আমার প্রিয় পোস্ট

প্রবাসীদের ঘামের টাকা, সচল রাখে দেশের চাকা। কাজেই বন্ধ হোক তাদের নিয়ে সব প্রতারণা। খবরের অপেক্ষায় রইলাম

২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:০৭

শেয়ারঃ
0 1 0

রিপোষ্ট: জরুরী মনে করছি বলেই রিপোষ্ট। প্রবাসীদের যোগযোগের অনুরোধ করছি।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। রেমিটেন্স পাঠিয়ে তারা গ্রামীণ অর্থনীতিও বদলে দিয়েছেন। কিন্তু এই প্রবাসীরা বিদেশে কতোটা কষ্টে জীবন যাপন করেন,কতো সমস্যায় পড়েন, সেগুলো শুনলে চোখের পানি আটকে রাখাই দায়। দেশের প্রতি কি অসীম ভালোবাসা থাকলে দিনের পর দিন কষ্ট করে দেশে টাকা পাঠানো যায় সেটি তাদের না দেখলে বোঝার উপায় নেই।

দুর্ভোগের শুরটা হয় তখনই যখন, বাংলাদেশের কোন এক গ্রামের কোন এক সহজ-সরল লোক চিন্তা করেন তিনি আর দশজনের মতো দেশের বাইরে গিয়ে নিজের ভাগ্য বদলাবেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই আসতে থাকে একের পর এক সমস্যা। কেউ কোথাও তাকে সাহায্য করে না। সরকারি অফিসের দীর্ঘসূত্রিতা, ভোগান্তিমহ নানান ঝামেলা।

প্রথম সমস্যার নাম পাসপোর্ট। সেখানে ভয়াবহ দুর্ভোগ। পুলিশের হয়রানি, যথাসময়ে পাসপোর্ট না পাওয়া, দালালসহ আরো নানান সমস্যা। এরপর আছে কাকে কোথায় কিভাবে টাকা জমা দেবেন তার কোন স্বচ্ছতা নেই। কতো টাকা লাগবে সেই নীতিমালাও নেই। দালালদের ভয় তো আছেই। ফলে প্রচুর লোক প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব হয়ে যান। জমি-জমা সহায় সম্বল বিক্রি করে জমানো টাকা যখন দালালরা নিয়ে উধাও হয়ে যায়, তখন দিশেহারা এই মানুষগুলো কি করবে বুঝে উঠতে পারে না।

এই দালালদের কাছ থেকে মুক্তি পেয়ে যারা সত্যিকারভাবে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পান, ভিসা পান, টিকেট পান তারা আসলেই ভাগ্যবান। কিন্তু ভিসা, টিকেট নিয়ে এই মানুষগুলো যখন জিয়া বিমানবন্দরে যান তখন শুরু হয় আরেক ভোগান্তি। কাষ্টমস, ইমিগ্রেশন, কঠিন সব ফর্ম, নানা জিজ্ঞাসায় তারা বিপর্যস্ত হন। এর ওর কাছে ধমক খেয়ে ফরম পূরণ করে এই মানুষগুলো যখন প্লেনে ওঠে তখন যেন তারা আকাশের চাঁদ হাতে পেলো।

বিদেশে নামার পর তারা দেখেন, দেশ থেকে যা শুনেছেন বেশিরভাগ সময়ই তা মিথ্যা। ভালো কোম্পানি, এসির ভিতরে চাকুরি, এসব শুনলেও বাস্তবে কঠোর পরিশ্রম, মালিকের গালিগালাজ, বেতন কাটা, পুলিশের ভয়সহ নানান সমস্যায় থাকেন আমাদের কর্মীরা। এরপরেও জীবনের সব স্বাদ আল্লাদ বিসর্জন দিয়ে ঘামের টাকায় রোজগার করা টাকা জমিয়ে দেশে পাঠান তারা। তাই দিয়ে চলে আমার দেশ। সুখে থাকেন আমাদের নেতারা। মন্ত্রীরা। আমরা এই শ্রমিকদের নিয়ে তখন বড় বড় কথা বলি। এই দেবো, তেন দোব, ওয়ান স্টপ সার্ভিস দোবো। কিন্তু কথার ঝুরিতেই হারিয়ে যায় সব। সারাজীবন কষ্টের পর একজন শ্রমিক যখন দেশে ফেরেন জিয়া বিমানবন্দরে শুরু হয় আবার সেই দুর্ভোগ। দালাল। ট্রাক্সি ক্যাব, পুলিশ-সব যন্ত্রনা।

বাংলাদেশের ৬৫ লাখ শ্রমিক এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। এদের বেশিরভাগই মূলত মধ্যপ্রাচ্যে। এই শ্রমিকদের দুর্ভোগ, যন্ত্রনা শোনার কেউ নেই। আমি বেশ কিছুদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে রিপোর্টিং করছি দেশের একটি প্রধান দৈনিকে। ইতিমধ্যে সৌদি আরব, লিবিয়া, কুয়েত, মরিশাসসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের দুর্ভোগ নিয়ে আমি সংবাদ করেছি।

আমি চাই বিদেশে থাকা এসব মানুষের যে কোন ঘটনা, যে কোন কষ্ট, দুর্ঘটনা, জেলে যাওয়া, প্রতারণা এসব নিয়ে সংবাদ করতে। তাই প্রবাসী ভাইদের বলছি, আপনারা যে কোন ঘটনা জানলে আমাকে ফোন করুন। মেইলে জানান বিস্তারিত। জানান আমাদের দূতাবাসগুলোর অবস্থা। নিয়মিত যোগযোগ রাখুন।

আমি চাই বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিখাতটা ঠিক হোক।
ফিলিপাইন, ভারতের মতো আমাদের কর্মীরাও মাথা উচু করে বাঁচুক। তাই প্রবাসী ভাইয়েরা, আপনারা আপনাদের যে কোর বিষয় নিয়ে যেটি নিউজ হতে পারে, আমাকে জানান। একই সঙ্গে দেশে থাকা সবাইকে অনুরোধ জনশক্তি নিয়ে যে কোন ঘটনা, প্রতারণা তথ্য প্রমাণসহ আমাকে দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাষ্টার্স করে, জীবনের সব ফার্ষ্ট ক্লাস নিয়ে আমরা এই তরুন প্রজন্ম সবকিছু বাদ দিয়ে সাংবাদিকতা করছি- দেশটাকে কিছু দেবার জন্য। তাই সবার সহযোগিতা চাইছি। আমার এই ঠিকানাটা যতো বেশি সম্ভব প্রবাসীদের জানান।
সবাই ভালো থাকুন।

আমার সঙ্গে যোগযোগের ঠিকানা:

শরিফুল হাসান
স্টাফ রিপোর্টার, প্রথম আলো
মোবাইল: ০১৫৫২-৩১৬৩৯৯







 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:১৪
তোমোদাচি বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
প্রিয়তে রাখলাম প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করব।
২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। অপেক্ষায় থাকলাম।

২. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৩১
রাজামশাই বলেছেন: আগে হলুদ সাংবাদিকতা না করার অঙ্গীকার কর ...........


সবার সামনে বল

আমি সবার সামনে অঙ্গীকার করিতেছি যে, জীবনে কোন দিন কোন সময় হলুদ সাংবাদিকতা করিবো না।


২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৭

লেখক বলেছেন: সবকিছু নিয়ে বিতর্ক করা আপনার মতো কিছু লোকের অভ্যাস। সাংবাদিকতার কিছুই যে আপনি জানেন না সেটি আপনার মন্তব্যেই বোঝা যায়। হলুদ সাংবাদিকতা কি বলেন তো? একটু ভালো হন। এ দেশে আমাদের কতো তরুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো রেজাল্ট নিয়ে সাংবাদিকতা করছে, মানুষের জন্য কিছু করার ব্রত নিয়ে সেটি আপনার মতো লোক বুঝবে না। দেশ স্বাধীন করার ব্রত নিয়ে ষাটের দশকে যখন আমাদের অগ্রজরা সাংবাদিকতা করেছিলেন, তখন আপনার মতোই কিছু লোক বলেছিলো, হলুদ সাংবাদিবতা। হলুদ সাংবাদিকতা আর সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সাংবাদিকতা এক নয়। ভালো থাকুন। আর দশজনকে দিয়ে আমাদের এই তরুন প্রজন্মকে বিচার করলে ভুল করবেন। অনাকাঙ্খিত এই বক্তব্যের জন্য দুঃখিত।

৩. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:০১
মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ বলেছেন: রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সেবা। রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সেবা -১ আমার লেখা নিচের লিংক গুলো দেখুন।
প্রবাসীদের নিয়ে আপনার উৎসাহ দেখে ভাল লাগল। প্রবাসের টুকিটাকি আপনাকে জানাতে চেষ্টা করব। পোষ্টটি প্রিয়তে রাখলাম।
ধন্যবাদ।
২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:০৩

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধণ্যবাদ। কুয়েতের বাংলাদেশিদের যে কোন দুর্ঘটনা, ভালো খবর, গ্রেপ্তার এসব আমাকে জানাবেন। আমি কয়েকদনি আগে একটি নিউজ করেছিলাম। কুয়েত ছয় হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাবে। এ ব্যাপারে কিছু জানলে আমাকে জানাবেন।

৪. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:১২
এম রাসেল বলেছেন: ধন্যবাদ। যথাসম্ভব আপনাকে তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করব।
২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। একটু অন্যদেরও আমার নাম্বার ও ই-মেইল ঠিকানাটা দেবেন। অপেক্ষায় থাকবো কোন ঘটনার।

৫. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:১৯
আরাফাত রহমান বলেছেন: জানা থাকলো! প্রিয়তে রাখলাম।

তবে প্রথমআলো পত্রিকার উপর আমার একদম ভরসা নেই। কাদের মিশন বাস্তবায়নের উদ্দেশে এই পত্রিকাটি মাঠে নেমেছে তাই ভাবছি।
২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২৫

লেখক বলেছেন: ভাই, যতো যাই বলেন এখনো এ দেশের সাধারন মানুষের সমস্যা, দুর্ভোগ, অর্জন, কষ্ট সবই প্রমি আলো তুলে এনেছে। গত ১০ বছরে প্রথম আলো এই কাজটিই করেছে। তবে এটি ঠিক প্রতিটি পত্রিকারই নিজস্ব কিছু উদ্দেশ্য থাকে। সেটি পৃথিবীর প্রতিটি দৈনিকেরই আছে। কিন্তু সাধারন মানুষের আস্থার জায়গা এখনো প্রথম আলো। আমরাও চাই বাজারে আরো কয়েকটা ভালো পত্রিকা থাকুক। তাতে পাঠকের তুলনা করতে সুবিধা হয়। প্রথম আলোর পর এ দেশে যুগান্তর, আমার দেশ, নয়াদিগন্ত, যায় যায় দিনসহ অনেক পত্রিকাই এসেছে। কি কি পারছে মানুষের কথা বলতে? আমরা চাই মানুষ প্রথম আলোর চেয়েও ভালো একটি দৈনিক পাক।

৬. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২৮
নেক্সাস বলেছেন: আমি আপনাকে ফোন দিয়েছিলাম।আমরা সবচেয়ে বেশী ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছি আকামা বা স্পনসর বদলের সুযোগ না থাকাতে।যাকে আরবী ভাষায় কাফালা বলে।আমাদের সরকার এই বিষয়টা সুরাহ করেতে ব্যার্থ হয়েছে।কিন্তু দেশে ভিবিন্ন সভা সমাবেশে জাতীর সাথে তারা মিথ্যাচার করছে।দাঁত কেলিয়ে বলছে সউদি আরবে সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।কিন্তু আদতে কিছু হয়নি।বাংলাদেশীরা এখানে কোন ঠাসা হয়ে আছে।যোগ্যতা থাকা স্বত্তেও বাংলাদেশীরা কোন ভাল চাকরীতে জাম্প করতে পারছেনা।
২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৭

লেখক বলেছেন: হুমম আমি জানি। এ বিষয়টি নিয়ে ৫ আগস্ট ২০০৯ প্রথম আলোর শেষের পাতায় আমি একটি স্টোরি করেছি। শিরোনাম ছিলো: সৌদি আরবের ইকামা সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না। রিপোর্টটি দেকতে পারেন। আপনার সঙ্গে ভবিষ্যতে যোগাযোগ হবে এই আশা করছি।

৭. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৩
আশাবাদী মানুষ বলেছেন: আপনার উদ্দেশ্য মহৎ। পোস্টটি প্রিয়তে রইল।

আপনার জন্য শুভকামনা।
২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। পারলে পরিচিতজন যারা দেশের বাইরে আছে একটু জানাবেন আমার ঠিকানা।

৮. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৪:২১
এন এইচ আর বলেছেন: স্বাগত জানাচ্ছি আপনার মহৎ উদ্দেশ্যকে।

আপনাদের মতো মানুষদের প্রচেষ্টাতেই হয়তো একদিন শুধু প্রবাসীদের রেমিট্যান্স নয় সাথে প্রবাসীদেরও গণায় ধরবে আমাদের ধবর সরকার। যতটুকু পারি সহযোগিতা করব। আর এখনো দিনে একবার হলেও আপনাদের পত্রিকার সাইটে ঢু মারি।
০১ লা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৯. ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৫
এমদাদ হোসেন জাবেদ বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম। আপনাকে বিস্তারিত মেইলে লিখবো।
সাধুবাদ জানাই আপনার উদ্দেশ্যকে। ভালো থাকবেন -

 

মোট সময় লেগেছে ২.৫০২৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
বাবার সরকারি চাকুরির সুবাদে শৈশব কৈশোর-স্কুল কলেজ সবই চট্টগ্রামে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাংবাদিকতা করি। পরের জন্মে মুক্তিযোদ্ধা হতে চাই।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই