somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনেক আগে লেখা একটি গল্প

১০ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইশকপাল

রিফাত ওর কপালকে সবসময় ইশকপাল বলে। সব সাফল্যই ওর কপাল ছুঁয়ে যায়; কিন্তু কখনো কপালে লাগে না। তখন আপনাআপনিই মুখ থেকে বেরিয়ে আসে : ইশ, আমার কপালটাই বুঝি এমন!
লটারিতে সবসময় ওর সিরিয়ালের ঠিক আগেরটা অথবা পরেরটা লেগে যায়। সবগুলো পরীক্ষায় ওর নম্বর পাঁচশো নব্বইয়ের ওপরে। সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পোস্টে মুর্তাজা ওর চেয়ে খারাপ ছাত্র হয়েও টিকে গেলো। কিন্তু ওর হয়নি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে। ভাইভা বোর্ডের সামনে বসে টাই ঠিক করার কারণে না কি ওকে বাদ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ইশ বলা ছাড়া আর কীই বা করার থাকে? ঐদিন ছিলো ওর জীবনে দ্বিতীয়বার টাই পরা। প্রথমবার পরেছিলো বড় ভাইদের অনুরোধে সোনারগাঁ হোটেলের একটা মেলার স্টলে কাজ করার কারণে।
তবে একটা জায়গায় এসে ওকে ইশ বলা লাগবে না বলে ওর ধারণা। সেটা হলো নার্গিসকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে। রূপ, শরীর, মেধা, গুণ, ব্যক্তিত্ব—সবকিছুই নার্গিসের মধ্যে আছে। রিফাতের চেয়ে হিসাবে কিছু টাকা বেশি বেতন পায় নার্গিস। এরপরও কোনোদিন এমনটা বলতে হয়নি, আজ বৃষ্টি হচ্ছে; ইলিশ-খিচুড়ির অর্ডার দিলে ভালো হতো।
এটা আবার প্রকাশ্যে কখনো স্বীকার করতে যায় না ও। অন্য অনেক পুরুষের মতো ওরও ধারণা হলো এমনটা করলে পরে স্ত্রীর অহঙ্কার বেড়ে যাবে।
বরং নার্গিসই মাঝেমধ্যে মনে করিয়ে দেয় : এটা ভেবো না যে, তুমি পছন্দ করেছিলে বলে বিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে যাচ্ছে। আমি পছন্দ করেছিলাম বলেই ঘটনা এগুচ্ছে। দেখতে যাওয়ার দিন আমি ‘না’ বললে কি হতো কিছু?
: আমি না বললে হতো বুঝি?
: তুমি কখনো না বলতে পারতে না।
রিফাতও সেটা জানে। তারপরও জেতার জন্য বলে : শোনো হে সুন্দরী, কালো ছেলেদের বৌ বেশিরভাগই সুন্দর হয়; আর সুন্দর ছেলেদের বৌ বেশিরভাগ কালো না হলেও শ্যামলা হয়।
এ কথা শুনেই যে নার্গিস দমে যাবে, এমনটা নয়। কথাটা শুনে রাখবে এবং ঠিক সময়মতো এর জবাবটা দিয়ে দেবে। আর সেই জবাবের উৎস হলো ওর পড়া প্রচুর পরিমাণ বই। এই মেয়ে বেতনের অর্ধেক খরচ করে বইয়ের পেছনে। প্রতিদিন তার সাধারণ মাপের একটা বই শেষ করা চাই।
রিফাত অবশ্য মাঝেমধ্যে খোঁচা মেরে বলে : এত বই পড়ছো, কোনো গবেষণা তো দাঁড় করাতে পারলে না।
: তোমার সংসারে যখন যাবো, তখন আর বই কিনবো না। সেই সময় তুমি কিনে দিও। আমার টাকা দিয়ে শুধু শাড়ি-গয়না কিনবো।
রিফাত চুপ মেরে যায় এ কথা শুনে।
একই ওফিশে চাকরি করার সুবাদে দুজনের কথা বলতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। ইন্টারকমে কথা বললে পাশেরজন শুনে ফেলবে বলে ডেস্কটপ শেয়ার করে নীরব কথাবার্তা চালায় ওরা। সেটাও অবশ্য বেশিক্ষণ চলতে পারে না। নার্গিস বলে ফেলে : এখন এত কথা বললে তো সব কথা ফুরিয়ে যাবে।
: এখন কথা না বললে আর কথা বলার সময় হবে না কি? তখন তো সবই হবে সংসারের সাধারণ কথা।
: এখন কি খুব অসাধারণ কথা বলছো?
: অসাধারণ না হলেও দরকারী।
: তোমার দরকার নিয়ে তুমি থাকো। আমার আরো দরকারী কাজ আছে। কেটে দিলাম কানেকশন।
: আরে শোনো শোনো। আসল কথাটাই বলা হয়নি। ভাইয়া আমাকে বলেছেন কার্ড করতে। একই ডিজাইন হবে দুই কার্ডের। আমি চাচ্ছি তুমি ডিজাইনটা পছন্দ করে দাও।
বড় ভাই সিফাত রিফাতের চেয়ে ছয় ঘণ্টার বড়। জন্মের পর থেকেই ওদের আব্বা-আম্মা দুই ছেলের জন্য সব আয়োজন করেছেন একই ধরনের। বিয়েটাও তাই একই দিনে হচ্ছে। একই সময়ে, একই বৈঠকে।

কাজী যখন লেখা শেষ করে ফেলেছেন প্রায়, ঠিক সেই মুহূর্তে হৈ চৈ বাধালেন নার্গিসের ছোট মামা। তিনি জানিয়ে দিলেন, রিফাতের কাবিননামায়ও সিফাত লেখা হয়েছে।
সবাই বললো : এটা তো কোনো ব্যাপার না। একটা অক্ষর কেটে ঠিক করে নিলেই চলবে।
কিন্তু সই করানোর জন্য কাবিননামা নার্গিসের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন নার্গিস কলমটা ছেড়ে দিয়ে মৃদু কিন্তু অনড় উচ্চারণে বললো : না।
হৈ চৈ আরো বেড়ে গেলো। নার্গিসকে বোঝানোর জন্য সবাই উঠেপড়ে লাগলো। কিন্তু রিফাত জানে, এই ‘না’ কখনো ‘হ্যাঁ’ হওয়ার নয়।
রিফাত এই প্রথম নিজের জন্য ‘ইশ’ শব্দটা উচ্চারণ করলো না।

অপরিপক্কতা মার্জনীয়। পরিমার্জিতভাবে ঢাকা ডাইজেস্টে প্রকাশিত হয়েছিলো। কিন্তু সেই কপি আমার কাছে নেই। পুরনো কাগজপত্র ঘেঁটে এই খসড়া পেলাম।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×