রাত দ্বিপ্রহর। এই মাঝ রাতেও বাইরে কোকিলের ডাক শুনতে পাচ্ছি। রাতে বাগানের ভেতর দিয়ে আসার সময় আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ পেলাম। আজ ২রা ফাল্গুন।
আজ আবার ১৪ই ফেব্রুয়ারী। ঐতিহাসিক ভ্যালেন্টাইনস্ ডে।
জাতীগত ভাবে যে আমরা মোটেই সৃষ্টিশীল না এবং সর্বদাই পরমুখাপেক্ষি (সব বিষয়েই) তা বারবার মনে করিয়ে দেয়ার দরকার পড়েনা। আমরা নিজেরা কিছু আবিষ্কারের চেয়ে পরেরটা নকল করতে বেশী ভালবাসি। এর সর্বশেষ সংজোযন বিশিষ্ট চরিত্র বিশারদ শফিক রেহমানের প্রবর্তিত ভ্যালেন্টাইনস্ ডে।
কি আশ্চর্য ঘটনা! ঋতুরাজের আগমনের ঠিক পরের দিন টাই এই দিন। বসন্ত ভালবাসার মাস। বসন্ত একে অন্যকে কাছে টানার, দুঃখ ভাগাভাগি করে হেসে ওঠার মাস। অথচ আমরা এই মাসের পয়লা দিন (যা একান্তই আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতির অংশ) পালন করবার চেয়ে বেশী আগ্রহী ২য় দিন টা পালনে। বিশ্ব ভালবাসা দিবস। মোবাইল নেটওয়ার্ক আর গিফট বিক্রেতাদের ধান্দাবাজীর আরেকটা দিন। ডেইলি নিউজ পেপার গুলোও দেখলাম ১লা ফাল্গুনের চিরায়ত একটা ছবি (পলাশ / শিমূল গাছে ফুল ফুটেছে) দিয়েই খালাস। পত্রিকার বাকিটা কোন মডেল বা নাট্য ব্যক্তিত্ব কি পরে ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করবে এসব দিয়ে ভরে রেখেছে।
কেন ১৪ই ফেব্রুয়ারি আমাদের খাস করে ভালবাসা প্রকাশ করতে হবে? সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কে স্মরণ করে? কে ছিলেন তিনি যে তাঁর জন্য আমাদেরকে এত উচ্ছাস দেখিয়ে ভালবাসা দিবস এই দিনটাকেই ঘোষনা করতে হবে? আমদের নিজস্ব সাংস্কৃতির অংশ, ১লা ফাল্গুন কি দোষ করল? কেন আমরা আমাদের ভালবাসার বৈশ্বয়িকি করণ করতে পারিনা। কেন অন্যের ধার করা রীতি নিজের করে নিতে হবে। কি বাধ্যবাধকতা?
তাহলে কি এদেশের মানুষ ভালবাসতে জানেনি কোনদিন? ভালবাসা শিখতেও এদের পরের দিকে তাকাতে হবে? যারা পোশাক পাল্টানোর চেয়ে দ্রুত নিজেদের ভালবাসার মানুষ পরিবর্তন করে, তাদের দিকে? হায়রে বাঙালি। দুঃখ লাগে এসব ভাবলে।
অনেকে বলবেন ভ্যালেন্টাইনস্ ডে র উদ্দ্যেশ্য ছিল আরও মহত। এটা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য না। ভাল কথা। কিন্তু ব্যাপারটাতো আজ সেখানে গিয়েই ঠেকেছে। তাই নয়কি? সুতরাং সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করার কোন কারণ নেই। খুব কম সন্তানই বাবা মা কে এ দিনের শুভেচ্ছা জানায়। রাত বারটা বাজলেই শুরু হয় গদগদ কন্ঠে প্রেমালাপ। কারন প্রেমের আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একটা দিন। প্রেমে টইটুম্বুর ২৪টা ঘন্টা।
আঁতেলের মত বলবনা বছরের ৩৬৫ দিনই ভালবাসা দিবস। একটা দিন যদি স্পেশাল হয়ই তবে বাঙালি হিসেবে আমার মতে ১লা ফাল্গুনটাই শ্রেষ্ঠ দিন, ১৪ই ফেব্রুয়ারি কোনভাবেই না। নিজেদেরকে কেন ছোট করে দেখব? আমাদেরও হাজার বছরের নিজস্ব সাংস্কৃতি আছে যা নিয়ে আমরাও গর্ব করতে পারি। এ দেশ বেহুলা লক্ষিন্দরের দেশ, ময়না মতির দেশ। এদেশে ভালবাসা দিবসে তাদেরকে স্মরণ করা যেতে পারে।
আত্মত্যাগের মহিমার কথা ভাবলে আমাদের বীর সন্তানেরা যারা দেশ মাতা কে ভালবেসে প্রান দিয়েছেন, তাঁদের কথা ভাবা যেতে পারে। কোথায় কোন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন প্রান দিল তারচেয়ে আমাদের সালাম, রফিক, বরকত, ক্ষুদিরামরা কম কিসে? বরং তাদের মহিমা অনেক বেশী উজ্জল। আসেন, আমরা তাঁদের কথা ভেবে নিজেদের জন্য একন্তই নিজস্ব ভালবাসা দিবস পালন করি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



