রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারন সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানী মারা গেছেন। খবর শোনার পর থেকেই তার আদর্শের সৈনিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের মাথা ঠিক নাই। তারা পারলে এখুনি পুরো দেশটারে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। এখন তারা অনেক আদর্শের কথাও বলছেন। শিবির সমর্থকদের প্রশ্ন, নোমানীর মতো একজন ভালো (!) ছেলে কেন মরলো? নোমানীর বাবা মাকে তারা কি জবাব দেন?
আমি বিশ্বাস করি কোন হত্যাকাণ্ডই সমর্থন যোগ্য নয়। কিন্তু আজকে এসব নৈতিক প্রশ্ন যারা করছেন তাদের প্রশ্ন করছি কোথায় ছিলো গত সাত বছরে আপনাদের নৈতিকতা। শিবির কর্মীরা যখন সারা দেশে একের পর এক বাম ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে কুপিয়েছে, চট্টগ্রামে ব্রাশ ফায়ার করে যখন আট ছাত্রলীগ নেতাকে মেরেছে, নির্মমভাবে জামায়াত-বিএনপি যখন গত সাত বছরে দেশের অধ্যাপক-লেখককে খুন করেছে তখন কই ছিলো এসব নীতিকথা।
যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এতো নীতিকথা সেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন স্বনামধন্য শিক্ষক অধ্যাপত তাহের ও ড. ইউনূসকে নির্মমভাবে খুন করে শিবিরের এই গুনধর ছেলেরা। এদের একজনের লাশ আবার ফেলে রাখা হয়েছিলো ম্যানহলে। সেইদিন কিন্তু কোন নৈতিকতা ছিলো না শিবির নেতাদের। সেদিন এসব কাজ ছিলো জিহাদ। আর আজ যখন একজন মরে তখন কষ্টে বুক ফেটে যায় শিবির নেতাদের।
কিন্তু আজকের ঘটনার শুরুটা দেখুন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে ঢুকে শিবির ছাত্রলীগের নেতাদের মারছে, কোপাচ্ছে। পুলিশও শিবির নেতাদের হাত থেকে কাউকে রক্ষা করতে পারছে না। এই অব্স্থায় ছাত্রলীগ সাধারন ছাত্রদের নিয়ে এক হয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। অনেক ছাত্রদলের নেতাও ছাত্রলীগ ও সাধার ছেলেদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলো। এরই এক পর্যায়ে আহত হয়ে পরে হাসপাতালে মারা যান নোমানী। তাঁর জন্য আমার শোক রয়েছে। কারন যতোই অমানুষ হোক সেও একজন মানুষ। মানুষ হয়ে মানুষকে হত্যা করা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু শিবিরের মহান কর্মীদের বলছি, নিজেরা অন্যায় করার সময়ও বিষয়গুলো মাথায় রাইখেন।
একাত্তরে ঘৃন্য অপরাধ করেছিলো জামায়াত। সেই জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের চরিত্র সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষ খুব ভালোই জানে। হত্যা, নৃশংসতায় শিবির কতোটা পারদর্শী সে সম্পর্কে জানা আছে সবার। নোমানীর মারা যাওয়ার পর যারা এখন কাঁদছেন একটু খোঁজ নিন সারা বাংলাদেশে কতো লোককে আপনারা কাঁদিয়েছেন।
নির্বাচনে পরাজিত হয়ে জামায়াত-বিএনপির ষড়যন্ত্রে দেশের একের পর এক ঘটনা ঘটছে। বিডিআর হত্যাকাণ্ড, বসুন্ধরায় আগুন এসব বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় শিবিরের এক নেতাকেই হয়তো স্বেচ্ছায় বিসজর্ন দিলো শিবির। বিষয়টি কি তাই নয়? কি বলেন শিবির সমর্থক ব্লগাররা?
অতীতেও আমরা দেখেছি, বিরোধী দলে থাকলেই জামায়াত-শিবিরের সেই পুরোনো রাজনীতি শুরু হয়। সেটা হলো দলের একজন মরুক। তাতে মাঠ গরম হবে। রাজনীতি ভালো হবে। লাশের এই রাজনীতি আর কতোদিন চলবে?
আমি জানি প্রতিদিন সকালে নোমানীর বাবা-মায়ের ঘুম ভাঙ্গবে ছেলে হারানোর বেদনা নিয়ে। একই বেদনা নিয়েই প্রতিদিন ঘুম ভাঙ্গছে হাজার হাজার বাবা-মায়ের। রক্তের এই রাজনীতি বন্ধ হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



