somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পথের ধারের সেই ছেলেটি

০৬ ই অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


(ভাষাভিত্তিক কোন ভুল থাকিলে অনুগ্রহ করে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন )

মেঘের সুর সেই কখোন থেকেই বাজিয়া চলিল ।বৃষ্টির যাত্রা নামি নামি করিয়াও হইল না ।খানিকটা প্রহর কাটিয়া গেল ।অকস্মাৎ ঝুমঝুম শব্দে বৃষ্টি নামিল । আমি শুনিবামাত্র ছুটিয়া চলিলাম বারান্দার কোনে ।হস্ত দুখানা বাড়ায়ে দিলাম খোলা আকাশের পানে । বৃষ্টির খানিকটা ফঁোটা আসিয়া আমার হস্তখানা ভিজায়ে দিল ।জল ধরিবার বৃথা চেষ্টা করিতে লাগিলাম ।হঠাৎ কলিংবেল বাজিয়া উঠিল । সুন্দর মুহূর্ত ছাড়িয়া যাইতে ্ইচ্ছা করিল না । আগের মতোই দাড়ায়ে রইলাম । আবার বেল বাজিল, বাধ্য হইয়াই ছুটিয়া চলিলাম দরজার দিকে । মনে ভাবিলুম এই অসময়ে কাহারো তো আসিবার কথা ছিল না ।দরজার ফাঁকখানা দিয়া তাকাতেই রীতিমত চমকে উঠিলাম । কাক ভেজা হয়ে কে যেন দাড়ায়ে । চিনিতে পারিলাম । পথের ধারের সেই ছেলেটি । কিন্তু ভাবিয়া কুল পাইলাম না সে কেমন করিয়া জানিল আজ গৃহে কেউ থাকিবে না । আবার বেল বাজিল, বড্ড বিরক্ত হইলাম । দরজা খুলিবার ইচ্ছা হইল না । বেল বাজিয়াই চলিল । চোখেমুখে বিরক্তির রেখা ফুটায়ে দরজা অবশেষে খুলিলাম । খুলিয়া জানতে চাইলাম জনাব কি চাই আপনার ? আমায় যে জ্বালায়ে মারছেন । সে পলক ফেলিবার কথা ভুলিয়া আমায় একদৃষ্টিতে দেখিতে লাগিল । এবার ধমকের সুরে বলিয়া উঠিলাম কিছু বলিবার না থাকিলে দয়া করে চলিয়া যান । সে ভিজা বিড়ালের মতো হইয়া মিনতির সুরে বলিয়া উঠিল গৃহে কি ডুকিতে বারন আছে ।আমাকে পাশ কাটায়ে চেয়ার টানিয়া বসার ঘরটায় বসিয়া পড়িল । ভাবখানা এমন যেন সে তার ঘরে বসিয়াছে । সে এবার বলিল অতিথিকে চা খাওয়ানোর নিয়ম নেই বুঝি । আমি রান্না ঘরে পা বাড়ায়ে আবার ফিরিয়া আসিলুম ।চা খাওয়া হইলেই আপনার বিদায় হওয়া চাই বলিয়া রাখিলাম । সে নিশ্চুপ হইয়া কি যেন ভাবিতে লাগিল । চা বানায়ে টেবিলে রাখিলাম । সে কাপখানা তুলিয়া বলিল, তোমার চা খাওয়া নিষেধ বুঝি ? জনাব কথা না বাড়ায়ে জলদি খেয়ে চলুন । তাড়া কিসের ভাত কি চুলায় গড়িয়ে পড়ল । আগুন না হয় কমিয়ে দিয়ে আসো । মশ্করা করিবেন না মশাই, আপনার ভাল করিয়াই জানা আছে আমি আপনায় সহ্য করিতে পারিতাম না । এখোন করো বুঝি ? জনাব এবার উঠিয়া পড়ুন । কেন? কোথাও নিয়া যাবা নাকি ? দরজা খুলিয়া দিলাম দয়া করে বাহির হইয়া পড়েন । সে কি ! কথা যে অনেক বাকী শুরুই তো হল না । শুরু করিবার প্রয়োজন বোধ করি নাই । তুমি ভাল করিয়াই জানো আমি তোমায় পছন্দ করি । জানি বৈ কি। তা যে প্রচন্ড মাত্রায় তাহা জানিবার বাকি আছে । জনাব জানিয়া লাভ কি? আপনার পছন্দ করা যে আমার কাছে যাতনাময় । তাহা আমি জানি। তোমার চলিবার পথে আমি দাড়ায়ে রোজ থাকি। কিন্তু কোনওদিন তো পথ আটকে রাখিনি, এমনকি কথাও তো বলিতে চাহিনি । কথা তাহাকে শেষ করিতে দিলাম না। বলিলাম, আজ কেন বলিতে চাহিলেন? কেহ গৃহে আসিয়া পড়িলে কেলেঙ্কারির যে বিন্দুমাত্র বাকি রহিবে না বুঝিতে পারিতেছেন? দয়া করে কাটিয়া পড়ুন । যাবো বৈ কি। আমার জানিবার বাদ নেই যে তোমার ঘরের লোকজন কখোন আসিবে । তাহাদের আসিবার আগেই আমি প্রস্থান করিব । সে আরাম করিয়া আরো আসন পেতে বসিল । বুঝিবার দায় কখোন যে তার সময় হইবে । আমার আর সহ্য হইল না । চিৎকার করিয়া বলিলুম এখুনি আপনার যাওয়া চাই। ওতো চেচিয়ো না সুশ্রী কন্ঠ যে তোমার মলিন হইয়া যাইবে । হাতের কাছেই টেবিলে সাজিয়ে রাখবার ফুলদানিটা তুলিয়া নিলুম। সে গুনগুনিয়ে নিজ মনে কি জানি বলিতে লাগিল । আমি ফুলদানিটা ছুড়িয়া মারিলাম। তাহা তার কপালে লাগিয়া ক্ষতের সৃষ্টি হইল। সে কপাল চাপড়াইয়া ধরিল । রক্ত গড়ায়ে পড়িতে লাগিল । আমি বুঝিবার পারিলাম না হঠাৎ করিয়া কি যে করিয়া বসিলাম । ভয় পেয়েও গেলাম । সে তখনো স্থির, যেন সে সব আগেই জানিত । কাপড় বাধিবার জন্য উঠিতে গেলে সে বারন করিল । কোমল সুরে বলিয়া উঠিল এতটা অপছন্দ করবার বস্তু আমি নহে । আমায় তুমি চিনিতে আজও বোধ করি পারোনাই । শুধু জানিয়া রাখো সেই দিন থেকেই তোমাকে জানিবার দাড়ি-কমা পর্যন্ত বাদ রাখিনি , যেইদিন নাগাদ তোমাকে ভাল লাগিতে শুরু হইয়াছিল । তুমি আমায় প্রচন্ড ঘৃনা কর তাহা ভাল করিয়াই আজ বুঝিতে পারিলুম । তখনো তাহার কপাল বেয়ে রক্ত পড়িতেছে। আমি বলিলাম, রক্ত যে পড়িয়া চলিল । সে আমার একখানা হস্ত ধরিয়া বসিল । আমি হাতখানা ছাড়িবার চাইলাম , সে ছাড়িল না , তাহার উপর নিজ হস্তখানা রাখিয়া জামার পকেটে অপর হাত ডুকায়ে কি যেন খুঁঁজিতে লাগিল । ভয়ে আমার গা শিউরে উঠিল । দেখিতে পাইলুম সে একখানা ছুড়ি বের করেছে । আস্তে আস্তে তাহা নিজ হাতের নিকটে নিতে লাগিল । ভয়ে আমার দম আটকে আসিল। তার হাতে ছুড়িখানা বসিবার দেখা মাত্রই বলিয়া উঠিলাম না, এমনটি করিবেন না । আমি আপনায় সত্যিই বুঝিতে পারিনাই । আজ বুঝিলুম। আমি কোন প্রমান চাহিনে । আমি কেবলি আপনার মত করে নিজেকে হওয়াইতে চাই । কথাগুলো বলিবা মাত্রই লক্ষ্য করিলাম আমার চোখে জল পড়িতে লাগিল । সে হাত সরাইয়া বলিল সার্থক হয়িলাম । আজ বলিবার আরও যে বাকি আছে আমি তোমায় বড্ড ভালবাসি । এবার যাওয়ার সময় হইল । আমি চলিলুম ভালো থাকিবার কামনা রহিল ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:৩২
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×