এই বৃষ্টির মধ্যে যারা এরই মধ্যে ঘরে পৌঁছে গেছেন তারা চরম ভাগ্যবান। মানুষ যে কি ভয়াবহ কষ্টে আছে সেটি রাস্তায় বের না হলে চোখে পড়বে না। গাড়ির জন্য মানুষের অপেক্ষা, চলন্ত বাসে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা, কি যে দুর্ভোগ। ঢাকা যে কিভাবে মানুষকে ভোগান্তি দিচ্ছে সেটি লিখতে গেলে মহাকাব্য হয়ে যাবে। কবে যে এই শহরকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হবে সেই আশায় আছি।
রাত ১০ টায় কারওয়ান বাজারে অফিস থেকে বের হলাম মোহাম্মদপুর হাউজিং এর উদ্দেশ্যে। অফিসের নিচে দেখি বৃষ্টির মধ্যে পলিথিনে জড়িয়ে কিছু মানুষের রাত কাটানোর আপ্রাণ চেষ্টা। সার্ক ফোয়ারর মোড়ে বাসে ওঠার জন্য মানুষের আকুতি। প্রচন্ড যানজটের মধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে এগুচ্ছি। স্টার হোটেল পার হবার পর দেখি রাস্তায় পানি। কোনমতে চিপাচাপা দিয়ে বের হয়ে এলাম। ফার্মগেটে আসতেই চোখ ছানাবড়া।
মানুষ আর মানুষ। কারো হাতে ছাতা-কারো তাও নেই। তারা বৃষ্টিতে ভিজে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। এক একটি বাস আসছে ঝাপিয়ে পড়ছে মানুষ। বেশিরভাগই উঠতে পারছে না। অসহায়েল মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকজন নারী। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কতো কষ্ট করেই না আমরা ঢাকা শহরে থাকি।
ফার্মগেট পেরিয়ে সামনে এগুতে দেখি অনেকে গাড়ি না পেয়ে হেটেই গন্তব্যে রওয়ানা দিয়েছে। আসাদ গেট পর্যন্ত সেই মানুষের ভীড়।
কি হবে এই শহরটার। এই টুকু শহর। এক কোটিরও বেশি মানুষ। পাঁচ বছরের মধ্যে দেড় কোটি হয়ে যাবে। কি হবে তখন। ফার্মগেট থেকে শাহবাগ যেতে তখন দুই ঘন্টা লাগবে। কারেন্ট থাকবে না, পানি থাকবে না, অপরাধ বাড়বে ভয়াবহ। ঢাকার পুরোনো ছবিগুলো দেখে কে বলবে এই সেই ঢাকা।
আমার বয়স ২৬। আমি জানি আমি বেঁচে থাকতেই এই ঢাকা শহরকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা দেখে যেতে হবে। আমরা এই শহরটাকে দিন দিন মৃতু্পুরেতে পরিনত করছি। আমাদের রাজনীতিবিদদের বড় বড় কথা ছাড়া কিছুই নেই। এই হবে, পাতাল রেল হবে, উড়াল সেতু হবে এসব মধুর মধুর কথা বলেন কিছুদিন পর পর আমাদের মন্ত্রীরা আর আমরা তাই নিয়ে চায়ের টেবিলে ঝড় তুলি, যানজটে বাসের মধ্যে বসে তাই নিয়ে গল্প ফাঁদি। প্রচন্ড গরমে বৃষ্টিতে পাবলিক বাসে বসে বসে ভাবি একদিন ঢাকা হবে আধুনিক শহর। কি হাস্যকর।
ঢাকাকে ঠিক করা কি খুব কঠিন। মোটেও নয়। কিন্তু সেই চেষ্টাই নাই। কি হয় ক্যান্টনমেন্টটা বের করে দিলে? নৌবাহিনীর সদর দপ্তরও কেন ঢাকায় হতে হবে চট্টগ্রামের বদলে। কারাগার কেন ঢাকায় থাকতে হবে? পোষাক কারখানাগুলো কেন ঢাকায় হতে হবে? জানি এসব বলে কোন লাভ নেই। আমাদের মাননীয় নেতা-নেত্রীরা মিন্টো রোডের বাসায় বসে এসব বুঝবেন না।
আমি জানি আমরা তখনই ঢাকাকে বাঁচানোর চেষ্টা করবো যখন সেটি আর কোনভাবেই সম্ভব নয়। এই হলো আমাদের রাজনীতির ধর্ম। তাই আসুন পরিত্যাক্ত একটা শহর ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করি। এর চেয়ে বেশি আর কিইবা আমরা করতে পারি। কারন আমরা যাই করি না কেন বলি না কেন উনাদের কান বন্ধ, চোখ বন্ধ। উনারা এখন ক্ষমতায়। আমরা ভোট দিয়ে তাদের নির্বাচিত করেছিলাম। তাই তো তারা মিন্টো রোডের বাড়িতে বসে আমাদের জন্য ভাবে। এই তো পরম পাওয়া।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




