somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শরতের শুভ্র আকাশ আর হিমু রুপার বসবাস

০২ রা অক্টোবর, ২০১১ রাত ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১. শরতের শুভ্র আকাশে কতিপয় স্বপ্নের কষ্টের দিনযাপন


কোন এক শরতের মিষ্টি দুপুরে যখন সাদা মেঘমালা আমার ঘর ভাসিয়ে দেয়, যখন বিস্তীর্ণ শুভ্র কাশবাগান আমার ভাবনায় উড়ে বেড়ায়, যখন আমার প্রিয় জানালার পাশে দাঁড়িয়ে এ পৃথিবীর ব্যস্ত মানুষগুলোকে ধীর পায়ে হেঁটে যেতে দেখি, সবুজ গাছপালা, রোদ, নীলাকাশ, যান্ত্রিকতা, শুন্যতা আমার চোখে এক ঝাপসা ক্যানভাস তৈরি করে। হাতে আজ আমার কোন তুলি নেই। কোন রঙ, কোন দৃশ্যপট কিছুই নেই। অপলক তাকিয়ে থাকা ছাড়া আজ আমার কোন কাজ নেই। আমি তাকিয়ে থাকি দূর হতে দূরে, বহু দূরে। সময় শেষ হয় আমার দৃষ্টির সীমা শেষ হয় না।


ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামে। অন্ধকারের চাদরে ঢেকে যায় আকাশ। পৃথিবীটা আরও ছোট হয়ে যায়। নিজের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠি, কি অদ্ভুত চাপা শুন্যতা বুকে নিয়ে বেঁচে আছে আমার প্রতারিত সত্ত্বা!!! দম বন্ধ হয়ে আসে। স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে ক্লান্ত স্বপ্নরা জোড় করেও আর স্বপ্ন হতে চায় না। বেঁচে থাকতে হলে স্বপ্ন দেখতে হয়। স্বপ্নরাও একসময় আমাকে একা রেখে হারিয়ে যায়। বুঝিয়ে যায়, মারা যাও। তোমার বেঁচে থাকাটাই একটা প্রতারণা। একটা ধোঁয়াশা। আমি মরতে পারি না। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকি জানালার পাশে। রাতের অন্ধকার শেষে ভোরের সোনালী আলো ভাসিয়ে দেয় এ পৃথিবীকে। আমার ঘর তখনও অন্ধকারে। কখনো ভোর হয় না আমার। বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে। স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করে কিন্তু স্বপ্নরা সেই যে হারিয়ে গেছে এখনো তাঁদের খুঁজে ফিরি আমি আমার এ শূন্য ঘরে।


২. অন্তরে হিমু রুপার বসবাস


নিজেকে হিমু ভাবতে শুরু করেছি অনেক আগে থেকে। মাঝে মাঝে হলুদ শার্টটা গায়ে দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে বেড়াই। হিমুর মতো হাঁটলেও হিমুর মতো সুপার ন্যাচারাল বলে আমার মাঝে এমন কিছু নেই। গভীর দুপুরে অথবা গভীর রাতে রাস্তায় হাঁটি। এক অদেখা নগরীর অসাধারণ রুপ আমার চোখে ধরা দেয়। জীবনটা তখন সত্যি এক বিস্ময়কর ঘটনা বলে মনে হয়। নিজেকে খুঁজে ফিরি দিগ্বিদিক। খুঁজে পাই না নিজের মাঝে। নিজেকে তখন ঘাস, লতা, হাসনাহেনা রাস্তার ধূলিকণার মতো এক একটি অংশ মনে হয়। আমি মুচকি হাসি। বিস্ময়কর সে হাসিতে অজস্র রহস্য লুটোপুটি খায়। আমি এগিয়ে যেতে থাকি।


ভালবাসাটা যখন অসহ্য পর্যায়ে চলে যায়, বিরক্তিকর ঘটনা ঘটতে থাকে একের পর এক তখন নিজেকে রুপা ভাবতে খুব ইচ্ছে করে। হয়তো বা তখন আমি রুপা হয়ে যাই। ভালবাসাকে বুকে চাপা দিয়ে রাখতে গিয়ে অদম্য অনুভূতিটাকে প্রকাশ করে ফেলি। রুপার মতো অপেক্ষা করি হিমুর জন্য বিশাল সারপ্রাইজ নিয়ে। যে সারপ্রাইজ হিমু কখনো গ্রহণ করে না আর আমারও দেয়া হয় না।


হিমু, রুপা আমার মস্তিষ্কের পুরোটাই দখল করে এক আজব খেলা খেলতে থাকে। তাদের দু জনকেই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেই। যাদের মাথামুণ্ডু নেই তাদের আবার অস্তিত্ব! কিন্তু আশ্চর্য, তখনই নিজের ভেতর কার যেন ডাক শুনতে পাই। তাকিয়ে দেখি আমার ভিতর অজস্র হিমু রুপা। আমি তাদের নিয়ে বেঁচে আছি। কে জানে হয়তো তাদের মাঝেই বেঁচে আছি।



নোটঃ প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমদ এর সুস্থতা কামনা করি। যিনি বিখ্যাত চরিত্র সৃষ্টি করেছেন আর আমাকে ভাবিয়েছেন।

সবাইকে শারদীয়ার শুভেচ্ছা। খুব ভাল থাকুক সবাই এই কামনা রইলো।


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৪৩
৫৮টি মন্তব্য ৫৮টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×