কৃত্রিম ডিম দেখতে অবিকল মুরগীর ডিমের মতো। এই কৃত্রিম ডিমের বাহ্যিক আবরণ দেখে সহজে কৃত্রিম ডিম সনাক্ত করা যায় না। কৃত্রিম ডিম প্রস্তুত করা হয় রাসায়নিকভাবে। কৃত্রিম ডিমের উপরের শক্ত আবরণ বা খোসা তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় বেনজয়িক এসিড, জেলি, বেকিং পাউডার ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ক্যামিকেল। কৃত্রিম ডিমের কুসুম তৈরী করতে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের রং বা কালারিং এজেন্ট। যেগুলো সরাসরি ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড সমৃদ্ধ রাসায়নিক ক্যামিকেলের সাথে মিশিয়ে লাল বা গাঢ় হলুদ রংয়ের কৃত্রিম ডিমের কুসুম প্রস্তুত করা হয়।
কৃত্রিম উপায়ে রাসায়নিক ক্যামিকেল ও রং দিয়ে ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ প্রস্তুত করা হয়। ডিমের কুসুম ও ডিমের সাদা অংশের সমন্বয়ে কৃত্রিম ডিম তৈরি করতে প্লাস্টিকের ছাঁচ ব্যবহার করা হয়। প্লাস্টিকের ছাঁচে ডিমের সাদা অংশ তৈরি করে তার মাঝখানে ডিমের কুসুম তৈরি করা হয়। কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত ডিমের সাদা অংশ ও ডিমের কুসুমের মাঝখানে একটি পাতলা আবরণ তৈরি করা হয় যাতে ডিমের সাদা অংশের সাথে ডিমের কুসুম মিলে না যায়। অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত ডিমের সাদা অংশকে ঐ পাতলা আবরণটি ডিমের কুসুম থেকে পৃথক রাখে। ডিমের উপরের শক্ত সাদা আবরণ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয় ওয়াক্স-এর মিশ্রণ যেখানে প্যারাফিন, বেনজয়িক এসিড, বেকিং পাউডার ও রাসায়নিক ক্যামিকেল মিশ্রিত করা হয়। তারপর এই মিশ্রিত দ্রবণকে ডিম আকৃতির একটি প্লাস্টিকের খোলা ছাঁচে ঢালা হয় এবং কিছু সময় ধরে ঐ অবস্থায় রাখা হয় ও হালকা তাপমাত্রা প্রয়োগ হয়। সামান্য তাপমাত্রায় ডিমের খোসা বা আবরণ যখন শক্ত হয় তখন তা কৃত্রিম হলেও প্রাকৃতিক ডিমের মতো মনে হয়।
ইউরোপ ও আমেরিকার পুষ্টি বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম ডিমের পুষ্টিগুণ পরীক্ষা করে বলেছেন, কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত ডিমে কোন প্রোটিনের অস্তিত্ব নেই। সুতরাং কৃত্রিম ডিমে অন্যান্য কোন পুষ্টিগুণ নাই এবং এ ডিম খেলে শরীরে বাড়তি শক্তি উৎপাদনে কোন ভূমিকা রাখতে পারবে না। সুতরাং ক্ষতিকর রাসায়নিক ক্যামিকেল দিয়ে প্রস্তুতকৃত কৃত্রিম ডিম খেলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। চায়না থেকে পাচার হয়ে যে কৃত্রিম ডিমগুলো সর্বপ্রথম বার্মায় আসে তা পরীক্ষা করে দেখা যায় কৃত্রিম ডিমের ভঙ্গুরতা অনেক বেশি। অর্থাৎ অল্প চাপেই বা আঘাতেই প্রাকৃত্রিম ডিমের চেয়ে দ্রুত কৃত্রিম ডিম ভেঙ্গে যায়। কৃত্রিম ডিম দেখতে চকচকে এবং অমসৃণ খসখসে। যখন কৃত্রিম ডিম সেদ্ধ করা হয় খুব দ্রুত কৃত্রিম ডিমের কুসুম সাদা অংশের সাথে মিশে বর্ণহীন হয়ে যায়।
কৃত্রিম ডিম ও আসল ডিমের পার্থক্য বুঝতে হলে ডিম হাতে নিয়ে ঝাঁকুনি দিয়ে বা চাপ দিয়ে দেখতে হবে। যদি ডিমটি দ্রুত ভেঙ্গে যায় তবে সেটি নকল বা কৃত্রিম ডিম। আসল ডিমের চেয়ে কৃত্রিম ডিম দেখতে গাঢ় রঙের, চকচকে। বার্মার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞগণ কৃত্রিম ডিম পরীক্ষা করে বলেছেন, যেহেতু কৃত্রিম ডিমে কোন প্রোটিন নেই, কোন পুষ্টিকর উপাদান নেই সুতরাং কৃত্রিম ডিম খেলে রাসায়নিক ক্রিয়ায় শরীরের অঙ্গহানিসহ বিষক্রিয়ায় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বার্মার সরকারি কর্তৃপক্ষ সেদেশের জনগণকে কৃত্রিম ডিমের বিক্রয়দাতা, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


