somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রবাসীদের ঘামের টাকা, সচল রাখে দেশের চাকা। কাজেই বন্ধ হোক তাদের নিয়ে সব প্রতারণা। খবরের অপেক্ষায় রইলাম

২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। রেমিটেন্স পাঠিয়ে তারা গ্রামীণ অর্থনীতিও বদলে দিয়েছেন। কিন্তু এই প্রবাসীরা বিদেশে কতোটা কষ্টে জীবন যাপন করেন,কতো সমস্যায় পড়েন, সেগুলো শুনলে চোখের পানি আটকে রাখাই দায়। দেশের প্রতি কি অসীম ভালোবাসা থাকলে দিনের পর দিন কষ্ট করে দেশে টাকা পাঠানো যায় সেটি তাদের না দেখলে বোঝার উপায় নেই।

দুর্ভোগের শুরটা হয় তখনই যখন, বাংলাদেশের কোন এক গ্রামের কোন এক সহজ-সরল লোক চিন্তা করেন তিনি আর দশজনের মতো দেশের বাইরে গিয়ে নিজের ভাগ্য বদলাবেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই আসতে থাকে একের পর এক সমস্যা। কেউ কোথাও তাকে সাহায্য করে না। সরকারি অফিসের দীর্ঘসূত্রিতা, ভোগান্তিমহ নানান ঝামেলা।

প্রথম সমস্যার নাম পাসপোর্ট। সেখানে ভয়াবহ দুর্ভোগ। পুলিশের হয়রানি, যথাসময়ে পাসপোর্ট না পাওয়া, দালালসহ আরো নানান সমস্যা। এরপর আছে কাকে কোথায় কিভাবে টাকা জমা দেবেন তার কোন স্বচ্ছতা নেই। কতো টাকা লাগবে সেই নীতিমালাও নেই। দালালদের ভয় তো আছেই। ফলে প্রচুর লোক প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব হয়ে যান। জমি-জমা সহায় সম্বল বিক্রি করে জমানো টাকা যখন দালালরা নিয়ে উধাও হয়ে যায়, তখন দিশেহারা এই মানুষগুলো কি করবে বুঝে উঠতে পারে না।

এই দালালদের কাছ থেকে মুক্তি পেয়ে যারা সত্যিকারভাবে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পান, ভিসা পান, টিকেট পান তারা আসলেই ভাগ্যবান। কিন্তু ভিসা, টিকেট নিয়ে এই মানুষগুলো যখন জিয়া বিমানবন্দরে যান তখন শুরু হয় আরেক ভোগান্তি। কাষ্টমস, ইমিগ্রেশন, কঠিন সব ফর্ম, নানা জিজ্ঞাসায় তারা বিপর্যস্ত হন। এর ওর কাছে ধমক খেয়ে ফরম পূরণ করে এই মানুষগুলো যখন প্লেনে ওঠে তখন যেন তারা আকাশের চাঁদ হাতে পেলো।

বিদেশে নামার পর তারা দেখেন, দেশ থেকে যা শুনেছেন বেশিরভাগ সময়ই তা মিথ্যা। ভালো কোম্পানি, এসির ভিতরে চাকুরি, এসব শুনলেও বাস্তবে কঠোর পরিশ্রম, মালিকের গালিগালাজ, বেতন কাটা, পুলিশের ভয়সহ নানান সমস্যায় থাকেন আমাদের কর্মীরা। এরপরেও জীবনের সব স্বাদ আল্লাদ বিসর্জন দিয়ে ঘামের টাকায় রোজগার করা টাকা জমিয়ে দেশে পাঠান তারা। তাই দিয়ে চলে আমার দেশ। সুখে থাকেন আমাদের নেতারা। মন্ত্রীরা। আমরা এই শ্রমিকদের নিয়ে তখন বড় বড় কথা বলি। এই দেবো, তেন দোব, ওয়ান স্টপ সার্ভিস দোবো। কিন্তু কথার ঝুরিতেই হারিয়ে যায় সব। সারাজীবন কষ্টের পর একজন শ্রমিক যখন দেশে ফেরেন জিয়া বিমানবন্দরে শুরু হয় আবার সেই দুর্ভোগ। দালাল। ট্রাক্সি ক্যাব, পুলিশ-সব যন্ত্রনা।

বাংলাদেশের ৬৫ লাখ শ্রমিক এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। এদের বেশিরভাগই মূলত মধ্যপ্রাচ্যে। এই শ্রমিকদের দুর্ভোগ, যন্ত্রনা শোনার কেউ নেই। আমি বেশ কিছুদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে রিপোর্টিং করছি দেশের একটি প্রধান দৈনিকে। ইতিমধ্যে সৌদি আরব, লিবিয়া, কুয়েত, মরিশাসসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের দুর্ভোগ নিয়ে আমি সংবাদ করেছি।

আমি চাই বিদেশে থাকা এসব মানুষের যে কোন ঘটনা, যে কোন কষ্ট, দুর্ঘটনা, জেলে যাওয়া, প্রতারণা এসব নিয়ে সংবাদ করতে। তাই প্রবাসী ভাইদের বলছি, আপনারা যে কোন ঘটনা জানলে আমাকে ফোন করুন। মেইলে জানান বিস্তারিত। জানান আমাদের দূতাবাসগুলোর অবস্থা। নিয়মিত যোগযোগ রাখুন।

আমি চাই বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিখাতটা ঠিক হোক।
ফিলিপাইন, ভারতের মতো আমাদের কর্মীরাও মাথা উচু করে বাঁচুক। তাই প্রবাসী ভাইয়েরা, আপনারা আপনাদের যে কোর বিষয় নিয়ে যেটি নিউজ হতে পারে, আমাকে জানান। একই সঙ্গে দেশে থাকা সবাইকে অনুরোধ জনশক্তি নিয়ে যে কোন ঘটনা, প্রতারণা তথ্য প্রমাণসহ আমাকে দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাষ্টার্স করে, জীবনের সব ফার্ষ্ট ক্লাস নিয়ে আমরা এই তরুন প্রজন্ম সবকিছু বাদ দিয়ে সাংবাদিকতা করছি- দেশটাকে কিছু দেবার জন্য। তাই সবার সহযোগিতা চাইছি। আমার এই ঠিকানাটা যতো বেশি সম্ভব প্রবাসীদের জানান।
সবাই ভালো থাকুন।

আমার সঙ্গে যোগযোগের ঠিকানা:

শরিফুল হাসান
স্টাফ রিপোর্টার, প্রথম আলো
মোবাইল: ০১৫৫২-৩১৬৩৯৯
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:০৩
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×