আমরা জীবনের অনেক নিয়ম-কানুন বলে থাকি। অনেকে ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। কেউ একেশ্বরবাদী, কেউ ভাবেন একাধিক। অনেকে ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না, কেউ কেউ আবার সংশয় প্রকাশ করেন।
আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি এবং আমার ধারণা যে, মহান আল্লাহ্পাক আমাদের জীবন-পদ্ধতি রচনা করে রেখেছেন। আমরা তার রচিত গ্রন্থের মঞ্চায়ন করি মাত্র। অবশ্য, এই মঞ্চায়নে/অভিনয়ে পরিবর্তন আনতে পারি আমরা। এটা আমাদের ইচ্ছাধীন, আমি এটা বিশ্বাস করি।
ঈশ্বরে যারা বিশ্বাস করেন তাদের মধ্যে যাদের বিশ্বাস সঠিক, জগতে শুধু তাদেরই প্রভাব থাকার কথা ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞানে নাস্তিকগণ এগিয়ে আছেন। তার মানে কি ধরে নেব নাস্তিকদের বিশ্বাসই ঠিক!! আবার আছে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খৃষ্টান-যৈন-শিখ-ইহুদী ইত্যাদি। এদের মধ্যে যাদের বিশ্বাস সঠিক, ঈশ্বরের অনুকম্পা তাদেরই পাওয়ার কথা ছিল। আসলে ব্যাপারটা তা ঘটছে না। তার মানে তাদের কেউই কি সঠিক নয়!!! তাহলে কারা আসলে ঠিক!!! আসলে বলা যায়, যারা কাজ করবে তারাই টিকে থাকবে; ঈশ্বরের অনুকম্পায় নয়। মূলকথাঃ যোগ্যতমের জয়। মানে যে যত শক্তি অর্জন করবে সে টিকে থাকবে, ঈশ্বর ঠিক করে দেন না কে টিকে থাকবে।
এক ধর্মের লোক অন্যধর্মের লোককে খুন করলে নিহতের ঈশ্বর এসে খুনিকে খুন করেন না, বা খুনি ঠাডা পড়ে মরে না, অথবা ঈশ্বরে-ঈশ্বরে ঝগড়াও লাগে না।
আমি যদি ঈশ্বরে বিশ্বাস না করতাম তাহলে ভাবতাম অন্যভাবে। মানুষের জীবন ঈশ্বর কর্তৃক পরিচালিত নয়, বা তিনি নিয়ন্ত্রন করেন না। মানুষ/প্রকৃতিকে তিনি স্বাধীন করে দিয়েছেন। জীবন হচ্ছে একটা গাণিতিক ফর্মূলা, যার ভ্যারিয়েবলগুলো নিজেরাই পরিবর্তনশীল। y=f(x) সূত্রে আমরা x এর মান যেভাবে দেব, y এর মান সেভাবেই পাব। সুনামীর কথাই ধরুন, এটা ঈশ্বর কর্তৃক কোন অভিসাপ/গজব নয়। জাষ্ট y=f(x) এর মত ফল, এখানে x হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবর্তক আর y হচ্ছে সুনামী। ঠিক, আমরা জগতের তাপমাত্রা বাড়িয়ে চলেছি। এতে যদি ওজোন স্তর ফুটো হয়ে যায় এবং আমরা যদি গামা রশ্মিতে পুড়ে মরে যাই তাহলে একে ঈশ্বরের গজব বলতে পারি না।
কারো জীবন সবসময় এক সূত্রে চলে না। সময় এবং অবস্থার সাথে পরিবর্তন হয়। তবে সেটা অবশ্যই গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা যায়। এমনকি অনেকের জীবনের গতিবিধি একই গাণিতিক সূত্রে (একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, সময়ের সাথে পরিবর্তিত হবে) প্রকাশ করা যায়। মানুষ, প্রকৃতি(সুনামী/ভূমিকম্প/আবহাওয়া), পশু-পাখীসহ যেকোন জীব/জড়ের গতিবিধি/অবস্থা সবকিছুই গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা যায়।
একটা উদাহরণ দিলে বুঝতে সুবিধা হবে। যেমন ধরুন, আমি বাসা থেকে ক্যাম্পাসে আসব। সিম্পল গাণিতিক নিয়ম y = vt, ত্বরণ থাকলে y = vt + (½)at^2. এবার ধরুন, মাঝপথে কারও সাথে দেখা হলো। সেই দেখা হওয়ার ব্যাপারটা যদি z হয় তাহলে y = vt + at^2 + z. এবার z যদি t এর উপর নির্ভরশীল হয়, মানে সে কতক্ষন আমার সাথে কথা বলবে তাহলে y = vt + at^2 + z(t). এবার আমাদের কথা-বার্তার মাঝে আরেকজন এসে পড়লে আবার একটা ভ্যারিয়েবল যুক্ত হয়ে যাবে যা t এর উপর নির্ভরশীল। সেটা ধরে নিলাম p(t), তাহলে সমীকরণ দাঁড়ালো y = vt + at^2 + z(t) + p(t). এবার ধরুন বৃষ্টি এসে গেল, আমরা অপেক্ষা করলাম y = vt + at^2 + z(t) + p(t) + r(t). বৃষ্টির কারণে আমার আর ক্যাম্পাসে যাওয়াই হলো না, y = vt + at^2 + z(t) + p(t) + r(t) = 0.
এভাবে আপনি ঘটে যাওয়া ঘটনার গাণিতিক ব্যাখ্যা দিতে পারবেন, অথবা ভবিষ্যতে কি ঘটবে সেটাও বলতে পারবেন। তবে, আপনার কাছে যাবতীয় তথ্য থাকতে হবে এবং সকল মেকানিক্স জানতে হবে।
এবার আসছে ঈশ্বরে বিশ্বাস/অবিশ্বাসের প্রশ্ন। আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে, এইসব পরিবর্তন কেউ একজন করাচ্ছেন অথবা তিনি গতিবিধির এই ম্যাথেমেটিক্যাল রুল ঠিক করে দিয়েছেন তাহলে আপনি বিশ্বাসী, আর অবিশ্বাস করলে নাস্তিক।
ধন্যবাদ সবাইকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

