তার এলোমেলো চুল মেঝেতে ছড়িয়ে আছে। সেদিকে তার দৃষ্টি শূন্য। তীব্র বেদনাকাতর হৃদয়ে সে ভুলে গেছে কাঁদতে। শুধু ভেসে উঠে অভিমানে রাত জেগে কাদার শত স্মৃতি।
সারারাত কান্নার পর পরেরদিন সকালে সে প্রিয়জনের পাঠানো মেসেজগুলো
একে একে পড়ত আর ঠোটের এক কোনায় তার ভেসে উঠত মৃদ্যু হাসি। কিছু মুহূর্ত গোড়াতে না গোড়াতেই ভেসে উঠত মোবাইলের চিরচেনা রিংটোন। বড্ড অবুঝমাখা তার কন্ঠ। আর অপরদিকে প্রিয়জনের ব্যাকুল চেষ্টা। মন তখোন বলে উঠত ভালবাসি তোমায় ভালবাসি। বিকালবেলা প্রিয়জনের অনুরোধে কপালে কালো টিপ আর চোখের কাজলে চলে যেত পরিচিত সেই স্থানে। যেখানে স্বপ্নের মানব তার অপেক্ষায় বসে থাকত।
আজ আর সেই দিন নেই। বহুবার মনের গহীনে প্রশ্ন করেছে নীলা কিন্তু পায়নি তার উত্তর। সে এখোন নির্বাক। তার জীবনচলা হঠাৎ থেমে গেছে। প্রিয়জনের মুখ নি:সৃত কথা তার কানে এখোন আর পৌছায় না। তার চন্ঞল হৃদয় হয়ে উঠেছে এখোন স্থির।
বৃষ্টিমাখা এক বিকালে তার প্রিয়জন তার হাতে তুলে দিয়েছিল একটি লাল গোলাপ সাথে নীল খামের ছোট্ট একটি চিঠি। এরপর কাটতে থাকে ভালবাসার এক একটা রঙ্গিন দিন। ওফ্ আর ভাবতে পারছে না নীলা। চোখ দিয়ে তার জল গড়িয়ে পড়ছে। সে জানে না তার এই কান্না কখোন থামবে, কখোন সমাপ্ত হবে তার হাজারো প্রশ্নের ছুটে চলা। সে জানে না তার কি ছিল ভুল কেনই বা তার সাথে প্রেমিকের এই ছলনা। গতকাল মেঘাচ্ছন্ন সন্ধায় প্রিয়জন তাকে জানায় , ভালবাসা নামক শব্দটি নীলার জন্য তার হৃদয়ে কোনদিন স্থান পায়নি। এতদিনের চলে যাওয়া সকল ঘটনা ছিল তার কাছে নাকি একটি ছোট্ট অভিনয়। নীলা অবাক, সে ভাবেনি কখনো এমন হবে। সে জানে প্রিয়জনের কাছে ঘটে যাওয়া ভালবাসার অভিনয় ছোট হলেও তার কাছে তা অনেক বড়। আকাশের ঐ লক্ষ লক্ষ তারাগুলো এক হলেও ঘটে যাওয়া এই অভিনয়ের সমান হবে না।
চাঁদের আলো আরো বেড়ে চলছে। নীলার সুশ্রী মুখ তাতে ফুটে উঠেছে। মুহূর্ত এখোন শেষ রাতের মাঝমাঝি, তখোনও সবাই ঘুমের রাজ্যে। নীলার অবিরত বেদনা জল হয়ে বেয়ে পড়ছে। তার কোমল হৃদয়টিকে দু:খ নামক কলঙ্ক ধীরে ধীরে জড়িয়ে ধরেছে। এত কিছুর পরও প্রিয়জনের প্রতি তার নেই কোন ক্ষোভ নেই কোন দাবি।
হয়ত একেই বলে ভালবাসা, একেই বলে না পাওয়ার সুখ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

