আমাদের দেশের একটা প্রচলিত কথন "স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেস্ত"। আমি জানি না কোত্থেকে ইহার উদয় হয়েছে। আমরা বাংলাদেশীরা মুসলিম বলে ধরে নেই ইহা ইসলাম ধর্মের কথা। কিন্তু ইসলাম ধর্মে এই জাতীয় কোন কথা বলা আছে কি-না আমি জানি না। ভারতীয় উপমহাদেশে "পতিদেব" বলে একটা কথা প্রচলিত আছে। পতিদেব মানে হলোঃ পতি দেবতাতুল্য। হিন্দু সমাজে স্বামীকে পুজাও করা হয়। যাইহোক, "পতিদেব" বা "স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেস্ত" এই কথন ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্ম এবং সমাজ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। অবাধ্য (!!!) স্ত্রীকে বশে আনতে এই কথন/নিয়মের ব্যবহার করা হয়। শুধু অবাধ্য নয়, স্ত্রী যদি তার বিবেচনায় সঠিকও থাকে তবুও এই নিয়ম জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয় স্ত্রীর উপর। এনিওয়ে, স্বামী নিজেই যদি জাহান্নামে যায় তাহলে তার পায়ের নিচে বেহেস্ত কেমনে থাকবে!!! একজন ভিক্ষুকের ভিক্ষা দেয়ার ক্ষমতা আছে কি-না একটু ভেবে দেখুন তো!!
গাইবান্ধার বিউটি খাতুন। তার ধারণা- স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেস্ত। এই ভ্রান্ত ধারণা ও স্বামীর চাপের কারণে বিউটি বাধ্য হন ভাড়া খাটতে। ভাড়া খাটা বলতে পতিতাবৃত্তি করেছেন বিউটি খাতুন। বিউটি বলেন, ‘আমি পতিতা নই। আমি আমার স্বামীর কথামতো কাজ করি। আমি মানুষের কাছে ভাড়া খাটি।’ তার স্বামীর নাম আবদুর রাজ্জাক প্রদীপ। তিনি তার স্ত্রীকে ১০ মিনিট থেকে ঘণ্টা, এমনকি রাতের জন্য অন্যের কাছে ভাড়া দেন। বিনিময়ে তিন বেলা ভাত আর কমিশন নেন তিনি। অভাবনীয় এ ঘটনা ঘটছে গাইবান্ধা শহরেই। ২০১০ সালের প্রথম দিকে বিয়ে করেন প্রদীপ। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী বিউটি (২০)-কে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাস করেন তিনি। তার নিজের কোন কর্ম নেই। তাই আবদুর রাজ্জাক আয়-রোজগারের পথ খুঁজতে থাকেন। অবশেষে স্ত্রীকে ভাড়া দেয়ার মতো অমানবিক সিদ্ধান্ত নেন। স্ত্রী বিউটি রাজি ছিলেন না। কিন্তু স্বামীর কথা না শুনলে সংসার ছাড়তে হবে। তাছাড়া তার ধারণা- স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত। এই ভ্রান্ত ধারণা ও স্বামীর চাপের কারণে বিউটি বাধ্য হন ভাড়া খাটতে। স্বামী রাজ্জাক নিজেও খদ্দের ধরে আনেন তার বাড়িতে। পরে স্ত্রীর কাছে থেকে কমিশন হিসেবে শতকরা ১০ টাকা নেন। বিউটি বলেন, আমি মানুষের কাছে ভাড়া খাটি। সে সময় স্বামী আশপাশেই থাকে। মানুষ সন্তুষ্ট হয়ে হয়তো আমাকে ১০০ টাকা দেয়। পার্টি বড় হলে তার বাড়িতেই যেতে হয়। তখন রেট একটু বেশি দিতে হয়। তার কথা, এতে কোন পাপ নেই। প্রতি রাতেই এভাবে তার উপার্জন হয় ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। আর স্বামী আবদুর রাজ্জাককে দিতে হয় ৩০ থেকে ৬০ টাকা। কমিশনের এই টাকায় চলে তার পান-সিগারেট খাওয়া। আর স্ত্রীর উপার্জন থেকে জোটে তিনবেলা খাবার আর কাপড় চোপড়। বছরখানেক আগে থেকে সে ভাড়া খাটলেও তার হাতে কোন টাকা জমা নেই। স্বামীকে না জানিয়ে পানদোকানির কাছে কিছু জমা করছেন নিজের ভবিষ্যতের জন্য। বিউটি জানান, স্বামীর এমন রুচির কারণে তার প্রতি ঘৃণা ধরে গেছে। কিন্তু কোথায় যাবে? কে তাকে আর স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলে নেবে? আবদুর রাজ্জাক জানায়, আমি বিউটিকে বিয়ে করেছি এক বছর আগে। শুনেছি আগে থেকেই বিউটি খারাপ স্বভাবের। বিউটির শাশুড়ি বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তাই ছেলে ও ছেলের বউকে আলাদা করে দিয়েছেন সংসার থেকে।
সূত্রঃ মানবজমিন
ধন্যবাদ সবাইকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



