প্রতিদিন জীবন যেনো একই ছকে বাধা। একি পথে চলা ।শরীরের উপর বোঝা মনে হয়। সেই বোঝা লাগবে বিনোদনের ব্যবস্থা বলতে ক্যাবল অপারেটিং সার্ভিস এর কল্যানে অসংখ্য চ্যানেলে নিম্নমানের বিনোদন দেখে দেখে ক্লান্তির বদলে বিরক্তি আসছে। কারন এসব চ্যানেলে প্রচারিত অনুষ্ঠান কাদের জন্য দেখানো হচ্ছে তা বুঝার কোন উপায় নেই। সব অনুষ্ঠান বিশেষ করে নাটক ও সিনেমা একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি। তখন মনে হয় জীবন মানেই ষ্টারপ্লাস। আর কি কোন কিছু নেই।
কথাটা বলা উচিত কিনা জানি না। আমি এক সময়ে সিনেমা পাগল ছিলাম। আজও সময় পেলে লুকিয়ে সিনেমা হলে চলে যাই। তবে শো শুরুর অনেক পড়ে। যখন সবাই মগ্ন রুপালী পর্দার দিকে। সেখানে অবিরত ডায়লগ বলে যাচ্ছে কোন নায়ক কিংবা নায়িকা। দূর্ভাগ্য বশত তাদের নাম কিংবা ছবির নাম জানা হয়না। তাই কিছুক্ষন পর্দার দিকে তাকিয়ে মনে হয় ছবিটা কোথায় আগে যেনো দেখেছি। নাকি এই হলে দেখেছি।
বহুবার চেষ্টা করেছি বন্ধুদের সাথে নিয়ে যেতে। কিন্তু তারা ষ্টার প্লাস নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় তা সম্ভব হয়ে উঠেনি।
এব্যাপারে আমার আগ্রহের কারন দুটো। প্রথমত দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে রয়েলটি দেয়া। দ্বিতীয়টি নতুন দর্শক সৃষ্টি করা। যদি আমার সাথে কেউ যায়। কিন্তু টিকেট কেটে একাই সিনেমা হলে ঢুকে হলের দুর্দশা, মশার কামড়, সিগেরেটের ধোয়া, ভাঙ্গা চেয়ারের হাতল, টিনএজারদের চাহিদা মোতাবেক মাঝে মধ্যে কাটপিস সরবরাহ করা ইত্যাদি কারনে সিনেমা হলে আসাটা মনে হয় ভুল হলেও আমি আজো হলে ছবি দেখতে যাই। তখন নিজেকে সাহসী ও স্বাধীনচেতা মনে হয়।
আমাদের প্রতিবেশী দেশে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম প্রেক্ষাগৃহ। সপ্তাহে একদিন সবাই পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে যেতে আগ্রহী। তার কারণ একদিন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবি দেখলে পুরো সপ্তাহ নতুন উদ্দিপনায় কাজ করার আনন্দ জাগে।
যদি আমাদের দেশে চিত্রনাট্য, কাহিনী, ভালো ছবি তৈরী না হয় তাহলে অবশ্যই ভালো মানের বিদেশী ছবি আমদানী করে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করার ব্যবস্থা বিএফডিসিকে করা উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


