(ভাষাভিত্তিক কোন ভুল থাকিলে অনুগ্রহ করে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন )
মেঘের সুর সেই কখোন থেকেই বাজিয়া চলিল ।বৃষ্টির যাত্রা নামি নামি করিয়াও হইল না ।খানিকটা প্রহর কাটিয়া গেল ।অকস্মাৎ ঝুমঝুম শব্দে বৃষ্টি নামিল । আমি শুনিবামাত্র ছুটিয়া চলিলাম বারান্দার কোনে ।হস্ত দুখানা বাড়ায়ে দিলাম খোলা আকাশের পানে । বৃষ্টির খানিকটা ফঁোটা আসিয়া আমার হস্তখানা ভিজায়ে দিল ।জল ধরিবার বৃথা চেষ্টা করিতে লাগিলাম ।হঠাৎ কলিংবেল বাজিয়া উঠিল । সুন্দর মুহূর্ত ছাড়িয়া যাইতে ্ইচ্ছা করিল না । আগের মতোই দাড়ায়ে রইলাম । আবার বেল বাজিল, বাধ্য হইয়াই ছুটিয়া চলিলাম দরজার দিকে । মনে ভাবিলুম এই অসময়ে কাহারো তো আসিবার কথা ছিল না ।দরজার ফাঁকখানা দিয়া তাকাতেই রীতিমত চমকে উঠিলাম । কাক ভেজা হয়ে কে যেন দাড়ায়ে । চিনিতে পারিলাম । পথের ধারের সেই ছেলেটি । কিন্তু ভাবিয়া কুল পাইলাম না সে কেমন করিয়া জানিল আজ গৃহে কেউ থাকিবে না । আবার বেল বাজিল, বড্ড বিরক্ত হইলাম । দরজা খুলিবার ইচ্ছা হইল না । বেল বাজিয়াই চলিল । চোখেমুখে বিরক্তির রেখা ফুটায়ে দরজা অবশেষে খুলিলাম । খুলিয়া জানতে চাইলাম জনাব কি চাই আপনার ? আমায় যে জ্বালায়ে মারছেন । সে পলক ফেলিবার কথা ভুলিয়া আমায় একদৃষ্টিতে দেখিতে লাগিল । এবার ধমকের সুরে বলিয়া উঠিলাম কিছু বলিবার না থাকিলে দয়া করে চলিয়া যান । সে ভিজা বিড়ালের মতো হইয়া মিনতির সুরে বলিয়া উঠিল গৃহে কি ডুকিতে বারন আছে ।আমাকে পাশ কাটায়ে চেয়ার টানিয়া বসার ঘরটায় বসিয়া পড়িল । ভাবখানা এমন যেন সে তার ঘরে বসিয়াছে । সে এবার বলিল অতিথিকে চা খাওয়ানোর নিয়ম নেই বুঝি । আমি রান্না ঘরে পা বাড়ায়ে আবার ফিরিয়া আসিলুম ।চা খাওয়া হইলেই আপনার বিদায় হওয়া চাই বলিয়া রাখিলাম । সে নিশ্চুপ হইয়া কি যেন ভাবিতে লাগিল । চা বানায়ে টেবিলে রাখিলাম । সে কাপখানা তুলিয়া বলিল, তোমার চা খাওয়া নিষেধ বুঝি ? জনাব কথা না বাড়ায়ে জলদি খেয়ে চলুন । তাড়া কিসের ভাত কি চুলায় গড়িয়ে পড়ল । আগুন না হয় কমিয়ে দিয়ে আসো । মশ্করা করিবেন না মশাই, আপনার ভাল করিয়াই জানা আছে আমি আপনায় সহ্য করিতে পারিতাম না । এখোন করো বুঝি ? জনাব এবার উঠিয়া পড়ুন । কেন? কোথাও নিয়া যাবা নাকি ? দরজা খুলিয়া দিলাম দয়া করে বাহির হইয়া পড়েন । সে কি ! কথা যে অনেক বাকী শুরুই তো হল না । শুরু করিবার প্রয়োজন বোধ করি নাই । তুমি ভাল করিয়াই জানো আমি তোমায় পছন্দ করি । জানি বৈ কি। তা যে প্রচন্ড মাত্রায় তাহা জানিবার বাকি আছে । জনাব জানিয়া লাভ কি? আপনার পছন্দ করা যে আমার কাছে যাতনাময় । তাহা আমি জানি। তোমার চলিবার পথে আমি দাড়ায়ে রোজ থাকি। কিন্তু কোনওদিন তো পথ আটকে রাখিনি, এমনকি কথাও তো বলিতে চাহিনি । কথা তাহাকে শেষ করিতে দিলাম না। বলিলাম, আজ কেন বলিতে চাহিলেন? কেহ গৃহে আসিয়া পড়িলে কেলেঙ্কারির যে বিন্দুমাত্র বাকি রহিবে না বুঝিতে পারিতেছেন? দয়া করে কাটিয়া পড়ুন । যাবো বৈ কি। আমার জানিবার বাদ নেই যে তোমার ঘরের লোকজন কখোন আসিবে । তাহাদের আসিবার আগেই আমি প্রস্থান করিব । সে আরাম করিয়া আরো আসন পেতে বসিল । বুঝিবার দায় কখোন যে তার সময় হইবে । আমার আর সহ্য হইল না । চিৎকার করিয়া বলিলুম এখুনি আপনার যাওয়া চাই। ওতো চেচিয়ো না সুশ্রী কন্ঠ যে তোমার মলিন হইয়া যাইবে । হাতের কাছেই টেবিলে সাজিয়ে রাখবার ফুলদানিটা তুলিয়া নিলুম। সে গুনগুনিয়ে নিজ মনে কি জানি বলিতে লাগিল । আমি ফুলদানিটা ছুড়িয়া মারিলাম। তাহা তার কপালে লাগিয়া ক্ষতের সৃষ্টি হইল। সে কপাল চাপড়াইয়া ধরিল । রক্ত গড়ায়ে পড়িতে লাগিল । আমি বুঝিবার পারিলাম না হঠাৎ করিয়া কি যে করিয়া বসিলাম । ভয় পেয়েও গেলাম । সে তখনো স্থির, যেন সে সব আগেই জানিত । কাপড় বাধিবার জন্য উঠিতে গেলে সে বারন করিল । কোমল সুরে বলিয়া উঠিল এতটা অপছন্দ করবার বস্তু আমি নহে । আমায় তুমি চিনিতে আজও বোধ করি পারোনাই । শুধু জানিয়া রাখো সেই দিন থেকেই তোমাকে জানিবার দাড়ি-কমা পর্যন্ত বাদ রাখিনি , যেইদিন নাগাদ তোমাকে ভাল লাগিতে শুরু হইয়াছিল । তুমি আমায় প্রচন্ড ঘৃনা কর তাহা ভাল করিয়াই আজ বুঝিতে পারিলুম । তখনো তাহার কপাল বেয়ে রক্ত পড়িতেছে। আমি বলিলাম, রক্ত যে পড়িয়া চলিল । সে আমার একখানা হস্ত ধরিয়া বসিল । আমি হাতখানা ছাড়িবার চাইলাম , সে ছাড়িল না , তাহার উপর নিজ হস্তখানা রাখিয়া জামার পকেটে অপর হাত ডুকায়ে কি যেন খুঁঁজিতে লাগিল । ভয়ে আমার গা শিউরে উঠিল । দেখিতে পাইলুম সে একখানা ছুড়ি বের করেছে । আস্তে আস্তে তাহা নিজ হাতের নিকটে নিতে লাগিল । ভয়ে আমার দম আটকে আসিল। তার হাতে ছুড়িখানা বসিবার দেখা মাত্রই বলিয়া উঠিলাম না, এমনটি করিবেন না । আমি আপনায় সত্যিই বুঝিতে পারিনাই । আজ বুঝিলুম। আমি কোন প্রমান চাহিনে । আমি কেবলি আপনার মত করে নিজেকে হওয়াইতে চাই । কথাগুলো বলিবা মাত্রই লক্ষ্য করিলাম আমার চোখে জল পড়িতে লাগিল । সে হাত সরাইয়া বলিল সার্থক হয়িলাম । আজ বলিবার আরও যে বাকি আছে আমি তোমায় বড্ড ভালবাসি । এবার যাওয়ার সময় হইল । আমি চলিলুম ভালো থাকিবার কামনা রহিল ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

