1. আমার অত্যন্ত স্নেহের ছোট ভাই, বাংলাদেশী ফ্রেন্ডস ইয়াহূ গ্রুপ এর ফাউন্ডার ও মডারেটর, এই ব্লগের একজন ব্লগার এবং ভূঁইয়া ইনস্টিটিউট এর কম্পিউটার সায়েনসে অধ্যয়নরত সঞ্চয় এর বেসরকারি ব্যাংকে উচ্চ পদে চাকুরি থেকে অবসর প্রাপ্ত পিতা গত বুধ বার আমাদেরসবাইকে ছেড়ে চির নিদ্রায় শায়িত হন (ইন্নালিল্লাহে........ রাজেউন) । বেশ কয়েকবার অসম্ভসহজ-সরল ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্নএই আংকেলের সাথে আমার শুধু মাত্র টেলিফোনেই কথা হয়েছে । সব সময়, বার বার আংকেল তার বাসায় আমাকে যাওয়ার আমন্ত্র জানালেও সময়াভাবে তার অনুরোধ রা করতে পারিনি। ।এ জন্য আমার মাঝে যে কেমন অপরাধবোধ কাজ করছে তা লে বুঝাতে পারছিনা!
জীবনের প্রথম এবং শেষবারে মত গত বুধবার তার পবিত্র মরদেহ আমাকে দেখতে হয়েছিল । এই শ্রদ্ধেয় আাংকেলের দাফন পর্ব পর্যন্ত উপস্থিত থাকতে পেরে মহান রাব্বূল আলামিনের কাছে শতসহস্র শোকরিয়া।
2. আমার খুবই ক্লোজ ফ্রেন্ডস সবুজ। তার চাচাতো ভাই শামীম দীর্ঘ ছয় বছর পর ফ্রানস থেকে বাংলাদেশে আসছেন বলে আংকেল (শামীমের পিতা) দেশের বাড়ি ফেনী থেকে জিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টেআসে শামীমকে গ্রহন করতে গত বৃহস্পতি বার সকাল দশটায় । শামীম ঢাকায় এয়ারপোর্টে পৌঁছার পর স্বাভাবিক নিয়মে মিলন পিতা-পুত্রের ঘটে। এর মাত্র আধা ঘন্টা পর শামীমের পিতা মানে আমাদের আংকেল (সম্ভবতঃ হার্টফেইল করে) এই দুনিয়া র মায়া ত্যাগ করে (ইন্নালিল্লাহে........ রাজেউন) , আমাদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে পরপারের বাসিন্দা হন।
3. দীর্ঘ পনের বছর পর গত বৃহস্পতি বার বিকালে দেখা হল আমার সহপাঠি সাইদুলের সাথে। স্কুল জীবনে আমরা দুজন ছিলাম ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সবচেয়ে মেধাবী, পড়ালেখায় একে অপরের প্রচন্ড প্রতিপক্ষ (রোল নাম্বার সাইদুল এক না হয় আমি এক করতাম, মানে আমরা দুজনে রোল নাম্বার বরাবরই এক দুই করতাম।)। একে অপরকে কাছে পেয়ে আমরা দুজনই আবেগে আপ্লুত হয়ে যাই।
এক সময় জানতে পারি সাইদুলে পিতা মাত্র এক মাস হল পরলোকগত হয়েছে (ইন্নালিল্লাহে........ রাজেউন) । একে একে শোকাহত আমি সাইদুলকে সেদিন কোন শান্তনা দিতে পারিনি। বুঝতে পারলাম না----শোক সংবাদটি শুনার কিছুক্ষন পরে দেখি উলটা সাইদুলই আমাকে শান্তনা দিচ্ছে! একসময় আমার চোখ ঝাপসা হয়ে যায়।
4. রানা গমেজে র সাথে আমার ফ্রেন্ডশীপ দুই বছর গত হল যদিও তার আর আমার গ্রামের বাড়ি একই জেলায় একই থানায় (ঢাকার নবাব গঞ্জ) পাশাপাশি গ্রামে।
ধর্মে আমরা মুসলমান ও খ্রিস্টান হলেও আমাদের সম্পর্ক খুবই গভীর। ধর্ম নিয়ে কখনো আমাদের বাড়াবাড়ি নেই। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির প্রয়োজনীয়তা আছে বলেও আমাদের মনে হয় না।
গত বৃস্পতি বার রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি রানার মা মানে আন্টি এই সুন্দর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন দুইদিন আগে (ইন্নালিল্লাহে........ রাজেউন) । মাত্র তিন মাস আগে রানা তার বাবাকে হারিয়েছন (ইন্নালিল্লাহে........ রাজেউন) এই পরিস্থিতিতে আন্টির মৃত্যু অবিবাহিত এবং পিতা-মাতার এক মাত্র সন্তান রানার জীবনে সত্যিই অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।
আমি সঞ্চয়, শামীম, সাইদুল ও রানার সাথে শোকাহত। আমি তাদের পিতা-মাতার বিদেহী আত্মার মঙ্গল কামনা করি।
সবাইকে অনুরোধ করব আপনারা সঞ্চয়, শামীম, সাইদুল ও রানার পিতা -মাতার আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করবেন। নিশ্চয় মহান আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



