সুন্দর হওয়ার ইচ্ছা কমবেশি সবারই আছে। কিন্তু কিভাবে সুন্দর থাকা যায সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় অনেকেই শুধু ত্বক, চুল ইত্যাদি শরীরের বাইরের প্রত্যঙ্গগুলোর যত্ন করেন এবং সিস্নম হওয়ার বাসনায় অপরিকল্পিতভাবে খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দেন। এভাবে দীর্ঘস্থায়ী সৌন্দর্য অর্জন করা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় বয়স ধরে রাখা। বেশি বয়সেও চমৎকার ফিগার ও কমনীয় সৌন্দর্যের অধিকারী হতে চাইলে কয়েকটি বিষয় গুরম্নত্বের সঙ্গে মেনে চলতে হবে_
০ উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস
০ কিছু বদাভ্যাস বর্জন
০ ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম
০ জটিল জীবনযাপন থেকে মুক্তি এবং মানসিক উৎফুলস্নতা
০ নিয়মিত শারীরিক চেকআপ।
উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস
শারীরিক বৃদ্ধির সময় (২৫ বছর) পেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, বিশেষ করে যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন না, কারণ সাধারণত এ সময় থেকেই অর্থাৎ পঁচিশের পর থেকেই খাবার এবং কাজের (অপঃরারঃু) সমন্বয় না থাকলে শরীরে মেদ জমতে থাকে। তাই এ সময় থেকেই খাওয়া-দাওয়ায় সাবধানী হওয়া ভাল। যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন না তাদের প্রচুর পরিমাণে স্বল্প ক্যালরি সম্পন্ন খাবার যেমন শাকসবজি, ফল ইত্যাদি খেতে হবে। উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার যেমন_শর্করা, আমিষ ও বিশেষত তৈলাক্ত খাবার খুবই পরিমিতভাবে গ্রহণ করতে হবে। অতিরিক্ত ক্যালরি মেদ হয়ে শরীরে জমা হয়ে স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যহানি করে। রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও উচ্চরক্তচাপের মতো মারাত্মক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক বিশ্বে এইসব রোগ অল্প বয়সে মৃতু্যর অন্যতম কারণ।
বদাভ্যাস বর্জন
ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপানসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রাগে আসক্তি শরীরের স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রসত্ম করে। এসব অভ্যাস দৈহিক সৌন্দর্য নষ্ট তো করেই অকাল বার্ধক্য ডেকে এনে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকাকেই প্রায় অনিশ্চিত করে তোলে। তামাক ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। মদ্যপান হৃদরোগ, লিভার ডিজিজ ইত্যাদি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। মাদকাসক্ত এইডস, হেপাটাইটিস বি ইত্যাদি রোগের কারণ।
ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম
নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম ঈর্ষণীয় ফিগারের পাশাপাশি বার্ধক্যকে ঠেকিয়ে রাখবে অনেক দিন, সুস্থ তো রাখবেই। রক্তের কোলেস্টেরল কমানো, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, হাড়, মাংস ও অস্থি সন্ধির সক্রিয়তা বজায় রাখা, হাড়ের ৰয় রোধ করা, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, যৌন ৰমতা বজায় রাখাসহ বহু উপকারী প্রভাব রয়েছে নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রমে।
মানসিক শানত্মি ও সরল জীবনযাপন
হাসিকে বলা হয় জীবনের টনিক, যে প্রচুর হাসতে পারে সে নাকি দীর্ঘজীবী হয়। কথাটা একদিক থেকে সত্য। কারণ দুশ্চিনত্মা, টেনশন, অনিশ্চয়তা বোধ এবং জটিল ও অস্থির জীবনযাপন থেকে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হৃদরোগ, পেটের আলসার, মাংসপেশির ব্যথা, চুল পেকে যাওয়া, মানসিক রোগসহ অনেক রোগের জন্ম দিতে পারে। মানসিক শানত্মি ও সরল জীবনযাপন অনেক অসুস্থতা থেকে শরীরকে মুক্ত রাখে। স্বাভাবিকভাবেই শরীর হয় সজীব, সুন্দর সুঠাম।
নিয়মিত শারীরিক চেকআপ
ক্যান্সার হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ অনেকগুলো মারাত্মক রোগ নিয়মিত স্বাস্থ্য চেকআপের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে। এতে করে শরীরের যথেষ্ট ৰতির আগেই এদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং অকাল বার্ধক্য ও মৃতু্যরোধ করা যায়। উলেস্নখিত রোগগুলোর যে কোনটিই নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় থাকলে শারীরিক সৌন্দর্যের হানি ঘটে এবং ত্বক ও বাহ্যিক সৌন্দর্যে এর প্রভাব অনিবার্যভাবেই পড়ে। সুতরাং মধ্য বয়স (৪০ বছর) থেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য চেকআপের মধ্যে থাকা সুস্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের জন্য অপরিহার্য।
আসলে স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য পরস্পর নিবিড়ভাবে জড়িত। সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হলেই সৌন্দর্য নিজস্ব দু্যতি পায়। তাই দীর্ঘদিন সুন্দর থাকতে চাইলে এ বিষয়গুলো মেনে চলুন।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যেসব
পরিবর্তন হয়
সুস্থ ও সাবলীল দীর্ঘ জীবন কিভাবে হতে পারে তা নিয়ে মানুষের মনে যেসব প্রশ্ন রয়েছে তারমধ্যে অনেকগুলোর উত্তর জানা হয়ে গেছে আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে। অদূর ভবিষ্যতে মানুষ হয়ত জীবন ও যৌবনের ব্যাপ্তি বহুগুণ বাড়তে পারবে। কিন্তু ইতোমধ্যেই বিজ্ঞান যেটুকু এগিয়ে গেছে তা মানুষকে নীরোগ দীর্ঘ জীবন লাভের অনেক পথ বাতলে দিতে পারে।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে যেসব পরিবর্তন হতে থাকে সেগুলো এরকম_
মসত্মিষ্কের কার্যৰমতার পরিবর্তন : মনযোগ, চিনত্মন ও ভাষণ প্রভৃতির ৰমতার কোন পরিবর্তন না হলেও ২০-এর পর থেকে তথ্য গ্রহণের ৰমতা খুব অল্প অল্প করে কমতে থাকে।
চুল ও ত্বকের পরিবর্তন : চুল পড়ে যাওয়া এবং ত্বকের নিচে মেদ কমে গিয়ে কুঁচকে যাওয়ার কথা আমরা সবাই জানি। ৩০-এর পর থেকে খুব ধীরে এই প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়। পঞ্চাশ বছরের পর এই পরিবর্তনের গতি দ্রম্নত হয়।
দৃষ্টিশক্তি : পঞ্চাশ বছরের মধ্যেই চোখের লেন্স স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে শক্ত হয়ে যায়, তখন কাছের জিনিস পড়ার জন্য চশমার প্রয়োজন হয়। এ সময় লেন্স কিছুটা ঘোলা হওয়ার কারণে রাতের বেলার দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।
শ্রবণশক্তি : বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কানের পর্দা পুরম্ন হতে থাকে এবং কানের ভেতরের শ্রবণ নালীগুলো শুকিয়ে যেতে থাকে ফলে স্পষ্ট শোনা ও উচ্চগ্রামের শব্দ শোনার ৰেত্রে অসুবিধা হতে থাকে। ষাটের কাছাকাছি গেলেই এসব সমস্যা দেখা দেয়।
হৃৎপি-ের কার্যৰমতা : বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হৃৎপি-ের কার্যৰমতা কমে যায়। ২০ বছর বয়সে হৃৎপি-ের ৰমতা থাকে সর্বোচ্চ। ৭০ বছর বয়সে তা শতকরা ২৫ ভাগ কমে যায়।
দীর্ঘ পরিশ্রম করার ৰমতা : এ ব্যাপারটি হৃৎপি-ের ৰমতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ৭০ বছরের ব্যক্তির শারীরিক পরিশ্রম করার ৰমতা ২০ বছরের ব্যক্তির অর্ধেক।
শরীরের মেদ : বয়স ২৫ থেকে ৭৫ পর্যনত্ম গেলে অন্যান্য কলার তুলনায় মেদময় কলা বাড়ার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়। এই মেদের অনেকটাই জমা হয় মাংসপেশি ও অন্যান্য অঙ্গে। এর ফলে ফিগার বেঢপ হয়ে যায়। অতিরিক্ত মেদ এবং ওজন শরীরে আরও অনেক সমস্যার জন্ম দেয়।
মাংস ও হাড়ের পরিবর্তন : বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি ছোট ও দুর্বল হতে থাকে। তবে নিয়মিত ব্যায়াম বা কঠোর কায়িক পরিশ্রম যারা করেন তাদের ৰেত্রে এটি কম হয়। হাড়ের ৰয় সবার বেলাই ঘটে। বেশি বয়সে এবং মেয়েদের ৰেত্রে ব্যাপকভাবে শুরম্ন হয় মেনপজে বা ঋতু বন্ধের পর।
যৌন ৰমতা : বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পুরম্নষ ও নারীর যৌন ৰমতা এবং যৌন আকাঙ্ৰা কমতে থাকে। পুরম্নষের ৰেত্রে ৩০ বছর বয়সে যৌন সংসর্গ সবচেয়ে বেশি হয় এবং সত্তর বছর বয়সে তা অনেক কমে আসে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



