somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

(জ্বীন বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতাঃ১) আমার জ্বীনের কবলে পড়া।

৩১ শে মে, ২০১১ বিকাল ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটা কোন ফানি ঘটনা না। একেবারে বাস্তব সত্য ঘটনা ও আমার আপন অভিজ্ঞতার বর্ননা। যারা জ্বীন বিশ্বাস করেন না, তারা জানাবেন এর ব্যাখ্যা কি হতে পারে। পরবর্তীতে এরকম আরো কিছু ঘটনা পোস্ট করবো।
----------
ঘটনা ১৯৮৪ সালের দিকের। রাজশাহী শহরে। আমাদের পাড়াটা শহরের মধ্যে হলেও একটা গ্রাম গ্রাম ভাব ছিলো তখন। বলাই বাহুল্য স্ট্রীট লাইটের বালাই ছিলনা সব জায়গায়। আর আমাদের যাতায়াতের কাঁচা পথে তো নয়ই। আমাদের বাড়ীর চারদিকে পুরো পাড়া জুড়ে প্রচুর আম ও বাঁশের বাগান ছিলো। আর ছিল অনেক পুরানো পুকুর। তার একটার নাম কাশিনাথ পুকুর। পুকুরের দুই পাড় দিয়েই রাস্তা ছিলো; একটা হেঁটে যাবার, আরেকটা দিয়ে সাইকেল - রিক্সা চলতো। দু'টো রাস্তা ধরে কাছেই মোড়ে ওঠা যায়। পুকুরটা এখন ভরাট হয়ে গেছে। :(

যা হোক, একদিন রাতে ছোট মামার সাথে সাইকেলে চেপে কোথায় থেকে যেন আসছিলাম। মামা সাইকেল চালাচ্ছিলেন আর আমি সামনে বসা। কাশিনাথ পুকুরের যে পাড় দিয়ে সাইকেল চলা পথ তার পাশে পুকুরের উল্টো দিকে ছিলো একটা বিরাট বাঁশের বাগান। রাত তখন প্রায় ১১ পেরিয়ে গেছে। যে সময়ের কথা বলছি তখন ওরকম পাড়া তে এটা অনেক রাত। চারিদেকে লোকজনের চলাচল নাই। তার ওপর শীতের রাত ছিলো। কাজেই আরো শুনশান। অন্ধকারে প্রায় কিছুই দেখা যায়না। ভরসা শুধু একটু চাঁদ তারার আলো। বাঁশ বাগানের কাছে আসতেই হঠাৎ দেখি বেশ কিছু বাঁশ গাছ কেমন যেন নুইয়ে পড়ে রাস্তা ঘিরে দিলো। মামা তো সাইকেলের ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে গেলেন। আর ভয়ে আমি পিছনে ঘুরে 'মামা' বলে মামাকে জড়িয়ে ধরলাম আর সুরা এখলাস পড়তে লাগলাম। রাস্তার পরেই পুকুর। কাজেই ঘুরে যাব সে উপায়ও নেই। মামা আমার ছিলেন ইন্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র। আবার ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে বেশ সাহসী মানুষই বটে। বললেন, ভয় পাসনে, কিছু হবেনা। এরকম ঘটনা নতুন দেখছিনা আজ। মামার কথায় একটু সাহস পেলাম যেন। হাজার হোক ছোট মামা ছিলেন আমার গুরুর মতো। উনি সাইকেল পা দিয়ে ঠেলে একটু পেছনে নিয়ে আসলেন প্রায় ১০-১৫ গজ মতো। এবার দেখি বাঁশগুলো কেমন রেল ক্রসিংএর বাঁশের মতো সটান উঠে গেলো। পুরো রাস্তা ফাঁকা। মামা আবার সামনে এগুলেন। আবার বাঁশ নুয়ে পড়ে পথ বন্ধ করে দেয়। আবার পিছালেই বাঁশ উঠে যায়। এরকম বেশ কিছুক্ষন চলতে লাগলো। শেষে যখন দেখলাম কোনভাবেই যেতে পারছিনা তখন বাধ্য হয়ে পুকুরের অন্য পাড়ের হাঁটা পথ ধরে সাইকেল হাঁটিয়ে দু'জনে দোয়া দরূদ পড়তে পড়তে বাসায় ফিরলাম। পরে শুনেছি পাড়ার অনেক ব্যবসায়ী যারা রাত করে বাড়ী ফিরতেন প্রায় সকলের এই অভিজ্ঞতা একবার না একবার হয়েইছে। যদিও দিনে ওখানেই আম বাগানে সারাদিন খেলাধুলা করতাম কিন্তু এরপর আর কখনো অতো রাতে ঐ পথ মাড়াইনি।

পরে অবশ্য ঐ বাঁশঝাড় কেটে ফেলা হয়েছিলো।
--------
কাশিনাথ পুকুরটা ছিলো অনেক পুরানো পুকুর। এটা ঘিরেও রয়েছে অনেক রোমাঞ্চকর ঘটনা। পরে একে একে সেসব বলবো। তবে এসবের কোনটাই গাঁজাখুরি গল্প না। কারণ এগুলোর প্রত্যক্ষ্ বা পরোক্ষ ভাবে আমি বা আমাদের পরিবারের সদস্য সাক্ষী। এখন বিশ্বাস করা না করা সম্পূর্ণ পাঠকের নিজের ব্যাপার।
---------------
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১১ বিকাল ৩:০৭
২০টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×