আমার প্রিয় পোস্ট

হয়তো আমি কোন কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত নই

নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ১

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৫০

শেয়ারঃ
0 0 0

একটি নব্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশকে প্রায় সব সময়েই শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। পূর্ববতী শাসক বা শাসনব্যবস্থা নতুন করে গড়ে ওঠা দেশটির জন্য ইতিবাচক কোনোকিছু ইচ্ছাকৃতভাবে রেখে যেতে চায় যায় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা ঘটেছে। বিদেশি শাসনের ধারাবাহিকতায় বৃটিশদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাকিস্তান আমলের বাংলাদেশ যা কিছু পেয়েছে, সার্বিক অর্থে তাকে কোনোভাবেই ইতিবাচক বলা যাবে না। পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়ার পর নতুন বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা চলে। কিন্তু একটি ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, পাকিস্তান আমলে যেমন বাংলাদেশকে পুরনো বৃটিশ শিক্ষাব্যবস্থাকে গ্রহণ করে নিতে হয়েছিলো, তেমনি স্বাধীন হওয়ার পর বর্তমানেও বাংলাদেশকে সেই পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই চলতে হচ্ছে।

বৃটিশদের তৈরি করা শিক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক না নেতিবাচক, সে বিষয়ে আলোচনা বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকখানিই নিরর্থক। কারণ বৃটিশরা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ওই শিক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশসহ তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশে চালু করেছিলো, তা ছিলো পুরোপুরি তাদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য। তাছাড়া সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক বলা গেলেও বর্তমান সময়ে তা কতোটা উপযোগী, সেটাও বিচার্য। ক্রমাগত পরিবর্তিত না হলে কোনো শিক্ষাব্যবস্থা একটি দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে না। কিন্তু কিছু অবকাঠামোগত ও কৌশলগত পরিবর্তন ছাড়া বাংলাদেশে এখনো বৃটিশ ধাঁচের সেই একই শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমান। সাম্প্রতিক সময়ে সেসিপ, প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পও আসলে বৃটিশ ধাঁচের মানসিকতার মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার নতুন নতুন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দিন দিন আমাদের শিক্ষানীতি বা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে যুক্ত হলেও কার্যত আড়াইশ বছরের পুরনো বৃটিশ মানসিকতায় গড়ে তুলছি নিজেদের।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নতুন করে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছিলো। সে জন্য প্রথমেই গঠিত হয়েছিলো একটি নতুন শিক্ষা কমিশন। ড. কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে সেই কমিশন তৎকালীন সময়োপযোগী একটি প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সেটি আলোর মুখ দেখেনি। এরপর প্রায় প্রতিটি সরকারই তাদের মতো করে এবং তাদের পছন্দসই ব্যক্তিদের নিয়ে শিক্ষা কমিশন গঠন করেছে এবং সেখানে তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রতিফলিত করার চেষ্টা চালিয়েছে। যদিও পরের প্রতিটি শিক্ষা কমিশনই ভূমিকা ও প্রারম্ভিক আলোচনায় কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের আলোকে তাদের রিপোর্ট প্রণয়নের কথা উল্লেখ করেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের চেতনা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেছে। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্রমাগত স্থিতিহীনতা ও অস্থিতিশীলতার কারণে কোনো সরকারই তাদের শিক্ষানীতি চূড়ান্তরূপে বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

একটি সর্বজনীন শিক্ষানীতি না থাকার কারণে স্বাধীনতার কয়েক দশক পরও স্থিতিশীল কোনো শিক্ষাব্যবস্থা আমরা পাইনি। ফলে শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, সময়োপযোগী ও মানসম্পন্ন করার নামে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে প্রায় সবসময়ই। উন্নত দেশগুলোর আলোকেও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত করার প্রয়াসও বিভিন্ন সময়ে লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ ওইসব দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন পদ্ধতি আমাদের দেশের অর্থনীতি-সমাজ বাস্তবতার নিরিখে কতোটুকু উপযোগী হবে, তা বিবেচনা না করেই খেয়ালখুশিমতো পদ্ধতি চালু করার রেওয়াজও স¤প্রতি শুরু হয়েছে।

ফলে স¤প্রতি সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে জোরেসোরে। শিক্ষার প্রাথমিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্ঞান অর্জন ও জীবিকা অর্জন। এই দুটি পরিপূরক বিষয়ের মধ্যে একদিকে বাদ দিলে বর্তমান বাস্তবতায় অন্যটি মূল্যহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পর্যালোচনা করে দেখলে দেখা যাবে, দুটোর কোনোটিই এখানে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। জ্ঞান অর্জন শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য থাকলেও শিক্ষার্থীরা কতোটুকু জ্ঞান অর্জন করতে পারছে, তা যেমন প্রশ্নসাপেক্ষ; তেমনি প্রশ্নসাপেক্ষ জীবিকা অর্জনের জন্য শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োগকৃত কৌশল।

(একটি অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে এই লেখাটি তৈরি করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে তার কিছু অংশ ছাপা হয়েছিলো পাঞ্জেরী শিক্ষা সংবাদ-এ, আমার আসল নামে। তবে বর্তমান লেখাটি অনেকটাই সম্পাদিত। আগে প্রকাশিত লেখার সাথে কোথাও কোথাও দ্বিমতও থাকতে পারে।)

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): শিক্ষাব্যবস্থামানসিকতাশিক্ষা কমিশন রিপোর্টশিক্ষা সংস্কার ;
প্রকাশ করা হয়েছে: শিক্ষা  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০১
স্বাপ্নিক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ এই বিষয়ে লেখার জন্য। আমি নিজেও এটি নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হয়ে ওঠেনি। পরবর্তী পর্বগুলোর অপেক্ষায় রইলাম।
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৯

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ। চেষ্টা থাকবে আগামী পর্বগুলো তাড়াতাড়ি দেওয়ার।

২. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৩
আরিফুর রহমান বলেছেন: তো কি ধরনের শিক্ষা ব্যাবস্থা চালু করা উচিত?
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:০৪

লেখক বলেছেন: আপনার প্রশ্নের উত্তর হয়তো পাওয়া যাবে আগামী পর্বগুলোতে। না পাওয়া গেলে উত্তর বের করার দায়িত্ব আপনার। মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

৩. ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:০৩
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
টায়ার্ড আছি । একটু ঘুমোব । পরে এসে পড়ব । কমেন্ট করলাম লিঙ্ক টি ধরে রাখার জন্য । :)
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১৪

লেখক বলেছেন: তবে এ ব্যাপারে আপনার মতামতও জানতে চাচ্ছি। এছাড়া বিশেষ কোনো পরামর্শ থাকলেও জানাবেন। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

৪. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:১০
দিনমজুর বলেছেন:
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ।
আরো, বিস্তারিত আলোচনা প্রত্যাশিত ও কাম্য।

তবে, কুদরাত ই খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টটি আপনার পড়া আছে? আমার কিন্তু মনে হয়েছে- যে লাউ সেই কদু।

আমরা ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন যে কারণে করেছি- সেই শরীফ কমিশন বা হামদুর রহমান কমিশন, সেই শিক্ষার আর্থিক দায়ভারের প্রশ্নে খুদা কমিশনের অবস্থান কিছিল? সার্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক একই ধারার শিক্ষাব্যবস্থা কি খুদা কমিশনে প্রস্তাবিত হয়েছিল???
যদিও সে সময়ে সিপিবি বা ছাত্র ইউনিয়ন ও কিছু বাম সংগঠন খুদা কমিশনকে সমর্থন জানিয়েছিল- এবং পরবর্তিতে এমন প্রচারণা চালানো হয়েছিল- এই খুদা কমিশন ই একমাত্র আমাদের সত্যিকারের জনমানুষকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো শিক্ষা কমিশন; তারপরেও আমার মনে হয়, এটিকে আরো ভালো করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

আমার মনে হয়, নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দশ দফা অনেক বেশি যৌক্তিক, গণমুখী এবং এই দশ দফাকে সামনে রেখেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।

যাহোক, আপনাকে আবারো ধন্যবাদ, এই বিষয়টিকে সামনে আনার জন্য।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৫৪

লেখক বলেছেন: বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা কমিশন রিপোর্টই পড়তে হয়েছে আমাকে, অনেকবার করে। ফলে প্রতিটি কমিশন রিপোর্ট সম্পর্কে তুলনামূলক একটি আইডিয়া জন্মেছে আমার। সেদিক দিয়ে বিচার করলে কুদরাত-এ-খুদা এখন পর্যন্ত সর্বোৎকৃষ্ট।

তবে অবশ্যই এই রিপোর্ট পূর্ণাঙ্গ নয়। এই রিপোর্টের অনেক কিছুই আছে যা আজকের দিনের বিচারে অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় এই রিপোর্ট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিলো। সঙ্গত কারণেই তখনকার সীমাবদ্ধতাগুলোকেও বিবেচনায় নিতে হয়েছিলো।

আর্থিক কিংবা সর্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাধারার প্রশ্নে আপনি হামুদুর রহমান বা শরীফ কমিশন রিপোর্টের সাথে কীভাবে মেলাচ্ছেন, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। কুদরাত-এ-খুদা কমিশন তো এদের কাছ থেকে যোজন যোজন দূরে!

প্রতিটি শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট প্রকাশের পরই ছাত্রসমাজ বিশেষ করে বাম ছাত্রসমাজ মৌলিক প্রশ্নগুলো নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়। তারই একটি অংশ দশদফা। সেখানেও কিছু বিষয়ে ভালো সাজেশন রয়েছে। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে, এই ছাত্রসমাজের একটি বিরাট অংশই কিন্তু শিক্ষাবিজ্ঞান সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন না। শিক্ষা এক জিনিস, শিক্ষা আন্দোলন এক জিনিস আর শিক্ষাবিজ্ঞান আরেক জিনিস। সবগুলোকে এক করে ফেললে সমস্যা। ফলে কিছু কিছু সুপারিশের তাৎপর্য ছাত্রসমাজের নেতৃবৃন্দ ধরতে পারেন না, যদিও তারা একটি সৎ এবং উন্নত চিন্তা থেকেই তাদের প্রতিক্রিয়া জানান।

আসলে এই মুহূর্তে উচিত, সকল কমিশন রিপোর্ট এবং সকল পরামর্শ ও প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে নতুন করে আরেকটি কমিশন রিপোর্ট প্রণয়ন। মুক্তবাজার অর্থনীতির সরাসরি প্রভাব অবশ্যই এই রিপোর্টে পড়বে, ফলে আর্থিক দায়ভারের প্রশ্নে একটা শংকা সবসময়ের মতো এখনো থেকেই যাচ্ছে।

আলোচনার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ আলোচনা করতে চায় না।

৫. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৪
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন: কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টটাকি অনলাইনে কোথাও পাওয়া যাবে? কেউ বলতে পারেন?
দিনমজুর ভাই, সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দশ দফাটাও যদি জানা যেত তাহলে ভাল হত। লেখক হয়তো সামনের কোন পর্বে এইগুলা নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে একটা পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যেত।
পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। সামনের পর্বগুলোর অপেক্ষায়।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:২৯

লেখক বলেছেন: কুদরাত-এ-খুদা কমিশন রিপোর্ট অনলাইনে পাওয়া যায় না। অন্তত আমি সার্চ দিয়ে পাইনি।

দশদফাটা মূলত লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য অ্যাপ্রোচের। কিন্তু একটি কমিশন রিপোর্টে কীভাবে সেগুলো বাস্তবায়িত হবে, সেগুলোও পরিষ্কার বলা থাকে। ফলে দশদফা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা কঠিন। সেখানে তার্কিক আলোচনা হতে পারে, তবে প্রায়োগিক দিক নিয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের মধ্যেই ভিন্নতা ছিলো। সেটা অবশ্য স্বাভাবিক।

পোস্ট পড়া এবং মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

৬. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৩০
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
কেরানি তৈরী করার যে শিক্ষা ব্যাবস্থা ব্রিটিশ রা রেখে গেছিল, তার আধুনিকীকরনের সকল পদক্ষেপের সম্মিলিত প্রভাবে আজ আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থায় একটি হযবরল অবস্থা তৈরী হয়েছে । তার প্রমাণ, আমাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নম্বর পদ্ধতির পরিবর্তন করে গ্রেডিং পদ্ধতির প্রবর্তনের মাধ্যমে আধুনীকি করনের অপচেষ্টা । নম্বর পদ্ধতিতে যে ধরনের গতবাধা পাঠ্যসূচি, পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রশ্নের ধরন ছিল, বর্তমানেও সেই একই ধারা লক্ষণীয় । সুতরাং লাভটা কি হল ? বরং ক্ষতিই হল ।

উদাহরন দিলে ভালো হবে মনে হচ্ছে । ধরুন, আগে একজন ভালো ছাত্রের লক্ষ্য থাকতো কি করে সর্বোচচ নম্বর তোলা যায় (৯৫-১০০/১০০) । কিন্তু বর্তমানে A+ হচ্ছে সর্বোচ্চ ফলাফলের সর্বোচ্চ দাগ এবং সেটা ৮০ পেলেই পাওয়া যায় । ফলে - আগে যে ধরনের ছাত্র/ছাত্রীরা ৯৫-১০০ পাওয়ার জন্য একটি বিষয় পড়তো, সেই একই বিষয় সেই একই ধরনের ছাত্র/ছাত্রীরা ৮০ নম্বর পাওয়ার জন্য পড়ে । অপ্রতুল জ্ঞান নিয়েও তারা সর্বোচ্চ গ্রেডটি পাচ্ছে ।

গ্রেডিং পদ্ধতিকে সাধুবাদ, তবে তার আগে প্রয়োজন , পাঠ্যসূচী, প্রশ্ন পত্রের ধরন ও পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন ।

এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ করে দেবার জন্য, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৫

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে প্রায় একমত। আমি গ্রেডিং পদ্ধতির পক্ষে কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে যে ধরনের গ্রেডিং পদ্ধতি চালু আছে, সেটির পক্ষে নই।

বর্তমানে আমাদের দেশে শুধু গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ বা জিপিএ চালু আছে, যার সাথে সত্যিকার অর্থে নম্বর সিস্টেমের কোনো পার্থক্য নেই। তবে কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ বা সিজিপিএ কিন্তু সত্যিকার অর্থেই গ্রেডিং সিস্টেম। এটি নম্বর পদ্ধতির চাইতে পুরোপুরি আলাদা। এটি যতোদিন পর্যন্ত না চালু হয়, ততোদিন এই জিপিএ আর স্টার মার্ক, লেটার মার্ক ইত্যাদির সাথে কোনো পার্থক্য থাকবে না।

পাঠ্যসূচি, প্রশ্নপত্রের ধরন, পরীক্ষা পদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ আছে।

আপনাকেও ধন্যবাদ পড়ে এতোবড় মন্তব্য করার জন্য।

৭. ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৩৬
ত্রিভুজ বলেছেন:


চমৎকার লেখা... পরের পর্বগুলো পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৮. ০২ রা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:০৭
দিনমজুর বলেছেন:
অনিশ্চিত,

আপনাকে আবারো ধন্যবাদ। আমি যে বিষয়টি আগের মন্তব্যে উল্লেখ করেছিলাম- সেটি সম্পর্কে আপনার প্রশ্নঃ
"আর্থিক কিংবা সর্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাধারার প্রশ্নে আপনি হামুদুর রহমান বা শরীফ কমিশন রিপোর্টের সাথে কীভাবে মেলাচ্ছেন, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। কুদরাত-এ-খুদা কমিশন তো এদের কাছ থেকে যোজন যোজন দূরে!"

বিষয়টি প্রথমে পরিষ্কার করি।

১৯৪৭ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করাচীতে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে 'পাকিস্তান শিক্ষা কনফারেন্স' অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫১ সালে আবার ২য় দফা শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৫২ সালে মৌলানা আকরাম খাঁর নেতৃত্বাধীন শিক্ষা পুনর্গঠন কমিটি, ১৯৫৯ সালের শরীফ কমিশন, ১৯৬৬ সালের হামদুর রহমান কমিশন, ১৯৬৯ সালের নূর খান কমিশন - সবকটিতেই পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গী ও উদ্দেশ্য প্রকাশ পায় এবং এর বিরুদ্ধে আমাদের ছাত্র-জনতার প্রতিরোধও স্মরণযোগ্য। শরীফ কমিশনের বিরুদ্ধে ৬২ এ এবং হামদুর রহমান কমিশনের বিরুদ্ধে ৬৬ এর শিক্ষা আন্দোলন আমাদের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনের ইতিহাসেই বিশেষ জায়গায় অবস্থান করছে। পাকিস্তানী শাসকদের এই শিক্ষা-দৃষ্টিভঙ্গীর মূলে যেটি ছিল এবং যাকে আমাদের ছাত্র-জনতা কখনও মেনে নিতে পারেনি- সেটি হলো তাদের শিক্ষা সংকোচন নীতি। শরীফ কমিশনের রিপোর্ট থেকে দেখিঃ

"দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের সম্পদ সীমাবদ্ধ বলিয়া কিছুকাল পর্যন্ত সর্বজনীন শিক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হইবে না। ....... যাহারা শিক্ষার দ্বারা উপকৃত হইবার সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত তাদের জন্য বৃত্তি, পুরস্কার ও সরকারি সাহায্যের বন্দোবস্ত করিতে হইবে- দেশের বেশির ভাগ লোকই যেখানে আর্থিক অভাবগ্রস্ত তেন পরিস্থিতিতে এই বন্দোবস্ত সকলের জন্য করা সম্ভব নহে।" "শিল্পে মূলধন বিনিয়োগকে আমরা যে নজরে দেখি অনেকটা সেই নজরে শিক্ষা বাবদ অর্থ ব্যয়কে দেখার যৌক্তিকতা প্রতীয়মান হয়"। "শিক্ষা সস্তায় পাওয়া সম্ভব নয়। বিশেষত বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি ও কারিগরি বিদ্যা ব্যয়বহুল"। "মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পর্কে আমরা সুপারিশ করিয়াছি যে, উহার ব্যয়ের শতকরা ৬০ ভাগ বেতন হইতে আদায় করা হউক এবং স্কুলের পরিচালক ও সরকার প্রত্যকে ২০ ভাগ করে বহন করুন"। "এ ক্ষেত্রে পিতামাতাদের ত্যাগ স্বীকারের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পাইবে। উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও আশা করা যায় যে আমাদের সুপারিশ অনুযায়ী ছাত্রবেতন বর্ধিত করা হইবে এবং জনসাধারণকেও সেই অনুপাতে ত্যাগ স্বীকার করিতে হইবে"।
....... প্রভৃতি।

এবারে খুদা কমিশনের দিকে একটু দেখিঃ

"যারা উচ্চশিক্ষা থেকে লাভবান হবার যোগ্যতা প্রমান করতে পারবে, শুধুমাত্র তাদের জন্যই উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন"। "শিল্পে মূলধন বিনিয়োগকে আমরা যে নজরে দেখি অনেকটা সেই নজরে শিক্ষাবাবদ অর্থ ব্যয়কে দেখার যৌক্তিকতা প্রতীয়মান হয়"। "মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষা সম্পর্কে আমরা সুপারিশ করি যে, এর ব্যয়ের শতকরা ৫০ ভাগ ছাত্র বেতন হতে আদায় করা হোক এবং অন্যান্য উৎস থেকে যা পাওয়া যাবে তা সহ সরকার বাকী ৫০ ভাগ বহন করুক"। "বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার ক্ষেত্রেও আশা করা যায় যা, ছাত্র বেতন বর্ধিত করা হবে"। "জনসাধারণকেও সে অনুপাতে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে"।
..... প্রভৃতি।

আশা করি, উভয় কমিশনের মধ্যকার মিল গুলো বুঝতে পারছেন। মজার ব্যাপার হলো, ৬২-৬৬ এর শিক্সা আন্দোলনের মূল শ্লোগানই ছিলো- শিক্ষার ব্যাপারে রাষ্ট্রের দায়িত্ব অস্বীকার করা যাবে না- অর্থাৎ শরীফ কমিশনের (পরবর্তিতে হামদুর রহমান কমিশনেও একই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল) উপরের প্রস্তাবগুলোর বিরুদ্ধেই ছাত্রজনতা তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছিল; আর অন্যদিকে- আজতক আমরা খুদা কমিশনকে বেদ জ্ঞান করে- এর আলোকে শিক্ষা নীতি প্রণয়নের দাবি তুলি!!!!!!!!!!!!
৯. ০২ রা মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:৪৩
দিনমজুর বলেছেন:
খুদা কমিশনের এত গেলো- শরীফ কমিশন/ হামদুর রহমান কমিশনের সাথে মিলের কথা (আর্থিক দায়ভারের প্রশ্নে); এর বাইরেও অনেক কিছুই পাওয়া যাবে এই কমিশনে যা একাধারে গণবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের আশা-আকাঙ্খার পরিপন্থী ও সেইসাথে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানেরও পরিপন্থী!!!

সে সম্পর্কেও সংক্ষেপে কিছু তুলে দিবো এখানে, অথবা নতুন একটি পোস্টই দিতে পারি (সা.ইনে আসলে লেখালেখি বাদ দিয়েছি নীতিমালা সংশোধনের নামে মূলা ঝুলানোকে সকলের মেনে নেয়ার কারণে- সচলায়তনে এ বিষয়ে পোস্ট দিলে আপনাকে লিংক জানিয়ে যাবো), আশা করি বুঝতে পারবেন।

আর, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের যে অযুহাত আপনি দিয়েছেন- সেটির সাথেও আমি একমত নই, কেননাঃ
-> একটি রাষ্ট্রের নীতিমালা, পরিকল্পনা প্রভৃতি দিয়ে আসলে সেটির সরকার ব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গীই প্রতিফলিত হয়।
->এসমস্ত নীতিমালা মানে এই নয় যে- তা সেই মুহুর্তেই বাস্তবায়ন করতে হবে, সেগুলো হলো একটা গাইডলাইন- যে গাইডলাইন অনুযায়ি একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা (স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি) করে এগুতে হয়। এবং খুদা কমিশনের অনেক প্রস্তাবনাই সেসময়ে বাস্তবায়নে কোন উদ্যোগ সরকার নেয়নি।
->যুদ্ধবিধ্বস্ত হলেও যখন দেশটি হয় সদ্য স্বাদীনতা প্রাপ্ত, তখন সে রাষ্ট্রটি যেহেতু প্রথম থেকে আরম্ভ করে- সেহেতু তার স্কোপও থাকে অনেক বেশি।
->আর, সে যুদ্ধ যদি হয় জনসাধারণের দীর্ঘদিনের লড়াই সংগ্রামের ফসল- তবে, যুদ্ধ পরবর্তী সরকারের নৈতিক দায়িত্বই হলো- জনসাধারণের দাবিদাওয়ার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।
->অন্তত, পরাজিত পক্ষের যেসব নীতির বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম হয়েছে- সেগুলোকে সরকারের বিভিন্ন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা চরম অন্যায়ের কাজ।

এখানে আরেকটি কথা বলা যেতে পারে,
দেখুন ৭২ এর সংবিধানে কিন্তু- জনগণের আশা-আকাঙ্খার অনেকখানি বাস্তবায়ন ঘটেছে। এটাই কাম্য। এখানে- যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রের অযুহাত দিয়ে অন্যরকম করা হলে কি সেটাকে সমর্থন করা যেতো?
১০. ০২ রা মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:২৭
দিনমজুর বলেছেন:
এবারে দশ দফা নিয়ে কিছু বলি, দশ দফা যথেস্ট বড়- এখানে পুরোটা তুলে দিতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে ধীরে ধীরে তুলে দিবো।

দশ দফা তুলে দেয়ার আগে দুটি কথা বলা আবশ্যক। এই দশ দফায় স্বাক্ষরকারী সংগঠন ছিলো ডাকসু সহ মোট ২৪টি। এবং ৯১ এর ১১ জানুয়ারি রাত ৮:৩০ মিনিটে ডাকসু ভবনে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১০ দফা দাবীসমূহ গৃহীত হয়, এবং একই সভায় একই সাথে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আচরণ বিধিও গৃহীত হয়- যে আচরণ বিধির ১২ টি ধারা মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
১। সকল ছাত্র সংগঠনকে গণতান্ত্রিক নীতিমালা মেনে চলতে হবে।
২। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য কর্তৃক ঘোষিত ১০ দফা দাবীনামা সমূহ আদায়ের লক্ষ্যে শরিক সকল ছাত্র সংগঠন সমুহের ঐক্যবদ্ধ থাকা।
৩। এই ১০ দফা দাবীসমূহ ছাত্র সমাজ সহ সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রচার করা ও জনমত সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ থাকা।
............
১০। একাত্তরের ঘাতক আলবদর রাজাকার চক্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখা।
১১। স্বৈরাচারী খুনী এরশাদ, তার সহযোগী মন্ত্রী, এমপি, দালাল রাজনীতিবিদ, দুর্নীতিবাজ সামরিক-বেসামরিক আমলা, লুটেরা ব্যবসায়ীদের কোন সংগঠনে আশ্রয় - প্রশ্রয় না দেওয়া।
........

(এখানে খুবই উল্লেখযোগ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয় হলো এই যে, সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠিতই হয়েছে- স্বৈরাচার বিরোধি আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়- অথচ রাজাকারের ইস্যুটি কিন্তু এসেছে- স্বৈরাচার ইস্যুটিরও আগে!!)

এই ১০ দফা নিয়ে শুধু ছাত্রসংগঠন গুলোই সর্বসম্মত হয়নি, মূল দল গুলোও ১০ দফাকে সমর্থন জানিয়েছিল বা জানাতে বাধ্য হয়েছিল। ৯১ ও ৯৬ উভয় নির্বাচনেই যথাক্রমে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ১০ দফার কথা অঙ্গীকৃতও হয়েছিল। কথা ভঙ্গ প্রথমে করে- খালেদা, নির্বাচিত হওয়ার পরে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা তার কাছে ১০ দফা দাবি তুললে তিনি জানান- এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না, এবং এরপর পরেই হাসিনা ব্যাপক নিন্দা জানিয়ে ওয়াদা করেন- তিনি ক্ষমতায় গেলে ১০ দফার বাস্তবায়ন করবেন। এবং যথারীতি তিনিও ৯৬ এ ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয়ে এর কথা ভুলে যান।

এখন, ১০ দফা সম্পর্কে বলি। এটা ঠিক যে, ১০ দফার মধ্যে মূলত প্রথম দুটি ধারাই শিক্ষা সংক্রান্ত এবং এই ধারা দুটিতে প্রায়োগিক দিক সমূহের বিস্তারিত বিবরণ নেই। আছে- আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হওয়া দরকার, শিক্ষা সংক্রান্ত দৃষ্টভঙ্গীটিই বা কিরূপ হবে সে সম্পর্কিত একটা গাইডলাইন। পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নীতি প্রণয়নের দাবি করা হয়েছে- সে শিক্ষা নীতি কিভাবে প্রণয়ন করা হবে এবং সে শিক্ষা নীতিতে কোন কোন বিষয় প্রায়োরিটি পাবে- সে সম্পর্কে একটা দৃষ্টভঙ্গী গত দাবি আছে। এবং এই দাবিনামাটি দেখলে বুঝা যাবে এটি কতখানি যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়। এই ১০ দফা প্রণয়নের সাথে জড়িত ছাত্রনেতারা কখনও দাবি করেওনি যে, এটা শিক্ষাবিজ্ঞান। হুম, এটা অবশ্যই শিক্ষা আন্দোলন। কিন্তু এটা মানতেই হয় যে, এর প্রণেতারা শিক্ষাবিজ্ঞান সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতেন বৈকি। কেননা, শিক্ষাবার্তা পত্রিকা থেকে শুরু করে আমাদের শিক্ষা বিষয়ে জড়িত অসংখ্য শিক্ষাবিদ শিক্ষানীতি এই ১০ দফা ও সংবিধানের কিছু মৌল নীতির আলোকে প্রণয়নের কথা বলেছেন বারবার।


এবারে ১০ দফার প্রথম দুটি ধারা তুলে দিচ্ছি(১ম ধারার ২২ টি উপধারা ও ২য় ধারার ৭টি).............
১১. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:২৮
দিনমজুর বলেছেন:
"তিন জোট এবং ভবিষ্যত নির্বাচিত সরকারের উদ্দেশ্যে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দশ দফা দাবীনামা"

একঃ

ক. শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক কর্মী ও অভিভাবকদের মতামত নিয়ে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শোষণমুক্তির লক্ষ্যকে সামনে রেখে অবিলম্বে একটি সার্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। শিক্ষাকে সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

খ. বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন অধিকার অক্ষুন্ন রাখতে হবে। সরকার অথবা রাষ্ট্রপ্রধান পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য; এই বিধান বাতিল করে একজন শিক্ষাবিদকে আচার্য হিসাবে নির্বাচিত করতে হবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবর্তিত অগণতান্ত্রিক বিধি বাতিল করে অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গণতান্ত্রিক পরিচালনা বিধি চালু করতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সকল বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

গ. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, শিক্ষা সংক্রান্ত কর্মসূচী প্রণয়ন এবং সাধারণ জনগণের প্রয়োজনে সকল প্রকার নীতিমালা পরিবর্তন ও সংশোধনের অধিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী-শিক্ষাবিদ-অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত ও বৃদ্ধি করতে হবে এবং সরকারী আমলা-প্রশাসনের অযৌক্তিক ক্ষমতা খর্ব করতে হবে। সরকার ও সাম্রাজ্যবাদী অর্থসংস্থাসমূহের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা কার্যক্রমে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

ঘ. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায় পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও দমননীতি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। স্বায়ত্তশাসন লংঘন করে সরকার কর্তৃক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা চলবে না।

ঙ. শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারী, বেসরকারী, ব্যক্তি মালিকানাধীন, গ্রাম-শহর সহ সকল বৈষম্য (ক্যাডেট কলেজ, কিণ্ডার গার্টেন, রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, প্রিক্যাডেট, টিউটেরিয়াল হোম, মাদ্রাসা) দূর করে সারা দেশে অভিন্ন পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচীর ভিত্তিতে একই ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা (one channel of education) চালু করতে হবে। শিক্ষাকে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে ব্যবহার করা চলবে না। বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বন্ধ করতে হবে।

চ. শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গীর অধিকারী, সমাজ সচেতন দেশ প্রেমিক নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে পাঠ্যসূচী প্রণয়ন করতে হবে। পাঠ্যসূচীতে স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, স্বৈরাচার ও সামরিক শাসন বিরোধী ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের ইতিহাস ও জাতীয় গৌরব গাঁথাসমুহ এবং গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে পরিচালিত বিভিন্ন আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস ও চেতনাসমূহ সন্নিবেশিত করতে হবে। পাঠ্যসূচী থেকে সকল পশ্চাদমুখী উপাদান বর্জন করতে হবে।

ছ. প্রত্যেক স্তরের পাঠ্যক্রম, সেই বিশেষ স্তরের ছাত্রদের পরিপক্কতা অনুযায়ী ও ধারণ ক্ষমতার সাথে সঙ্গতিপূর্ন ভাবে নির্ধারণ করতে হবে। বাধ্যতামূলক দীনিয়াত ও আরবি শিক্ষা বাতিল করতে হবে। নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পাঠ গ্রহণ সমাপ্ত করার জন্য শিক্ষকরা যাতে নিয়মিত ভাবে ক্লাসে ও ল্যাবরেটরিতে রুটিন অনুযায়ী শিক্ষা প্রদান করতে পারেন, সেই লক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল প্রকার সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। মেধার ভিত্তিতে হল-হোস্টেলে সিট বন্টন করতে হবে

জ. দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে প্রদান ও অসংগতিসম্পন্ন ছাত্রদের নিয়মিতভাবে শিক্ষাভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে টিফিন ও ইউনিফরম সরবরাহ করতে হবে। প্রাথমিক-মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলির গৃহ, আসবাবপত্র, বইপত্র ইত্যাদির সংস্থান করা সহ উচ্চশিক্ষার প্রসারে দেশের আর্থ-সামাজিক বিকাশের সহায়ক চিকিৎসা, প্রকৌশল, কৃষি, কারিগরি মহাবিদ্যালয় সহ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে

ঝ. জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিমাণ কপক্ষে জাতীয় আয়ের শতকরা ৮ ভাগ বা জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ করতে হবে (ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ি)।

.......... চলবে
১৩. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ রাত ১:১৫
দিনমজুর বলেছেন:
হায়!!হায়!!!
রাতে করা আমার প্রথম কমেন্ট গেলো কোথায়???
সেখানে আমি খুদা কমিশন নিয়ে আরেকটু ডিটেলসে আলোচনা করেছিলাম!!!!!!!!!!!!

মনটাই খারাপ হয়ে গেলো!!
যথেস্ট বড় কমেন্ট ছিলো সেটা। তার মধ্যে অনকেখানি ছিল কোট করা, এতখানি আবার টাইপ করবো কি করে?????
১৪. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:১৯
অনিশ্চিত বলেছেন: দিনমজুর, ধৈর্য ধরে এতো বড় মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ। বিশেষ করে আপনার দেওয়া তথ্যগুলো কাজে লাগবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে লেখালেখি করার সময় এগুলোও বিবেচনা করা যাবে। সম্প্রতি আমি আবারো খুদা কমিশন রিপোর্টটি যোগাড়ের চেষ্টায় আছি। দেখি সংগ্রহ করার পর আরেকটু বিশদ লেখা যায় কি-না। আপনাকে আবারো ধন্যবাদ।
১৫. ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ রাত ২:০১
দিনমজুর বলেছেন:
আমার এই পোস্ট পড়ার আহবান রইলো- খুদা কমিশন নিয়েই লেখাঃ
http://www.sachalayatan.com/guest_writer/12955
০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:৫৬

লেখক বলেছেন: পড়ছি। চালিয়ে যান।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৪৭০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের ক্ষেতে;
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার,-চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ