকে ৮টি; এখন খুনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ১১টি।
ক্রসফায়ার না থাকলেও বিএনপির সময় সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিনহার্টে ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছিল বিনা বিচারে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী গত দু’বছরে ক্রসফায়ারসহ বিনা বিচারে হত্যার শিকার হয়েছে ২৮১ জন।
গত দু’বছরে বিরোধী মতকে দমন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হামলা হয়রানির রেকর্ড গড়েছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের খবর ছাপার দায়ে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এম আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দেশের ২৬ জেলায় হয়রানিমূলক মানহানি মামলা দেয়া হয়। এরই জের ধরে একপর্যায়ে পত্রিকা বন্ধ করে দেয় সরকার। আমার দেশ সম্পাদককে জেলে পুরে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয় তার বিরুদ্ধে। মিডিয়া দলনে রেকর্ড করে চ্যানেল ওয়ান-এর মতো জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলও বন্ধ করে দেয় সরকার। যমুনা টিভিকে সম্প্রচারের আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়। দেশব্যাপী সাংবাদিকদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন ও নিপীড়ন।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার দু’বছর পার করেছে। এ দু’বছরে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এ আলোচনায় চলে আসছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলের কথা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সরকারের দু’বছর পূর্তির দিনে ৬ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তার সরকারের নানা সাফল্য তুলে ধরে খালেদা জিয়ার শেষ শাসনামলের প্রথম দু’বছরের তুলনা করে দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে মূল্যস্ফীতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত দু’বছরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৮ শতাংশে। বিএনপির প্রথম দু’বছরে এটা ছিল ৩.৪ শতাংশ। বিএনপির প্রথম দু’বছরে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.১ শতাংশ। শেষ পর্যায়ে এটি সাড়ে ৬ ভাগেরও ওপরে উঠেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ শাসনামলে এটা নিচে নেমে গত দু’বছরে গড়ে ৫.৬ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০০১-২০০২ অর্থবছরে দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪.৮ শতাংশ। পরের অর্থবছরে ছিল ৫.৩ শতাংশ। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫.৬ এবং ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে ৫.৭ শতাংশ। অন্যদিকে ২০০১-২০০২ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩.৭১ শতাংশ। ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে ৩.১০ শতাংশ। অন্যদিকে ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৮.৯০ শতাংশ এবং ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে ৮.৭০ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ২৪ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠানে মূল্যস্ফীতিকে দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ বলে উল্লেখ করেছেন।
বর্তমান সরকারের সময় বিদেশে শ্রমিক প্রেরণও অনেক হ্রাস পেয়েছে। রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অবশ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। শেয়ারবাজারে ধস নামার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ’৯৬ সালে শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের শাসনামলে শেয়ারবাজারে যে ধস নেমেছিল বর্তমান সময়ে সেটাও ছাড়িয়ে গেছে।
বিএনপির প্রথম দু’বছরে আওয়ামী লীগ ২২টি হরতাল দিয়েছিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রথম দু’বছরে বিএনপি মাত্র ৩টি হরতাল দিয়েছে। বিএনপি প্রথম দিন থেকেই সংসদে যোগদান করে পরে বর্জন করে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়ার শেষ শাসনামলে ৯০ কার্যদিবসে সদস্যপদ শূন্য হওয়ার শেষ মুহূর্তে যোগদান করে সংসদে। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতনে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নিপীড়নের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
আওয়ামী লীগ অঙ্গীকার করেছিল প্রথম দু’বছরেই তারা শিক্ষার হার শতভাগ করবে। কিন্তু এই অঙ্গীকার তারা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
আওয়ামী লীগের প্রথম দু’বছরের শাসনামলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বিডিআর ও সেনাবাহিনী দুর্বল হয়েছে। ৫৭ জন সেনা অফিসারের করুণ মৃত্যু এবং এরই জের ধরে বিডিআর ধ্বংসের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিচার বিভাগে খুনের মামলার আসামি ও সুপ্রিমকোর্টে ভাংচুরকারী ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে বিতর্কিত করা হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণীপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ দিয়ে পুরো বিচার বিভাগের মর্যাদার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। দুজন সিনিয়র বিচারপতিকে ডিঙিয়ে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার সমালোচনায় পড়েছে সরকার। প্রশাসনে ব্যাপক দলীয়করণ অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে পদোন্নতি ও পদায়নের মাপকাঠি ধরা হয়েছে। বিএনপি শাসনামলের তুলনায় দলীয়করণের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি পেলেও গত এক বছরে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আমদানি করতে হয়েছে। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থতার নজির হয়ে আছে খাদ্য আমদানির এ ঘটনা।
বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ ও বিশিষ্টজনের মতামতে সুশাসন কিংবা মানবাধিকার, অর্থনীতি কিংবা রাজনীতি কোথাও দিনবদলের কোনো আলামত দেখা যায়নি গত দু’বছরে। সরকারের সাফল্যের মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের ফাঁসির রশিতে ঝুলানো ও সর্বশেষ যুদ্ধারাধীদের বিচারের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রহসনমূলক বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো। প্রতিবেশী ভারতের সব দাবি পূরণ করতে ট্রানজিট, বন্দর, নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তাদের হাতে তুলে দেয়াসহ ভারতের বাজার ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টিতে সরকারকে শুরু থেকেই তত্পর দেখা গেলেও ভারতের কাছ থেকে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা কিংবা পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বিতর্কিত নিরাপত্তা চুক্তি ও ৫০ দফা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ট্রানজিট ও বন্দর সুবিধা দিয়ে এলেও বাংলাদেশের দাবিগুলো ছিল উপেক্ষিত।
খালেদা জিয়ার শাসনামলে চীনসহ পূর্বদিকের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নেয়া ‘লুক ইস্ট’ নীতি পরিবর্তন করে বর্তমান সরকার ‘লুক ইন্ডিয়া’ ও ‘লুক ওয়েস্ট’ নীতি গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এখনও আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
দেশের রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, সুশাসন, মানবাধিকার, বৈদেশিক সম্পর্কসহ নানা দিক থেকে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দুটি সরকারের প্রথম দু’বছরের শাসনকাল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিরোধী মত দমনে বর্তমান সরকার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। শাসনব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতি প্রকট হয়ে উঠছে। গত দু’বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কোনো প্রতিফলন নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান দিয়ে দিনবদলের যে স্বপ্ন দেশের মানুষকে আওয়ামী লীগ দেখিয়েছিল তার বিন্দুমাত্রও তাদের কাজে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের সংস্কৃতি আরও এক ধাপ এগিয়ে এখন ভিন্নমত দমন চরম আকার ধারণ করেছে। এ থেকে সম্পাদকসহ পেশাজীবীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দলের নেতাদের ৮ সহস্রাধিক মামলায় লক্ষাধিক নেতা-কর্মীকে সরকারি উদ্যোগে মুক্ত করা হলেও বিরোধীদলীয় নেতাসহ তার পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নামে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মামলা দিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি ভয়াবহরূপে আবির্ভূত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠান থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলে দিয়ে এবং সর্বশেষ আইনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে তার ৩৮ বছরের পুরনো বাড়ি থেকে অশোভনভাবে লাঞ্ছিত করে বের করে দেয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার আরও একটি খারাপ নজির স্থাপন করেছে।
ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ সরকারি দলের টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, দেশ বাজিকরদের হাতে চলে গেছে। এদের হাত থেকে এদেশকে রক্ষা করতে হবে।
দ্রব্যমূল্যের তুলনামূলক চিত্র : বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই শাসনামলের তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির হিসাব মতে বিএনপির প্রথম দু’বছর ২০০৩ ও ২০০৪ সালে মোটা চালের দাম সর্বনিম্ন ১৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৬ টাকা পর্যন্ত ছিল। অন্যদিকে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোটা চাল ২০ টাকা থেকে ৩৬ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় টিসিবির হিসাবে মোটা চালের কেজি ছিল ২৭ টাকা। বাজারে ২৪ টাকা কেজিও মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছিল। সে চালের দাম অল্প কিছুদিন কমে ২০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কিন্তু ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই সব ধরনের চালের দাম বাড়তে থাকে। এটা এখনও অব্যাহত আছে। টিসিবির হিসাবে এখন সর্বনিম্ন ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজির নিচে কোনো ধরনের চালই বাজারে মিলছে না। বাস্তবে ৩৮ টাকার নিচে খাওয়ার উপযোগী কোনো মোটা চাল বাজারে মিলছে না। সরকারি হিসাবে ২০০২ ও ২০০৩ সালে আটার কেজি ছিল ১২ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা। সে আটা বর্তমান সরকারের শাসনামলের প্রথম কিছুদিন ১৮ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন সর্বনিম্ন ৩৩ থেকে সর্বোচ্চ ৩৬ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। বিএনপির প্রথম দু’বছরে খোলা সয়াবিন তেল ছিল সর্বনিম্ন ৩৪ টাকা। একপর্যায়ে বেড়ে ৪২ টাকা দরেও খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে। সে সয়াবিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সর্বনিম্ন ৭০ টাকায় কিছুদিন বিক্রি হয়েছে। এরপর বাড়তে বাড়তে এখন ৯৬ টাকায় পৌঁছেছে। খালেদা জিয়ার শাসনামলের প্রথম দু’বছরে চিনির কেজি ২৮ থেকে ২৯ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। শেখ হাসিনার শাসনামলে চিনির কেজি সর্বনিম্ন ৪৪ টাকায় বিক্রি হলেও বেশিরভাগ সময়ই ৫০ টাকার ওপরে ছিল। বর্তমানে ৬০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। টিসিবির গতকালের হিসাবেও চিনির কেজি ৫৭ টাকা। মসুর ডালের কেজি বিএনপির শাসনামলের শেষ দু’বছরে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকার মধ্যে থাকলেও আওয়ামী লীগ শাসনামলে নেপালি মসুর ডাল সর্বনিম্ন ৯৮ থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজের দাম সিজনভেদে বাড়ে-কমে। বিএনপির প্রথম দু’বছরে পেঁয়াজের কেজি ৮ টাকা থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। বর্তমান আমলে ১৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। টিসিবির হিসেবে গতকালও পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫০ টাকা। এক মাস আগের হিসাবে ছিল ৫৫ টাকা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি : বিএনপির শাসনামলের সরকারি হিসাবে দিনে গড়ে ৭-৮টি খুন হচ্ছিল। বর্তমানে এটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০-১১টি। বিএনপির প্রথম দু’বছরে ক্রসফায়ার চালু হয়নি। তবে অপারেশন ক্লিনহার্টে সেনাবাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল ৩৯ জন। বিএনপি শাসনামলের শেষদিকে র্যাব প্রতিষ্ঠার পর ক্রসফায়ার শুরু হয়। আওয়ামী লীগ মানবাধিকারবিরোধী ক্রসফায়ার বন্ধ করার কথা বলে ক্ষমতায় এলেও অধিকারের রিপোর্ট অনুযায়ী গত দু’বছরে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে ২৮১ জন। বিএনপির সময় সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছে ১৪৮ জন। আর গত দু’বছরে নিহত হয়েছে ১৭০ জন; যদিও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বর্তমান সরকার তাদের (ভারতের) সব দাবি একে একে পূরণ করে চলেছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে গত আওয়ামী শাসনকালে দেশব্যাপী সৃষ্ট দলীয় গডফাদার ও তাদের সন্ত্রাসের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করেছিল। অনেককে গ্রেফতার করলেও বহু গডফাদার তখন পালিয়ে গিয়েছিল। ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করে তাদের আটকের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গডফাদার কালচার থেকে দেশ মুক্ত থাকলেও ছাত্রলীগ-যুবলীগের টেন্ডার সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিদ্যুত্ : বিএনপির শাসনামলে ২০০২ সালের ২৬ নভেম্বর মেঘনা ঘাট বিদ্যুেকন্দ্র চালুর মাধ্যমে গ্রিডে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ নতুন যুক্ত হয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রথম দু’বছরে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট নতুন করে যুক্ত হয়। তবে নতুন চালু কেন্দ্র দুটি বন্ধ হয়ে আছে। লোডশেডিং কয়েকগুণ বেড়েছে। গতবছর সরকারি নির্দেশেই ঢাকা শহরে দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে। ৮/১০ ঘণ্টা লোডশেডিং নিত্যদিনের ঘটনা ছিল বহুদিন। ঢাকা শহরের পানি সঙ্কটকে ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রকট বলে খোদ সরকারি দলের এমপিরা গত বছর প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। গ্যাস সঙ্কটও বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিএনপির প্রথম দু’বছরে পরিবেশের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছিল। যানজট অনেক কমেছিল। বর্তমানে ঢাকার যানজট অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিএনপি আমলে নতুন টিভি, রেডিওর অনুমতি পেলেও বর্তমান সরকারের সময়ে আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, যমুনা টিভি বন্ধ করে দেয়া হয়।
কথা রাখেনি আওয়ামী লীগ : নির্বাচনের আগে মহাজোট ১০ টাকা কেজির চাল, দ্রব্যমূল্য সহনশীল রাখা, সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার, কৃষকদের বিনামূল্যে সার, প্রতি পরিবারে একজনের চাকরি, সবার জন্য বাসস্থানসহ নানা স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা ও লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নয়ন, সুশাসনসহ দিনবদলের স্লোগান দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলেও দু’বছরের মাথায় মানুষ আশাহত হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের কথা বলে ও দলের পুরনো নেতাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ অপরিচিতদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে চমক দেখিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বাস্তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চরম ব্যর্থতা, অসহনীয় লোডশেডিং, লাগামহীন দলীয়করণ, সুশাসনের অভাব, দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তারে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার পালনে সরকারের ব্যর্থতা চরমভাবে ফুটে উঠেছে। ভারতের সঙ্গে বিতর্কিত চুক্তি, বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ভারতে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে পরোক্ষ সমর্থন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে রক্তপাত, ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ সরকারদলীয় ক্যাডারদের চাঁদাবাজি ও টেন্ডার সন্ত্রাস, সরকারি কর্মকর্তাদের গায়ে শাসকদলীয় দুর্বৃত্তদের হাত দেয়ার ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। গার্মেন্টসহ শিল্পাঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ছিল দু’বছরজুড়ে আলোচিত। রাজধানীতে দুর্বিষহ যানজটসহ জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী নানা পদক্ষেপ সরকারের ব্যর্থতার পাল্লাকে প্রকট করে তুলেছে গত দু’বছরে। মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব দেয়ার প্রতিশ্রুতি গত দুই বছরেও বাস্তবায়ন করেনি মহাজোট সরকার। এরই মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সর্বশেষ বিচার বিভাগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে তার ৩৮ বছরের পুরনো বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার নাম বিমানবন্দর থেকে মুছে ফেলা কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের রিমান্ডে নির্যাতনে যত তত্পর ছিল জনস্বার্থ বিষয়ে সরকারের সেরকম তত্পরতা চোখে পড়েনি।
বিরোধী দলের নেতাদের রিমান্ডে নির্যাতন, গণমাধ্যমের ওপর আঘাত ও আমার দেশ পত্রিকা, চ্যানেল ওয়ান বন্ধসহ মিডিয়া দলন, সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড, ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকারের লঙ্ঘন, হত্যা-গুম, সীমান্তে প্রতিনিয়ত বিএসএফের হাতে বাংলাদেশীদের হত্যা ঠেকাতে ব্যর্থতা, ইভটিজিং বৃদ্ধি, দু’বছরে মাত্র তিন হরতালের মুখোমুখি হয়েও হরতাল কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারীদের রাজপথে শ্লীলতাহানির ঘটনা মানুষকে হতাশ করেছে। গত দু’বছরে সরকার পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হলেও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। শ্রমবাজারেও এর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিরোধী দলবিহীন জাতীয় সংসদ এরই মধ্যে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসিতে ঝোলানো ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুকে সরকার নিজেদের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। গত দু’বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। শেয়ারবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বগতি দীর্ঘদিন থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের রাস্তায় বসিয়েছে। হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্টের রায় নিয়ে সংসদকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন করে ফেলাকেও সরকার তাদের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। শিক্ষা ও কৃষি ছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের পারফরমেন্স নিয়ে খোদ সরকারের ভেতরেই প্রশ্ন রয়েছে। এরই মধ্যে মহাজোট সরকার বিচার বিভাগে বিতর্কিত পছন্দসই লোকদের নিয়োগ ও সুপারসিডের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনে নিরঙ্কুশ দলীয়করণের মাধ্যমে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার। দুর্নীতি রোধের স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতাকেই খর্ব করেছে বর্তমান সরকার। প্রথম বছরের তুলনায় দ্বিতীয় বছরে বিরুদ্ধ মতের প্রতি সরকারের অসহিষ্ণু মনোভাব প্রকট হয়েছে। একদলীয় বাকশালের আদর্শ আওয়ামী লীগ পুরোপুরি ত্যাগ করেনি—এ কথা দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ হানিফ প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের কথা বলে ক্ষমতায় এলেও সরকারের কাজে কিংবা শাসক দলের নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে এর কোনো প্রতিফলন নেই। অশালীন কথাবার্তা ও মিথ্যাচার ভর করেছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকের ওপর।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান : ইউএনডিপির হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (মানব উন্নয়ন সূচক) ২০১০-এ বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের ১৬৯টি দেশের মধ্যে ১২৯তম, যা নিম্ন মানবউন্নয়ন শ্রেণীতে পড়ে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের ২০০৯-এর সূচকে অবকাঠামোগত দিক থেকে বাংলাদেশ ১৩৩টি দেশের মধ্যে ১২৫ নম্বরে।
বিশ্বব্যাংকের ইকোনোমিক আপডেট নভেম্বর ২০১০-এ খাদ্য মূল্যস্ফীতি গ্রামে ১০.৪%, আর শহরে ছিল ১২%। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা শহরে মোটা চালের যে দাম ছিল, ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে এর দাম শতকরা ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পায়।
অর্থবছর ২০০৯-এ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৬.৭, যা বেড়ে অর্থবছর ২০১০-এ হয়েছে শতকরা ৭.৩। এটা ২০১০-এ শতকরা ৮.৭-এ উঠেছিল।
ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটির মতে, স্বৈরাচার ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মিশেলে বাংলাদেশ সংকর জাতীয় শাসন ব্যবস্থা। এদিক থেকে এদেশের অবস্থান ৮৩তম।
আমেরিকার হেইডেড ফাউন্ডেশনের মতে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক স্বাধীনতার দিক থেকে ১৩৬তম অবস্থানে।
২০০৯-১০ নিয়ে প্রকাশিত গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৮তম (সূত্র : গার্টনার)। ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটির সূচকে ৮১তম। গণমাধ্যম সংক্রান্ত স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্সের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিচে নেমে ১২৬-এ দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাথাপিছু হার ২০০৯-এ ছিল ১৬০০ ডলার, তাতে ২২৯টি দেশের মধ্যে এদেশের স্থান হয় ১৯৭তম নম্বরে।
সহজে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ-সুবিধা আছে কিনা এ প্রশ্ন যাচাই করে বিশ্বব্যাংকের এক রিপোর্টে ১৫০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ১১৯ নম্বরে।
আমার দেশ থেকে
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার
বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?
কর্মসংস্থান? না।
বিনিয়োগ? না।
ডলার সংকট? না।
গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।
ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।