খবর এক:
পুলিশের গুলিতে একজন কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। আবির নামের এই তরুণের নামে থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যন্ত নেই। কিন্তু পুলিশ দাবি করছে, তাদের সঙ্গে গোলাগুলিতে আবির মারা গেছেন। আবির ও তাঁর বন্ধুরা নাকি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত সোমবার রাতে রাজধানীর পল্লবী থানার বাউনিয়া বাঁধে এ ঘটনা ঘটে।
আবিরের পরিবার বলেছে, তাঁর পুরো নাম কাজী মো. ইমতিয়াজ। মোহাম্মদপুরের নর্দান কলেজের বাণিজ্য বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র তিনি। পুলিশ তাঁকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (১০ জানুয়ারি) রাত নয়টা ২৫ মিনিটে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল টহল দিচ্ছিল। তখন খবর আসে, মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের ই-ব্লকের বাউনিয়া বাঁধ বালুর মাঠে (পল্লবী থানার অধীন) কিছু ডাকাত জড়ো হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর পুলিশ দলটি সেখানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। পুলিশ এগিয়ে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় একজন ডাকাতের হাতে দুটি গুলিভর্তি একটি রিভলবার দেখতে পায়। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, গোলাগুলি চলাকালে পল্লবী থানার এএসআই ইসমাইল হোসেন ও কনস্টেবল সাইদুর রহমান গুরুতর আহত হন। তাঁরা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা বলেন, আবিরকে তাঁরা চেনেন না। সেখানে গোলাগুলির শব্দও তাঁরা পাননি। তবে অন্য দুই বাসিন্দা বলেন, তাঁরা দুটি গুলির শব্দ শুনেছেন। রূপনগর আবাসিক এলাকার ২১ নম্বর সড়কের ৩১ নম্বরে আবিরদের বাসা, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। তাঁর বাবা তিতাস গ্যাসের উপমহাব্যবস্থাপক কাজী মো. গোলাম ফারুক এবং মা মনোয়ারা চৌধুরী।
ক্রন্দনরত মা মনোয়ারা প্রথম আলোকে জানান, আবির কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো থানায় অভিযোগ নেই। কলেজে আসা-যাওয়ার বাইরে সব সময় তিনি বাসায় থাকতেন। পুলিশ নিরীহ ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। বিলাপ করতে করতে মনোয়ারা বলেন, ‘আমার ছেলে চলে গেছে, তাকে আর পাব না। পুলিশের শাস্তি হলেও আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না। বিচারের ভার আমি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম।’
আবিরের বাবা গোলাম ফারুক বলেন, তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে কোথাও জিডি পর্যন্ত নেই। পুলিশ ডাকাত সাজাতে চেয়েছে, এসব মিথ্যা। গোলাম ফারুকের দুই ছেলে, এক মেয়ে। আবির দ্বিতীয়। বড় বোন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ছোট ভাই মনিপুর স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে।
গোলাম ফারুক বলেন, ‘জীবনে কোনো দিন থানা-পুলিশের প্রয়োজন হয়নি। আমার সন্তানদের সেভাবেই গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু ফল পেলাম উল্টো।’
প্রতিবেশী আবু তৈয়ব আলীসহ কয়েকজন মহল্লাবাসী বলেন, আবিরকে কখনো রাস্তায় আড্ডা দিতে, এমনকি মাঠে খেলাধুলা করতে দেখা যায়নি।
বাড়ির তত্ত্বাবধানকারী ইদ্রিস আলী জানান, তিনি পাঁচ বছর ধরে এখানে আছেন। আবির নিরীহ ও মার্জিত স্বভাবের ছেলে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, আবিরের বিরুদ্ধে তাঁর থানায় কোনো মামলা কিংবা জিডি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধারের সময় তাঁর মুখে মদের গন্ধ পাওয়া গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই পুলিশ সদস্য পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল মর্গ সূত্র জানায়, গুলিতে আবিরের ডান হাঁটুর রক্তনালি ছিঁড়ে গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের সময় মদপানের আলামত পাওয়া যায়নি।
ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় আবিরের লাশ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
খবর দুই:
রাজধানীর রামপুরায় গতকাল শুক্রবার রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শ্যামল (২২) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অনিক (১৮) নামের আরেকজন আহত হয়েছেন।
পুলিশের দাবি, শ্যামল ও অনিক ছিনতাইকারী। নিহত শ্যামলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে। সেখানে তাঁর নামে মামলা আছে।
তবে আহত অনিক ও তাঁর পরিবার দাবি করেছে, পুলিশ দুজনকে ধরে নিয়ে যায় এবং পুলিশের দাবিমতো চাঁদা না দেওয়ায় তাঁদের গুলি করা হয়। এতে অনিক আহত হন এবং শ্যামলের মৃত্যু হয়।
রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুলের ভাষ্যমতে, গতকাল রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ সদস্যরা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ধরতে পূর্ব রামপুরার ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বালুর মাঠে যায়। সেখানে ছিনতাইয়ের জন্য ওত্ পেতে ছিল দুই যুবক। পুলিশ তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আজ শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শ্যামলের মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার ও তিনটি গুলি উদ্ধার করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি অনিক জানান, বালুর মাঠের পাশে তাঁর ফোন-ফ্যাক্সের দোকান আছে। তাঁকে পুলিশ গতকাল সকালে ধরে নিয়ে যায়। রাতে শ্যামলকে আটক করে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে রাতে তাঁদের গাড়িতে করে বালুর মাঠের পাশে নিয়ে গুলি করে। অনিক দাবি করেন, তিনি শ্যামলকে চেনেন না।
অনিকের খালা রোকেয়া বেগমের দাবি, তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ তাঁদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় তাঁকে গুলি করা হয়। একই কারণে শ্যামলকে হত্যা করা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনিকের দাবি, তাঁর বাড়ি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে। ঢাকায় তাঁরা পূর্ব রামপুরার ১৬৯/১৩/৩ নম্বর বাসায় থাকেন। তাঁর বাবার নাম রফিকুল ইসলাম।
তিনদিনের মাথায় দুটি ঘটনা। ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, এগুলা নিয়মিত ঘটে থাকে এবং আমরা এসব নিয়ে আর মাথা ঘামাই না।আমাদের মন্ত্রীগণ আমাদের বলে দেন দেশের আমাদের আইন-শৃঙখলা ভাল আছে, অটুট আছে। আমরাও তা অবোধ বালকের মতো বিশ্বাস করি।
কিন্তু আর কতদিন আমরা অন্ধ থাকবো? আমাদের জীবন কি এতটাই ঠুঁনকো? আমাদের ধৈর্য্য আর সহনশীলতার আর কত পরীক্ষা চলবে? থাইল্যান্ডের রেড শার্ট বা বিদ্রোহী তিউনিশিয়ানদের দেখে কি আমাদেরও শিরা জেগে উঠে না? আমরা কি পারি না এসব দানবদের চিরতরের জন্য ধ্বংস করতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

