বাসে জনৈক ব্লগার বন্ধুর সাথে হঠাৎ দেখা
ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাব কিন্তু আমার রিসার্চ সুপার ভাইজার স্যারের আপত্তি-
তুমি বাড়ি যাবা কেন? তোমার আবার কিসের ঈদ?
মেজাজ বিলা হলেও বিশাল একটা লজ্জা পাওয়া হাসি দিয়ে বললাম-
স্যার অনেকদিন বাড়ি যাই না। আমি খুব দ্রুত চলে আসব স্যার।
আশ্বাস বাণী শুনে স্যার একটু যেন থামলেন। হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। রাত ৮.৩০ তার বাস। উফ!!! সিটের কথা মনে হলে বাড়ি যাওয়ার আনন্দই মাটি হয়ে যাচ্ছে।

ভোরবেলা লাইনে দাঁড়িয়ে, দরদর করে মাথার আর পুরো শরীরের ঘাম পায়ে ফেলে যে সিট পেলাম তার কথা না হয় নাইই বললাম।

যাত্রার সময় ক্রমাগত ঝাঁকুনি খাইতে খাইতে আমার পাশের সিটের যাত্রীর ফোনে কথোপকথনের একটা ডায়লগ ছিল- দোস্তো, আমি খালি লাফাইতেসি।
এই লাফাইতে লাফাইতে বাড়ি পৌঁছুলাম ১১ ঘণ্টার জার্নির পর। তারপর যথারীতি ঘুম।

ঘুমের মাঝেই শুনলাম ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) থেকে মাসির গাড়ি এসেছে, আমি যেন অবশ্যই যাই। কি আর করা!!! বিকেলে ঘুম থেকে উঠে যাবার জন্য রেডি হলাম। ছুটির দিনের পাঠকের ঈদ সংখ্যা পড়তে পড়তে বেশ আয়েশ করে রাত ৮ টার দিকে ফুলবাড়ি পৌঁছুলাম। তারপর? তারপর বাড়ির সব পিচ্চি আর পিচ্চির মাঝে দুই দিন থেকে হেভি মজা শেষে ঈদের আগের রাতে বাড়ি ফিরলাম।
তারপর আবারো ঘুম, খাওয়া আর ঘুরাঘুরির চাক্রিক জালে আটকা পড়ে ব্লগ আর ফেবুর ধারে কাছেও যেতে পারি নাই।

খুব মনে পড়ছিল সবার কথা তাই ৫ তারিখে একটু সময়ের জন্য ফেবুতে ঢুকলাম। নোটিফিকেসন, মেসেজ আর রিকু দেখে চোখ কপালে, বাপ্রে!!!

আমার ওয়ালে ঈদ শুভেচ্ছা,

রাগ অভিমানের

মেসেজ আর সাথে দু একটা পিন দেয়া মেসেজ।

সব পড়লাম, উত্তর দিলাম। মোটামুটি সবার সাথেই কথা হয়ে গেল সেদিন। বেশ ভাল লাগছিল।
এবার গন্তব্যে ফেরার পালা। ভাগ্য ভাল ছিল তাই এবার আর লাফাইতে হয় নাই।

আরাম করে শুয়ে বসে ত্রিনিত্রি আপুর অর্ণবের গান আর সিলেটের আকাশের কাছাকাছি আসছি।

গত রাতে অসুস্থতার হেতু যাত্রা বাতিলের দরুন সবাই খুব টেনশনে ছিল, তাই একটু পর পর ফোন। কেমন আছি, খারাপ লাগছে কি না, এখন কোথায় ইত্যাদি ইত্যাদি। সবাইকে আশ্বস্ত করলাম, আমি খুব ভাল আছি। কোন সমস্যা নেই।
যাত্রা বিরতির ২০ মিনিট (এই শিরনামে একটা গল্প আসছে আগামিতে

) সিরাজগঞ্জের গ্রিন চিলির ফাঁকা গ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে পর পর দুটা সিগারেট টানলাম। আহ... কতো দিন শান্তিতে সিগারেট খাওয়া হয় না।
বাস চলছে সাথে একটু একটু ঠাণ্ডা বাতাস। বাইরে টিপ টিপ বৃষ্টি হচ্ছে। ঘুমের ঘরে আছি এমন এমন সময় মেসেজ-
আপনি কেমন আছেন? জেগে আছেন? ভাবলাম নিশ্চয়ই বিচ্ছু ভাগনাটা। জালানোর জন্য এই মেসেজ। আমি লিখলাম-
হুম, জেগে আছি। কি বলবেন বলেন। কাইন্ডলি আপনার রিয়েল নামটা আগে বলবেন। ঝটপট উত্তর এলো-
আমার নাম নীরব। চোখ কপালে উঠে গেল। নীরব?

তারমানে নিশ্চয়ই কোন ব্লগার। মনে করার চেষ্টা করছি আমার নাম্বার কে কে জানে। দেখলাম লিস্টটা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। আমার পরিচিত সবারই চান্স এবং অধিকার আছে আমাকে জালানোর। কিন্তু ব্যক্তিটা কে? রিপ্লে দিলাম-
তাহলে আমার নাম কি?
এবার একটু সময় নিয়েছেন তিনি। ৫ মিনিট পর উত্তর এলো-
ওহ!! সরি, আপনার নাম নীরব। মেয়েদের নাম তো নীরব হয় না।
আমি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছি। এবার এটা ক্লিয়ার যে কোন বান্দর পোলা যে নিজেকে মেয়ে বানিয়ে আমার সাথে ফাইজলামি করতে চাচ্ছে। এবার মেসেজ লিখলাম-
হুম, বুঝলাম, ভাই জালাইয়েন না। ঘুমাইতে দেন। বিশেষ কিছু বলতে চাইলে ফোন দেন।
অনেক্ষন ধরে খেয়াল করছি আমার পাশের যাত্রী তার মোবাইলে কি যেন করছেন।

কানে হেড ফোন আছে এবং স্ক্রিনের আলো জ্বলছে। তিনি কি গান খুঁজে পাচ্ছেন না? না কি?...... সরাসরি তাকানো ঠিক না তাই জানালার গ্লাসে মোবাইলের স্ক্রিনের আলো দেখে ধরার চেষ্টা করছি তিনি কি নিয়ে বিজি। কিন্তু ধরতে পারি নাই। উনার নাম শুনা হয় নাই তবে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। ছুটি আরও কিছুদিন থাকায় এখন যাচ্ছেন সিলেটে। ঘুরবেন দুই দিন। তারপর ইউনিতে ফিরবেন। উনার সাথে আমার এই লাস্ট কথা। মাঝে যখন যাত্রা বিরতিতে সিগারেট টানছিলাম তখন তিনি আমার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেন। কথা বললেন না তবে মনে হল আমার সিগারেট খাওয়া দেখে তিনি বিরক্ত হয়েছেন।
আচ্ছা, অনেক্ষন তো হল, ও পাশ থেকে কোন সারা শব্দ নেই কেন? হুম, জায়গা মতন হিট করেছি। ফোন আর দিবে না, দিলে ধরা তো নির্ঘাত খাবে কেননা ছেয়ে হয়ে মেয়েদের গলায় বেশিক্ষণ কথা বলা যায় না। এবার ঘুমানর প্রস্তুতি নিচ্ছি এমন সময় ফোন এলো। কল রিসিভ করলাম,
হ্যালো?আমার পাশের যাত্রীও বললেন-
হ্যালো?
উনার দিকে তাকালাম, নিশ্চয়ই উনারও ফোন এসেছে।
এবার ফোনের ওপাশের জন বললেন-
আপনি কি ক্যাম্পাসে ব্যাক করছেন? এবার আমি সত্যি অবাক হয়েছি।

ফোন নামিয়ে রেখে পাশের যাত্রীর দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি মিট মিট করে হাসছেন। কাহিনি কি? এই লোককে তো আমি চিনি না। তিনি আমাকে চিনলেন কিভাবে? তিনি কি আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড? আমাকে হয়তো চেনেন কিন্তু এতো ঢং করার কি দরকার? প্রথমে বললেই তো হতো। কিন্তু তিনি কে? কি নাম উনার? জানতে চাইলাম। একটা মুহাহাহা

জাতীয় ভিলেন মার্কা হাসি দিয়ে জানালেন তিনি শশী হিমু।
শশী হিমু? মানে শশা তুই?
তারপর আর কি? সারা রাস্তা শশার সাথে আড্ডা দিয়ে সিলেট পৌঁছালাম। সিলেট ছেড়েছিলাম ত্রিনিত্রি আপু আর অচেনা রাজ্যের রাজার সাথে আড্ডা দিয়ে।

সিলেটে ব্যাকও করছি ব্লগার বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে দিতে।

বেশ মজার এই ব্লগিং লাইফ। এখন আমার চারপাশে শুধু ব্লগার আর ব্লগার।
নোটঃ আমার পাশের জন শশী হিমু ছিল না। তিনি আর্মির এক জওয়ান ছিলেন।

গল্পের খাতিরে উনাকে শশা বানিয়েছি। তবে মেসেজ দিয়ে জালানোর চেষ্টা করেছিল শশাই। ফোনে প্রথমে শশার গলা শুনে ভেবেছি সে একটু মেয়েলি টাইপের। তবে শশাকে চেনার পর মনে হল, এই পিচ্চিটা অনেক দুষ্ট আছে। ওর গলা মেয়েলি না, বাচ্চা বাচ্চা মনে হচ্ছিল তখন। আবার কখনো কখনো খুব বড় বড় মনে হচ্ছিল। সে যাই হোক, বাচ্চা আর মহিলা কিন্তু একি মন্ত্রণালয়।