এটা কোন ফানি ঘটনা না। একেবারে বাস্তব সত্য ঘটনা ও আমার আপন অভিজ্ঞতার বর্ননা। যারা জ্বীন বিশ্বাস করেন না, তারা জানাবেন এর ব্যাখ্যা কি হতে পারে। পরবর্তীতে এরকম আরো কিছু ঘটনা পোস্ট করবো।
----------
ঘটনা ১৯৮৪ সালের দিকের। রাজশাহী শহরে। আমাদের পাড়াটা শহরের মধ্যে হলেও একটা গ্রাম গ্রাম ভাব ছিলো তখন। বলাই বাহুল্য স্ট্রীট লাইটের বালাই ছিলনা সব জায়গায়। আর আমাদের যাতায়াতের কাঁচা পথে তো নয়ই। আমাদের বাড়ীর চারদিকে পুরো পাড়া জুড়ে প্রচুর আম ও বাঁশের বাগান ছিলো। আর ছিল অনেক পুরানো পুকুর। তার একটার নাম কাশিনাথ পুকুর। পুকুরের দুই পাড় দিয়েই রাস্তা ছিলো; একটা হেঁটে যাবার, আরেকটা দিয়ে সাইকেল - রিক্সা চলতো। দু'টো রাস্তা ধরে কাছেই মোড়ে ওঠা যায়। পুকুরটা এখন ভরাট হয়ে গেছে।
যা হোক, একদিন রাতে ছোট মামার সাথে সাইকেলে চেপে কোথায় থেকে যেন আসছিলাম। মামা সাইকেল চালাচ্ছিলেন আর আমি সামনে বসা। কাশিনাথ পুকুরের যে পাড় দিয়ে সাইকেল চলা পথ তার পাশে পুকুরের উল্টো দিকে ছিলো একটা বিরাট বাঁশের বাগান। রাত তখন প্রায় ১১ পেরিয়ে গেছে। যে সময়ের কথা বলছি তখন ওরকম পাড়া তে এটা অনেক রাত। চারিদেকে লোকজনের চলাচল নাই। তার ওপর শীতের রাত ছিলো। কাজেই আরো শুনশান। অন্ধকারে প্রায় কিছুই দেখা যায়না। ভরসা শুধু একটু চাঁদ তারার আলো। বাঁশ বাগানের কাছে আসতেই হঠাৎ দেখি বেশ কিছু বাঁশ গাছ কেমন যেন নুইয়ে পড়ে রাস্তা ঘিরে দিলো। মামা তো সাইকেলের ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে গেলেন। আর ভয়ে আমি পিছনে ঘুরে 'মামা' বলে মামাকে জড়িয়ে ধরলাম আর সুরা এখলাস পড়তে লাগলাম। রাস্তার পরেই পুকুর। কাজেই ঘুরে যাব সে উপায়ও নেই। মামা আমার ছিলেন ইন্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র। আবার ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে বেশ সাহসী মানুষই বটে। বললেন, ভয় পাসনে, কিছু হবেনা। এরকম ঘটনা নতুন দেখছিনা আজ। মামার কথায় একটু সাহস পেলাম যেন। হাজার হোক ছোট মামা ছিলেন আমার গুরুর মতো। উনি সাইকেল পা দিয়ে ঠেলে একটু পেছনে নিয়ে আসলেন প্রায় ১০-১৫ গজ মতো। এবার দেখি বাঁশগুলো কেমন রেল ক্রসিংএর বাঁশের মতো সটান উঠে গেলো। পুরো রাস্তা ফাঁকা। মামা আবার সামনে এগুলেন। আবার বাঁশ নুয়ে পড়ে পথ বন্ধ করে দেয়। আবার পিছালেই বাঁশ উঠে যায়। এরকম বেশ কিছুক্ষন চলতে লাগলো। শেষে যখন দেখলাম কোনভাবেই যেতে পারছিনা তখন বাধ্য হয়ে পুকুরের অন্য পাড়ের হাঁটা পথ ধরে সাইকেল হাঁটিয়ে দু'জনে দোয়া দরূদ পড়তে পড়তে বাসায় ফিরলাম। পরে শুনেছি পাড়ার অনেক ব্যবসায়ী যারা রাত করে বাড়ী ফিরতেন প্রায় সকলের এই অভিজ্ঞতা একবার না একবার হয়েইছে। যদিও দিনে ওখানেই আম বাগানে সারাদিন খেলাধুলা করতাম কিন্তু এরপর আর কখনো অতো রাতে ঐ পথ মাড়াইনি।
পরে অবশ্য ঐ বাঁশঝাড় কেটে ফেলা হয়েছিলো।
--------
কাশিনাথ পুকুরটা ছিলো অনেক পুরানো পুকুর। এটা ঘিরেও রয়েছে অনেক রোমাঞ্চকর ঘটনা। পরে একে একে সেসব বলবো। তবে এসবের কোনটাই গাঁজাখুরি গল্প না। কারণ এগুলোর প্রত্যক্ষ্ বা পরোক্ষ ভাবে আমি বা আমাদের পরিবারের সদস্য সাক্ষী। এখন বিশ্বাস করা না করা সম্পূর্ণ পাঠকের নিজের ব্যাপার।
---------------
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১১ বিকাল ৩:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


