আমার দেখা সেই যাত্রাপালায় আমি আনন্দ উপভোগ করতে পারলাম না। শহরের নিকটে ফুলছড়া চা বাগানের নাচঘরে হয়ে গেল কোন এক অপেরা যাত্রাগোষ্টির কাঞ্চনমালার যাত্রাপালা। অস্থাস্থ্যকর পরিবেশে হাজার ছয়েক দর্শকের উপস্থিতিতে যাত্রাপালায় পারফর্মাররা তাদের পারফর্মেন্স দেখিয়ে যেতে দেখা গেলো । দর্শকদের ঠেলাঠেলিতে তাদের ডায়ালগ না বুঝলেও জীবন যুদ্ধে পরাজিত বেশ কিছু পারফর্মার তাদের ১০০% দিতে চেষ্টা করছিল। কোন মাইক্রোফোন বা লাইট পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল না। এই যাত্রা পালা চা বাগানের শ্রমিকের বিনোদনের জন্যে আয়োজন করা হলেও তাতে বাঙ্গালী সমাজের সম্ভ্রান্ত অনেকেই যেতে দেখা যায়।
আমি দ্বিতীয়বারের মতো যাত্রাপালায় উপস্থিত থেকে যে ব্যাপারটা লক্ষ করেছি তা চরম মানবাধীকার লংঘন। নারী পুরুষ শিশুরা ঠান্ডার মধ্যে কোন এক মোহে যাত্রাপালায় উপস্থিত। সেই চা বাগানের নারীরা ছিল টটস্থ তাদের নিরাপত্তা দিত বাগান পঞ্চায়েত বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েও পারছিল না। উৎসুক জনতা প্রিন্সেসের অঙ্গভঙ্গি দেখার জন্যে উথলে উঠছিল। আমার সাথে বিলাত প্রবাসি এক বন্ধু অনেক আগ্রহ ভরে এই উজালা নৃত্য দেখছিল। আমি লজ্জিত হচ্ছিলাম নারী পুরুষ শিশু বাগানবাসী তারা নিজে নাচতে পারে না। কিন্তু অন্যের নাচ দেখে তাদের মুগ্ধ হতেও দেখলাম না। বড় আশ্চর্য কালী পুজায় মাত্র একদিনের জন্যে অনুমোদন দেয় প্রশাসন তাতেই সারা অঞ্চলের হাজার ছয়েক মানূষ উপস্থিত।
একটা সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মানূষের আগ্রহ কোন অংশেই কম নয়। শুধু নাচ ঘর গুলো একটু আধুনিক করে পর্যাপ্ত লাইট বসার বাবস্থা এবং প্রবেশ মুল্য নির্ধারন করে সারা বছর ব্যাপি আমাদের অঞ্চলে যাত্রাপালা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। তা লাইয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভাড়া দেয়া হইতে অনেক বেশী রাজস্ব আয় করতে পারবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

